alt

মতামত » চিঠিপত্র

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

: শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অনেকের মধ্যে প্রচলিত ধারণা আছে, যে কোনো আসামি যদি জামিন নিয়ে পলাতক হয়, তবে সে অপরাধ করেছে বলেই আদালতের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু আইন কি শুধুমাত্র এই অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে?

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাবুল ওরফে ফখরুল বনাম রাষ্ট্র (ফৌজদারি), ১৫ এএলআর (২০১৯)(১) মামলায় স্পষ্ট করেছেন, কেবল জামিন নিয়ে পলাতক থাকার কারণে কোনো আসামিকে অন্য কোনো প্রত্যক্ষ বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ছাড়া ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আইন অনুযায়ী পলাতক থাকা একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা হতে পারে, কিন্তু এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রমাণ নয়। ফৌজদারি বিচারের মূল নীতি হলো-“যতক্ষণ পর্যন্ত দোষ প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ আসামি নির্দোষ।” দোষ প্রমাণের বোঝা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপক্ষের ওপর থাকে, যা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে হয়।

পলাতক থাকার ভিন্ন কারণে মানুষ জামিন নেওয়ার পর আদালতের উপস্থিতি এড়াতে পারে। কেউ পুলিশের হয়রানি, মিথ্যা মামলার আশঙ্কা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা অথবা ভুল আইনি পরামর্শের কারণে পলাতক হতে পারে। সুতরাং কেবল পলাতক থাকার ভিত্তিতে খুনের দায় চাপানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। পলাতক থাকার বিষয়টি তখনই গুরুত্ব পায় যখন অপরাধের অন্যান্য শক্তিশালী প্রমাণ আদালতে উপস্থিত থাকে। সেখানে এটি মূল প্রমাণকে আরও দৃঢ় করে, কিন্তু অন্য কোনো ভিত্তি না থাকলে এটি শূন্যগর্ভ যুক্তি মাত্র।

দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তাই কেবল অনুমান বা পলাতক থাকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক। আপিল বিভাগের এই রায় ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিম্ন আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করতে অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যা আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি রক্ষা করে।

বোরহান উদ্দিন খান

এডভোকেট

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

অনুমতি উঠে গেল, বিবেক কি ছুটিতে?

খেজুর রসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

শীতের তীব্রতায় মানবিকতার আলো জ্বালাই

আইনশৃঙ্খলার অবনতি: কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

চাকরির বিজ্ঞাপন আছে, চাকরি নেই

উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমিকের বেদনা

ফুটপাথের উন্মুক্ত টয়লেট: নগর জীবনের অস্বস্তি

ধূমপান সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ কি আলোর মুখ দেখবে?

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সংকট

ক্যাম্পাস বাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য: শিক্ষার্থীদের নিত্য বিড়ম্বনা

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

স্কুলে নির্যাতন: আদর্শের আড়ালে বাস্তবতা

টেলিটকে ওয়াইফাই কলিং: সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সম্ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

ইজি বাইক থেকে খাবারের থালা: সিসার ছায়া আমাদের চারপাশে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

tab

মতামত » চিঠিপত্র

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থায় অনেকের মধ্যে প্রচলিত ধারণা আছে, যে কোনো আসামি যদি জামিন নিয়ে পলাতক হয়, তবে সে অপরাধ করেছে বলেই আদালতের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। কিন্তু আইন কি শুধুমাত্র এই অনুমানের ভিত্তিতে কাউকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে?

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাবুল ওরফে ফখরুল বনাম রাষ্ট্র (ফৌজদারি), ১৫ এএলআর (২০১৯)(১) মামলায় স্পষ্ট করেছেন, কেবল জামিন নিয়ে পলাতক থাকার কারণে কোনো আসামিকে অন্য কোনো প্রত্যক্ষ বা পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ছাড়া ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না। আইন অনুযায়ী পলাতক থাকা একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা হতে পারে, কিন্তু এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রমাণ নয়। ফৌজদারি বিচারের মূল নীতি হলো-“যতক্ষণ পর্যন্ত দোষ প্রমাণিত না হয়, ততক্ষণ আসামি নির্দোষ।” দোষ প্রমাণের বোঝা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপক্ষের ওপর থাকে, যা যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করতে হয়।

পলাতক থাকার ভিন্ন কারণে মানুষ জামিন নেওয়ার পর আদালতের উপস্থিতি এড়াতে পারে। কেউ পুলিশের হয়রানি, মিথ্যা মামলার আশঙ্কা, আর্থিক সীমাবদ্ধতা অথবা ভুল আইনি পরামর্শের কারণে পলাতক হতে পারে। সুতরাং কেবল পলাতক থাকার ভিত্তিতে খুনের দায় চাপানো ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। পলাতক থাকার বিষয়টি তখনই গুরুত্ব পায় যখন অপরাধের অন্যান্য শক্তিশালী প্রমাণ আদালতে উপস্থিত থাকে। সেখানে এটি মূল প্রমাণকে আরও দৃঢ় করে, কিন্তু অন্য কোনো ভিত্তি না থাকলে এটি শূন্যগর্ভ যুক্তি মাত্র।

দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। তাই কেবল অনুমান বা পলাতক থাকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক। আপিল বিভাগের এই রায় ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার জন্য নিম্ন আদালত ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের জন্য নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করতে অবশ্যই প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে, যা আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি রক্ষা করে।

বোরহান উদ্দিন খান

এডভোকেট

back to top