মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
একসময় মানুষের সাফল্য পরিশ্রম, দক্ষতা ও সময়ের পরীক্ষায় মাপা হতো। আজ সেই মানদন্ড বদলে গেছে। কিছু সেকেন্ডের ভিডিও, বিতর্কিত পোস্ট বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য-ভাইরাল হওয়াকেই নতুন সাফল্যের প্রতীক মনে করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষকে নিজের মতো প্রকাশের বদলে দর্শক আকর্ষণের দিকে ধাবিত করছে। বিশেষ করে তরুণরা মনে করছে, ভাইরাল না হলে অস্তিত্বই অপ্রতুল।
ভাইরাল হওয়ার এই চাপ মানুষকে অস্বাভাবিক আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগত জীবন উন্মুক্ত করছে, কেউ বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে, কেউ আবার সম্পর্ক বা দুঃখ-সুখকে কনটেন্টে পরিণত করছে। নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থ বোধবুদ্ধি অনেক সময় এ প্রতিযোগিতায় গৌণ হয়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; হতাশা, আত্মসম্মানহানি, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা এই চাপের প্রতিফলন।
সমাজিক সম্পর্কও বিকৃত হচ্ছে। সহমর্মিতা, মানবিকতা ও বন্ধুত্ব কনটেন্ট তৈরির উপকরণে পরিণত হচ্ছে। বিপদের মুহূর্তে সাহায্যের বদলে ভিডিও ধারণের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। মিডিয়া ও কনটেন্ট নির্মাতার দায়িত্বশীলতার অভাবে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর বিষয় বেশি প্রচার পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভুল বার্তা পাচ্ছে-ভাইরাল হওয়াই সব, সত্য বা সুস্থতা নয়।
ভাইরাল হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু খ্যাতির জন্য নৈতিকতা, মানসিক সুস্থতা ও মানবিক মূল্যবোধ ত্যাগ করা বিপজ্জনক। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের উচিত তরুণদের বোঝানো, মূল্যবান হওয়া মানে ভাইরাল হওয়া নয়। ডিজিটাল সাক্ষরতা, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ভাইরাল হওয়ার এই চাপ নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করবে।
মাহিন উদ্দিন
অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
একসময় মানুষের সাফল্য পরিশ্রম, দক্ষতা ও সময়ের পরীক্ষায় মাপা হতো। আজ সেই মানদন্ড বদলে গেছে। কিছু সেকেন্ডের ভিডিও, বিতর্কিত পোস্ট বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য-ভাইরাল হওয়াকেই নতুন সাফল্যের প্রতীক মনে করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম মানুষকে নিজের মতো প্রকাশের বদলে দর্শক আকর্ষণের দিকে ধাবিত করছে। বিশেষ করে তরুণরা মনে করছে, ভাইরাল না হলে অস্তিত্বই অপ্রতুল।
ভাইরাল হওয়ার এই চাপ মানুষকে অস্বাভাবিক আচরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কেউ ব্যক্তিগত জীবন উন্মুক্ত করছে, কেউ বিপজ্জনক চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে, কেউ আবার সম্পর্ক বা দুঃখ-সুখকে কনটেন্টে পরিণত করছে। নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও সুস্থ বোধবুদ্ধি অনেক সময় এ প্রতিযোগিতায় গৌণ হয়ে যাচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে; হতাশা, আত্মসম্মানহানি, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা এই চাপের প্রতিফলন।
সমাজিক সম্পর্কও বিকৃত হচ্ছে। সহমর্মিতা, মানবিকতা ও বন্ধুত্ব কনটেন্ট তৈরির উপকরণে পরিণত হচ্ছে। বিপদের মুহূর্তে সাহায্যের বদলে ভিডিও ধারণের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। মিডিয়া ও কনটেন্ট নির্মাতার দায়িত্বশীলতার অভাবে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর বিষয় বেশি প্রচার পাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ভুল বার্তা পাচ্ছে-ভাইরাল হওয়াই সব, সত্য বা সুস্থতা নয়।
ভাইরাল হওয়া অপরাধ নয়, কিন্তু খ্যাতির জন্য নৈতিকতা, মানসিক সুস্থতা ও মানবিক মূল্যবোধ ত্যাগ করা বিপজ্জনক। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের উচিত তরুণদের বোঝানো, মূল্যবান হওয়া মানে ভাইরাল হওয়া নয়। ডিজিটাল সাক্ষরতা, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ভাইরাল হওয়ার এই চাপ নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি সমাজের মধ্যে গভীর ক্ষত তৈরি করবে।
মাহিন উদ্দিন
অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা কলেজ