alt

মতামত » চিঠিপত্র

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

: বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

একসময় মানুষের সাফল্য পরিশ্রম, দক্ষতা ও সময়ের পরীক্ষায় মাপা হতো। আজ সেই মানদন্ড বদলে গেছে। কিছু সেকেন্ডের ভিডিও, বিতর্কিত পোস্ট বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য-ভাইরাল হওয়াকেই নতুন সাফল্যের প্রতীক মনে করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষকে নিজের মতো প্রকাশের বদলে দর্শক আকর্ষণের দিকে ধাবিত করছে। বিশেষ করে তরুণরা মনে করছে, ভাইরাল না হলে অস্তিত্বই অপ্রতুল।

ভাইরাল হওয়ার এই চাপ মানুষকে অস্বাভাবিক আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগত জীবন উন্মুক্ত করছে, কেউ বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে, কেউ আবার সম্পর্ক বা দুঃখ-সুখকে কনটেন্টে পরিণত করছে। নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থ বোধবুদ্ধি অনেক সময় এ প্রতিযোগিতায় গৌণ হয়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; হতাশা, আত্মসম্মানহানি, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা এই চাপের প্রতিফলন।

সমাজিক সম্পর্কও বিকৃত হচ্ছে। সহমর্মিতা, মানবিকতা ও বন্ধুত্ব কনটেন্ট তৈরির উপকরণে পরিণত হচ্ছে। বিপদের মুহূর্তে সাহায্যের বদলে ভিডিও ধারণের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। মিডিয়া ও কনটেন্ট নির্মাতার দায়িত্বশীলতার অভাবে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর বিষয় বেশি প্রচার পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভুল বার্তা পাচ্ছে-ভাইরাল হওয়াই সব, সত্য বা সুস্থতা নয়।

ভাইরাল হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু খ্যাতির জন্য নৈতিকতা, মানসিক সুস্থতা ও মানবিক মূল্যবোধ ত্যাগ করা বিপজ্জনক। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের উচিত তরুণদের বোঝানো, মূল্যবান হওয়া মানে ভাইরাল হওয়া নয়। ডিজিটাল সাক্ষরতা, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ভাইরাল হওয়ার এই চাপ নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করবে।

মাহিন উদ্দিন

অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

অনুমতি উঠে গেল, বিবেক কি ছুটিতে?

খেজুর রসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

শীতের তীব্রতায় মানবিকতার আলো জ্বালাই

আইনশৃঙ্খলার অবনতি: কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

চাকরির বিজ্ঞাপন আছে, চাকরি নেই

উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমিকের বেদনা

ফুটপাথের উন্মুক্ত টয়লেট: নগর জীবনের অস্বস্তি

ধূমপান সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ কি আলোর মুখ দেখবে?

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সংকট

ক্যাম্পাস বাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য: শিক্ষার্থীদের নিত্য বিড়ম্বনা

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

স্কুলে নির্যাতন: আদর্শের আড়ালে বাস্তবতা

টেলিটকে ওয়াইফাই কলিং: সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সম্ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

ইজি বাইক থেকে খাবারের থালা: সিসার ছায়া আমাদের চারপাশে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

tab

মতামত » চিঠিপত্র

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

একসময় মানুষের সাফল্য পরিশ্রম, দক্ষতা ও সময়ের পরীক্ষায় মাপা হতো। আজ সেই মানদন্ড বদলে গেছে। কিছু সেকেন্ডের ভিডিও, বিতর্কিত পোস্ট বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য-ভাইরাল হওয়াকেই নতুন সাফল্যের প্রতীক মনে করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষকে নিজের মতো প্রকাশের বদলে দর্শক আকর্ষণের দিকে ধাবিত করছে। বিশেষ করে তরুণরা মনে করছে, ভাইরাল না হলে অস্তিত্বই অপ্রতুল।

ভাইরাল হওয়ার এই চাপ মানুষকে অস্বাভাবিক আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগত জীবন উন্মুক্ত করছে, কেউ বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে, কেউ আবার সম্পর্ক বা দুঃখ-সুখকে কনটেন্টে পরিণত করছে। নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থ বোধবুদ্ধি অনেক সময় এ প্রতিযোগিতায় গৌণ হয়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; হতাশা, আত্মসম্মানহানি, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা এই চাপের প্রতিফলন।

সমাজিক সম্পর্কও বিকৃত হচ্ছে। সহমর্মিতা, মানবিকতা ও বন্ধুত্ব কনটেন্ট তৈরির উপকরণে পরিণত হচ্ছে। বিপদের মুহূর্তে সাহায্যের বদলে ভিডিও ধারণের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। মিডিয়া ও কনটেন্ট নির্মাতার দায়িত্বশীলতার অভাবে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর বিষয় বেশি প্রচার পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভুল বার্তা পাচ্ছে-ভাইরাল হওয়াই সব, সত্য বা সুস্থতা নয়।

ভাইরাল হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু খ্যাতির জন্য নৈতিকতা, মানসিক সুস্থতা ও মানবিক মূল্যবোধ ত্যাগ করা বিপজ্জনক। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের উচিত তরুণদের বোঝানো, মূল্যবান হওয়া মানে ভাইরাল হওয়া নয়। ডিজিটাল সাক্ষরতা, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ভাইরাল হওয়ার এই চাপ নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করবে।

মাহিন উদ্দিন

অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ

back to top