alt

মতামত » চিঠিপত্র

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

: সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

ঘোরাঘুরি। কার না ভালো লাগে বলেন। আমরা যারা এই যান্ত্রিক শহরে থাকি একটা যন্ত্রের মতো পুরো বছর কাটাই তাদের কাছে ঘুরতে যাওয়া মানেই এক ফালি চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অবস্থা। তাইতো দেশ জুড়ে পর্যটন কেন্দ্রের এতো চাহিদা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের জিডিপিতে ৩%-৪% অবদান রয়েছে পর্যটন খাতের। বিভিন্ন বছরের তালিকা থেকে পাওয়া যায়, প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশে প্রায় ৬-৭ লাখ বিদেশী ঘুরতে আসে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রায় এক কোটি মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়।

ঘুরতে যাওয়ার সময় মানুষের চাহিদার থাকে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন, রাঙামাটি, বান্দরবান,খাগড়াছড়ি - এর মতো পর্যটন শহর গুলো। মানুষ ঘুরতে যাচ্ছে, জীবনে একঘেয়েমি কমাচ্ছে, দেশে বার্ষিক আয় বাড়ছে সব কিছু শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবতা একটু ভিন্ন কথা বলছে। যেই পর্যটন শহরগুলো দেশের আয় বাড়াচ্ছে, মানুষের মনোরঞ্জন করছে, প্রকৃতপক্ষে সেই শহরগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। যেখানে সমুদ্রে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখে ভরে যায় মন। অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলার ফলে ধীরে ধীরে হয়ে যাচ্ছে পরিত্যক্ত। অনেক জায়গায় রাস্তার পাশ, সৈকত এবং ঝাউবনে বর্জ্যের স্তূপ দেখা যায়। পর্যটকরা নাকে হাত দিয়ে এগুলো পাশ করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন। এসকল বর্জ্য শুধু দূরর্ভাগ সৃষ্টি করছে না বরং সমুদ্র ও আশেপাশের এলাকার ভারসাম্য নষ্ট করছে।

সুন্দরবন, যেই বন আমাদের বেশিরভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচায়। কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় এখানে গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত হোটেল রিসোর্ট যা এখানকার জীববৈচিত্র, বনভূমি ও প্রচলিত বাস্তুতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অবস্থা আরো করুণ। পরিবেশের উপর দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতুল নিয়ন্ত্রণ ও অতিমাত্রায় পর্যটনের কারণে এই দ্বীপ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। কোরাল প্রবাল স্তর কমে গেছে এবং ধ্বংসের পথে রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থাও ভালো নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই বিপর্যয়ে আসল দায় কার? দায় ও সকল পর্যটকদের যারা ঘুরতে গিয়ে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে দেয়, যারা পরিবেশ সচেতন নয়। সরকার যতোই চেষ্টা করুক না কেন যতোক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যাবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এই পর্যটন শহরের অবস্থা এমন খারাপের দিকেই যাবে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

লাবনী আক্তার কবিতা

লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে অণুজীব

ছবি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাস্তা সংস্কার চাই

নদী বাণিজ্য: শক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

যন্ত্রের মেধা মানুষের হাত

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

tab

মতামত » চিঠিপত্র

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ঘোরাঘুরি। কার না ভালো লাগে বলেন। আমরা যারা এই যান্ত্রিক শহরে থাকি একটা যন্ত্রের মতো পুরো বছর কাটাই তাদের কাছে ঘুরতে যাওয়া মানেই এক ফালি চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অবস্থা। তাইতো দেশ জুড়ে পর্যটন কেন্দ্রের এতো চাহিদা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের জিডিপিতে ৩%-৪% অবদান রয়েছে পর্যটন খাতের। বিভিন্ন বছরের তালিকা থেকে পাওয়া যায়, প্রতিবছর গড়ে বাংলাদেশে প্রায় ৬-৭ লাখ বিদেশী ঘুরতে আসে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রায় এক কোটি মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায়।

ঘুরতে যাওয়ার সময় মানুষের চাহিদার থাকে কক্সবাজার, সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন, রাঙামাটি, বান্দরবান,খাগড়াছড়ি - এর মতো পর্যটন শহর গুলো। মানুষ ঘুরতে যাচ্ছে, জীবনে একঘেয়েমি কমাচ্ছে, দেশে বার্ষিক আয় বাড়ছে সব কিছু শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবতা একটু ভিন্ন কথা বলছে। যেই পর্যটন শহরগুলো দেশের আয় বাড়াচ্ছে, মানুষের মনোরঞ্জন করছে, প্রকৃতপক্ষে সেই শহরগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। যেখানে সমুদ্রে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখে ভরে যায় মন। অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলার ফলে ধীরে ধীরে হয়ে যাচ্ছে পরিত্যক্ত। অনেক জায়গায় রাস্তার পাশ, সৈকত এবং ঝাউবনে বর্জ্যের স্তূপ দেখা যায়। পর্যটকরা নাকে হাত দিয়ে এগুলো পাশ করতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন। এসকল বর্জ্য শুধু দূরর্ভাগ সৃষ্টি করছে না বরং সমুদ্র ও আশেপাশের এলাকার ভারসাম্য নষ্ট করছে।

সুন্দরবন, যেই বন আমাদের বেশিরভাগ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচায়। কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা বাড়ায় এখানে গড়ে উঠছে অপরিকল্পিত হোটেল রিসোর্ট যা এখানকার জীববৈচিত্র, বনভূমি ও প্রচলিত বাস্তুতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অবস্থা আরো করুণ। পরিবেশের উপর দীর্ঘদিন ধরে অপ্রতুল নিয়ন্ত্রণ ও অতিমাত্রায় পর্যটনের কারণে এই দ্বীপ বিপন্ন হয়ে উঠেছে। কোরাল প্রবাল স্তর কমে গেছে এবং ধ্বংসের পথে রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের অবস্থাও ভালো নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই বিপর্যয়ে আসল দায় কার? দায় ও সকল পর্যটকদের যারা ঘুরতে গিয়ে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে দেয়, যারা পরিবেশ সচেতন নয়। সরকার যতোই চেষ্টা করুক না কেন যতোক্ষণ পর্যন্ত না মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা যাবে, ততোক্ষণ পর্যন্ত এই পর্যটন শহরের অবস্থা এমন খারাপের দিকেই যাবে। তাই সময় থাকতে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

লাবনী আক্তার কবিতা

লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

back to top