alt

মতামত » চিঠিপত্র

প্রথার নামে প্রথাগত শোষণ: উচ্চ কাবিনের ফাঁদ

: শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সমাজ কখনও কখনও এমন সব নিয়ম তৈরি করে, যা দেখতে মহৎ, কিন্তু ভিতরে গলদে ভরা। যেন রূপোর মোড়কে পচা ফল। আজকের সমাজে “উচ্চ কাবিন” ঠিক তেমনই এক প্রথা-নাম তার ধর্মীয় নিরাপত্তা, বাস্তবে তা হয়ে উঠছে মানসিক নির্যাতনের অস্ত্র। একসময় যেমন মেয়ের বিয়েতে পণ ছিল লজ্জার বিষয়, এখন ঠিক তেমনই ছেলের বিয়েতে “কাবিন” হয়ে উঠেছে এক অদৃশ্য শৃঙ্খল। পার্থক্য শুধু ভূমিকায়-আজ নির্যাতিত হচ্ছে অন্য দিকের মানুষটি, বর।

কিছুদিন আগেও দেখা যেত, বিয়ের প্রস্তাব এলেই মেয়ের পরিবারকে ভাবতে হতো-কত টাকা পণ দিতে হবে, কতখানি গয়না দিতে পারবে, আর না পারলে মেয়ে যেন ‘অযোগ্য’ হয়ে যায়। সমাজের চোখে, পণ দিতে না পারা মানেই মানহানির দাগ। সময় বদলেছে, কিন্তু মানসিকতা তেমনটা বদলায়নি। শুধু দিকটা উল্টো হয়েছে। এখন অনেক জায়গায় দেখা যায়, মেয়ের পরিবার এমন কাবিন নির্ধারণ করছে, যা এক তরুণের সামর্থ্যের বহু গুণ বেশি। উদ্দেশ্য হয়তো আত্মসম্মান রক্ষা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু ফলাফল দাঁড়াচ্ছে এক ভয়াবহ মনস্তাত্ত্বিক নিপীড়নে।

এমনই এক তরুণ, নাম ধরা যাক রায়হান, বিশ্ববিদ্যালয় শেষে একটি সাধারণ চাকরি করছে। ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু শর্ত এলো-কাবিন হবে দশ লাখ টাকা। রায়হানের মাসিক আয় ৩০ হাজার, বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, সংসারে অনেক দায়। এত কাবিন দেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব। তবুও মেয়েটির পরিবার বলল, “এটাই তো মেয়ের সম্মানের মূল্য।” রায়হান চুপ করে থাকল। তার মুখের নিস্তব্ধতা বলেছিল, সমাজের চাপ কখনও কখনও ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে যায়। শেষমেশ বিয়ে হয়নি। রায়হান আজও মনে করে, সে যেন নিজের অক্ষমতার দায়ে দগ্ধ এক মানুষ, অথচ ভুলটা তার ছিল না-ভুলটা ছিল প্রথার।

ফলস্বরূপ, বহু তরুণ বিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে, প্রেমের সম্পর্কগুলো থেমে যাচ্ছে “কাবিনের ভয়” নামের দেয়ালে। আবার অনেক সময় এই কাবিনের চাপের কারণে ছেলেদের মনে জন্ম নিচ্ছে অপমানবোধ, ক্ষোভ, এমনকি প্রতিশোধপ্রবণতা। বিবাহিত জীবনে যে পুরুষ নিজের কাবিনকেই অন্যায়ের প্রতীক মনে করে, সে আর সেই অর্থে ভালোবাসাকে পবিত্রভাবে গ্রহণ করতে পারে না। তখন তার মনে জন্ম নেয় এক গোপন অনীহা-“এই টাকাটা তো আমার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা কেন দেব?” এখান থেকেই শুরু হয় মানসিক নির্যাতন, দূরত্ব, অবিশ্বাস।

একদিকে মেয়ের পরিবার ভাবে, কাবিন বেশি মানে নিরাপত্তা বেশি; অন্যদিকে ছেলের পরিবার ভাবে, কাবিন বেশি মানে অপমান বেশি।

এই প্রথার পেছনে মূল কারণ দু’টি-এক, সামাজিক প্রতিযোগিতা; দুই, ধর্মীয় অজ্ঞতা। সমাজে এখন সবকিছুতেই যেন প্রতিযোগিতা-কার মেয়ে বেশি সুন্দর, কার কাবিন বেশি, কার বিয়ের অনুষ্ঠান বড়। এই অযথা প্রতিযোগিতার ফাঁদে পড়ে মানুষ ভুলে যাচ্ছে মূল উদ্দেশ্য: দুই আত্মার মিলন, না যে দুই পরিবারের মর্যাদা যুদ্ধ। তার ওপর, অনেকেই ধর্মের আসল শিক্ষা না জেনে কেবল নামমাত্র প্রথা মেনে চলে, যেন বাহ্যিক নিয়ম মানলেই ধর্ম রক্ষা হয়। কিন্তু ধর্ম তো শোষণের নাম নয়, মুক্তির নাম।

সমাধান একটাই-সচেতনতা। প্রথমে পরিবারকে বুঝতে হবে, উচ্চ কাবিন কোনো মেয়ের সম্মানের প্রমাণ নয়। বরং এটি মেয়েকে সামাজিকভাবে বঞ্চিত করার পথ তৈরি করে, কারণ এতে যোগ্য পাত্ররা পিছিয়ে যায়। মেয়ের নিরাপত্তা আসে ভালো সম্পর্ক, বোঝাপড়া আর বিশ্বাস থেকে-টাকার অঙ্ক থেকে নয়। একইভাবে তরুণদেরও বুঝতে হবে, কাবিন কোনো শত্রু নয়, বরং একটি দায়িত্ব, যা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হয়। তবে সেই দায়িত্ব যেন সামর্থ্যের বাইরে না যায়, সেটাই আসল কথা।

ধর্মীয় নেতাদেরও উচিত, মসজিদ-মিম্বারে এসব বিষয়ে সঠিক বার্তা দেওয়া-যেন মানুষ বুঝতে পারে, কাবিন মানে ভালোবাসার মর্যাদা, প্রতিযোগিতার সংখ্যা নয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি-যেমন গণমাধ্যমে প্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক পাঠ, এবং পারিবারিক আলোচনায় এসব বিষয় খোলামেলা বলা।

সবশেষে বলতে হয়-প্রথা তখনই সুন্দর, যখন তা মানুষের জীবনে আলো আনে; আর তা বিকৃত হয়ে যায়, যখন তার ভিতরে ঢুকে পড়ে প্রদর্শন, অহংকার আর স্বার্থ। উচ্চ কাবিনের এই সংস্কৃতি ঠিক সেই বিকৃতি। এটি কেবল এক তরুণের মন ভাঙে না, বরং গোটা সমাজের ভালোবাসাকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দেয়।

বিয়ের আসল সৌন্দর্য ছিল একে অপরের পাশে থাকা, দুঃখে-সুখে হাত ধরা। সেখানে টাকার অঙ্ক ঢুকে পড়লে সম্পর্কের পবিত্রতা হারিয়ে যায়। একসময় যে সমাজ পণের শিকার মেয়ের কষ্টে কাঁদত, আজ সে সমাজ আবার উল্টো পিঠে ছেলেকে শোষণের যন্ত্রে পরিণত করছে। প্রথা বদলেছে, কিন্তু শোষণ রয়ে গেছে।

এই শোষণ থেকে মুক্তির শুরু হোক বোঝাপড়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে-না যে প্রতিযোগিতা বা প্রথা দিয়ে। কারণ, সম্পর্কের মূল্য কখনও টাকায় মাপা যায় না। কাবিন যতই উচ্চ হোক, যদি হৃদয় সংকীর্ণ হয়-তাহলে সে সমাজেরও কোনো মুক্তি নেই।

রিশাদ আহমেদ

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

প্রথার নামে প্রথাগত শোষণ: উচ্চ কাবিনের ফাঁদ

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

সমাজ কখনও কখনও এমন সব নিয়ম তৈরি করে, যা দেখতে মহৎ, কিন্তু ভিতরে গলদে ভরা। যেন রূপোর মোড়কে পচা ফল। আজকের সমাজে “উচ্চ কাবিন” ঠিক তেমনই এক প্রথা-নাম তার ধর্মীয় নিরাপত্তা, বাস্তবে তা হয়ে উঠছে মানসিক নির্যাতনের অস্ত্র। একসময় যেমন মেয়ের বিয়েতে পণ ছিল লজ্জার বিষয়, এখন ঠিক তেমনই ছেলের বিয়েতে “কাবিন” হয়ে উঠেছে এক অদৃশ্য শৃঙ্খল। পার্থক্য শুধু ভূমিকায়-আজ নির্যাতিত হচ্ছে অন্য দিকের মানুষটি, বর।

কিছুদিন আগেও দেখা যেত, বিয়ের প্রস্তাব এলেই মেয়ের পরিবারকে ভাবতে হতো-কত টাকা পণ দিতে হবে, কতখানি গয়না দিতে পারবে, আর না পারলে মেয়ে যেন ‘অযোগ্য’ হয়ে যায়। সমাজের চোখে, পণ দিতে না পারা মানেই মানহানির দাগ। সময় বদলেছে, কিন্তু মানসিকতা তেমনটা বদলায়নি। শুধু দিকটা উল্টো হয়েছে। এখন অনেক জায়গায় দেখা যায়, মেয়ের পরিবার এমন কাবিন নির্ধারণ করছে, যা এক তরুণের সামর্থ্যের বহু গুণ বেশি। উদ্দেশ্য হয়তো আত্মসম্মান রক্ষা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কিন্তু ফলাফল দাঁড়াচ্ছে এক ভয়াবহ মনস্তাত্ত্বিক নিপীড়নে।

এমনই এক তরুণ, নাম ধরা যাক রায়হান, বিশ্ববিদ্যালয় শেষে একটি সাধারণ চাকরি করছে। ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করতে চেয়েছিল। কিন্তু শর্ত এলো-কাবিন হবে দশ লাখ টাকা। রায়হানের মাসিক আয় ৩০ হাজার, বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা, সংসারে অনেক দায়। এত কাবিন দেওয়া তার পক্ষে অসম্ভব। তবুও মেয়েটির পরিবার বলল, “এটাই তো মেয়ের সম্মানের মূল্য।” রায়হান চুপ করে থাকল। তার মুখের নিস্তব্ধতা বলেছিল, সমাজের চাপ কখনও কখনও ভালোবাসার চেয়ে বড় হয়ে যায়। শেষমেশ বিয়ে হয়নি। রায়হান আজও মনে করে, সে যেন নিজের অক্ষমতার দায়ে দগ্ধ এক মানুষ, অথচ ভুলটা তার ছিল না-ভুলটা ছিল প্রথার।

ফলস্বরূপ, বহু তরুণ বিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে, প্রেমের সম্পর্কগুলো থেমে যাচ্ছে “কাবিনের ভয়” নামের দেয়ালে। আবার অনেক সময় এই কাবিনের চাপের কারণে ছেলেদের মনে জন্ম নিচ্ছে অপমানবোধ, ক্ষোভ, এমনকি প্রতিশোধপ্রবণতা। বিবাহিত জীবনে যে পুরুষ নিজের কাবিনকেই অন্যায়ের প্রতীক মনে করে, সে আর সেই অর্থে ভালোবাসাকে পবিত্রভাবে গ্রহণ করতে পারে না। তখন তার মনে জন্ম নেয় এক গোপন অনীহা-“এই টাকাটা তো আমার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটা কেন দেব?” এখান থেকেই শুরু হয় মানসিক নির্যাতন, দূরত্ব, অবিশ্বাস।

একদিকে মেয়ের পরিবার ভাবে, কাবিন বেশি মানে নিরাপত্তা বেশি; অন্যদিকে ছেলের পরিবার ভাবে, কাবিন বেশি মানে অপমান বেশি।

এই প্রথার পেছনে মূল কারণ দু’টি-এক, সামাজিক প্রতিযোগিতা; দুই, ধর্মীয় অজ্ঞতা। সমাজে এখন সবকিছুতেই যেন প্রতিযোগিতা-কার মেয়ে বেশি সুন্দর, কার কাবিন বেশি, কার বিয়ের অনুষ্ঠান বড়। এই অযথা প্রতিযোগিতার ফাঁদে পড়ে মানুষ ভুলে যাচ্ছে মূল উদ্দেশ্য: দুই আত্মার মিলন, না যে দুই পরিবারের মর্যাদা যুদ্ধ। তার ওপর, অনেকেই ধর্মের আসল শিক্ষা না জেনে কেবল নামমাত্র প্রথা মেনে চলে, যেন বাহ্যিক নিয়ম মানলেই ধর্ম রক্ষা হয়। কিন্তু ধর্ম তো শোষণের নাম নয়, মুক্তির নাম।

সমাধান একটাই-সচেতনতা। প্রথমে পরিবারকে বুঝতে হবে, উচ্চ কাবিন কোনো মেয়ের সম্মানের প্রমাণ নয়। বরং এটি মেয়েকে সামাজিকভাবে বঞ্চিত করার পথ তৈরি করে, কারণ এতে যোগ্য পাত্ররা পিছিয়ে যায়। মেয়ের নিরাপত্তা আসে ভালো সম্পর্ক, বোঝাপড়া আর বিশ্বাস থেকে-টাকার অঙ্ক থেকে নয়। একইভাবে তরুণদেরও বুঝতে হবে, কাবিন কোনো শত্রু নয়, বরং একটি দায়িত্ব, যা সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হয়। তবে সেই দায়িত্ব যেন সামর্থ্যের বাইরে না যায়, সেটাই আসল কথা।

ধর্মীয় নেতাদেরও উচিত, মসজিদ-মিম্বারে এসব বিষয়ে সঠিক বার্তা দেওয়া-যেন মানুষ বুঝতে পারে, কাবিন মানে ভালোবাসার মর্যাদা, প্রতিযোগিতার সংখ্যা নয়। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক উদ্যোগেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি-যেমন গণমাধ্যমে প্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক পাঠ, এবং পারিবারিক আলোচনায় এসব বিষয় খোলামেলা বলা।

সবশেষে বলতে হয়-প্রথা তখনই সুন্দর, যখন তা মানুষের জীবনে আলো আনে; আর তা বিকৃত হয়ে যায়, যখন তার ভিতরে ঢুকে পড়ে প্রদর্শন, অহংকার আর স্বার্থ। উচ্চ কাবিনের এই সংস্কৃতি ঠিক সেই বিকৃতি। এটি কেবল এক তরুণের মন ভাঙে না, বরং গোটা সমাজের ভালোবাসাকে ভাঙনের মুখে ঠেলে দেয়।

বিয়ের আসল সৌন্দর্য ছিল একে অপরের পাশে থাকা, দুঃখে-সুখে হাত ধরা। সেখানে টাকার অঙ্ক ঢুকে পড়লে সম্পর্কের পবিত্রতা হারিয়ে যায়। একসময় যে সমাজ পণের শিকার মেয়ের কষ্টে কাঁদত, আজ সে সমাজ আবার উল্টো পিঠে ছেলেকে শোষণের যন্ত্রে পরিণত করছে। প্রথা বদলেছে, কিন্তু শোষণ রয়ে গেছে।

এই শোষণ থেকে মুক্তির শুরু হোক বোঝাপড়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে-না যে প্রতিযোগিতা বা প্রথা দিয়ে। কারণ, সম্পর্কের মূল্য কখনও টাকায় মাপা যায় না। কাবিন যতই উচ্চ হোক, যদি হৃদয় সংকীর্ণ হয়-তাহলে সে সমাজেরও কোনো মুক্তি নেই।

রিশাদ আহমেদ

back to top