alt

যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বিশ্বের অভিবাসন স্থগিত, কী প্রভাব পড়বে

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম : রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রশাসনের অভিবাসন দমননীতি আরও কঠোর হলো।বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করা হয়। তাঁদের একজন পরে মারা গেছেন। এ ঘটনার পরদিনই ট্রাম্প ওই বক্তব্য দেন। ঘটনাটির প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে একজন আফগান নাগরিকের নাম এসেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয় এবং বাইডেন প্রশাসনের আমলে লাখ লাখ মানুষকে দেওয়া অবৈধ প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা যায়।’ ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে ট্রাম্প কোন কোন দেশকে বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি। সাধারণত এ শব্দগুচ্ছ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল ‘গ্লোবাল সাউথ’ দেশগুলোকে বোঝানো হয়।

এ নিষেধাজ্ঞা দরিদ্র দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আর যেসব দেশ বিনিময়ে কিছু দিতে পারে, যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ বা কৌশলগত সুবিধা-তাদের ক্ষেত্রে হয়তো শিথিল থাকবে। এমন ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো, সরকারকে কঠোর দেখানো, রাজনৈতিক আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি বদল, অভিবাসীদের ভয় দেখানো ও তাঁদের মানুষ হিসেবে কম মূল্যবান ভাবার পরিস্থিতি তৈরি করা; বাস্তবে এটি কার্যকর করা যাক বা না যাক এবং আইনগত ফলাফল যা-ই হোক।

ট্রাম্প বলেন, যেকেউ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্পদ নয় বা আমাদের দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম, তাঁকে এ দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, এমন কাউকে আর কোনো ফেডারেল সুবিধা বা ভর্তুকি দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা অভ্যন্তরীণ শান্তি নষ্ট করেন, এমন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। আর যাঁরা সরকারিভাবে নির্ভরশীল, নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন—এমন বিদেশিদের বহিষ্কার করা হবে।’

চলতি বছর ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করেছেন। বছরজুড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তা নিচে একনজরে দেখে নিন।

ট্রাম্প প্রশাসন কী বলছে: বুধবার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাখানওয়াল গ্রেপ্তার হওয়ার পর ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দেন। সেদিন রাতে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসনের সময় আফগানিস্তান থেকে যেসব বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে আবার নতুন করে পরীক্ষা করতে হবে।’

পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দপ্তর (ইউএসসিআইএস) আফগানদের সব ধরনের অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলো পরে এক্সে লেখেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ‘উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত সব দেশের নাগরিকদের দেওয়া প্রতিটি গ্রিন কার্ড আবার কড়াকড়িভাবে পরীক্ষা করার’ আদেশ দিয়েছেন তিনি। তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা মা–বাবার দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ হতে পারে—যত দিন না এ সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। এতে দীর্ঘ দূরত্বে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদন বিলম্বিত ও পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচি ব্যাহত হবে

অভিষেক সাক্সেনা, আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক

এডলোর দপ্তর জানায়, যেসব দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড আবার পরীক্ষা করা হবে, সেগুলো জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষিত ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ‘এ দেশ ও মার্কিন জনগণের সুরক্ষা সর্বাগ্রে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেপরোয়া পুনর্বাসন নীতির মূল্য বহন করবে না’, বলেন এডলো। জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করে, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে রক্ষায়’ ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

পূর্ণ নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, চাদ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। আংশিক নিষেধাজ্ঞায় আছে (এখনো কিছু সাময়িক ভিসা দেওয়া হয়)–বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন।

‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করার অর্থ: এর অর্থ পরিষ্কার নয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করা আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক অভিষেক সাক্সেনা আল–জাজিরাকে বলেন, সাধারণভাবে ‘স্থায়ী বিরতি’ শুনতে চূড়ান্ত বলে মনে হলেও অভিবাসন আইনে এর নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই।

সাক্সেনা বলেন, বাস্তবে ‘স্থায়ী বিরতি’ বলতে সাধারণত এমন নিষেধাজ্ঞা বোঝায়; যার কোনো শেষ তারিখ নেই। কিন্তু এটি আইনের দিক থেকে অপরিবর্তনীয় অবস্থা নয়। মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন (আইএনএ) অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময় কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসীদের প্রবেশ স্থগিত করতে পারেন; যতক্ষণ না তিনি নিজে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করেন। তবে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। সাক্সেনা বলেন, ‘যদি এ অনির্দিষ্ট স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের পাস করা কোনো আইনের বিরোধী হয়, তবে আদালতে এর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।’

জেনেভাভিত্তিক মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টারের (এমএমসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রবার্তো ফোরিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ‘স্থায়ী বিরতি’ বা ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে কী বোঝায় বা এসব নীতি কার ওপর প্রয়োগ হবে; সে বিষয়ে অস্পষ্টতা রেখে দিচ্ছে। ফোরিন বলেন, বিষয়টি অস্পষ্ট রাখলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়কে ভয় দেখানো সহজ হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র এটি পররাষ্ট্রনীতির লেনদেনভিত্তিক পদ্ধতিতে চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। এই কর্মকর্তা বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা দরিদ্র দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আর যেসব দেশ বিনিময়ে কিছু দিতে পারে, যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ বা কৌশলগত সুবিধা—তাদের ক্ষেত্রে হয়তো শিথিল থাকবে। তিনি আরও বলেন, এমন ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো, সরকারকে কঠোর দেখানো, রাজনৈতিক আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি বদল, অভিবাসীদের ভয় দেখানো ও তাঁদের মানুষ হিসেবে কম মূল্যবান ভাবার পরিস্থিতি তৈরি করা; বাস্তবে এটি কার্যকর করা যাক বা না যাক এবং আইনগত ফলাফল যা–ই হোক।

কোন কোন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশিরা কীভাবে প্রভাবিত হবেন—পরিষ্কার নয়। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল’ আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালের জুনে যে ১২টি দেশের ওপর সম্পূর্ণ ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেসব দেশের নাগরিকেরা বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখা পাবেন না।

আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয় এবং বাইডেন প্রশাসনের আমলে লাখ লাখ মানুষকে দেওয়া অবৈধ প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনের আদেশ অনুযায়ী, বিদ্যমান মার্কিন ভিসা বাতিল করা যাবে না। তবে যাঁদের ভিসা নবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, তাঁরা হয়তো নিষেধাজ্ঞার কারণে আর দেশটিতে ফিরতে পারবেন না। সাক্সেনা বলেন, কঠোর অভিবাসননীতি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক মানুষের ওপর আরও নানা দিক দিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলোর যাচাই–বাছাই আরও কঠোর হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, দীর্ঘ নিরাপত্তা স্ক্রিনিং বা সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হতে পারে।’

সাক্সেনা বলেন, ‘ইতিহাস বলছে, কোনো দেশকে যখন কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের তালিকায় রাখা হয়, তখন ভিসাপ্রক্রিয়া সাধারণত আরও দীর্ঘ হয়।’ ‘সরকার ইচ্ছেমতো বসবাসের অনুমতি বাতিল করতে পারে না। তবে তারা আগের অভিবাসন নথি আবার যাচাই করতে পারে’, বলেন সাক্সেনা। সাক্সেনা জানান, ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা স্বামী–স্ত্রী, সন্তান বা মা–বাবার দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ হতে পারে—যত দিন না এ সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।

‘এতে দীর্ঘ দূরত্বে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদন বিলম্বিত ও পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচি ব্যাহত হবে’, বলেন সাক্সেনা।

চলতি বছর ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করেছেন। বছরজুড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।

তবে সাক্সেনা জানান, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের শুধু কোনো দেশের নাম তালিকায় থাকার কারণে পরিবার থেকে আলাদা করা যাবে না। যখন কেউ যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, তখন দেশটির সংবিধান ও অভিবাসন আইনের অধীন পরিবারিক–ঐক্যের নীতি তাঁর ক্ষেত্রে কার্যকর থাকে।

গ্রিন কার্ডধারীদের কী হবে: গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন সাংবাদিকদের জানায়, ২০২৫ সালের জুনে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড আবার পরীক্ষা করা হবে। তবে কীভাবে এ প্রক্রিয়া চলবে বা গ্রিন কার্ড বাতিল কিংবা স্থগিত হবে কি না; এখনো পরিষ্কার নয়।

গ্রিন কার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিবাসন দলিল; যা নিয়ে কেউ স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করতে পারেন। গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত বিচারকেরা গ্রিন কার্ড বাতিল করতে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহিষ্কার করতে পারেন। আবার সরকার চাইলে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে কাউকে বহিষ্কার করতে পারে। তবে সাক্সেনা বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া গ্রিন কার্ড বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের নেই। বাতিলের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে কঠোর আইনি ধাপ মানতে হবে।

গত বছর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলের গণহত্যা ও গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সময় মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্সি ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মাহমুদ খলিলকে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে আটক করে। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তবে আইসিই তাঁর গ্রিন কার্ড আবেদনে তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলে। গত সেপ্টেম্বরে এক অভিবাসন বিচারক খলিলকে আলজেরিয়া বা সিরিয়ায় বহিষ্কারের আদেশ দেন। তবে এখনো তা কার্যকর হয়নি।

ছবি

ফরিদপুরে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মিসিস্টদের কর্মবিরত পালন

ছবি

লৌহজংয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মাদ্রাসা শিক্ষা

ছবি

সখীপুরে ৫ বছরেও শেষ হয়নি ব্রিজের নির্মাণ, ভোগান্তি চরমে

ছবি

ভেড়ামারায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা

ছবি

চুয়াডাঙ্গায় আইনজীবী সমিতির নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে

ছবি

ডাস বাংলাদেশের এর উদ্যোগে মানববন্ধন

বরুড়ায় ৩১১ শিক্ষার্থীর মাঝে মেধা বৃত্তি প্রদান

ছবি

পাথরঘাটায় অগ্নিকাণ্ডে ৬ দোকান ভস্মীভুত, কোটি টাকার ক্ষতি

ছবি

মুন্সীগঞ্জে থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রসহ আটক ১

ছবি

কলমাকান্দায় কৃষি কথা ও কৃষক সমাবেশ

ছবি

দশমিনায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে অসময়ের আম

দেশে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাতের, থানায় এজাহার

ছবি

ওমোংলায় কোটি টাকা মুল্যে অবৈধ জাল ও পলিথিন জব্দ

ছবি

হারিয়ে যাওয়ার পথে ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন

ছবি

শেরপুরে কষ্টি পাথরের দু’টি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার

ছবি

টঙ্গীতে এক শ্রমিকের মৃত্যু আতঙ্কে ৩০ শ্রমিক অজ্ঞান

ছবি

১২টি স্থলপথে ভারত ভ্রমণ করেছে ১৮ লাখ ৫৯ হাজার ৩৬৪ পাসপোর্টধারী

ছবি

গজারিয়া ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার

রূপগঞ্জে ৩ শতাধিক স্পটে জমজমাট মাদক ব্যবসা

জামালপুরে ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বাল্কহেড থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ছবি

নামাজরত অবস্থায় মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু

বটিয়াঘাটায় ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ছবি

দুমকিতে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

ছবি

দেড় বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

ছবি

শ্রীমঙ্গলে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ চাঁদের গাড়ি

ছবি

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টেকনোলজিস্টদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগীরা

ছবি

নড়াইলের বুড়িখালি গ্রামে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩

আত্রাইয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেপ্তার

ছবি

দেশের ১৬ স্থলবন্দরে আমদানি বাড়লেও দিন দিন কমছে রপ্তানি

ছবি

কোটবাজার দোকান-মালিক সমিতির নবনির্বাচিতদের শপথ ও দায়িত্বভার গ্রহণ

ছবি

আড়িয়াল খাঁ নদের সপ্তম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে টোল না দেয়াকে কেন্দ্র করে হামলা

ছবি

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১

ছবি

চট্টগ্রামকক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনের দাবিতে অবরোধ

ছবি

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

ছবি

সিংড়ায় বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালনে লাখপতি

tab

যুক্তরাষ্ট্রে তৃতীয় বিশ্বের অভিবাসন স্থগিত, কী প্রভাব পড়বে

বিদেশী সংবাদ মাধ্যম

রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করবেন। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে তাঁর প্রশাসনের অভিবাসন দমননীতি আরও কঠোর হলো।বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে গুলি করা হয়। তাঁদের একজন পরে মারা গেছেন। এ ঘটনার পরদিনই ট্রাম্প ওই বক্তব্য দেন। ঘটনাটির প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে একজন আফগান নাগরিকের নাম এসেছে। তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয় এবং বাইডেন প্রশাসনের আমলে লাখ লাখ মানুষকে দেওয়া অবৈধ প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা যায়।’ ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে ট্রাম্প কোন কোন দেশকে বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট করেননি। সাধারণত এ শব্দগুচ্ছ দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত বা উন্নয়নশীল ‘গ্লোবাল সাউথ’ দেশগুলোকে বোঝানো হয়।

এ নিষেধাজ্ঞা দরিদ্র দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আর যেসব দেশ বিনিময়ে কিছু দিতে পারে, যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ বা কৌশলগত সুবিধা-তাদের ক্ষেত্রে হয়তো শিথিল থাকবে। এমন ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো, সরকারকে কঠোর দেখানো, রাজনৈতিক আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি বদল, অভিবাসীদের ভয় দেখানো ও তাঁদের মানুষ হিসেবে কম মূল্যবান ভাবার পরিস্থিতি তৈরি করা; বাস্তবে এটি কার্যকর করা যাক বা না যাক এবং আইনগত ফলাফল যা-ই হোক।

ট্রাম্প বলেন, যেকেউ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্পদ নয় বা আমাদের দেশকে ভালোবাসতে অক্ষম, তাঁকে এ দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, এমন কাউকে আর কোনো ফেডারেল সুবিধা বা ভর্তুকি দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা অভ্যন্তরীণ শান্তি নষ্ট করেন, এমন অভিবাসীদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হবে। আর যাঁরা সরকারিভাবে নির্ভরশীল, নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত বা পশ্চিমা সভ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নন—এমন বিদেশিদের বহিষ্কার করা হবে।’

চলতি বছর ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করেছেন। বছরজুড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন। এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে তা নিচে একনজরে দেখে নিন।

ট্রাম্প প্রশাসন কী বলছে: বুধবার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ২৯ বছর বয়সী আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাখানওয়াল গ্রেপ্তার হওয়ার পর ট্রাম্প ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে আখ্যা দেন। সেদিন রাতে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘বাইডেন প্রশাসনের সময় আফগানিস্তান থেকে যেসব বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাপারে আমাদের সবাইকে আবার নতুন করে পরীক্ষা করতে হবে।’

পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন দপ্তর (ইউএসসিআইএস) আফগানদের সব ধরনের অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। ইউএসসিআইএসের পরিচালক জোসেফ এডলো পরে এক্সে লেখেন, প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ‘উদ্বেগজনক বলে বিবেচিত সব দেশের নাগরিকদের দেওয়া প্রতিটি গ্রিন কার্ড আবার কড়াকড়িভাবে পরীক্ষা করার’ আদেশ দিয়েছেন তিনি। তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা স্বামী-স্ত্রী, সন্তান বা মা–বাবার দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ হতে পারে—যত দিন না এ সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। এতে দীর্ঘ দূরত্বে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদন বিলম্বিত ও পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচি ব্যাহত হবে

অভিষেক সাক্সেনা, আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক

এডলোর দপ্তর জানায়, যেসব দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড আবার পরীক্ষা করা হবে, সেগুলো জুন মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষিত ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ‘এ দেশ ও মার্কিন জনগণের সুরক্ষা সর্বাগ্রে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ পূর্ববর্তী প্রশাসনের বেপরোয়া পুনর্বাসন নীতির মূল্য বহন করবে না’, বলেন এডলো। জুনে ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করে, যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী ও জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি থেকে রক্ষায়’ ১৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

পূর্ণ নিষেধাজ্ঞায় থাকা দেশগুলো হলো আফগানিস্তান, চাদ, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, ইরিত্রিয়া, হাইতি, ইরান, লিবিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। আংশিক নিষেধাজ্ঞায় আছে (এখনো কিছু সাময়িক ভিসা দেওয়া হয়)–বুরুন্ডি, কিউবা, লাওস, সিয়েরা লিওন, টোগো, তুর্কমেনিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেন, তিনি ‘তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করবেন।

‘স্থায়ীভাবে স্থগিত’ করার অর্থ: এর অর্থ পরিষ্কার নয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিস করা আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক অভিষেক সাক্সেনা আল–জাজিরাকে বলেন, সাধারণভাবে ‘স্থায়ী বিরতি’ শুনতে চূড়ান্ত বলে মনে হলেও অভিবাসন আইনে এর নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা নেই।

সাক্সেনা বলেন, বাস্তবে ‘স্থায়ী বিরতি’ বলতে সাধারণত এমন নিষেধাজ্ঞা বোঝায়; যার কোনো শেষ তারিখ নেই। কিন্তু এটি আইনের দিক থেকে অপরিবর্তনীয় অবস্থা নয়। মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন (আইএনএ) অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নির্দিষ্ট সময় কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য অভিবাসীদের প্রবেশ স্থগিত করতে পারেন; যতক্ষণ না তিনি নিজে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করেন। তবে এটি আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। সাক্সেনা বলেন, ‘যদি এ অনির্দিষ্ট স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের পাস করা কোনো আইনের বিরোধী হয়, তবে আদালতে এর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে।’

জেনেভাভিত্তিক মিক্সড মাইগ্রেশন সেন্টারের (এমএমসি) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রবার্তো ফোরিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ‘স্থায়ী বিরতি’ বা ‘তৃতীয় বিশ্ব’ বলতে কী বোঝায় বা এসব নীতি কার ওপর প্রয়োগ হবে; সে বিষয়ে অস্পষ্টতা রেখে দিচ্ছে। ফোরিন বলেন, বিষয়টি অস্পষ্ট রাখলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে অভিবাসী সম্প্রদায়কে ভয় দেখানো সহজ হবে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র এটি পররাষ্ট্রনীতির লেনদেনভিত্তিক পদ্ধতিতে চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারে। এই কর্মকর্তা বলেন, এ নিষেধাজ্ঞা দরিদ্র দেশগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আর যেসব দেশ বিনিময়ে কিছু দিতে পারে, যেমন প্রাকৃতিক সম্পদ বা কৌশলগত সুবিধা—তাদের ক্ষেত্রে হয়তো শিথিল থাকবে। তিনি আরও বলেন, এমন ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো, সরকারকে কঠোর দেখানো, রাজনৈতিক আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি বদল, অভিবাসীদের ভয় দেখানো ও তাঁদের মানুষ হিসেবে কম মূল্যবান ভাবার পরিস্থিতি তৈরি করা; বাস্তবে এটি কার্যকর করা যাক বা না যাক এবং আইনগত ফলাফল যা–ই হোক।

কোন কোন দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিদেশিরা কীভাবে প্রভাবিত হবেন—পরিষ্কার নয়। তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘আমেরিকান ইমিগ্রেশন কাউন্সিল’ আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালের জুনে যে ১২টি দেশের ওপর সম্পূর্ণ ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেসব দেশের নাগরিকেরা বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের দেখা পাবেন না।

আমি তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করব, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থা পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয় এবং বাইডেন প্রশাসনের আমলে লাখ লাখ মানুষকে দেওয়া অবৈধ প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জুনের আদেশ অনুযায়ী, বিদ্যমান মার্কিন ভিসা বাতিল করা যাবে না। তবে যাঁদের ভিসা নবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, তাঁরা হয়তো নিষেধাজ্ঞার কারণে আর দেশটিতে ফিরতে পারবেন না। সাক্সেনা বলেন, কঠোর অভিবাসননীতি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অনেক মানুষের ওপর আরও নানা দিক দিয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রথমত, অপেক্ষমাণ আবেদনগুলোর যাচাই–বাছাই আরও কঠোর হবে। ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই, দীর্ঘ নিরাপত্তা স্ক্রিনিং বা সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হতে পারে।’

সাক্সেনা বলেন, ‘ইতিহাস বলছে, কোনো দেশকে যখন কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের তালিকায় রাখা হয়, তখন ভিসাপ্রক্রিয়া সাধারণত আরও দীর্ঘ হয়।’ ‘সরকার ইচ্ছেমতো বসবাসের অনুমতি বাতিল করতে পারে না। তবে তারা আগের অভিবাসন নথি আবার যাচাই করতে পারে’, বলেন সাক্সেনা। সাক্সেনা জানান, ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশ’ থেকে অভিবাসন স্থগিতের ঘোষণার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা স্বামী–স্ত্রী, সন্তান বা মা–বাবার দেশটিতে প্রবেশ বন্ধ হতে পারে—যত দিন না এ সিদ্ধান্ত বাতিল হয়।

‘এতে দীর্ঘ দূরত্বে পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন আবেদন বিলম্বিত ও পারিবারিক পুনর্মিলন কর্মসূচি ব্যাহত হবে’, বলেন সাক্সেনা।

চলতি বছর ট্রাম্প ১২টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন এবং আরও সাতটি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করেছেন। বছরজুড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর আরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন।

তবে সাক্সেনা জানান, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের শুধু কোনো দেশের নাম তালিকায় থাকার কারণে পরিবার থেকে আলাদা করা যাবে না। যখন কেউ যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, তখন দেশটির সংবিধান ও অভিবাসন আইনের অধীন পরিবারিক–ঐক্যের নীতি তাঁর ক্ষেত্রে কার্যকর থাকে।

গ্রিন কার্ডধারীদের কী হবে: গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন সাংবাদিকদের জানায়, ২০২৫ সালের জুনে ঘোষিত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকদের গ্রিন কার্ড আবার পরীক্ষা করা হবে। তবে কীভাবে এ প্রক্রিয়া চলবে বা গ্রিন কার্ড বাতিল কিংবা স্থগিত হবে কি না; এখনো পরিষ্কার নয়।

গ্রিন কার্ড হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অভিবাসন দলিল; যা নিয়ে কেউ স্থায়ীভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করতে পারেন। গুরুতর অপরাধ, যেমন হত্যা বা ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত বিচারকেরা গ্রিন কার্ড বাতিল করতে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বহিষ্কার করতে পারেন। আবার সরকার চাইলে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে কাউকে বহিষ্কার করতে পারে। তবে সাক্সেনা বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া গ্রিন কার্ড বাতিল করার ক্ষমতা সরকারের নেই। বাতিলের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে কঠোর আইনি ধাপ মানতে হবে।

গত বছর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলের গণহত্যা ও গাজা যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সময় মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্সি ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী মাহমুদ খলিলকে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে আটক করে। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তবে আইসিই তাঁর গ্রিন কার্ড আবেদনে তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলে। গত সেপ্টেম্বরে এক অভিবাসন বিচারক খলিলকে আলজেরিয়া বা সিরিয়ায় বহিষ্কারের আদেশ দেন। তবে এখনো তা কার্যকর হয়নি।

back to top