alt

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

আইনের শাসন কি উপেক্ষিতই থাকবে?

গাজী তারেক আজিজ

: শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের ব্যানারে দাঁড়িয়ে থানার ভেতরে বসে প্রকাশ্যে পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়া, হত্যার দায় স্বীকারের মতো বক্তব্য দেয়া, তারপর গ্রেপ্তার হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্দোলন ও চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি-ধমকি। তারপর জামিন ও বিজয় মিছিল এই ধারাবাহিকতা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার গভীরে জমে থাকা এক ভয়াবহ অসুখ বা বিমারের লক্ষণ। যে বিমার সারাতে কোনো পথ্য নেই। মানুষের বিমার হয়তো সারানো যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের যদি হয় তা কি সহজেই সারে, এই প্রশ্ন কাকে করব? উত্তরইবা কে দেবে? তবে প্রশ্ন করাও ঝুঁকি! তাহলে কি আমরা ঘেরাটোপে বন্দী! হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের কথোপকথনের ভিডিও প্রকাশের পর যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা ব্যক্তি মাহদী হাসানকে ছাপিয়ে অনেক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নটি আসলে এই বাংলাদেশে আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের শক্তিই শেষ কথা? নাকি সময়টাই খারাপ যাচ্ছে আমাদের! এর সমাধান কি চুপ করে চুপসে যাওয়া? ভাবতে হবে। উপায় বের করতে হবে। ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তা শুধু অশোভন আচরণ নয়; এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি ‘আঙুল উঁচানো চ্যালেঞ্জ’। একজন ছাত্রনেতা থানার ভেতরে বসে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলছেন- “আমরাই গভর্নমেন্ট ফর্ম করেছি”, “বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়েছি”, “এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি”। এই বক্তব্য সত্য হোক বা মিথ্যা আইনের দৃষ্টিতে উভয়ই গুরুতর। যদি বক্তব্য সত্য হয়, তবে তিনি একটি ভয়াবহ হত্যাকা- ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন। আর যদি মিথ্যা বা ‘স্লিপ অব টাং’ হয়, তাহলেও প্রশ্ন থাকে কিন্তু কোন সাহসে, কোন ক্ষমতায় দাঁড়িয়ে একজন নাগরিক এমন বক্তব্য দেন একটি থানা কম্পাউন্ডে ওসির কামরায়। তাহলে কি ধরে নেয়া হবে থানায় নিয়োজিত ওসিকেও কোন না কোন ছাত্র নামধারী নেতাদের নিকট জবাবদিহি করতে হবে? ওসি কি প্রদত্ত হুমকিকে গুরুতর না লঘু সেই সিদ্ধান্ত পেতে ওপর মহলের আদেশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে? আমরা স্তম্ভিত! আমরা হতাশ! আমরা সন্ত্রস্ত! আসা যাক পরবর্তী আলোচনায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ভিডিওতে প্রকাশ্য হুমকি ও সহিংসতার দাবি থাকার পরও মাহদী হাসানকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? আইনের ভাষায় এটি ঈড়মহরুধনষব ড়ভভবহপব পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ। সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দাবি সবই ফৌজদারি অপরাধ। এখানে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা কি পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতায় অসহায়? আইনের শাসনের মূল শর্ত হলো- আইন প্রয়োগ হবে তাৎক্ষণিক, নিরপেক্ষ এবং চাপমুক্ত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঢেউ ওঠার পর পুলিশ বাধ্য হয়ে গ্রেপ্তারের পথে যায়। অর্থাৎ আইন এখানে প্রভাবিত হয়েছে জনরোষ ও রাজনৈতিক উত্তাপ দ্বারা, আইনি দায়বদ্ধতায় নয়। মাহদী হাসান গ্রেপ্তারের পর যা ঘটেছে, সেটি আরও উদ্বেগজনক। থানার সামনে রাতভর অবস্থান, ঢাকা থেকে আলটিমেটাম, আদালত বসানোর দাবি এসব দৃশ্য আমাদের পরিচিত। অতীতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ছাত্রদল, যুবদল বা ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা একই চিত্র হয়তো দেখেছি। তাই বলে পরিবর্তনের দাবি তুলে, ভালো বা অতীতের সব খারাপকেও যদি ছাপিয়ে যেতে হয়! তাহলে আফসোস করা ছাড়া আর কী-ই থাকে! যদিও আইনগতভাবে আদালত জামিন দিতে পারেন এবং দিয়েছেন। কিন্তু জামিনের পরপরই বিজয়মিছিল ও উল্লাস প্রমাণ করে, বিষয়টি আইনি স্বস্তি নয়; বরং রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের ব্যানারে দাঁড়িয়ে থানার ভেতরে বসে প্রকাশ্যে পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়া, হত্যার দায় স্বীকারের মতো বক্তব্য দেয়া, তারপর গ্রেপ্তার হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্দোলন ও চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি-ধমকি। তারপর জামিন ও বিজয় মিছিল এই ধারাবাহিকতা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার গভীরে জমে থাকা এক ভয়াবহ অসুখ বা বিমারের লক্ষণ। যে বিমার সারাতে কোনো পথ্য নেই। মানুষের বিমার হয়তো সারানো যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের যদি হয় তা কি সহজেই সারে? এই প্রশ্ন কাকে করব? উত্তরইবা কে দেবে?

গত ১৭ মাসের দৃশ্যপট একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন, আমরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই! আইনের শাসন সেখানে দুর্বল হয়ে পড়ে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালত থেকে বেরিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু একইভাবে উল্টো চিত্রও দৃশ্যমান। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় যেসব মামলা বাণিজ্য, গায়েবি মামলায় কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশপ্রসূত আসামি করা হয়েছে। অনেক নিরীহ লোক উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েও আগাম জামিন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে দরজায় সাঁটানো ‘বিজ্ঞপ্তি’ নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা চাউর হয়েছে। অনেক লোক এলাকাছাড়া। কর্মছাড়া। পরিবার-পরিজন অর্থাভাবে অতিশয় কষ্টে দিনাতিপাত করছে, তা কি দেখার কেউ আছে? আইন উপদেষ্টা কি কথা রেখেছেন? যথাযথ তদন্ত হওয়ার আশ্বাস কি বাস্তবতা বিশ্বাস করেছে ভুক্তভোগী? অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় মাহদী হাসানের সেই ভিডিও নিয়ে যে মন্তব্যটি করেছেন ‘এই বক্তব্য ১৬৪ ধারার চেয়ে কম নয়” তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আইনের দৃষ্টিতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি পুলিশের সামনে, থানার ভেতরে, ভিডিওতে এমন দাবি করে তা তদন্তের শক্তিশালী উপাদান হতে পারে। তবে কি সেটা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মামলায় ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা যেতে পারে না?

এখানে তদন্তের জায়গা ছিল, ছিল রিমান্ডের সুযোগ, ছিল পুনরুজ্জীবিত তদন্তের সম্ভাবনা বিশেষত বানিয়াচং থানার ভয়াবহ হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে দ্রুত জামিন ও মুক্তি আইনের প্রয়োগে একধরনের আত্মসমর্পণের বার্তা দেয়। যদিও ২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহের জন্য ‘দায়মুক্তি’ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। অধিকন্তু, যেখানে তৎকালীন সরকারকে অভিযুক্ত করে বিচার চলমান। ২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে একই বছর ৮ আগস্ট ভিন্ন আঙ্গিকে উচ্চ আদালতের রেফারেন্স নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যখনই পতিত সরকারের বিচার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার পরবর্তী সময়ে আন্দোলন চলাকালীন একেক সময় একেক দাবি করে একেকজন যে বয়ান উপস্থাপন করছে বিভিন্ন মেইনস্ট্রিম ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেইসব দাবিকে পুঁজি করে তৎকালীন সরকারপন্থীরা যখন উচ্ছ্বসিত, ঠিক সেই সময়ই এসব ঘটানায় তালগোল পাকিয়ে সরকারও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে যে দাবি তোলা হয়েছে ‘পহেলা জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মকান্ডের দায়মুক্তি’ তা রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার জন্য ভয়ংকর। হয়তো নিকট ভবিষ্যতে তা-ও দৃশ্যমান হতে শুরু করবে। ইতিহাস বলে, দায়মুক্তি কখনো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেনি। বরং এটি অপরাধকে উৎসাহিত করে। যদি আন্দোলনের ব্যানারে খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের দায় মুছে দেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যে কোনো গোষ্ঠী একই পথ বেছে নিতে উৎসাহিত হবে। রাষ্ট্র তখন আর ন্যায়বিচারের জায়গা থাকবে না, হয়ে উঠবে ক্ষমতার সমীকরণের মাঠ। আর এই চর্চাই পরিবর্তনের দাবি করে আসছে আন্দোলনে সর্ম্পৃক্ত পক্ষ। অধ্যাপক তৌহিদুল হক যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন ৫ আগস্টের পর যেভাবে ‘সমন্বয়ক পরিচয়ে’ চাঁদাবাজি, প্রভাব খাটানো, পুলিশ-সেনাবাহিনীকে হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটছে, তা কি পুরনো শাসনেরই নতুন সংস্করণ? এমনটি যে কেউ ধরে নিতে পারে। বা তার চেয়েও ঢের বেশি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও আমরা দেখেছি দলীয় পরিচয়ে থানায় হস্তক্ষেপ, মামলা বাণিজ্য, গ্রেপ্তার-জামিনের নাটক। আজ যদি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় একই আচরণ পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ‘পরিবর্তন’ শব্দটি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আদতে আমরা উল্টো পথে, উল্টো রথের যাত্রী বললেও অত্যুক্তি হবে কি? আইনের শাসন মানে শুধু আইন থাকা নয়। এটি একটি সংস্কৃতি যেখানে ক্ষমতাবানও আইনের কাছে জবাবদিহি করে, যেখানে আন্দোলনের নেতাও থানার ভেতরে শালীনতা বজায় রাখে, যেখানে পুলিশ রাজনৈতিক চাপ নয়, আইনের নির্দেশে কাজ করে। এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- সবপক্ষই যেন পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়েছে। পুলিশ নীরব, প্রশাসন নীরব, রাষ্ট্র নীরব। অথচ প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের মনে, আগামীকাল যদি আরেকজন নেতা থানায় গিয়ে এমন দাবি করে, রাষ্ট্র কি আবারও পিছু হটবে? কথিত ছাত্রনেতা নামধারী প্রধান উপদেষ্টার ভাষায় এই ‘নিয়োগকারী’ যেহেতু মব করে ভায়োলেন্সের ভয় দেখিয়ে অনেকের চাকরি ‘খেয়ে দিয়েছে’। তাই ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায় অথবা হুমকি অথবা ধমকি অথবা মবের ভয়ে তাদেরই আজ্ঞাবহ রয়েছেন। অতীতে কি পুরো রাষ্ট্রকে জিম্মি করে এমনটা করার সাহস কেউ দেখিয়েছে? যে দেশে পিনাকী গোত্রীয় অনেক ‘মিডিয়া টেরর’ ডাক দিলে মব হয়। সরকারে থাকা রথি-মহারথিদের ‘ডর’ করে। পুলিশেরই কোন না কোন কর্তাব্যক্তি ফোন করে অনুরোধ করলে সেই মিডিয়া মাফিয়ারাই বললে মব সরে যায়! আহা কী অদ্ভুত! এসবও দেখতে হচ্ছে! মাহদী হাসানের ঘটনা কোনো ব্যক্তিগত ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ নয় বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে অভিযুক্ত মাহদী গ্রেপ্তারের আগে আগে একটা ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এটি একটি সময়ের দলিল যেখানে আন্দোলনের নৈতিক উচ্চতা, রাষ্ট্রের আইনি দৃঢ়তা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

পরিশেষে, আজ যদি এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর না দেয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে আইনের শাসন আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় থাকবে না তা পরিণত হবে কেবল একটি স্মৃতিচিহ্নে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই বদলাতে চায়, তবে তাকে প্রমাণ করতে হবে আইনের চোখে কেউই অপরিহার্য নয়, কেউই অজেয় নয়। নচেৎ, থানার ভেতরের সেই টেবিল চাপড়ানো শব্দই হবে ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থার প্রতীক।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ফেনী]

শীতের নীরব আঘাত

ভোটে ইসলামী জোট

মাঠের মাইক নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই নির্ধারিত হচ্ছে নেতৃত্ব

ভূমিকম্প ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও আমাদের করণীয়

“ফিজ-না-ফিজ...”

বনসাই জীবনের অদৃশ্য শোকগাথা

এলপিজি সংকট

ছবি

তবে কি আমরা প্রতারিত হলাম

প্রযুক্তির অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পৃথিবী

ছবি

চারণসাংবাদিক মোনাজাতউদ্দিন ডিজিটাল যুগেও প্রাসঙ্গিক

নতুন বছরে অর্থনীতি ও বিনিয়োগের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা

শীতের নতুন বিষদাঁত: জলবায়ু পরিবর্তন ও আমাদের বৈষম্যের খেরোখাতা

সড়ক হোক নিরাপদ

স্কুল ব্যাংকিং: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

নির্বাচন কি মবোক্রেসি বন্ধ করবে?

ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড: স্বচ্ছতা না নতুন ঝুঁকি?

‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’

খ্রিস্টীয় নববর্ষ প্রচলনের ইতিকথা

২০২৬-এর বাংলাদেশ: স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির সন্ধানে এক নতুন শুরু

ছবি

স্বপ্ন ও সম্ভাবনার নতুন বছর

পেঁয়াজ চাষের আধুনিক প্রযুক্তি

মাধ্যমিকে অব্যবস্থাপনা

‘কক অ্যান্ড বুল স্টোরি’

মব সংস্কৃতি, ন্যায়বিচারের সংকট ও সমাজের আত্মক্ষয়

শীতকালীন জীবন: সংগ্রাম, সংস্কৃতি ও সহমর্মিতা

অ্যালগরিদমের রাজনীতি

চারদিকে আতঙ্ক আর শঙ্কা

অধ্যবসায়ের বিকল্প নেই

দিপু দাস হত্যাকাণ্ড ও মব সন্ত্রাস

ভোগের দৃশ্যপট: ঢাকায় আধুনিকতা কেন কেবল অল্প কিছু মানুষের জন্য?

স্বর্ণের মোহ ও মানবিক দ্বন্দ্ব

ভালোবাসার দেহধারণ: বড়দিনের তাৎপর্য

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

বিনা-ভাড়ার ট্রেনযাত্রা

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলে এশিয়া

ছবি

নামে ইসলামী, কাজে আবু জাহেল!

tab

মতামত » উপ-সম্পাদকীয়

আইনের শাসন কি উপেক্ষিতই থাকবে?

গাজী তারেক আজিজ

শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের ব্যানারে দাঁড়িয়ে থানার ভেতরে বসে প্রকাশ্যে পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়া, হত্যার দায় স্বীকারের মতো বক্তব্য দেয়া, তারপর গ্রেপ্তার হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্দোলন ও চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি-ধমকি। তারপর জামিন ও বিজয় মিছিল এই ধারাবাহিকতা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার গভীরে জমে থাকা এক ভয়াবহ অসুখ বা বিমারের লক্ষণ। যে বিমার সারাতে কোনো পথ্য নেই। মানুষের বিমার হয়তো সারানো যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের যদি হয় তা কি সহজেই সারে, এই প্রশ্ন কাকে করব? উত্তরইবা কে দেবে? তবে প্রশ্ন করাও ঝুঁকি! তাহলে কি আমরা ঘেরাটোপে বন্দী! হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের কথোপকথনের ভিডিও প্রকাশের পর যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা ব্যক্তি মাহদী হাসানকে ছাপিয়ে অনেক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্নটি আসলে এই বাংলাদেশে আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি রাজনৈতিক পরিচয় ও সংগঠনের শক্তিই শেষ কথা? নাকি সময়টাই খারাপ যাচ্ছে আমাদের! এর সমাধান কি চুপ করে চুপসে যাওয়া? ভাবতে হবে। উপায় বের করতে হবে। ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তা শুধু অশোভন আচরণ নয়; এটি সরাসরি রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের প্রতি ‘আঙুল উঁচানো চ্যালেঞ্জ’। একজন ছাত্রনেতা থানার ভেতরে বসে একজন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বলছেন- “আমরাই গভর্নমেন্ট ফর্ম করেছি”, “বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়েছি”, “এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালিয়ে দিয়েছি”। এই বক্তব্য সত্য হোক বা মিথ্যা আইনের দৃষ্টিতে উভয়ই গুরুতর। যদি বক্তব্য সত্য হয়, তবে তিনি একটি ভয়াবহ হত্যাকা- ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনা ধ্বংসের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন। আর যদি মিথ্যা বা ‘স্লিপ অব টাং’ হয়, তাহলেও প্রশ্ন থাকে কিন্তু কোন সাহসে, কোন ক্ষমতায় দাঁড়িয়ে একজন নাগরিক এমন বক্তব্য দেন একটি থানা কম্পাউন্ডে ওসির কামরায়। তাহলে কি ধরে নেয়া হবে থানায় নিয়োজিত ওসিকেও কোন না কোন ছাত্র নামধারী নেতাদের নিকট জবাবদিহি করতে হবে? ওসি কি প্রদত্ত হুমকিকে গুরুতর না লঘু সেই সিদ্ধান্ত পেতে ওপর মহলের আদেশ আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে? আমরা স্তম্ভিত! আমরা হতাশ! আমরা সন্ত্রস্ত! আসা যাক পরবর্তী আলোচনায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ভিডিওতে প্রকাশ্য হুমকি ও সহিংসতার দাবি থাকার পরও মাহদী হাসানকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? আইনের ভাষায় এটি ঈড়মহরুধনষব ড়ভভবহপব পুলিশের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ। সরকারি কাজে বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলার দাবি সবই ফৌজদারি অপরাধ। এখানে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা কি পরিস্থিতি সামলাতে ব্যর্থ, নাকি রাজনৈতিক বাস্তবতায় অসহায়? আইনের শাসনের মূল শর্ত হলো- আইন প্রয়োগ হবে তাৎক্ষণিক, নিরপেক্ষ এবং চাপমুক্ত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঢেউ ওঠার পর পুলিশ বাধ্য হয়ে গ্রেপ্তারের পথে যায়। অর্থাৎ আইন এখানে প্রভাবিত হয়েছে জনরোষ ও রাজনৈতিক উত্তাপ দ্বারা, আইনি দায়বদ্ধতায় নয়। মাহদী হাসান গ্রেপ্তারের পর যা ঘটেছে, সেটি আরও উদ্বেগজনক। থানার সামনে রাতভর অবস্থান, ঢাকা থেকে আলটিমেটাম, আদালত বসানোর দাবি এসব দৃশ্য আমাদের পরিচিত। অতীতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ছাত্রদল, যুবদল বা ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর ক্ষেত্রেও আমরা একই চিত্র হয়তো দেখেছি। তাই বলে পরিবর্তনের দাবি তুলে, ভালো বা অতীতের সব খারাপকেও যদি ছাপিয়ে যেতে হয়! তাহলে আফসোস করা ছাড়া আর কী-ই থাকে! যদিও আইনগতভাবে আদালত জামিন দিতে পারেন এবং দিয়েছেন। কিন্তু জামিনের পরপরই বিজয়মিছিল ও উল্লাস প্রমাণ করে, বিষয়টি আইনি স্বস্তি নয়; বরং রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

বাংলাদেশে আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলনের ব্যানারে দাঁড়িয়ে থানার ভেতরে বসে প্রকাশ্যে পুলিশ কর্মকর্তাকে হুমকি দেয়া, হত্যার দায় স্বীকারের মতো বক্তব্য দেয়া, তারপর গ্রেপ্তার হলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আন্দোলন ও চাপ প্রয়োগ এবং হুমকি-ধমকি। তারপর জামিন ও বিজয় মিছিল এই ধারাবাহিকতা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার গভীরে জমে থাকা এক ভয়াবহ অসুখ বা বিমারের লক্ষণ। যে বিমার সারাতে কোনো পথ্য নেই। মানুষের বিমার হয়তো সারানো যায়। কিন্তু রাষ্ট্রের যদি হয় তা কি সহজেই সারে? এই প্রশ্ন কাকে করব? উত্তরইবা কে দেবে?

গত ১৭ মাসের দৃশ্যপট একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন, আমরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যাই! আইনের শাসন সেখানে দুর্বল হয়ে পড়ে, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালত থেকে বেরিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। কিন্তু একইভাবে উল্টো চিত্রও দৃশ্যমান। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় যেসব মামলা বাণিজ্য, গায়েবি মামলায় কিংবা ব্যক্তিগত আক্রোশপ্রসূত আসামি করা হয়েছে। অনেক নিরীহ লোক উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েও আগাম জামিন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করে দরজায় সাঁটানো ‘বিজ্ঞপ্তি’ নিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা চাউর হয়েছে। অনেক লোক এলাকাছাড়া। কর্মছাড়া। পরিবার-পরিজন অর্থাভাবে অতিশয় কষ্টে দিনাতিপাত করছে, তা কি দেখার কেউ আছে? আইন উপদেষ্টা কি কথা রেখেছেন? যথাযথ তদন্ত হওয়ার আশ্বাস কি বাস্তবতা বিশ্বাস করেছে ভুক্তভোগী? অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তৌহিদুল হক বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় মাহদী হাসানের সেই ভিডিও নিয়ে যে মন্তব্যটি করেছেন ‘এই বক্তব্য ১৬৪ ধারার চেয়ে কম নয়” তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, আইনের দৃষ্টিতে ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি পুলিশের সামনে, থানার ভেতরে, ভিডিওতে এমন দাবি করে তা তদন্তের শক্তিশালী উপাদান হতে পারে। তবে কি সেটা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট মামলায় ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা যেতে পারে না?

এখানে তদন্তের জায়গা ছিল, ছিল রিমান্ডের সুযোগ, ছিল পুনরুজ্জীবিত তদন্তের সম্ভাবনা বিশেষত বানিয়াচং থানার ভয়াবহ হত্যাকান্ডের প্রেক্ষাপটে। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে দ্রুত জামিন ও মুক্তি আইনের প্রয়োগে একধরনের আত্মসমর্পণের বার্তা দেয়। যদিও ২৪ সালের ৫ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত ঘটনাপ্রবাহের জন্য ‘দায়মুক্তি’ দেয়ার কথাও বলা হয়েছে। অধিকন্তু, যেখানে তৎকালীন সরকারকে অভিযুক্ত করে বিচার চলমান। ২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে একই বছর ৮ আগস্ট ভিন্ন আঙ্গিকে উচ্চ আদালতের রেফারেন্স নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার যখনই পতিত সরকারের বিচার করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তার পরবর্তী সময়ে আন্দোলন চলাকালীন একেক সময় একেক দাবি করে একেকজন যে বয়ান উপস্থাপন করছে বিভিন্ন মেইনস্ট্রিম ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেইসব দাবিকে পুঁজি করে তৎকালীন সরকারপন্থীরা যখন উচ্ছ্বসিত, ঠিক সেই সময়ই এসব ঘটানায় তালগোল পাকিয়ে সরকারও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে যে দাবি তোলা হয়েছে ‘পহেলা জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত সব কর্মকান্ডের দায়মুক্তি’ তা রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার জন্য ভয়ংকর। হয়তো নিকট ভবিষ্যতে তা-ও দৃশ্যমান হতে শুরু করবে। ইতিহাস বলে, দায়মুক্তি কখনো গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেনি। বরং এটি অপরাধকে উৎসাহিত করে। যদি আন্দোলনের ব্যানারে খুন, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের দায় মুছে দেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যে কোনো গোষ্ঠী একই পথ বেছে নিতে উৎসাহিত হবে। রাষ্ট্র তখন আর ন্যায়বিচারের জায়গা থাকবে না, হয়ে উঠবে ক্ষমতার সমীকরণের মাঠ। আর এই চর্চাই পরিবর্তনের দাবি করে আসছে আন্দোলনে সর্ম্পৃক্ত পক্ষ। অধ্যাপক তৌহিদুল হক যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন ৫ আগস্টের পর যেভাবে ‘সমন্বয়ক পরিচয়ে’ চাঁদাবাজি, প্রভাব খাটানো, পুলিশ-সেনাবাহিনীকে হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটছে, তা কি পুরনো শাসনেরই নতুন সংস্করণ? এমনটি যে কেউ ধরে নিতে পারে। বা তার চেয়েও ঢের বেশি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও আমরা দেখেছি দলীয় পরিচয়ে থানায় হস্তক্ষেপ, মামলা বাণিজ্য, গ্রেপ্তার-জামিনের নাটক। আজ যদি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় একই আচরণ পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ‘পরিবর্তন’ শব্দটি কেবল স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আদতে আমরা উল্টো পথে, উল্টো রথের যাত্রী বললেও অত্যুক্তি হবে কি? আইনের শাসন মানে শুধু আইন থাকা নয়। এটি একটি সংস্কৃতি যেখানে ক্ষমতাবানও আইনের কাছে জবাবদিহি করে, যেখানে আন্দোলনের নেতাও থানার ভেতরে শালীনতা বজায় রাখে, যেখানে পুলিশ রাজনৈতিক চাপ নয়, আইনের নির্দেশে কাজ করে। এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- সবপক্ষই যেন পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিয়েছে। পুলিশ নীরব, প্রশাসন নীরব, রাষ্ট্র নীরব। অথচ প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে সাধারণ মানুষের মনে, আগামীকাল যদি আরেকজন নেতা থানায় গিয়ে এমন দাবি করে, রাষ্ট্র কি আবারও পিছু হটবে? কথিত ছাত্রনেতা নামধারী প্রধান উপদেষ্টার ভাষায় এই ‘নিয়োগকারী’ যেহেতু মব করে ভায়োলেন্সের ভয় দেখিয়ে অনেকের চাকরি ‘খেয়ে দিয়েছে’। তাই ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায় অথবা হুমকি অথবা ধমকি অথবা মবের ভয়ে তাদেরই আজ্ঞাবহ রয়েছেন। অতীতে কি পুরো রাষ্ট্রকে জিম্মি করে এমনটা করার সাহস কেউ দেখিয়েছে? যে দেশে পিনাকী গোত্রীয় অনেক ‘মিডিয়া টেরর’ ডাক দিলে মব হয়। সরকারে থাকা রথি-মহারথিদের ‘ডর’ করে। পুলিশেরই কোন না কোন কর্তাব্যক্তি ফোন করে অনুরোধ করলে সেই মিডিয়া মাফিয়ারাই বললে মব সরে যায়! আহা কী অদ্ভুত! এসবও দেখতে হচ্ছে! মাহদী হাসানের ঘটনা কোনো ব্যক্তিগত ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ নয় বলেও বিশ্লেষকদের ধারণা। তবে অভিযুক্ত মাহদী গ্রেপ্তারের আগে আগে একটা ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এটি একটি সময়ের দলিল যেখানে আন্দোলনের নৈতিক উচ্চতা, রাষ্ট্রের আইনি দৃঢ়তা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

পরিশেষে, আজ যদি এই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর না দেয়া হয়, তাহলে আগামী দিনে আইনের শাসন আর কোনো তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় থাকবে না তা পরিণত হবে কেবল একটি স্মৃতিচিহ্নে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই বদলাতে চায়, তবে তাকে প্রমাণ করতে হবে আইনের চোখে কেউই অপরিহার্য নয়, কেউই অজেয় নয়। নচেৎ, থানার ভেতরের সেই টেবিল চাপড়ানো শব্দই হবে ভবিষ্যতের শাসনব্যবস্থার প্রতীক।

(মতামত লেখকের নিজস্ব)

[লেখক: অ্যাডভোকেট, জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ফেনী]

back to top