alt

মুক্ত আলোচনা

ইংলিশ মিডিয়ামে শিক্ষার্থীর পছন্দ CAIE নাকি EDEXCEL

মাহমুদুল হাছান

: মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমে ও’লেভেল এবং এ’লেভেল পরীক্ষার কদর এখন দিন দিন বেশ বেড়েই চলেছে। এ শিক্ষাধারার ব্যয়ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি বলে অনেকে এটিকে ধনি শ্রেণি-পেশার মানুষের এক প্রকার আভিজাত্য প্রদর্শনের শিক্ষাক্রমও বলে থাকেন। এ শিক্ষাক্রমে দু’টি কারিকুলামই বেশি প্রচলিত যার পরীক্ষা কার্যক্রম ক্যামব্রিজ বা CAIE ও পিয়ারসন বা EDXCELবোর্ডের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে থাকে। বিদেশি কারিকুলাম হওয়ায় এটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা অভিভাবকদের অনেকের মধ্যেই স্বভাবত কম থাকে। তাই বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এক প্রকার সংকটে পড়ে থাকেন যে তারা কোন কারিকুলামে পরীক্ষা দিবে? IGCSE (ও’ লেভেল) বা IAL (A-লেভেল) পরীক্ষার জন্য যখন শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নেয়, তখন তারা সংশয়ে থাকেন, যে তারা কোন বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিবে; CAIE নাকি EDEXCEL? CAIE হলো ক্যামব্রিজ এসেসমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন/এক্সামিনেশন এবং EDEXCEL হলো পিয়ারসন প্রকাশনা সংস্থার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দ্বারা সম্পাদিত পরীক্ষা। উভয় পরীক্ষাই অত্যন্ত সম্মানিত, সমভাবে মূল্যায়িত ও চাকরির ক্ষেত্রে একইভাবে স্বিকৃত।

উভয় পরীক্ষাতে একই রকম পদ্ধতিতে প্রশ্ন পত্র সেট করা হয়, যদিও ব্যক্তিগত মতামতের ভিন্নতার কারণে কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় কিছু বিষয়ে অন্যটির চেয়ে বেশি কঠিন বলে মনে করে। CAIE এবং EDEXCEL উভয় পরীক্ষায়ই ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য।

CAIE (সিএআইই)ঃ CAIE ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম এবং সারা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য স্কুল দ্বারা গৃহীত একটি পরীক্ষা বোর্ড। বোর্ডটি বিভিন্ন দক্ষতার শিক্ষার্থীদের যেমন যাদের প্রথম ভাষা ইংরেজি নয় তাদের জন্য বিস্তৃত শিক্ষার রুট বা মূল ভিত্তি স্থাপনের লক্ষ্যে বেশ সহজ ও স্টান্ডার্ড পরীক্ষা গ্রহন করে থাকে। এই পরীক্ষার সাফল্য একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসাবে বিশ্বব্যাপী গৃহীত হয়। বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে CAIE এবং IGCSE-এর সমন্বয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্ব শর্ত হল ইংরেজিতে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা অর্জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি বড় অংশ ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসাবে CAIE প্রদত্ত সার্টিফিকেটকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। CAIE বিশ্বের অনেক জায়গায় EDEXCEL এর চেয়ে বেশি জনপ্রিয় কারণ এটি আন্তর্জাতিক ছাত্রদের পরিস্থিতি মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি অংশে সাংস্কৃতিক পক্ষপাত রয়েছে যা অচেতনভাবে সেই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে। এই পক্ষপাতগুলি প্রায়শই পরীক্ষা নেওয়া এবং ফলাফল অর্জনের পদ্ধতিতে প্রদর্শিত হয়। CAIE-কে আন্তর্জাতিক ব্যবহারের জন্য এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মক্ষমতা/মূল্যায়নকে প্রভাবিত করতে পারে এমন পক্ষপাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

এডেক্সেল (এডেক্সেল) ঃ EDEXCEL ডোমেন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং বিষয়গুলি আপডেট এবং প্রাসঙ্গিক রাখতে নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এটিকে সর্বজনবিদিত ও স্বিকৃত করা হয়েছে। CAIE এর তুলনায় অতি EDEXCEL এর বয়স অতি অল্প যা ১৯৯৬ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু করে আজ বিশ্বব্যাপি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমাদৃত হয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে EDEXCEL থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এ শিক্ষাক্রমে ৪০টিরও বেশি বিষয় রয়েছে, যেগুলির পরীক্ষা শুধুমাত্র কোর্স শেষে নেওয়া হয়। EDEXCEL একটি অত্যন্ত উচ্চ মানের পরীক্ষা পদ্ধতি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর অনেক সমাদর রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন করার সময় এটিকে বিশেষভাবে মর্যাদা দেয়া হয় এবং ব্রিটিশ GCSE দেওয়া হয়। যেহেতু সিস্টেমটি কোর্স এবং সিলেবাসকে আপ টু ডেট এবং যুগোপযোগী রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, তাই অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বিকশিত হওয়া অধ্যয়নের কোর্সে ভর্তির জন্য এই যোগ্যতাকে প্রান্তিক অগ্রাধিকার দেয়। এছাড়া এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন পত্রের মান ও ধরণ এমনভাবে প্রণয়ন করা হয় যাতে সর্বসাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে উৎসাহ পায় এবং সহজেই ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে। এটির পরীক্ষামান বেশ উন্নত বিধায় বিশ্বব্যাপী সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পেতে সহজ হয়।

সিএআইই ও এডেক্সেলের মূল পার্থক্য ঃদু’টি পরীক্ষাই ভিন্নভাবে গঠন করা হয় এবং দু’টি পৃথক বোর্ড দ্বারা সম্পাদন করা হয়। CAIE একটি টায়ার্ড পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করে যা শিক্ষার্থীদের ফাউন্ডেশন বা উচ্চতর স্তরে প্রবেশের বিকল্প প্রদান করে। উচ্চ স্তরের প্রশ্নপত্রে আরও কঠিন প্রশ্ন দেওয়া হয় বলে এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে কোন কোন প্রশ্নপত্রের প্রশ্নের মান একটু কঠিন করা হয় যেন তারা পরবর্তীতে সহজে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে পারে। EDEXCEL-এর ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র গণিতের টায়ার্ড এন্ট্রি রয়েছে। অন্য সব বিষয়ের জন্য প্রশ্নপত্রের একটি মাত্র সেট রয়েছে যার মধ্যে কঠিন এবং সহজ উভয় প্রশ্ন একই পত্রে বিদ্যমান থাকে। ফলে তারা অতি সহজে IGCSE এবং A Level পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পারে। সুতরাং এখানে মৌলিক পার্থক্য বলতে ভিন্ন দু’টি বোর্ডের অধীনে পৃথকভাবে পরীক্ষা গ্রহন পদ্ধতিকেই বুঝানো হয়েছে। সার্টিফিকেটের মানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা নিরুপনে কোন পার্থক্য নেই।

তাহলে এখোনও কি সন্দেহ কোনটি সঠিক পছন্দ? না উপরোক্ত বর্ণনায় শিক্ষার্থী তার ইচ্ছেমত যে কোনটি গ্রহন করতে পারে। CAIE এবং EDEXCEL উভয়কেই উচ্চমানের আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সারা বিশ্বে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানেরদ্বার উন্মুক্ত করে। যদিও এগুলি অনেক ক্ষেত্রে একই রকম, এটি গুরুত্বপূর্ণ যে একজন শিক্ষার্থী এ দু’টির মাঝের সূক্ষ্ম পার্থক্যটি জানে এবং বুঝতে পারে। শিক্ষার্থীর এমন পরীক্ষা দেওয়া উচিত যা তার ব্যক্তিগত যোগ্যতার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হয় এবং যাতে সে ভাল ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়। শিক্ষার্থী যদি তার আশেপাশের বা যারা এই পরীক্ষাগুলো দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চায়, তাহলে সে সব ধরণের ভিন্ন ভিন্ন মতামত পাবে। সুতরাং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা অভিভাবককেই সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। উপরের বর্ণনা যদি সকলের কাছে বোধগম্য হয়, তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষার্থী বা অভিভাবক কারোরই কোন সমস্যা হবে না। সুতরাং IGCSE এবং A Level পরীক্ষায় সফল হতে শিক্ষার্থী যে কোনটি তথা CAIE বা EDEXCEL বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে উচ্চ শিক্ষার পথকে প্রশস্ত করতে পারে। কোনটি ভালো এটি নিয়ে অযথা দ্বিধান্বিত হওয়ার কিছু নেই। আমি বলবো, উভয়টিই ভালো ও সমান মূল্যমানের। শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন IGCSE এবং A Level পরীক্ষায় একটি ভালো রিজাল্ট করা। মিনিমাম ৫ টু ৯ পয়েন্ট বা B টু A* ভালো রিজাল্ট হিসেবে গন্য করা হয়। শিক্ষার্থীকে বলছি, যেটিকে পছন্দ করছো তা CAIE হোক বা EDEXCEL, সেটির বিষয়গুলিকে মনোযোগ দিয়ে পড় এবং ভালো ফলাফল অর্জন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাও। সফলতা আসবেই।

[লেখক:প্রিন্সিপাল, ড্যাফোডিলইন্টারন্যাশনালস্কুল, ঢাকা]

কৃষি পর্যটনের বিকাশ এখন সময়ের দাবী

রণেশ মৈত্র: আপাদমস্তক সাংবাদিক

ছবি

উন্নয়নের রোল মডেল

ছবি

উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছবি

চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচ্চ যেথা শির

প্রধানমন্ত্রীর জন্মবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা

ছবি

তেজোদ্দীপ্ত এক মহীয়সী

ছবি

ভাদ্র পূর্ণিমা বা মধু পূর্ণিমার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

ইংলিশ মিডিয়াম মাধ্যমিক স্তরের সেরা যোগ্যতা আইজিসিএসই

শিক্ষার মানোন্নয়নে হিউটাগোজি শিক্ষাকৌশল

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষিতে উচ্চশিক্ষা: সুযোগ এবং বাস্তবতা

প্লাগিয়ারিজম একটি বৌদ্ধিক ব্যাধি, মুক্ত থাকবেন যেভাবে

মনসা: এক পার্থিব দেবতা

সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সংকট মোকাবেলায় দিতে পারে বাড়তি সুবিধা

নিটোর: দেশের প্রথম বিশেষায়িত ইনষ্টিটিউট

ছবি

চেতনার মৃত্যু নেই

ছবি

‘সত্যিই দেশের মানুষ তাকে মারলো?’

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রত্যয়

ইতিহাসের অন্ধকারতম অধ্যায়

বাঙালি সংস্কৃতিতে লুঙ্গির আগমন

মনসামঙ্গলঃ মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের প্রধান মঙ্গলকাব্য

ফুটবল ফুটবল

সন্তানের শিক্ষার মাধ্যম কি হবে তা অভিভাবককেই ভাবতে হয়

আন্তর্জাতিক ম্যানগ্রোভ দিবস

রেলগাড়ি ঝমাঝম

বিশ্ববাসী আমেরিকার অস্ত্র ও চক্রান্ত ধ্বংস করে পৃথিবীকে বাঁচাবে

ছবি

মেরী কুরী: এক মহীয়সী বিজ্ঞান সাধিকা)

পদ্মা সেতু বাঙালির সক্ষমতার প্রতীক

আমি দেখবো

অপরাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের বলি হচ্ছেন শিক্ষকসমাজ

মানুষের মস্তিক এক সুপার কম্পিউটার

পদ্মা সেতু শুধুই আবেগ নয়

ছবি

অবশেষে পদ্মার জয়

নিজের অর্জনের রেকর্ড নিজেই বারবার ভেঙেছে যে দল

আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর ৬-দফা ও আজকের বাংলাদেশ

ছবি

স্বপ্নের পদ্মাসেতু

tab

মুক্ত আলোচনা

ইংলিশ মিডিয়ামে শিক্ষার্থীর পছন্দ CAIE নাকি EDEXCEL

মাহমুদুল হাছান

মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই ২০২২

বাংলাদেশে ইংরেজি মাধ্যমে ও’লেভেল এবং এ’লেভেল পরীক্ষার কদর এখন দিন দিন বেশ বেড়েই চলেছে। এ শিক্ষাধারার ব্যয়ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি বলে অনেকে এটিকে ধনি শ্রেণি-পেশার মানুষের এক প্রকার আভিজাত্য প্রদর্শনের শিক্ষাক্রমও বলে থাকেন। এ শিক্ষাক্রমে দু’টি কারিকুলামই বেশি প্রচলিত যার পরীক্ষা কার্যক্রম ক্যামব্রিজ বা CAIE ও পিয়ারসন বা EDXCELবোর্ডের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে থাকে। বিদেশি কারিকুলাম হওয়ায় এটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা অভিভাবকদের অনেকের মধ্যেই স্বভাবত কম থাকে। তাই বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এক প্রকার সংকটে পড়ে থাকেন যে তারা কোন কারিকুলামে পরীক্ষা দিবে? IGCSE (ও’ লেভেল) বা IAL (A-লেভেল) পরীক্ষার জন্য যখন শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নেয়, তখন তারা সংশয়ে থাকেন, যে তারা কোন বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিবে; CAIE নাকি EDEXCEL? CAIE হলো ক্যামব্রিজ এসেসমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন/এক্সামিনেশন এবং EDEXCEL হলো পিয়ারসন প্রকাশনা সংস্থার একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান দ্বারা সম্পাদিত পরীক্ষা। উভয় পরীক্ষাই অত্যন্ত সম্মানিত, সমভাবে মূল্যায়িত ও চাকরির ক্ষেত্রে একইভাবে স্বিকৃত।

উভয় পরীক্ষাতে একই রকম পদ্ধতিতে প্রশ্ন পত্র সেট করা হয়, যদিও ব্যক্তিগত মতামতের ভিন্নতার কারণে কিছু শিক্ষার্থী পরীক্ষায় কিছু বিষয়ে অন্যটির চেয়ে বেশি কঠিন বলে মনে করে। CAIE এবং EDEXCEL উভয় পরীক্ষায়ই ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য।

CAIE (সিএআইই)ঃ CAIE ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান শিক্ষাক্রম এবং সারা বিশ্ব জুড়ে অসংখ্য স্কুল দ্বারা গৃহীত একটি পরীক্ষা বোর্ড। বোর্ডটি বিভিন্ন দক্ষতার শিক্ষার্থীদের যেমন যাদের প্রথম ভাষা ইংরেজি নয় তাদের জন্য বিস্তৃত শিক্ষার রুট বা মূল ভিত্তি স্থাপনের লক্ষ্যে বেশ সহজ ও স্টান্ডার্ড পরীক্ষা গ্রহন করে থাকে। এই পরীক্ষার সাফল্য একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হিসাবে বিশ্বব্যাপী গৃহীত হয়। বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদনকারীদের আবেদন গ্রহণ করার ক্ষেত্রে CAIE এবং IGCSE-এর সমন্বয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পূর্ব শর্ত হল ইংরেজিতে কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষমতা অর্জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলির একটি বড় অংশ ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ হিসাবে CAIE প্রদত্ত সার্টিফিকেটকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। CAIE বিশ্বের অনেক জায়গায় EDEXCEL এর চেয়ে বেশি জনপ্রিয় কারণ এটি আন্তর্জাতিক ছাত্রদের পরিস্থিতি মাথায় রেখে ডিজাইন করা হয়েছে। বিশ্বের প্রতিটি অংশে সাংস্কৃতিক পক্ষপাত রয়েছে যা অচেতনভাবে সেই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করে। এই পক্ষপাতগুলি প্রায়শই পরীক্ষা নেওয়া এবং ফলাফল অর্জনের পদ্ধতিতে প্রদর্শিত হয়। CAIE-কে আন্তর্জাতিক ব্যবহারের জন্য এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ছাত্র-ছাত্রীদের কর্মক্ষমতা/মূল্যায়নকে প্রভাবিত করতে পারে এমন পক্ষপাত থেকে মুক্ত রাখার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

এডেক্সেল (এডেক্সেল) ঃ EDEXCEL ডোমেন বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং বিষয়গুলি আপডেট এবং প্রাসঙ্গিক রাখতে নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এটিকে সর্বজনবিদিত ও স্বিকৃত করা হয়েছে। CAIE এর তুলনায় অতি EDEXCEL এর বয়স অতি অল্প যা ১৯৯৬ সাল থেকে এর কার্যক্রম শুরু করে আজ বিশ্বব্যাপি সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক সমাদৃত হয়েছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের ক্ষেত্রে EDEXCEL থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এ শিক্ষাক্রমে ৪০টিরও বেশি বিষয় রয়েছে, যেগুলির পরীক্ষা শুধুমাত্র কোর্স শেষে নেওয়া হয়। EDEXCEL একটি অত্যন্ত উচ্চ মানের পরীক্ষা পদ্ধতি হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর অনেক সমাদর রয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন করার সময় এটিকে বিশেষভাবে মর্যাদা দেয়া হয় এবং ব্রিটিশ GCSE দেওয়া হয়। যেহেতু সিস্টেমটি কোর্স এবং সিলেবাসকে আপ টু ডেট এবং যুগোপযোগী রাখার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, তাই অনেক বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত বিকশিত হওয়া অধ্যয়নের কোর্সে ভর্তির জন্য এই যোগ্যতাকে প্রান্তিক অগ্রাধিকার দেয়। এছাড়া এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে প্রশ্ন পত্রের মান ও ধরণ এমনভাবে প্রণয়ন করা হয় যাতে সর্বসাধারণ শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে উৎসাহ পায় এবং সহজেই ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে। এটির পরীক্ষামান বেশ উন্নত বিধায় বিশ্বব্যাপী সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ পেতে সহজ হয়।

সিএআইই ও এডেক্সেলের মূল পার্থক্য ঃদু’টি পরীক্ষাই ভিন্নভাবে গঠন করা হয় এবং দু’টি পৃথক বোর্ড দ্বারা সম্পাদন করা হয়। CAIE একটি টায়ার্ড পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করে যা শিক্ষার্থীদের ফাউন্ডেশন বা উচ্চতর স্তরে প্রবেশের বিকল্প প্রদান করে। উচ্চ স্তরের প্রশ্নপত্রে আরও কঠিন প্রশ্ন দেওয়া হয় বলে এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে কোন কোন প্রশ্নপত্রের প্রশ্নের মান একটু কঠিন করা হয় যেন তারা পরবর্তীতে সহজে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হতে পারে। EDEXCEL-এর ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র গণিতের টায়ার্ড এন্ট্রি রয়েছে। অন্য সব বিষয়ের জন্য প্রশ্নপত্রের একটি মাত্র সেট রয়েছে যার মধ্যে কঠিন এবং সহজ উভয় প্রশ্ন একই পত্রে বিদ্যমান থাকে। ফলে তারা অতি সহজে IGCSE এবং A Level পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পারে। সুতরাং এখানে মৌলিক পার্থক্য বলতে ভিন্ন দু’টি বোর্ডের অধীনে পৃথকভাবে পরীক্ষা গ্রহন পদ্ধতিকেই বুঝানো হয়েছে। সার্টিফিকেটের মানে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা নিরুপনে কোন পার্থক্য নেই।

তাহলে এখোনও কি সন্দেহ কোনটি সঠিক পছন্দ? না উপরোক্ত বর্ণনায় শিক্ষার্থী তার ইচ্ছেমত যে কোনটি গ্রহন করতে পারে। CAIE এবং EDEXCEL উভয়কেই উচ্চমানের আন্তর্জাতিক শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সারা বিশ্বে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানেরদ্বার উন্মুক্ত করে। যদিও এগুলি অনেক ক্ষেত্রে একই রকম, এটি গুরুত্বপূর্ণ যে একজন শিক্ষার্থী এ দু’টির মাঝের সূক্ষ্ম পার্থক্যটি জানে এবং বুঝতে পারে। শিক্ষার্থীর এমন পরীক্ষা দেওয়া উচিত যা তার ব্যক্তিগত যোগ্যতার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হয় এবং যাতে সে ভাল ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হয়। শিক্ষার্থী যদি তার আশেপাশের বা যারা এই পরীক্ষাগুলো দিয়েছেন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ চায়, তাহলে সে সব ধরণের ভিন্ন ভিন্ন মতামত পাবে। সুতরাং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী বা অভিভাবককেই সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। উপরের বর্ণনা যদি সকলের কাছে বোধগম্য হয়, তবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শিক্ষার্থী বা অভিভাবক কারোরই কোন সমস্যা হবে না। সুতরাং IGCSE এবং A Level পরীক্ষায় সফল হতে শিক্ষার্থী যে কোনটি তথা CAIE বা EDEXCEL বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে উচ্চ শিক্ষার পথকে প্রশস্ত করতে পারে। কোনটি ভালো এটি নিয়ে অযথা দ্বিধান্বিত হওয়ার কিছু নেই। আমি বলবো, উভয়টিই ভালো ও সমান মূল্যমানের। শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন IGCSE এবং A Level পরীক্ষায় একটি ভালো রিজাল্ট করা। মিনিমাম ৫ টু ৯ পয়েন্ট বা B টু A* ভালো রিজাল্ট হিসেবে গন্য করা হয়। শিক্ষার্থীকে বলছি, যেটিকে পছন্দ করছো তা CAIE হোক বা EDEXCEL, সেটির বিষয়গুলিকে মনোযোগ দিয়ে পড় এবং ভালো ফলাফল অর্জন করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের পরামর্শ নিয়ে সামনে এগিয়ে যাও। সফলতা আসবেই।

[লেখক:প্রিন্সিপাল, ড্যাফোডিলইন্টারন্যাশনালস্কুল, ঢাকা]

back to top