alt

মতামত » চিঠিপত্র

এনটিআরসিএর চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের পর শিক্ষকদের অটো এমপিওভুক্ত করা জরুরি

: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষক। শিক্ষকদের হাতেই গড়ে ওঠে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আর একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসম্মত শিক্ষাও অপরিহার্য। আর তার জন্য চাই মানসম্মত শিক্ষক। সেই সূত্র ধরেই সময়ের প্রয়োজনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন আনয়নের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করে মেধার ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচনের জন্য সংস্থাটি কাজ করে। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক) মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করে তারা। তারপর কৃতকার্যদের নিবন্ধন সনদ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে সংস্থাটি। এতে করে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতার মহান পেশায় আসতে চাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি কিছুটা লাঘব হলেও নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ার পর শুরু হয় নতুন বিড়ম্বনা। এই বিড়ম্বনা সুপারিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর এমপিওভুক্ত হওয়ার।

বর্তমানে একজন শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর তাকে আলাদা করে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এমপিও আবেদন করতে লাগে হরেক রকম কাগজপত্র, সিগনেচার। তারপর সেগুলো দিয়ে আবেদন করার জন্যও মাসের শুরুতে হাতে থাকে অল্প ক’টা দিন। সেখানেও আবার সার্ভার জটিলতা। মাঝে এক দরজা থেকে অন্য দরজায় কড়া নাড়বার বিড়ম্বনা তো থাকেই।

আবেদনের পর বিভিন্ন কার্যালয়ে ফাইল চালাচালির এই প্রক্রিয়ায় প্রায়ই নানা ভুল-ভ্রান্তি ও দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। মাঝেমাঝে অনাকাক্সিক্ষত দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। মেধা তালিকায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বেতন পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয় দিনের পর দিন, যা একজন নবীন শিক্ষকের জন্য মানসিক এবং আর্থিক অবমাননা। আবার যাদের পোস্টিং বাড়ি থেকে দূরে হয় তাদের কষ্টটা আরেকটু বেশি। নতুন জায়গায় গিয়ে বাসা খোঁজা, বাসা ভাড়া এডভান্স করা ইত্যাদি ঝামেলা পোহাতে হলেও বেতন কবে হবে তার নিশ্চয়তা থাকে না।

অথচ এনটিআরসিএর অধীনে যখন একজন চাকরিপ্রার্থী প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইবা পরীক্ষা দেয় তখন উক্ত চাকরিপ্রার্থীর সব তথ্যই সরকারের কাছে থাকে। তাছাড়া ভাইবার সময় সনদ ও এনআইডি যাচাইও হয়ে থাকে। হয় পুলিশ ভেরিফিকেশনও। তারপর সবকিছু সঠিক হলেই প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

যদি সব তথ্য সঠিক থাকার কারণেই উক্ত চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পান, তাহলে নিয়োগের পর একই তথ্য চেয়ে বেতন বিলম্ব করা কেন? আবার প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির বিষয়টাও সরকারের হাতে। সে সব তথ্যও সরকারের কাছে থাকে। যদি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বা অন্যকোনো সমস্যা থাকে তাহলে সে সকল প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ না করলেই হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এমপিও ভিক্ষা করার সংস্কৃতি বন্ধ করার এখনই সময়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সদিচ্ছা দেখায়, তবে ‘অটো এমপিও’ বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন কিছু নয়। আশা করি, কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের এই যৌক্তিক আবেদনটি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবেন।

অমিত হাসান

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ (ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি)

পৃথিবী বাঁচানোর লড়াইয়ে অণুজীব

ছবি

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাস্তা সংস্কার চাই

নদী বাণিজ্য: শক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

যন্ত্রের মেধা মানুষের হাত

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

tab

মতামত » চিঠিপত্র

এনটিআরসিএর চূড়ান্ত নিয়োগ সুপারিশের পর শিক্ষকদের অটো এমপিওভুক্ত করা জরুরি

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

জাতি গঠনের কারিগর শিক্ষক। শিক্ষকদের হাতেই গড়ে ওঠে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম। আর একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসম্মত শিক্ষাও অপরিহার্য। আর তার জন্য চাই মানসম্মত শিক্ষক। সেই সূত্র ধরেই সময়ের প্রয়োজনে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন আনয়নের লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাথমিকভাবে ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করে মেধার ভিত্তিতে যোগ্য শিক্ষক নির্বাচনের জন্য সংস্থাটি কাজ করে। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার (প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক) মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করে তারা। তারপর কৃতকার্যদের নিবন্ধন সনদ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশ করে আসছে সংস্থাটি। এতে করে পড়াশোনা শেষে শিক্ষকতার মহান পেশায় আসতে চাওয়া চাকরিপ্রার্থীদের হয়রানি কিছুটা লাঘব হলেও নিয়োগ সুপারিশ পাওয়ার পর শুরু হয় নতুন বিড়ম্বনা। এই বিড়ম্বনা সুপারিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর এমপিওভুক্ত হওয়ার।

বর্তমানে একজন শিক্ষক নিয়োগ পাওয়ার পর তাকে আলাদা করে এমপিওভুক্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। এমপিও আবেদন করতে লাগে হরেক রকম কাগজপত্র, সিগনেচার। তারপর সেগুলো দিয়ে আবেদন করার জন্যও মাসের শুরুতে হাতে থাকে অল্প ক’টা দিন। সেখানেও আবার সার্ভার জটিলতা। মাঝে এক দরজা থেকে অন্য দরজায় কড়া নাড়বার বিড়ম্বনা তো থাকেই।

আবেদনের পর বিভিন্ন কার্যালয়ে ফাইল চালাচালির এই প্রক্রিয়ায় প্রায়ই নানা ভুল-ভ্রান্তি ও দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। মাঝেমাঝে অনাকাক্সিক্ষত দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। মেধা তালিকায় সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বেতন পেতে অপেক্ষায় থাকতে হয় দিনের পর দিন, যা একজন নবীন শিক্ষকের জন্য মানসিক এবং আর্থিক অবমাননা। আবার যাদের পোস্টিং বাড়ি থেকে দূরে হয় তাদের কষ্টটা আরেকটু বেশি। নতুন জায়গায় গিয়ে বাসা খোঁজা, বাসা ভাড়া এডভান্স করা ইত্যাদি ঝামেলা পোহাতে হলেও বেতন কবে হবে তার নিশ্চয়তা থাকে না।

অথচ এনটিআরসিএর অধীনে যখন একজন চাকরিপ্রার্থী প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং ভাইবা পরীক্ষা দেয় তখন উক্ত চাকরিপ্রার্থীর সব তথ্যই সরকারের কাছে থাকে। তাছাড়া ভাইবার সময় সনদ ও এনআইডি যাচাইও হয়ে থাকে। হয় পুলিশ ভেরিফিকেশনও। তারপর সবকিছু সঠিক হলেই প্রার্থীকে চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

যদি সব তথ্য সঠিক থাকার কারণেই উক্ত চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পান, তাহলে নিয়োগের পর একই তথ্য চেয়ে বেতন বিলম্ব করা কেন? আবার প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতির বিষয়টাও সরকারের হাতে। সে সব তথ্যও সরকারের কাছে থাকে। যদি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বা অন্যকোনো সমস্যা থাকে তাহলে সে সকল প্রতিষ্ঠানে সুপারিশ না করলেই হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এমপিও ভিক্ষা করার সংস্কৃতি বন্ধ করার এখনই সময়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি সদিচ্ছা দেখায়, তবে ‘অটো এমপিও’ বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন কিছু নয়। আশা করি, কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের এই যৌক্তিক আবেদনটি সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করবেন।

অমিত হাসান

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ (ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি)

back to top