alt

মতামত » চিঠিপত্র

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

: সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বয়সে প্রবীণরা আমাদেরকে বহু প্রজাতির গাছ, পাখি ও উদ্ভিদের নাম জানিয়ে অভ্যস্ত করেন, যা আজকের প্রজন্মের জন্য অচেনা। এর মূল কারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক প্রজাতি পরিবেশ থেকে বিলীন হয়ে গেছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বর্তমানের পরিবেশ আগামী প্রজন্মের জন্য অনেক উপাদানই চেনা বা উপলব্ধ থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের শঙ্কা নয়; এটি আমাদের সময়ের বাস্তবতা। বিশ্বজুড়ে মানুষ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরার মতো বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এসব পরিবর্তন মানবজাতি ও জীবজগতের টিকে থাকার জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে, চরম আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট, স্বাস্থ্য ঝুঁকি, এবং জীববৈচিত্রের ক্ষতি আগামী প্রজন্মকে আরও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলবে।

জলবায়ু পরিবর্তন বলতে বোঝায় পৃথিবীর আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন, যা প্রাকৃতিক কারণে ছাড়াও মানুষের কর্মকান্ড ত্বরান্বিত হচ্ছে। এটি শুধু তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাত নয়, বরং বৈশ্বিকভাবে বাতাসের ধরণ, বরফ গলন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক চিত্র। এর প্রভাব পরিবেশ, কৃষি, স্বাস্থ্য, পানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির উপর গভীর।

বিশ্বের বহু প্রজাতি ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুততার কারণে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। গত অর্ধশতকে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১৯৬০-এর পর প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এর ফলে হিমবাহ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েছে এবং জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, আগামী প্রজন্ম প্রকৃতিকে স্বাভাবিকভাবে উপভোগ করতে পারবে না বরং তারা হবে ভুক্তভোগী।

জীববৈচিত্র্য রক্ষাও আজকাল হুমকির মুখে। আইইউসিএনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে বহু মাছ, পাখি, স্তন্যপায়ী, উভচর ও সরীসৃপ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। বিশ্বের উদ্ভিদের ২০% বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ক্ষয়মান এই হার অতীতের তুলনায় বহুগুণ বেশি। বন ও সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ধ্বংস, কার্বন শোষণের অভাব-সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় একত্রে ত্রিমুখী সংকট সৃষ্টি করছে।

দৈনন্দিন জীবনের প্রভাবও স্পষ্ট। কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, ঋতু পরিবর্তন, পরিবেশের ক্ষতি-সবই আমাদের সচেতনতার অভাবে চলছে। এই ধারা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবী বসবাসের যোগ্য থাকবে না। স্পষ্টতই বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আগামী প্রজন্মের জন্য শুধু হুমকি নয়, এটি ধ্বংসের প্রতীক।

তামিমা তুলি

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী কলেজ

পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে অণুজীব

ছবি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাস্তা সংস্কার চাই

নদী বাণিজ্য: শক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

যন্ত্রের মেধা মানুষের হাত

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

tab

মতামত » চিঠিপত্র

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

বয়সে প্রবীণরা আমাদেরকে বহু প্রজাতির গাছ, পাখি ও উদ্ভিদের নাম জানিয়ে অভ্যস্ত করেন, যা আজকের প্রজন্মের জন্য অচেনা। এর মূল কারণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অনেক প্রজাতি পরিবেশ থেকে বিলীন হয়ে গেছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, বর্তমানের পরিবেশ আগামী প্রজন্মের জন্য অনেক উপাদানই চেনা বা উপলব্ধ থাকবে না। জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর ভবিষ্যতের শঙ্কা নয়; এটি আমাদের সময়ের বাস্তবতা। বিশ্বজুড়ে মানুষ তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বরফ গলন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা ও খরার মতো বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এসব পরিবর্তন মানবজাতি ও জীবজগতের টিকে থাকার জন্য বড় হুমকি। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে, চরম আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট, স্বাস্থ্য ঝুঁকি, এবং জীববৈচিত্রের ক্ষতি আগামী প্রজন্মকে আরও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলবে।

জলবায়ু পরিবর্তন বলতে বোঝায় পৃথিবীর আবহাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন, যা প্রাকৃতিক কারণে ছাড়াও মানুষের কর্মকান্ড ত্বরান্বিত হচ্ছে। এটি শুধু তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাত নয়, বরং বৈশ্বিকভাবে বাতাসের ধরণ, বরফ গলন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ধারাবাহিক চিত্র। এর প্রভাব পরিবেশ, কৃষি, স্বাস্থ্য, পানি নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির উপর গভীর।

বিশ্বের বহু প্রজাতি ইতোমধ্যেই বিলুপ্ত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের দ্রুততার কারণে জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। গত অর্ধশতকে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১৯৬০-এর পর প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। এর ফলে হিমবাহ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়েছে এবং জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে, আগামী প্রজন্ম প্রকৃতিকে স্বাভাবিকভাবে উপভোগ করতে পারবে না বরং তারা হবে ভুক্তভোগী।

জীববৈচিত্র্য রক্ষাও আজকাল হুমকির মুখে। আইইউসিএনের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে বহু মাছ, পাখি, স্তন্যপায়ী, উভচর ও সরীসৃপ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। বিশ্বের উদ্ভিদের ২০% বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ক্ষয়মান এই হার অতীতের তুলনায় বহুগুণ বেশি। বন ও সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতি, ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ধ্বংস, কার্বন শোষণের অভাব-সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় একত্রে ত্রিমুখী সংকট সৃষ্টি করছে।

দৈনন্দিন জীবনের প্রভাবও স্পষ্ট। কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, ঋতু পরিবর্তন, পরিবেশের ক্ষতি-সবই আমাদের সচেতনতার অভাবে চলছে। এই ধারা চলতে থাকলে আগামী প্রজন্মের জন্য পৃথিবী বসবাসের যোগ্য থাকবে না। স্পষ্টতই বলা যায়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আগামী প্রজন্মের জন্য শুধু হুমকি নয়, এটি ধ্বংসের প্রতীক।

তামিমা তুলি

শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ, রাজশাহী কলেজ

back to top