মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অনেকের মধ্যে প্রচলিত ধারণা আছে, যে কোনো আসামি যদি জামিন নিয়ে পলাতক হয়, তবে সে অপরাধ করেছে বলেই আদালতের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু আইন কি শুধুমাত্র এই অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে?
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাবুল ওরফে ফখরুল বনাম রাষ্ট্র (ফৌজদারি), ১৫ এএলআর (২০১৯)(১) মামলায় স্পষ্ট করেছেন, কেবল জামিন নিয়ে পলাতক থাকার কারণে কোনো আসামিকে অন্য কোনো প্রত্যক্ষ বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ছাড়া ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আইন অনুযায়ী পলাতক থাকা একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা হতে পারে, কিন্তু এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রমাণ নয়। ফৌজদারি বিচারের মূল নীতি হলো-“যতক্ষণ পর্যন্ত দোষ প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ আসামি নির্দোষ।” দোষ প্রমাণের বোঝা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপক্ষের ওপর থাকে, যা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে হয়।
পলাতক থাকার ভিন্ন কারণে মানুষ জামিন নেওয়ার পর আদালতের উপস্থিতি এড়াতে পারে। কেউ পুলিশের হয়রানি, মিথ্যা মামলার আশঙ্কা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা অথবা ভুল আইনি পরামর্শের কারণে পলাতক হতে পারে। সুতরাং কেবল পলাতক থাকার ভিত্তিতে খুনের দায় চাপানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। পলাতক থাকার বিষয়টি তখনই গুরুত্ব পায় যখন অপরাধের অন্যান্য শক্তিশালী প্রমাণ আদালতে উপস্থিত থাকে। সেখানে এটি মূল প্রমাণকে আরও দৃঢ় করে, কিন্তু অন্য কোনো ভিত্তি না থাকলে এটি শূন্যগর্ভ যুক্তি মাত্র।
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তাই কেবল অনুমান বা পলাতক থাকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক। আপিল বিভাগের এই রায় ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিম্ন আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করতে অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যা আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি রক্ষা করে।
বোরহান উদ্দিন খান
এডভোকেট
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অনেকের মধ্যে প্রচলিত ধারণা আছে, যে কোনো আসামি যদি জামিন নিয়ে পলাতক হয়, তবে সে অপরাধ করেছে বলেই আদালতের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু আইন কি শুধুমাত্র এই অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে?
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাবুল ওরফে ফখরুল বনাম রাষ্ট্র (ফৌজদারি), ১৫ এএলআর (২০১৯)(১) মামলায় স্পষ্ট করেছেন, কেবল জামিন নিয়ে পলাতক থাকার কারণে কোনো আসামিকে অন্য কোনো প্রত্যক্ষ বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ছাড়া ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আইন অনুযায়ী পলাতক থাকা একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা হতে পারে, কিন্তু এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রমাণ নয়। ফৌজদারি বিচারের মূল নীতি হলো-“যতক্ষণ পর্যন্ত দোষ প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ আসামি নির্দোষ।” দোষ প্রমাণের বোঝা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপক্ষের ওপর থাকে, যা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে হয়।
পলাতক থাকার ভিন্ন কারণে মানুষ জামিন নেওয়ার পর আদালতের উপস্থিতি এড়াতে পারে। কেউ পুলিশের হয়রানি, মিথ্যা মামলার আশঙ্কা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা অথবা ভুল আইনি পরামর্শের কারণে পলাতক হতে পারে। সুতরাং কেবল পলাতক থাকার ভিত্তিতে খুনের দায় চাপানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। পলাতক থাকার বিষয়টি তখনই গুরুত্ব পায় যখন অপরাধের অন্যান্য শক্তিশালী প্রমাণ আদালতে উপস্থিত থাকে। সেখানে এটি মূল প্রমাণকে আরও দৃঢ় করে, কিন্তু অন্য কোনো ভিত্তি না থাকলে এটি শূন্যগর্ভ যুক্তি মাত্র।
দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তাই কেবল অনুমান বা পলাতক থাকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক। আপিল বিভাগের এই রায় ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিম্ন আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করতে অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যা আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি রক্ষা করে।
বোরহান উদ্দিন খান
এডভোকেট