alt

লাফিয়ে বাড়ছে কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের অভিশাপ এবার জেঁকে বসেছে কৃষিঋণেও। দীর্ঘদিন কম ঝুঁকির তালিকায় থাকা কৃষিঋণে হঠাৎ করেই খেলাপি বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। নতুন নীতিমালায় সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ডাউটফুল ও ব্যাড লোনের সময়সীমা কমিয়ে আনার পর থেকেই এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, মার্চে কৃষিঋণের খেলাপি ছিল ৯ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৩.৩ শতাংশ। অক্টোবরে এসে তা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা, যা মোট কৃষিঋণের প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ছিল মাত্র ৫ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।

আগে কৃষিঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড হতে সময় লাগতো ১ বছর, ডাউটফুলে ৩ বছর আর ব্যাড লোন হতে লাগতো ৫ বছর। কিন্তু নতুন নীতিমালায় এই সময়সীমা কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৩, ৬ ও ১২ মাস। ফলে আগে যেসব ঋণ নিয়মিত ছিল, সেগুলো এখন দ্রুতই খেলাপির তালিকায় চলে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিতরণকৃত কৃষিঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

অক্টোবর পর্যন্ত কৃষিঋণে খেলাপির সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ ৩৯ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা হলেও খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা—যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো একই সময়ে কৃষিখাতে ১৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা, যা মাত্র ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ৯৭০ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব ব্যাংকের কোনো খেলাপি ঋণ নেই।

কৃষিখাতে খেলাপি ঋণের অঙ্কে ব্যাংকগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা খেলাপি যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির বিতরণ করা ৯ হাজার ১২৮ কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে আছে বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। ব্যাংকটি ২ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে, যার মধ্যে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা খেলাপি। চতুর্থ স্থানে জনতা ব্যাংক—অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বিতরণ করা ৩ হাজার ১০৯ কোটি টাকার কৃষি ঋণের ৭১৬ কোটি টাকা খেলাপি। পঞ্চম স্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৩০ কোটি টাকা; ব্যাংকটি ২ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা কৃষিঋণ দিয়েছে।

ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক ৩৭৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের বিপরীতে খেলাপি ২৪২ কোটি টাকা। সপ্তম স্থানে রূপালী ব্যাংক ৫৭৯ কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে খেলাপি ২২৪ কোটি টাকা। অষ্টম স্থানে আছে একীভূত হওয়া প্রক্রিয়ায় থাকা এক্সিম ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যার মধ্যে ১৫৮ কোটি টাকা খেলাপি। নবম স্থানে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ৭৫১ কোটি টাকার কৃষিঋণের ১৪৫ কোটি টাকা খেলাপি। আর দশম স্থানে রয়েছে এবি ব্যাংক। তাদের বিতরণ করা ২২৯ কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ১২৬ কোটি টাকা।

শতাংশের হিসাবে কৃষিখাতে খেলাপি ঋণে শীর্ষে রয়েছে শরীয়াহ ভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির বিতরণ করা কৃষিঋণের ৯০ দশমিক ২৪ শতাংশই এখন খেলাপি যা তালিকার সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক, যার খেলাপির হার ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (৫৫ দশমিক ২২ শতাংশ) এবং এবি ব্যাংক (৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ)।

পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে- গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৪২.৪২ শতাংশ, রূপালি ব্যাংক: ৩৮.৬৫ শতাংশ, সোনালী ব্যাংক: ৩৬.৮৩ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক: ৩৩.৮৫ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ৩০.৩৯ শতাংশ, বিডিবিএল: ২৬.৯৬ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ২৫.৩৮ শতাংশ, জনতা ব্যাংক: ২৩.০৫ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব): ২১.২৩ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক: ১৮.২৪ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: ১৯.৩৭ শতাংশ, বেসিক ব্যাংক: ১৬.৬৪ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক: ১৪.২৯ শতাংশ।

এই তালিকায় প্রকাশ পেয়েছে কোন ব্যাংকের কৃষিখাতে ঝুঁকি কতটা গভীর হয়েছে এবং খেলাপির বেড়ে চলা প্রবণতা ব্যাংকিং খাতকে কতটা চাপে ফেলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মৎস্য খাতে ১ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি, চার মাসে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমে ৫২২ কোটি, শস্য উৎপাদন খাতে ৫ হাজার ৬২৩ কোটি, কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে ৬০ কোটি, সেচযন্ত্র ক্রয়ে ৪৮ কোটি এবং শস্য মজুদ ও বিপণন খাতে ১৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক।

ছবি

সূচকের পতনে সপ্তাহ শুরু, দর হারিয়েছে তিন শতাধিক শেয়ার

ছবি

পোশাক কারখানার জন্য ‘৩ মাস সংকটময় হতে পারে’

ছবি

বিসিক বিজয় মেলার পর্দা উঠছে সোমবার

ছবি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজার বিষয়ক প্রশিক্ষণ দিবে বিএএসএম

ছবি

আওয়ামী লীগ আমলের কারখানা চালু রাখার পক্ষে ফখরুল

ছবি

ডলার সংকট নেই, রোজার পণ্য আমদানি নিয়ে শঙ্কা নেই: গভর্নর

ছবি

পুঁজিবাজারে মূলধন বেড়েছে ২০ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা

ছবি

খেলাপি ঋণ সংকট কাটাতে ৫ থেকে ১০ বছর লাগবে: গভর্নর

ছবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু আগামী সপ্তাহে

ছবি

সাউথইস্ট ব্যাংকের নতুন এমডি খালিদ মাহমুদ

ছবি

তানজিল চৌধুরী প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান পুনর্নির্বাচিত

ছবি

জ্বালানি নিরাপত্তা শিল্পখাতের টেকসই উন্নয়নে অন্যতম অনুষঙ্গ: ডিসিসিআই

ছবি

প্রথমবারের মতো দেশে আলু উৎসব হবে ডিসেম্বরে

ছবি

এখন পর্যন্ত ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ২০ লাখের বেশি করদাতা

ছবি

খেলাপি ঋণের চাপ মোকাবিলায় ৫–১০ বছরের সময় লাগতে পারে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

ছবি

শীতের সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত, তবুও কমছে না দাম

ছবি

ব্যাংক মার্জার: এক কাঠামোতে এনে কমছে ৫ ব্যাংকের বেতন

ছবি

ব্যাংক খাতে যে এত ‘রোগ’ আগে জানা-ই যায়নি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

ছবি

আরও ৯ ব্রোকার হাউজকে ফিক্স সার্টিফিকেশন দিলো ডিএসই

ছবি

বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আসুন, সুবিধা দিতে সরকার বাধ্য: বাণিজ্য উপদেষ্টা

ছবি

অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে, সরকার ব্যবসায়ীদের চিৎকার শুনছে না: আনোয়ার উল আলম চৌধুরী

ডিএসই ও সিএসইর নতুন ব্যবস্থা, এখন অনলাইনেই সব নথি জমা দেয়া যাবে

ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরে ভুটানের ট্রানজিটের চতুর্থ চালান খালাস

ছবি

ডিসেম্বরে ওয়ান স্টপ ডিজিটাল সার্ভিস ও আধুনিক ল্যান্ডিং পেজ চালু করবে ডিএসই

ছবি

ঢাকায় প্রথমবারের মতো হচ্ছে গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো

ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক আর বিএসইসির শীর্ষ ব্যক্তিরাও ব্যাংকের এমডি হতে পারবেন

ছবি

আর্থিক সেবার অন্তর্ভুক্ত ৭৫ শতাংশ গ্রাহকই ডিজিটাল সেবার বাইরে

ছবি

খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা

ছবি

অপরিহার্য না হলে নির্বাচন পর্যন্ত বিদেশ যেতে পারবেন না ব্যাংক কর্মকর্তারা

ছবি

সূচকের পতন, কমেছে লেনদেনও

ছবি

ন্যূনতম মজুরি চান ট্যানারিশ্রমিকেরা

ছবি

খসড়া আইপিও রুলস নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে বিএসইসির বৈঠক

ছবি

বেক্সিমকোর কারখানা- সদর দপ্তর নিলামে তুললো জনতা ব্যাংক

ছবি

দারিদ্রসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ: বিশ্বব্যাংক

ছবি

অর্থনৈতিক শুমারিতে বাদ পড়েছিল ৩ লাখ ৬৫ হাজার ইউনিট

ছবি

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৪ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে

tab

লাফিয়ে বাড়ছে কৃষি খাতের খেলাপি ঋণ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের অভিশাপ এবার জেঁকে বসেছে কৃষিঋণেও। দীর্ঘদিন কম ঝুঁকির তালিকায় থাকা কৃষিঋণে হঠাৎ করেই খেলাপি বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। নতুন নীতিমালায় সাব-স্ট্যান্ডার্ড, ডাউটফুল ও ব্যাড লোনের সময়সীমা কমিয়ে আনার পর থেকেই এ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, মার্চে কৃষিঋণের খেলাপি ছিল ৯ হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ১৩.৩ শতাংশ। অক্টোবরে এসে তা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা, যা মোট কৃষিঋণের প্রায় ৩৪ শতাংশ। ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ছিল মাত্র ৫ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা।

আগে কৃষিঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড হতে সময় লাগতো ১ বছর, ডাউটফুলে ৩ বছর আর ব্যাড লোন হতে লাগতো ৫ বছর। কিন্তু নতুন নীতিমালায় এই সময়সীমা কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৩, ৬ ও ১২ মাস। ফলে আগে যেসব ঋণ নিয়মিত ছিল, সেগুলো এখন দ্রুতই খেলাপির তালিকায় চলে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বিতরণকৃত কৃষিঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার ৩০২ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ।

অক্টোবর পর্যন্ত কৃষিঋণে খেলাপির সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ৯টি ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলোর কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ ৩৯ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা হলেও খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা—যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৪৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো একই সময়ে কৃষিখাতে ১৮ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা, যা মাত্র ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ খাতে বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণ ৯৭০ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব ব্যাংকের কোনো খেলাপি ঋণ নেই।

কৃষিখাতে খেলাপি ঋণের অঙ্কে ব্যাংকগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি অক্টোবর পর্যন্ত ২১ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা খেলাপি যা সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক সোনালী ব্যাংক। ব্যাংকটির বিতরণ করা ৯ হাজার ১২৮ কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে আছে বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)। ব্যাংকটি ২ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা কৃষি ঋণ বিতরণ করেছে, যার মধ্যে ১ হাজার ১১ কোটি টাকা খেলাপি। চতুর্থ স্থানে জনতা ব্যাংক—অক্টোবর পর্যন্ত তাদের বিতরণ করা ৩ হাজার ১০৯ কোটি টাকার কৃষি ঋণের ৭১৬ কোটি টাকা খেলাপি। পঞ্চম স্থানে থাকা অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫৩০ কোটি টাকা; ব্যাংকটি ২ হাজার ৯০৬ কোটি টাকা কৃষিঋণ দিয়েছে।

ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক ৩৭৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের বিপরীতে খেলাপি ২৪২ কোটি টাকা। সপ্তম স্থানে রূপালী ব্যাংক ৫৭৯ কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে খেলাপি ২২৪ কোটি টাকা। অষ্টম স্থানে আছে একীভূত হওয়া প্রক্রিয়ায় থাকা এক্সিম ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি ৪৬৭ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে, যার মধ্যে ১৫৮ কোটি টাকা খেলাপি। নবম স্থানে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ৭৫১ কোটি টাকার কৃষিঋণের ১৪৫ কোটি টাকা খেলাপি। আর দশম স্থানে রয়েছে এবি ব্যাংক। তাদের বিতরণ করা ২২৯ কোটি টাকার কৃষিঋণের মধ্যে খেলাপি দাঁড়িয়েছে ১২৬ কোটি টাকা।

শতাংশের হিসাবে কৃষিখাতে খেলাপি ঋণে শীর্ষে রয়েছে শরীয়াহ ভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির বিতরণ করা কৃষিঋণের ৯০ দশমিক ২৪ শতাংশই এখন খেলাপি যা তালিকার সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক, যার খেলাপির হার ৬৪ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যেখানে খেলাপি ঋণের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (৫৫ দশমিক ২২ শতাংশ) এবং এবি ব্যাংক (৫৫ দশমিক ১৩ শতাংশ)।

পরের অবস্থানগুলোতে রয়েছে- গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৪২.৪২ শতাংশ, রূপালি ব্যাংক: ৩৮.৬৫ শতাংশ, সোনালী ব্যাংক: ৩৬.৮৩ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক: ৩৩.৮৫ শতাংশ, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক: ৩০.৩৯ শতাংশ, বিডিবিএল: ২৬.৯৬ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক: ২৫.৩৮ শতাংশ, জনতা ব্যাংক: ২৩.০৫ শতাংশ, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব): ২১.২৩ শতাংশ, অগ্রণী ব্যাংক: ১৮.২৪ শতাংশ, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক: ১৯.৩৭ শতাংশ, বেসিক ব্যাংক: ১৬.৬৪ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংক: ১৪.২৯ শতাংশ।

এই তালিকায় প্রকাশ পেয়েছে কোন ব্যাংকের কৃষিখাতে ঝুঁকি কতটা গভীর হয়েছে এবং খেলাপির বেড়ে চলা প্রবণতা ব্যাংকিং খাতকে কতটা চাপে ফেলছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে ব্যাংকগুলো মৎস্য খাতে ১ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে। প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতে দেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। পাশাপাশি, চার মাসে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমে ৫২২ কোটি, শস্য উৎপাদন খাতে ৫ হাজার ৬২৩ কোটি, কৃষিযন্ত্র ক্রয়ে ৬০ কোটি, সেচযন্ত্র ক্রয়ে ৪৮ কোটি এবং শস্য মজুদ ও বিপণন খাতে ১৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক।

back to top