alt

নগর-মহানগর

ঢাকার খাল ও নদী : পরিকল্পনা একাধিক, নেই বাস্তবায়ন

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ : সোমবার, ১৭ মে ২০২১
image

ঢাকা সমতল আর বৃষ্টিপ্রবণ একটি শহর। জলাবদ্ধতা থেকে ঢাকাকে রক্ষার জন্য ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার একটি পরিকল্পনা করে। নগর-পরিকল্পনাবিদ স্যার প্যাট্রিক গেডিস এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিলেন। এর নাম ছিল ‘ঢাকা টাউন প্ল্যান’। ওই পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়, ‘ঢাকার চারপাশে চারটি নদী ঘিরে আছে। এছাড়া ঢাকায় ৫০টির মতো প্রাকৃতিক খাল রয়েছে। এই খালগুলো দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে নদীতে পড়বে।’ এরপর ঢাকার খাল ও নদীকে কেন্দ্র করে শত বছরে একাধিক মহাপরিকল্পনা নেয়া হলেও জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি।

‘ঢাকার খাল ও নদী নিয়ে

যত পরিকল্পনা’

ঢাকা শহরের যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১০০ বছরে ঢাকা টাউন প্ল্যান, ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) ও ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)সহ একাধিক মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমন্বয়হীনতা ও গুরুত্ব না দেয়ার কারণে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এসব মহাপরিকল্পনা।

ঢাকা শহর বড় হওয়া শুরু করলে ব্রিটিশরা ১৯১৭ সালে নগর-পরিকল্পনাবিদ স্যার প্যাট্রিক গেডিসকে দিয়ে একটা বিশদ পরিকল্পনা করায়। সেটা ছিল বিখ্যাত ‘ঢাকা টাউন প্ল্যান’। ঢাকা সমতল আর বৃষ্টিপ্রবণ শহর। এ দুটো বাস্তবতাকে ধরেই এই পরিকল্পনাটি করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালে প্ল্যানিং কমিশন প্রথম ঢাকা মেট্রোপলিটন ইনটিগ্রেটেড প্ল্যান তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করা হয় না। এরপর ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালে রাজউক ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) তৈরি করে। ১৯৯৭ সালে এটা পাস করা। পরবর্তীতে তা আর কার্যকর করা হয়নি। ২০১০ সালে তৈরি করা হয় ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন আবার সংশোধন করা হচ্ছে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)। এসব মহাপরিকল্পনায় ঢাকা শহরের খাল, নদী ও জলাধার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ভরাট, দখল ও দূষণের শিকার হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে খাল ও নদীগুলো। ১০০ বছর পরেও এখনও একই পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিন্তু নদী ও খাল আসল রূপ পাচ্ছে না বলে জানান নগর পরিকল্পনাবিদরা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘ঢাকা টাউন প্ল্যানে গেডিস সাহেব বৃষ্টির পানি যেন প্রবাহিত হয়ে চলে যেতে পারে, সে জন্য নদী, খাল ও জলাধারগুলোকে সংস্কার ও সংরক্ষণ করার কথা বলেছিলেন। ওটা ঠিক একশ’ বছর আগের কথা কিন্তু এখনও আমাদের এসব নিয়েই কথা বলতে হচ্ছে। পরে এটা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বলা হয়েছিল কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরে ১৯৫৯ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) ঢাকার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান করে। এটি ছিল ১৯৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি। পানি নিষ্কাশন ও বন্যার প্রসঙ্গটি এ পরিকল্পনায়ও গুরুত্ব পায়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত রাজউক ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) তৈরি করা হয়। ১৯৯৭ সালে এটা পাস করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের মধ্যে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) পরামর্শগুলো ছিল। তাও বাস্তবায়ন করা হয় না। বর্তমানে নতুন করে ২০১৫ সালে রাজউক আবার নতুন ঢাকা অবকাঠামোর পরিকল্পনা করেছে। সংশোধন করা হচ্ছে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)। এটার মধ্যেও তারা জলাধার করার কথা বলেছে কিন্তু ইতোমধ্যেই জলাধার, খাল হারিয়ে গেছে।’ তাই মহাপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।

ঢাকার খালের প্রকৃত সংখ্যা

ঢাকা মহানগরী এলাকায় ৫০টি খালের একটি তালিকা রয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে। বাইশটেকী খাল : মিরপুরের উত্তর সেনপাড়ার পর্বতা মৌজায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাইশটেকী খ খাল। অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে ৩০ ফুট হারিয়ে গেছে। কল্যাণপুর খাল : পাইকপাড়া মৌজার এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপ অনুযায়ী খালটির পরিমাণ রয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৫ একর। তবে দখল-দূষণে বিলীনের পথে খালটি। এটি কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়ার মাঝামাঝি দিয়ে কল্যাণপুর থেকে দারুসসালাম এলাকার গৈদারটেক হয়ে বেড়িবাঁধের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি বগারমার খাল, কল্যাণপুর ক, খ ও চ খাল নামে পরিচিত। দখলের কারণে বর্তমানে এটি নালায় পরিণত হয়েছে। খালটির ৬০ ফুট হলেও বাস্তবে ৩ ফুটেরও কম প্রশস্ত রয়েছে।

কল্যাণপুর মেইন খাল : পাইনপাড়া ও বড়-ছোট সায়েক মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপে খালটির জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৪৬ একর। কল্যাণপুর পাম্প স্টেশন হতে শুরু করে কাফরুলের একাংশ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি। এই কল্যাণপুর খালের একাধিক শাখা খাল রয়েছে। ২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শাখা তালতলা (রোকেয়া সরণি) থেকে মূল খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া ২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ অপর একটি শাখা পীরেরবাগ থেকে মূল খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ অন্য শাখাগুলো মূল খাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে, মিরপুর মাজার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে।

রূপনগর খাল (আরামবাগ) : দুয়ারীপাড়া মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপের এই খালের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে শূন্য দশমিক ২৯ একর। রূপনগর খালটি দুটি অংশে বিভক্ত। এর মধ্যে রূপনগর খাল (আরামবাগ খাল) এবং রূপনগর খাল (নি¤œ অংশ) নামে পরিচিত। মোহাম্মদপুর সার্কেলাধীন রূপনগর খালের নিম্নঅংশে দুয়ারীপাড়া মৌজার মহানগর ৭০১ নং দাগে প্রায় ৩০-৪০ ফুট প্রস্থ এবং ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য।

সাংবাদিক খাল : এটি প্যারিশ খাল হিসেবে পরিচিত। মিরপুরের উত্তর সেনপাড়া পর্বতা মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপে খালের দাগ নম্বর উল্লেখ করা আছে ১৪৩১৯ ও ১৪৫৪৪। জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

দ্বিগুণ খাল : মিরপুরের দ্বিগুণ গড়ান চটবাড়ী মৌজায় খালটি অবস্থিত। খালটি গড়ান চটবাড়ি পাম্প স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বাউনিয়া খালের মিলিত হয়েছে। খালের দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার। খালের বেশিরভাগ অংশই ভরাট হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। আরএস জরিপে খালের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ দশমিক ১০ একর।

কল্যাণপুর আংশিক খাল : মিরপুর মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। আরএস জরিপে খালের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৫১৫৩ নং দাগে শূন্য দশমিক ৩০ একর, ৫১৫১ নং দাগে ১ দশমিক ২৩ একর, ৫০৯৩ নং দাগে ১ দশমিক ৯৩ একর, ৪১৬৩ নং দাগে শূন্য দশমিক ৫১ একর।

গাবতলী খাল : মিরপুরের বিশিল, পূর্বকান্দর, খোঁজারবাগ, নন্দারবাগ মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। গাবতলী হয়ে শনির বিল স্লুইসগেট দিয়ে এর পানি তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদী যাওয়ার কথা। কিন্তু খালের ওপর মাটির স্তূপ, আবর্জনা ও মাটি জমে খালটি প্রায় ভরে হয়ে গেছে।

দিয়াবাড়ী খাল : উত্তরার দিয়াবাড়ী মৌজায় খালটি অবস্থিত। আবদুল্লাহপুর খাল থেকে শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত এই খালটির দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার।

বাউনিয়া খাল : চাকুলী মৌজায় খালটি অবস্থিত। আর এস জরিপে খালের জমির পরিমাণ ২৩৭৫ নং দাগে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ৩ নং দাগে ২ দশমিক ১৬ শতাংশ, ৪৫ নং দাগে ২ দশমিক শূন্য ৬ একর উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাইলজুলী রানাভোলার মৌজায় আবদুল্লাহপুর খাল আংশিক; রামচন্দ্রপুর মৌজার রামচন্দ্র খাল; কাটাসুর মৌজার কাটাসুর খাল; রাজাবাজার মৌজার রাজাবাজার খাল; বড় মগবাজার মৌজার বেগুনবাড়ী খাল; তেজগাঁও শিল্প এলাকা মৌজার মহাখালী খাল; উলুন মেরাদিয়া মৌজার মেরাদিয়া-গজারিয়া খাল; বাড্ডার উত্তর মেরাদিয়া মৌজার গুল্লার খাল; গুলশান আবাসিক এলাকা মৌজায় গুলশান খাল (লেক); ভাটারা মৌজার ভাটারা খাল ও সুতিভোলা খাল; ডুমনী মৌজার ডুমনী খাল; তলনা মৌজার তলনা খাল; বাওথাত মৌজার বাওথাল খাল; গোবিন্দপুর মৌজার আমাইয়া খাল; নির্নিচক মৌজার নির্নিচক খাল; ভাটুরিয়া মৌজার ভাটুরিয়া খাল; ছোট পলাশিয়া মৌজার ছোট পলাশিয়া খাল; চামুরখান মৌজার চামুরখান খান; পলাশিয়া মৌজার পলাশিয়া খাল।

উজানপুর মৌজার উজানপুর খাল; গোবিন্দপুর মৌজার গোবিন্দপুর খাল; জোয়ারসাহারা মৌজার বসুন্ধরা অ্যাপোলো হাসপাতালের সামনের খাল; দেয়ানপাড়া খাল; কাঁঠালিয়া খাল; ইব্রাহীমপুর মৌজার ইব্রাহীমপুর খাল; বাইলজুরী মৌজার আবদুল্লাহপুর খাল; আবদুল্লাহপুর মৌজার কোনাবাড়ী খাল; মৌসাইদ মৌজার জুমাই খাল; উত্তরখান মৌজার মৌসাইদ খাল; ধোলাইখাল মৌজার ধোলাইখাল-১ ও ধোলাইখাল-২ খাল; রমনার মৌজায় পরীবাগ খাল; খিলগাঁও মৌজার খিলগাঁও-বাসাবো খাল, কামরাঙ্গীরচর মৌজার কামরাঙ্গীরচর খাল, এনায়েতগঞ্জ মৌজার কালুনগর খাল, সুলতানগঞ্জ মৌজার রায়ের বাজার খাল, নন্দীপাড়া মৌজার নন্দীপাড়া ত্রিমোহনী (জিরানী) খাল ও নয়াখোলা মৌজার নয়াখোলা খাল।

খাল দখলকারীরা যত বড় ক্ষমতাশালী হোক না কেন আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে, খাল দখল করে তার উপরে বিল্ডিং বানানো হয়েছে। যারা এ সব করেছে তারা যত ক্ষমতাশালী হোক না কেন আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা শহরের খালসমূহ উদ্ধার করা হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ওয়াসা থেকে খালগুলো বুঝে নিয়েছে। ইতোমধ্যে খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। খাল উদ্ধারে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা শহরে যত খাল আছে তাতে একটি হাতিরঝিল নয়, এ রকম কয়েকটি হাতিরঝিল নির্মাণ করা সম্ভব।’

ছবি

কামরাঙ্গীরচ‌রে বস্ত্র ব‌্যবসায়ী‌কে হত‌্যাচেষ্টার প্রতিবা‌দে মানববন্ধন

ছবি

খুনি নিজেই ফোন করে পুলিশ ডাকে

ছবি

রাজধানীর কদমতলীতে একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

প্রতারক চক্র রাজা-বাদশাহ গ্রুপ : ১৬ সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি

রাজধানীতে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ গেল কলেজ ছাত্রের

ছবি

বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট,যাত্রীদের ভোগান্তি

ছবি

রাজধানীতে মাদ্রাসা শিক্ষকের তিন লাখ টাকা ছিনতাই

ছবি

ঢাকা মেডিকেলে র‌্যাবের অভিযান, ২৪ দালাল আটক

ছবি

বিশ্বে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান তলানিতে

ছবি

রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে ব্যবসায়ীর লাশ

ছবি

১০ দিনেও উদ্ধার হয়নি পরিকল্পনামন্ত্রীর মোবাইল

ছবি

আজ রাজধানীতে ১২ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

ছবি

মহাখালীর সাততলা বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, পুড়লো বহু ঘর

ছবি

রোববার যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না

ছবি

টানা বৃষ্টিতে পানিতে ভাসছে চট্টগ্রাম

ছবি

রোটারিয়ান টিআইএম নুরুল কবির ডিস্ট্রিক্ট গভর্নর নির্বাচিত

ছবি

বাথরুমের দরজা ভেঙে ঢাবি ছাত্রীর লাশ উদ্ধার

ছবি

মালিবাগে বৃষ্টির পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু

ছবি

গৃহশ্রমিক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি

ছবি

রাজধানীতে ঝুম বৃষ্টি, ভোগান্তিতে অফিসগামী মানুষ

ছবি

রাজধানীর যেসব এলাকায় ১০ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না শনিবার

ছবি

চট্টগ্রাম বন্দরে নিষিদ্ধ পপি বীজ জব্দ

ছবি

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

ছবি

রাজধানীতে ভারী বর্ষণ

ছবি

নদীর সৌন্দর্য বর্ধনে মহাপরিকল্পনা

ছবি

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ

ছবি

রাজধানীতে অগ্নিকাণ্ড, শিশুসহ দগ্ধ ৩

ছবি

উন্মুক্ত স্থানে আর বর্জ্য দেখতে চাই না : তাপস

ছবি

মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে যুবকের খণ্ডিত লাশ, ইমাম গ্রেপ্তার

ছবি

অবশেষে রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি

ছবি

দক্ষিণ সিটির ১৩ স্থানে বসবে কোরবানির পশুর হাট

ছবি

খাল উন্নয়নে ডিএসসিসির ৯৮০ কোটি টাকার প্রকল্প

সবচেয়ে সুষ্ঠুভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি : মেয়র তাপস

ছবি

বিমানবন্দরে ডাক বিভাগের চালানে ইয়াবা, আটক ৪

ছবি

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নির্ধারণ হয়নি ঢাকার চারপাশের নদী ও খালের সীমানা

ছবি

হারিয়ে গেছে ঢাকার ১০ খাল

tab

নগর-মহানগর

ঢাকার খাল ও নদী : পরিকল্পনা একাধিক, নেই বাস্তবায়ন

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ
image

সোমবার, ১৭ মে ২০২১

ঢাকা সমতল আর বৃষ্টিপ্রবণ একটি শহর। জলাবদ্ধতা থেকে ঢাকাকে রক্ষার জন্য ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার একটি পরিকল্পনা করে। নগর-পরিকল্পনাবিদ স্যার প্যাট্রিক গেডিস এই পরিকল্পনাটি তৈরি করেছিলেন। এর নাম ছিল ‘ঢাকা টাউন প্ল্যান’। ওই পরিকল্পনা উল্লেখ করা হয়, ‘ঢাকার চারপাশে চারটি নদী ঘিরে আছে। এছাড়া ঢাকায় ৫০টির মতো প্রাকৃতিক খাল রয়েছে। এই খালগুলো দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হয়ে নদীতে পড়বে।’ এরপর ঢাকার খাল ও নদীকে কেন্দ্র করে শত বছরে একাধিক মহাপরিকল্পনা নেয়া হলেও জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি।

‘ঢাকার খাল ও নদী নিয়ে

যত পরিকল্পনা’

ঢাকা শহরের যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ১০০ বছরে ঢাকা টাউন প্ল্যান, ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) ও ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)সহ একাধিক মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমন্বয়হীনতা ও গুরুত্ব না দেয়ার কারণে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি এসব মহাপরিকল্পনা।

ঢাকা শহর বড় হওয়া শুরু করলে ব্রিটিশরা ১৯১৭ সালে নগর-পরিকল্পনাবিদ স্যার প্যাট্রিক গেডিসকে দিয়ে একটা বিশদ পরিকল্পনা করায়। সেটা ছিল বিখ্যাত ‘ঢাকা টাউন প্ল্যান’। ঢাকা সমতল আর বৃষ্টিপ্রবণ শহর। এ দুটো বাস্তবতাকে ধরেই এই পরিকল্পনাটি করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৮০ সালে প্ল্যানিং কমিশন প্রথম ঢাকা মেট্রোপলিটন ইনটিগ্রেটেড প্ল্যান তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করা হয় না। এরপর ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সালে রাজউক ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) তৈরি করে। ১৯৯৭ সালে এটা পাস করা। পরবর্তীতে তা আর কার্যকর করা হয়নি। ২০১০ সালে তৈরি করা হয় ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এখন আবার সংশোধন করা হচ্ছে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)। এসব মহাপরিকল্পনায় ঢাকা শহরের খাল, নদী ও জলাধার সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। ভরাট, দখল ও দূষণের শিকার হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে খাল ও নদীগুলো। ১০০ বছর পরেও এখনও একই পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিন্তু নদী ও খাল আসল রূপ পাচ্ছে না বলে জানান নগর পরিকল্পনাবিদরা।

এ বিষয়ে পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘ঢাকা টাউন প্ল্যানে গেডিস সাহেব বৃষ্টির পানি যেন প্রবাহিত হয়ে চলে যেতে পারে, সে জন্য নদী, খাল ও জলাধারগুলোকে সংস্কার ও সংরক্ষণ করার কথা বলেছিলেন। ওটা ঠিক একশ’ বছর আগের কথা কিন্তু এখনও আমাদের এসব নিয়েই কথা বলতে হচ্ছে। পরে এটা ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বলা হয়েছিল কিন্তু তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরে ১৯৫৯ সালে ঢাকা ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট (ডিআইটি) ঢাকার জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান করে। এটি ছিল ১৯৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত ২০ বছর মেয়াদি। পানি নিষ্কাশন ও বন্যার প্রসঙ্গটি এ পরিকল্পনায়ও গুরুত্ব পায়। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত রাজউক ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যান (ডিএমডিপি) তৈরি করা হয়। ১৯৯৭ সালে এটা পাস করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট প্ল্যানের মধ্যে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) পরামর্শগুলো ছিল। তাও বাস্তবায়ন করা হয় না। বর্তমানে নতুন করে ২০১৫ সালে রাজউক আবার নতুন ঢাকা অবকাঠামোর পরিকল্পনা করেছে। সংশোধন করা হচ্ছে ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)। এটার মধ্যেও তারা জলাধার করার কথা বলেছে কিন্তু ইতোমধ্যেই জলাধার, খাল হারিয়ে গেছে।’ তাই মহাপরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন তিনি।

ঢাকার খালের প্রকৃত সংখ্যা

ঢাকা মহানগরী এলাকায় ৫০টি খালের একটি তালিকা রয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে। বাইশটেকী খাল : মিরপুরের উত্তর সেনপাড়ার পর্বতা মৌজায় ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাইশটেকী খ খাল। অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে ৩০ ফুট হারিয়ে গেছে। কল্যাণপুর খাল : পাইকপাড়া মৌজার এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপ অনুযায়ী খালটির পরিমাণ রয়েছে ১ দশমিক শূন্য ৫ একর। তবে দখল-দূষণে বিলীনের পথে খালটি। এটি কাজীপাড়া-শেওড়াপাড়ার মাঝামাঝি দিয়ে কল্যাণপুর থেকে দারুসসালাম এলাকার গৈদারটেক হয়ে বেড়িবাঁধের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি বগারমার খাল, কল্যাণপুর ক, খ ও চ খাল নামে পরিচিত। দখলের কারণে বর্তমানে এটি নালায় পরিণত হয়েছে। খালটির ৬০ ফুট হলেও বাস্তবে ৩ ফুটেরও কম প্রশস্ত রয়েছে।

কল্যাণপুর মেইন খাল : পাইনপাড়া ও বড়-ছোট সায়েক মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপে খালটির জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৩ দশমিক ৪৬ একর। কল্যাণপুর পাম্প স্টেশন হতে শুরু করে কাফরুলের একাংশ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি। এই কল্যাণপুর খালের একাধিক শাখা খাল রয়েছে। ২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি শাখা তালতলা (রোকেয়া সরণি) থেকে মূল খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া ২ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ অপর একটি শাখা পীরেরবাগ থেকে মূল খালের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। দেড় থেকে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ অন্য শাখাগুলো মূল খাল থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে, মিরপুর মাজার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর পর্যন্ত প্রবাহিত হয়েছে।

রূপনগর খাল (আরামবাগ) : দুয়ারীপাড়া মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপের এই খালের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে শূন্য দশমিক ২৯ একর। রূপনগর খালটি দুটি অংশে বিভক্ত। এর মধ্যে রূপনগর খাল (আরামবাগ খাল) এবং রূপনগর খাল (নি¤œ অংশ) নামে পরিচিত। মোহাম্মদপুর সার্কেলাধীন রূপনগর খালের নিম্নঅংশে দুয়ারীপাড়া মৌজার মহানগর ৭০১ নং দাগে প্রায় ৩০-৪০ ফুট প্রস্থ এবং ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য।

সাংবাদিক খাল : এটি প্যারিশ খাল হিসেবে পরিচিত। মিরপুরের উত্তর সেনপাড়া পর্বতা মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। সিটি জরিপে খালের দাগ নম্বর উল্লেখ করা আছে ১৪৩১৯ ও ১৪৫৪৪। জমির পরিমাণ শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।

দ্বিগুণ খাল : মিরপুরের দ্বিগুণ গড়ান চটবাড়ী মৌজায় খালটি অবস্থিত। খালটি গড়ান চটবাড়ি পাম্প স্টেশন থেকে শুরু হয়ে বাউনিয়া খালের মিলিত হয়েছে। খালের দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার। খালের বেশিরভাগ অংশই ভরাট হয়ে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান। আরএস জরিপে খালের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৬ দশমিক ১০ একর।

কল্যাণপুর আংশিক খাল : মিরপুর মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। আরএস জরিপে খালের জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৫১৫৩ নং দাগে শূন্য দশমিক ৩০ একর, ৫১৫১ নং দাগে ১ দশমিক ২৩ একর, ৫০৯৩ নং দাগে ১ দশমিক ৯৩ একর, ৪১৬৩ নং দাগে শূন্য দশমিক ৫১ একর।

গাবতলী খাল : মিরপুরের বিশিল, পূর্বকান্দর, খোঁজারবাগ, নন্দারবাগ মৌজায় এই খালটি অবস্থিত। গাবতলী হয়ে শনির বিল স্লুইসগেট দিয়ে এর পানি তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদী যাওয়ার কথা। কিন্তু খালের ওপর মাটির স্তূপ, আবর্জনা ও মাটি জমে খালটি প্রায় ভরে হয়ে গেছে।

দিয়াবাড়ী খাল : উত্তরার দিয়াবাড়ী মৌজায় খালটি অবস্থিত। আবদুল্লাহপুর খাল থেকে শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত এই খালটির দৈর্ঘ্য ৪ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার।

বাউনিয়া খাল : চাকুলী মৌজায় খালটি অবস্থিত। আর এস জরিপে খালের জমির পরিমাণ ২৩৭৫ নং দাগে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ৩ নং দাগে ২ দশমিক ১৬ শতাংশ, ৪৫ নং দাগে ২ দশমিক শূন্য ৬ একর উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বাইলজুলী রানাভোলার মৌজায় আবদুল্লাহপুর খাল আংশিক; রামচন্দ্রপুর মৌজার রামচন্দ্র খাল; কাটাসুর মৌজার কাটাসুর খাল; রাজাবাজার মৌজার রাজাবাজার খাল; বড় মগবাজার মৌজার বেগুনবাড়ী খাল; তেজগাঁও শিল্প এলাকা মৌজার মহাখালী খাল; উলুন মেরাদিয়া মৌজার মেরাদিয়া-গজারিয়া খাল; বাড্ডার উত্তর মেরাদিয়া মৌজার গুল্লার খাল; গুলশান আবাসিক এলাকা মৌজায় গুলশান খাল (লেক); ভাটারা মৌজার ভাটারা খাল ও সুতিভোলা খাল; ডুমনী মৌজার ডুমনী খাল; তলনা মৌজার তলনা খাল; বাওথাত মৌজার বাওথাল খাল; গোবিন্দপুর মৌজার আমাইয়া খাল; নির্নিচক মৌজার নির্নিচক খাল; ভাটুরিয়া মৌজার ভাটুরিয়া খাল; ছোট পলাশিয়া মৌজার ছোট পলাশিয়া খাল; চামুরখান মৌজার চামুরখান খান; পলাশিয়া মৌজার পলাশিয়া খাল।

উজানপুর মৌজার উজানপুর খাল; গোবিন্দপুর মৌজার গোবিন্দপুর খাল; জোয়ারসাহারা মৌজার বসুন্ধরা অ্যাপোলো হাসপাতালের সামনের খাল; দেয়ানপাড়া খাল; কাঁঠালিয়া খাল; ইব্রাহীমপুর মৌজার ইব্রাহীমপুর খাল; বাইলজুরী মৌজার আবদুল্লাহপুর খাল; আবদুল্লাহপুর মৌজার কোনাবাড়ী খাল; মৌসাইদ মৌজার জুমাই খাল; উত্তরখান মৌজার মৌসাইদ খাল; ধোলাইখাল মৌজার ধোলাইখাল-১ ও ধোলাইখাল-২ খাল; রমনার মৌজায় পরীবাগ খাল; খিলগাঁও মৌজার খিলগাঁও-বাসাবো খাল, কামরাঙ্গীরচর মৌজার কামরাঙ্গীরচর খাল, এনায়েতগঞ্জ মৌজার কালুনগর খাল, সুলতানগঞ্জ মৌজার রায়ের বাজার খাল, নন্দীপাড়া মৌজার নন্দীপাড়া ত্রিমোহনী (জিরানী) খাল ও নয়াখোলা মৌজার নয়াখোলা খাল।

খাল দখলকারীরা যত বড় ক্ষমতাশালী হোক না কেন আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে, খাল দখল করে তার উপরে বিল্ডিং বানানো হয়েছে। যারা এ সব করেছে তারা যত ক্ষমতাশালী হোক না কেন আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা শহরের খালসমূহ উদ্ধার করা হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ওয়াসা থেকে খালগুলো বুঝে নিয়েছে। ইতোমধ্যে খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। খাল উদ্ধারে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা শহরে যত খাল আছে তাতে একটি হাতিরঝিল নয়, এ রকম কয়েকটি হাতিরঝিল নির্মাণ করা সম্ভব।’

back to top