alt

মুক্ত আলোচনা

কাপড়ের ফুল জীবনে রং ছড়ায়

আফরোজা নাজনীন

: বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

বর্তমানে দেশের নারীরা ছোট ছোট উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে তারা অনেক সময় সফল হতে পারেন না। অথচ দেশের মোট জনশক্তির অর্ধেকই নারী। নারীকে যদি কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়ে যাবে বহুগুণে। দেশের অর্থনীতির ভিতকে শক্ত করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও এগিয়ে নিতে হবে। এই উদ্যেগকে সামনে রেখেই নারীদেরকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে সরকার মহিলা অধিদফতরের মাধ্যমে বিভিন্ন নারীদের ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নারীকে আরও স্বাবলম্বী হতে সহয়তা করবে যা দশেরে সামগ্রকি উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে।

ঢাকার পাশেই ওয়াসপুরের ষোলমাসী গ্রামের বাসিন্দা নাহিদা আখতার শুধুমাত্র সেলাই করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। শুধু তিনি নয়, তার আয়ের ওপর নির্রভশীল তার আট বছরের ছেলে, মা ও ভাই। নাহিদার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তিন বছর আগে। স্বামী মাদক সেবন করতো। তাই নাহিদা তাকে পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়।নাহিদা মহিলা অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মাসে এখন তার আয় তের থেকে পনেরো হাজার টাকা।

নরসিংদীর পলাশের মেয়ে লামিয়া আখতার। আই এ পাশ করে সেও সেলাইকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে। লামিয়া জানায়, এখনকার মেয়েরা পোশাক সচেতন। সেলাই এখন অনেকেই পেশা বেছে নয়ে। এতে করে স্বাবলম্বীও হওয়া যায়।

নরসিংদীর পলাশে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করেছে স্কুল, কলেজের ছাত্রীসহ আট শতাধিক নারী। তারা এখন সকলেই স্বাবলম্বী। সরকারি প্রশিক্ষণ স্বেচ্ছাসেবী কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও ট্রেনিং নিয়েছেন এসব নারী। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসেই উপাজর্ন করতে পারছেন তারা। নিজেদের লেখাপড়ার খরচ নিজেরাই চালাতে পারছেন। এছাড়া অনেক গৃহবধূ, স্বামী পরিত্যাক্ত নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসারের অভাব অনটন দূর করে হয়েছেন স্বচ্ছল। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো থেকেও ফ্রি সেলাই মেশিনও দেয়া হয়। দিন দিন এ প্রশিক্ষনের দিকে নারীদের মনোযোগ বাড়ছে। এর প্রধান কারণ এ কাজ করে তারা স্বচ্ছলতার মুখ দেখছে। একেকজন কমপক্ষে দশ থেকে বারো হাজার টাকা আয় করছে। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সাথে স্বাবলম্বী এবং ক্ষমতায়িত হচ্ছে নারীরা।

প্রশিক্ষণ নিতে আসা সানজিদা ইসলাম বলেন, আমি নিজে উর্পাজন করতে চাই। তাই সেলাইয়ের খুঁটিনাটি শিখে দক্ষ হতে চাই। এই প্রশিক্ষণ আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করবে।

সেলাই কর্সূচির প্রতি শুধু সুস্থ নারীদেরই নয়, প্রতিবন্ধী নারীদেরও আগ্রহ বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিবন্ধী নারীরা এ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ফরিদপুরের ২৫ জন অটিস্টিক নারীকে হস্তশিল্প ও সেলাই বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘অটিষ্টিক শিশু ও নারীদের জন্য পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষনের প্রধান নির্বাহী ছিলেন নাজমা আক্তার।

গত বছরের ১২ অক্টোবর ‘অটিস্টিক শিশু ও নারীদের জন্য পাইলট প্রশিক্ষণের অধীনে মহিলা অধিদপ্তর দরজি বিজ্ঞান, এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক ও টাই-ডাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীকে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হয়। প্রতি বছর তিনটি সেশনে এখানে প্রশিক্ষাণার্থী নেওয়া হয়। প্রথম সেশন জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সেশন, দ্বিতীয় সেশন মে থেকে আগস্ট এবং তৃতীয় সেশন সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর। এ তিনটি সেশনে মোট ৩০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির সুযোগ পান। এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস পর্যন্ত। আবেদনকারীকে প্রতিটি কোর্সের ফি বাবদ ৩৩০ টাকা প্রদান করতে হয়। তবে এর মধ্যে ২০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা নেওয়া হয়, যা কোর্স শেষে প্রশিক্ষাণার্থীদের ফেরত দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় সেশনের জন্য আবেদন করতে হয় ৩০ এপ্রিলের মধ্যে। আবেদন ফরম পাওয়া যায় (৩৭/৩, ইস্কার্টন গার্ডেন রোড, ঢাকা) মহিলা অধিদফতরের অফিসে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া আবেদনকারীরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ফরম সংগ্রহ করতে পারেন।

দরজি বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন,‘নারীদেরকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই বাড়তি আয়ের সুযোগ পায়। দুস্থ নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই অধিদপ্তর বিনামূল্যে নারীদের সেলাই মেশিন সরবরাহ করে থাকে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা পেশার নারীরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। এই ট্রেডে কাজ শিখে অনেকে উদ্যেক্তা হয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

বিশেষ্ণরা মনে করেন, সমাজের অনগ্রসর নারীরা এসব প্রশিক্ষন গ্রহন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে। সেলাই এর কাজের পাশাপাশি এডভান্সড কোর্স হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আউট সোর্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলারও অনেক সুযোগ রয়েছে।

প্রান্তিক নারীরাও এতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় এসব প্রশিক্ষিত নারীদের ভূমিকা অভূতপূর্ব। নারীদের পদচারণা দেশের সর্বত্র। তাদের কর্মক্ষেত্র এখন আর সীমাবদ্ধ নেই। চাকরি, ব্যবসা, সব সেক্টরেই নারীরা দক্ষতা অর্জন করেছে নিজ প্রচেষ্টা এবং অধ্যাবসায়ের কারণে। সরকারের অবদান এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য।

প্রশিক্ষিত নারীরা তাদের কাজকে শুধুই কাজ না ভেবে নিজের ইচ্ছাপূরণের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখে। এতে করে ও তাদের কাজ সহজ হয়ে যায়। এতে করে কওে কাজে আনন্দ পাওয়া যায়। ব্যবসায় অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও এতে করে নারীরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে শিখে।

বর্তমান সময় ডিজিটাল যুগ। অনেক চিন্তা ভাবনা ও মেধা খাটিয়ে নারীদের নিজেদেরকে বিকশিত করতে হচ্ছে প্রতিযোগিতায় এ সময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবিক সহযোগিতায় নারীরা এখন অনেক এগিয়ে গেছে। এখন শুধু প্রয়োজন আমাদেও নিজেদের কাজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সঠিকভাবে কাজ করা।

বাংলাদেশের ফ্যাশন খাতে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউ-েশনের সভাপতি টুটলি প্রথম ফিউশন যুক্ত করে ফ্যাশনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনিও প্রশিক্ষন গ্রহন করে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আজ একজন সফল উদ্যোক্তা। বাংলাদেশে প্রথম প্ল্যান্ট ল্যান্ডস্কেপিং, ইন্টেরিয়র, ইভেন্ট প্লানিং, ওয়েডিং প্লানিং করেছেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প নিয়ে দেশে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক বুনন উৎসব আয়োজন করেন তিনি। তার মতো এমন অনেক নারী নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অবদান রেখে চলেছেন। সেলাই এর মধ্য দিয়ে কাপড়ের ফুল জীবনে রং ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও রং ছড়াচ্ছেন আমাদের সেলাই খাতে প্রশিক্ষিত নারীরা।

(পিআইডি-শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম নিবন্ধ)

ছবি

২১ বছরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মার্কেটিং মাইওপিয়া

মানসিক সুস্থতা কতটা জরুরি?

ছবি

সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিকিম

মায়ের বুকের দুধ পানে অগ্রগতি

ছবি

গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে নারীর ক্ষমতায়ন

মাটি দূষণ ও প্রতিকার ভাবনা

ছবি

আলাউদ্দিন আল আজাদ

ছবি

অনিরাপদ খাদ্য সুস্থ জীবনের অন্তরায়

সাঁওতাল বিদ্রোহ

হিন্দু সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা

ছবি

করোনাকালে নিরাপদ মাতৃত্ব

ছবি

পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যু রোধ করতে চাই সচেতনতা

ছবি

আশ্রয়ণ : দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন

ছবি

ডিঙ্গাপোতা হাওরের হাতছানি

নারীর কর্মসংস্থান

আর নয় নারীর প্রতি সহিংসতা

ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে সচেতন হতে হবে

ছবি

টিকাদানে বাংলাদেশের সাফল্য

ছবি

ডায়ানার সাক্ষাৎকার বিতর্ক : ঘটনা ও তদন্ত

সন্তানের বয়ঃসন্ধিকালে মা-বাবার করণীয়

পাঠাগার : প্রসঙ্গ শিশুদের জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ

করোনায় হারিয়ে যাচ্ছে কৈশোর

ছবি

বঙ্গবন্ধু : অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশের হিমালয়

জলবায়ু ঝুঁকি হ্রাস ও পরিবেশ প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে চাই উন্নয়ন

কোভিডকালে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের গুরুত্ব

হাঁস পালন করে ভাগ্যের চাকা বদলেছে ফরিদাদের

ডায়াবেটিস গর্ভবতী মায়েদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ

পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে সেন্ট মার্টিন

শিশুদের বিকাশে চাই খেলার মাঠ

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা জরুরি

করোনায় হারিয়ে যাচ্ছে কৈশোর

করোনার নতুন ধরণ: সরকারের উদ্যোগ ও আমাদের করণীয়

ব্যালকনি বাগান : প্রসঙ্গ প্রকৃতি ও পরিবেশ

বাংলাদেশের শিশু ও ওদের মায়ের ভাষা

ছবি

শিশুর ডায়রিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

tab

মুক্ত আলোচনা

কাপড়ের ফুল জীবনে রং ছড়ায়

আফরোজা নাজনীন

বুধবার, ১৬ জুন ২০২১

বর্তমানে দেশের নারীরা ছোট ছোট উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কিন্তু পর্যাপ্ত দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে তারা অনেক সময় সফল হতে পারেন না। অথচ দেশের মোট জনশক্তির অর্ধেকই নারী। নারীকে যদি কর্মমুখী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তবে নারীর ক্ষমতায়ন বেড়ে যাবে বহুগুণে। দেশের অর্থনীতির ভিতকে শক্ত করতে হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও এগিয়ে নিতে হবে। এই উদ্যেগকে সামনে রেখেই নারীদেরকে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করতে সরকার মহিলা অধিদফতরের মাধ্যমে বিভিন্ন নারীদের ট্রেডে প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নারীকে আরও স্বাবলম্বী হতে সহয়তা করবে যা দশেরে সামগ্রকি উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে।

ঢাকার পাশেই ওয়াসপুরের ষোলমাসী গ্রামের বাসিন্দা নাহিদা আখতার শুধুমাত্র সেলাই করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। শুধু তিনি নয়, তার আয়ের ওপর নির্রভশীল তার আট বছরের ছেলে, মা ও ভাই। নাহিদার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় তিন বছর আগে। স্বামী মাদক সেবন করতো। তাই নাহিদা তাকে পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়।নাহিদা মহিলা অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মাসে এখন তার আয় তের থেকে পনেরো হাজার টাকা।

নরসিংদীর পলাশের মেয়ে লামিয়া আখতার। আই এ পাশ করে সেও সেলাইকেই জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে। লামিয়া জানায়, এখনকার মেয়েরা পোশাক সচেতন। সেলাই এখন অনেকেই পেশা বেছে নয়ে। এতে করে স্বাবলম্বীও হওয়া যায়।

নরসিংদীর পলাশে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে দারিদ্র্যকে জয় করেছে স্কুল, কলেজের ছাত্রীসহ আট শতাধিক নারী। তারা এখন সকলেই স্বাবলম্বী। সরকারি প্রশিক্ষণ স্বেচ্ছাসেবী কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেও ট্রেনিং নিয়েছেন এসব নারী। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ঘরে বসেই উপাজর্ন করতে পারছেন তারা। নিজেদের লেখাপড়ার খরচ নিজেরাই চালাতে পারছেন। এছাড়া অনেক গৃহবধূ, স্বামী পরিত্যাক্ত নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসারের অভাব অনটন দূর করে হয়েছেন স্বচ্ছল। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গুলো থেকেও ফ্রি সেলাই মেশিনও দেয়া হয়। দিন দিন এ প্রশিক্ষনের দিকে নারীদের মনোযোগ বাড়ছে। এর প্রধান কারণ এ কাজ করে তারা স্বচ্ছলতার মুখ দেখছে। একেকজন কমপক্ষে দশ থেকে বারো হাজার টাকা আয় করছে। আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সাথে স্বাবলম্বী এবং ক্ষমতায়িত হচ্ছে নারীরা।

প্রশিক্ষণ নিতে আসা সানজিদা ইসলাম বলেন, আমি নিজে উর্পাজন করতে চাই। তাই সেলাইয়ের খুঁটিনাটি শিখে দক্ষ হতে চাই। এই প্রশিক্ষণ আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনে সহায়তা করবে।

সেলাই কর্সূচির প্রতি শুধু সুস্থ নারীদেরই নয়, প্রতিবন্ধী নারীদেরও আগ্রহ বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিবন্ধী নারীরা এ প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ফরিদপুরের ২৫ জন অটিস্টিক নারীকে হস্তশিল্প ও সেলাই বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘অটিষ্টিক শিশু ও নারীদের জন্য পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষনের প্রধান নির্বাহী ছিলেন নাজমা আক্তার।

গত বছরের ১২ অক্টোবর ‘অটিস্টিক শিশু ও নারীদের জন্য পাইলট প্রশিক্ষণের অধীনে মহিলা অধিদপ্তর দরজি বিজ্ঞান, এমব্রয়ডারি, ব্লক-বাটিক ও টাই-ডাই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে আবেদনকারীকে অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হয়। প্রতি বছর তিনটি সেশনে এখানে প্রশিক্ষাণার্থী নেওয়া হয়। প্রথম সেশন জানুয়ারি থেকে এপ্রিল সেশন, দ্বিতীয় সেশন মে থেকে আগস্ট এবং তৃতীয় সেশন সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর। এ তিনটি সেশনে মোট ৩০ জন করে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তির সুযোগ পান। এই প্রশিক্ষণের মেয়াদ চার মাস পর্যন্ত। আবেদনকারীকে প্রতিটি কোর্সের ফি বাবদ ৩৩০ টাকা প্রদান করতে হয়। তবে এর মধ্যে ২০০ টাকা জামানত হিসেবে জমা নেওয়া হয়, যা কোর্স শেষে প্রশিক্ষাণার্থীদের ফেরত দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় সেশনের জন্য আবেদন করতে হয় ৩০ এপ্রিলের মধ্যে। আবেদন ফরম পাওয়া যায় (৩৭/৩, ইস্কার্টন গার্ডেন রোড, ঢাকা) মহিলা অধিদফতরের অফিসে। সরকারি ছুটির দিন ছাড়া আবেদনকারীরা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ফরম সংগ্রহ করতে পারেন।

দরজি বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মমতাজ বেগম বলেন,‘নারীদেরকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা ঘরে বসেই বাড়তি আয়ের সুযোগ পায়। দুস্থ নারীদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এই অধিদপ্তর বিনামূল্যে নারীদের সেলাই মেশিন সরবরাহ করে থাকে। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নানা পেশার নারীরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন। এই ট্রেডে কাজ শিখে অনেকে উদ্যেক্তা হয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

বিশেষ্ণরা মনে করেন, সমাজের অনগ্রসর নারীরা এসব প্রশিক্ষন গ্রহন করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সক্ষম হচ্ছে। সেলাই এর কাজের পাশাপাশি এডভান্সড কোর্স হিসেবে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, আউট সোর্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তোলারও অনেক সুযোগ রয়েছে।

প্রান্তিক নারীরাও এতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার সাথে সাথে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় এসব প্রশিক্ষিত নারীদের ভূমিকা অভূতপূর্ব। নারীদের পদচারণা দেশের সর্বত্র। তাদের কর্মক্ষেত্র এখন আর সীমাবদ্ধ নেই। চাকরি, ব্যবসা, সব সেক্টরেই নারীরা দক্ষতা অর্জন করেছে নিজ প্রচেষ্টা এবং অধ্যাবসায়ের কারণে। সরকারের অবদান এ ক্ষেত্রে অনস্বীকার্য।

প্রশিক্ষিত নারীরা তাদের কাজকে শুধুই কাজ না ভেবে নিজের ইচ্ছাপূরণের ক্ষেত্র হিসেবেও দেখে। এতে করে ও তাদের কাজ সহজ হয়ে যায়। এতে করে কওে কাজে আনন্দ পাওয়া যায়। ব্যবসায় অনেক চ্যালেঞ্জ থাকলেও এতে করে নারীরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে শিখে।

বর্তমান সময় ডিজিটাল যুগ। অনেক চিন্তা ভাবনা ও মেধা খাটিয়ে নারীদের নিজেদেরকে বিকশিত করতে হচ্ছে প্রতিযোগিতায় এ সময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবিক সহযোগিতায় নারীরা এখন অনেক এগিয়ে গেছে। এখন শুধু প্রয়োজন আমাদেও নিজেদের কাজের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে সঠিকভাবে কাজ করা।

বাংলাদেশের ফ্যাশন খাতে বাংলাদেশ হেরিটেজ ফাউ-েশনের সভাপতি টুটলি প্রথম ফিউশন যুক্ত করে ফ্যাশনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। তিনিও প্রশিক্ষন গ্রহন করে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আজ একজন সফল উদ্যোক্তা। বাংলাদেশে প্রথম প্ল্যান্ট ল্যান্ডস্কেপিং, ইন্টেরিয়র, ইভেন্ট প্লানিং, ওয়েডিং প্লানিং করেছেন তিনি। ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প নিয়ে দেশে প্রথমবারের মত আন্তর্জাতিক বুনন উৎসব আয়োজন করেন তিনি। তার মতো এমন অনেক নারী নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও অবদান রেখে চলেছেন। সেলাই এর মধ্য দিয়ে কাপড়ের ফুল জীবনে রং ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও রং ছড়াচ্ছেন আমাদের সেলাই খাতে প্রশিক্ষিত নারীরা।

(পিআইডি-শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম নিবন্ধ)

back to top