মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন রাষ্ট্রীয় আইনের একটি মৌলিক সেবা, কিন্তু বাস্তবে এটি বহু জায়গায় এক অঘোষিত বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি ফি নয়, বরং ঘুষই দলিল সম্পন্ন হওয়ার মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক, মুহুরি, পিয়ন ও দালালদের মাধ্যমে এই ঘুষ লেনদেন নীরবে চলে। অতিরিক্ত ফি না দিতে চাইলে ফাইল আটকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় আপত্তি তোলা বা বিলম্ব করা হয়। ফলে আইন সমানভাবে প্রয়োগ হয় না, বরং অর্থই প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।
দুর্নীতির কারণগুলো স্পষ্ট। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে নির্ধারিত দলিল লেখক ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ না থাকায় ঘুষের নেটওয়ার্ক শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। ভুক্তভোগীর অসহযোগিতা এবং নজরদারির ঘাটতি দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করছে। অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না, যা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জন্ম দিয়েছে।
সমাধানের পথও রয়েছে। ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফাইলের প্রতিটি ধাপ অনলাইনে ট্র্যাকযোগ্য হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা সীমিত করে নাগরিককে নিজের দলিল নিজেই লিখে দাখিল করার সুযোগ দিতে হবে। স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং অফিসে নিয়মিত বদলি ও কঠোর নজরদারি চালু করতে হবে। সৎ কর্মকর্তাদের প্রণোদনা এবং অসাধুদের দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকর হতে পারে।
নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং দায়িত্বশীলভাবে গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। জমির দলিল কেবল একটি কাগজ নয়, এটি নাগরিক সম্পদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। যদি শেষ সিলমোহরও ঘুষের ওপর নির্ভর করে, তবে প্রশ্ন উঠবেইÑরাষ্ট্রের আইন কাদের জন্য?
আব্দুর রশিদ
জকিগঞ্জ, সিলেট।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন রাষ্ট্রীয় আইনের একটি মৌলিক সেবা, কিন্তু বাস্তবে এটি বহু জায়গায় এক অঘোষিত বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি ফি নয়, বরং ঘুষই দলিল সম্পন্ন হওয়ার মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল লেখক, মুহুরি, পিয়ন ও দালালদের মাধ্যমে এই ঘুষ লেনদেন নীরবে চলে। অতিরিক্ত ফি না দিতে চাইলে ফাইল আটকে রাখা, অপ্রয়োজনীয় আপত্তি তোলা বা বিলম্ব করা হয়। ফলে আইন সমানভাবে প্রয়োগ হয় না, বরং অর্থই প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠেছে।
দুর্নীতির কারণগুলো স্পষ্ট। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে নির্ধারিত দলিল লেখক ছাড়া রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ না থাকায় ঘুষের নেটওয়ার্ক শক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী। ভুক্তভোগীর অসহযোগিতা এবং নজরদারির ঘাটতি দুর্নীতিকে আরও উৎসাহিত করছে। অভিযোগ করলেও কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না, যা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জন্ম দিয়েছে।
সমাধানের পথও রয়েছে। ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফাইলের প্রতিটি ধাপ অনলাইনে ট্র্যাকযোগ্য হয়। মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা সীমিত করে নাগরিককে নিজের দলিল নিজেই লিখে দাখিল করার সুযোগ দিতে হবে। স্বাধীন অভিযোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে এবং অফিসে নিয়মিত বদলি ও কঠোর নজরদারি চালু করতে হবে। সৎ কর্মকর্তাদের প্রণোদনা এবং অসাধুদের দৃশ্যমান শাস্তি কার্যকর হতে পারে।
নাগরিকদেরও দায়িত্ব আছে। সরকারি ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ না দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে, লিখিত প্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে এবং দায়িত্বশীলভাবে গণমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে। জমির দলিল কেবল একটি কাগজ নয়, এটি নাগরিক সম্পদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। যদি শেষ সিলমোহরও ঘুষের ওপর নির্ভর করে, তবে প্রশ্ন উঠবেইÑরাষ্ট্রের আইন কাদের জন্য?
আব্দুর রশিদ
জকিগঞ্জ, সিলেট।