alt

মুক্ত আলোচনা

মহান নেতার স্বভূমিতে ফিরে আসা

আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

: সোমবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৩

১০ জানুয়ারি ১৯৭২। বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, আনন্দের দিন। প্রিয় নেতার স্বদেশে ফিরে আসার দিন। মহানায়কের মহাপ্রত্যাবর্তনের শুভদিনটি ছিল বাঙালির উচ্ছ্বাস ও উৎসবের দিন। সেদিন ছিল সোমবার। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন। তার এই প্রত্যাবতর্নের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীন বাংলাদেশে। বাঙালি মহান নেতার স্বদেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় স্বাধীনতা। নেতার প্রতীক্ষায় যেন ভাটা পড়েছিল বিজয়ের আনন্দে, কারণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই মুক্তি সংগ্রাম, স্বাধীনতা অর্জন। তিনি ছাড়া সবই মলিন। বাঙালির মনের মলিনতা দূর হয় জাতির পিতার বাংলাদেশ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে।

নতুন দেশ নতুন সম্ভাবনাÑ এই দেশকে তো এগিয়ে নিতে হবে যার নেতৃত্বেই থাকবেন শেখ মুজিব। তিনি না ফেরায় যেন কিছুই এগুচ্ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। তাকে নির্জন কারাগারে একা অন্ধকারে রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পরিবারকেও ধানমন্ডির একটি বাড়িতে গৃহবন্দী রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুর পরিবারও তার অবস্থান জানত না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কোথায় সেই প্রশ্ন ছিল সবার কাছে। দেশ স্বাধীন হলেও তিনি কী দেশে ফিরবেন, কেমন আছেন, কোথায় আছেনÑ এসব নানা প্রশ্ন সবাইকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার তাকে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দিতে চেয়েছিল, কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়। কিন্তু তিনি বিচলিত হননি। তিনি জানতেন তার দেশ স্বাধীন হবেই। পাকিস্তানের কারাগারে প্রায় ১৯ কেজি ওজন উনার কমে যায়। তিনি ছিলেন অটল, দৃঢ়। কখনও আপস করেননি।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারের ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়ার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সহায়তাকারী সরকারপ্রধান, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থনকারী সবাই নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। অবশেষে পাকিস্তানের ভুট্টো সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

জাতির পিতা ৮ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে লন্ডন যান, সেখান থেকে দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি দুপুরে বাংলাদেশে ফিরে আসেন তার স্বপ্নের স¦াধীন বাংলাদেশ। সেদিনের বাস্তবতা লিখে বোঝানো মুশকিল। বাঙালির সেদিনের আনন্দ উল্লাসও ছিল মহাসাগরসম। মহানায়কের জন্য অধীর অপেক্ষা। ১০ জানুয়ারির স্মৃতিময় দিনটি প্রত্যক্ষদর্শীরা নানাভাবে উপস্থাপন করেছেন যা সত্যিই অসাধারণ। আজকের পরিবেশে সেই স্মৃতির সৌন্দর্য অনুধাবন করা কঠিন। তবে জাতির পিতার ফিরে আসা যেন সব কিছুর পরির্পূণতার স্বাদ পাওয়া।

জাতির পিতার স্বদেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে যেমন মহিমান্বিত করেছেন তেমনি নিজেও আরও সুউচ্চতায় আসীন হন। কারণ তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পাশাপাশি স্বাধীন দেশকে পরিচালনা করার মহান কর্তাও তিনিই। জাতির পিতার প্রত্যাবর্তন ছিল অপরিহার্য। মুক্ত বাঙালিকে শক্তি জোগানো ও সাহস-ভরসা দিতে জাতির পিতার প্রত্যাবর্তন ছিল অনিবার্য। তার প্রত্যাবর্তন জাতিকে প্রেরণা দিয়েছিল, স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। কারণ একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই বাঙালি ছিল ঐক্যবদ্ধ। তিনিই বাঙালি সূর্যসন্তান। তিনিই আবেগ ও উচ্ছ্বাসের প্রাণকেন্দ্র। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনিই একমাত্র ঐক্যের প্রতীক। তিনি ফিরে না আসলে নেতৃত্ব সংকট হতো কারণ বঙ্গবন্ধুর সমতুল্য কেউ ছিল না যে দেশ পরিচালনা করবে। বিশ্ব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিত না। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা বিশ্ব বুঝে যায় পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা জানার মধ্য দিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুকে আটক করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনত শেখ মুজিবের দেশ হিসেবেই কারণ শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেন বঙ্গবন্ধু এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের ২৩ বছরের অত্যাচার নির্যাতনও বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমেই বিশ্ব জেনেছিল। ভারতে যারা শরণার্থী হিসেবে ছিল তারাও বলেছিল বঙ্গবন্ধু ফিরে আসলে তারাও দেশে ফিরে আসবে। জাতির পিতা নিজে ফিরে শরণার্থীদেরও দেশে ফিরিয়ে আনেন এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

১৬ ডিসেম্বর দেশ মুক্ত হলেও ২২ দিন পর ১৯৭২ এর ৮ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে ২৪ দিন পর দেশে ফিরেন। লন্ডনে গিয়ে বঙ্গবন্ধু সরাসরি বলেছেন তিনি এক মুহূর্তও থাকতে রাজি নন। দেশে ফিরতে চান। এমনকি কলকাতার সফরও স্থগিত করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। বলেছিলেন, কলকাতায় পরে সফর করবেন যা তিনি করেও ছিলেন। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের চিন্তায় স্বাধীন দেশ পরিচালনার রূপরেখা যে ছিল তা বোঝা যায় তার তড়িৎ কর্মকা- থেকেই। দিল্লিতে অল্পসময় থাকাকালে তিনি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে জানান যে তিনি আশা করেন ভারতীয় বাহিনী যেন দ্রুতই ভারতে ফিরে আসে। শ্রীমতী ইন্দির গান্ধীও সে বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে আশ্বস্ত করেন। ১৯৭২ এর ১২ মার্চ ভারতীয় মিত্র বাহিনী ভারতে ফিরে যায়। এ এক অনন্য কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও সহযোগিতার উদাহরণ। বাঙালি জাতি ভারতের সাহায্য সহযোগিতা সমর্থনের প্রতি সবসময়ই কৃতজ্ঞ। সেই সম্পর্ক স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও প্রবহমান।

জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বহুমাত্রিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ফিরে না আসলে ইতিহাস অন্য রকম হতো। স্বাধীন বাংলাদেশের পথ পরিক্রমা ভিন্ন হতো। স্বাধীনতার স্বাদ অপূর্ণ থাকত। তিনি ফিরে আসার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সুসংহত ও সুদৃঢ় হয়। সবাই শঙ্কা দূর হয় কারণ তখনও শত্রুদের নানা গ্রুপ সক্রিয় ছিল। জাতির পিতার ফিরে আসার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছেও এই বার্তা যায় যে বাংলাÔRecognize Bangladesh Now’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে লেখা হয়- ‘Once Sheikh Mujibur Rahman steps out of Dacca Airport, the new republic becomes a solid fact’।

১০ জানুয়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘গত ৭ মার্চ আমি রেসকোর্সে বলেছিলাম, দুর্গ গড়ে তোলো। আজ আবার বলছি, আপনারা এ কথা বজায় রাখুন। আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ আজ মুক্ত, স্বাধীন। একজন বাঙালি বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেব না। বাংলাদেশ ইতিহাসে স্বাধীন দেশরূপেই বেঁচে থাকবে। বাংলাকে দাবায়ে রাখতে পারে এমন কোন শক্তি নাই।’

১০ জানুয়ারির সেই ভাষণে তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করার সমস্ত দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। জাতির পিতার হাতে কোন লিখিত ভাষণ ছিল না, নিজের মন থেকে, অভিজ্ঞতা, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি সেদিন ভাষণ দেন। ৩৫ মিনিটের সে ভাষণে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশকে নিয়ে তার পরিকল্পনার কথাও বলেছিলেন। পাশাপাশি, বন্ধুপ্রতিম দেশ যারা আমাদের সহযোগিতা করেছে তাদের সবাইর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ এরপর ১০ জানুয়ারির ভাষণ যদি আমরা শুনি এবং নতুন প্রজন্ম যদি শোনে তবে রাজনীতি, দেশপ্রেম, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন নির্দশন ও দিকনিদের্শনা পাওয়া যাবে।

দেশে ফিরেই জাতির পিতা দেশের শাসন ব্যবস্থা ঠিক করেন। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। কারণ জাতির পিতা ১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে ৬ দফা, ১১ দফাভিত্তিক শাসনতন্ত্র রচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্বদেশে ফিরে ১৯৭২ এর ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে ১১ মাসেই নতুন রাষ্ট্রের জন্য সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হন। রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১১ সদস্যের নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। দেশে ফিরেই জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের যাবতীয় কাজ শুরু করেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু বিস্তৃত পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য বঙ্গবন্ধু যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন, এত অল্প সময়েই তিনি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দেন। ১২৭টি দেশ ও আন্তজার্তিক সংস্থা তার সময়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাংলাদেশের অভ্যূদয়কে স্বীকৃতি দিয়ে নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। অর্থনীতিকে তিনি শক্তিশালী করার কর্মকা- শুরু করেছিলেন। দেশের পরিকল্পিত উন্নয়নে তার নির্দেশনায় প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

একটি নতুন দেশকে এগিয়ে নিতে, শক্তভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বপ্রকারের কর্মকা- জাতির পিতা শুরু করে অনেক কাজ সম্পন্ন করে দেশের আর্থসামাজিক মুক্তির পথরেখা সূচনা করেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো আমরা ২৫/৩০ বছর আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতাম। জাতির পিতার রচিত পদাঙ্ক ও দিকনিদের্শনা অনুযায়ীই আজকের বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতাই আমাদের পথপ্রদর্শক।

১০ জানুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে এক আলোকোজ্জ্বল দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিন নানাভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। মহানায়কের প্রত্যাবর্তন স্বাধীনতার ইতিহাসে সম্পূর্ণতার প্রতীক। আজকের দিনে জাতির পিতার স্বদেশে বীরের বেশে প্রত্যাবর্তনের ৫১ বছর পূর্তিতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

[লেখক: প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সহকারী প্রেস সচিব]

বাজেট ২০২৪-২৫: তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যাত্রা শুরু হোক এবার

সীমান্ত সড়ক পশ্চাদপদ পার্বত্য অঞ্চলকে উন্নয়নের স্রোতধারায় একীভূত করেছে

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১: উন্নত ও সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশের মহাকাশ জয়

ছবি

নাটোরের সম্ভাব্য জিআই পণ্য

রিলিফ

মুজিবনগরে স্বাধীনতার সূর্যোদয়

বঙ্গাব্দ প্রচলনের ইতিকথা

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব

কেউতো অপেক্ষায় নেই

ফরগেট মি নট

ছবি

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বীমা শিল্পের গুরুত্ব

একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মপরিচয়ের দিন

দিদি, আপা, “বু” খালা

হিজল-করচ-আড়াংবন

ছবি

শেখ হাসিনা, এক উৎসারিত আলোকধারা

মনমাঝি

সেই ইটনা

ছবি

আংকর ওয়াট : উন্নত সভ্যতার স্মৃতিচিহ্ন যেখানে

নিয়ত ও নিয়তি

হারিয়ে যাওয়া ট্রেন

টম সয়ার না রবিনহুড

ছবি

‘ঝড়-বৃষ্টি আঁধার রাতে, আমরা আছি তোমার সাথে’

বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা স্মারক: স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অনন্য মাইলফলক

রাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের পরিবর্তন আশু প্রয়োজন

কুয়েতের জীবনযাত্রার সাতকাহন: পর্ব-১-বিয়ে

বিবেকের লড়াই

ছবি

ছবি যেন শুধু ছবি নয়

বাত ব্যথার কারণ ও আধুনিক চিকিৎসা

ছবি

স্বাধীন স্বদেশে মুক্ত বঙ্গবন্ধু

ছবি

মেট্রোরেল : প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী চিন্তার ফসল

ছবি

আমার মা

ডিজিটাল বাংলাদেশ: প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি

ছবি

৩ নভেম্বর: ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের ধারাবাহিকতা

দেশের ইতিহাসে কলঙ্কজনক দ্বিতীয় অধ্যায়

এইচ এস সি ও সমমান পরীক্ষার্থীদের অনুশীলন

tab

মুক্ত আলোচনা

মহান নেতার স্বভূমিতে ফিরে আসা

আশরাফ সিদ্দিকী বিটু

সোমবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৩

১০ জানুয়ারি ১৯৭২। বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিন, আনন্দের দিন। প্রিয় নেতার স্বদেশে ফিরে আসার দিন। মহানায়কের মহাপ্রত্যাবর্তনের শুভদিনটি ছিল বাঙালির উচ্ছ্বাস ও উৎসবের দিন। সেদিন ছিল সোমবার। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রিয় স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন। তার এই প্রত্যাবতর্নের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো নতুনভাবে ছড়িয়ে পড়ে স্বাধীন বাংলাদেশে। বাঙালি মহান নেতার স্বদেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পায় স্বাধীনতা। নেতার প্রতীক্ষায় যেন ভাটা পড়েছিল বিজয়ের আনন্দে, কারণ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই মুক্তি সংগ্রাম, স্বাধীনতা অর্জন। তিনি ছাড়া সবই মলিন। বাঙালির মনের মলিনতা দূর হয় জাতির পিতার বাংলাদেশ ফিরে আসার মধ্য দিয়ে।

নতুন দেশ নতুন সম্ভাবনাÑ এই দেশকে তো এগিয়ে নিতে হবে যার নেতৃত্বেই থাকবেন শেখ মুজিব। তিনি না ফেরায় যেন কিছুই এগুচ্ছিল না। পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যায়। তাকে নির্জন কারাগারে একা অন্ধকারে রাখা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের পরিবারকেও ধানমন্ডির একটি বাড়িতে গৃহবন্দী রাখা হয়। বঙ্গবন্ধুর পরিবারও তার অবস্থান জানত না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কোথায় সেই প্রশ্ন ছিল সবার কাছে। দেশ স্বাধীন হলেও তিনি কী দেশে ফিরবেন, কেমন আছেন, কোথায় আছেনÑ এসব নানা প্রশ্ন সবাইকে উদ্বিগ্ন করে রেখেছিল। পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার তাকে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দিতে চেয়েছিল, কবর পর্যন্ত খোঁড়া হয়। কিন্তু তিনি বিচলিত হননি। তিনি জানতেন তার দেশ স্বাধীন হবেই। পাকিস্তানের কারাগারে প্রায় ১৯ কেজি ওজন উনার কমে যায়। তিনি ছিলেন অটল, দৃঢ়। কখনও আপস করেননি।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানের সরকারের ওপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্তি দেয়ার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সহায়তাকারী সরকারপ্রধান, বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থনকারী সবাই নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুর মুক্তির জন্য পাকিস্তানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল। অবশেষে পাকিস্তানের ভুট্টো সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

জাতির পিতা ৮ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে লন্ডন যান, সেখান থেকে দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি দুপুরে বাংলাদেশে ফিরে আসেন তার স্বপ্নের স¦াধীন বাংলাদেশ। সেদিনের বাস্তবতা লিখে বোঝানো মুশকিল। বাঙালির সেদিনের আনন্দ উল্লাসও ছিল মহাসাগরসম। মহানায়কের জন্য অধীর অপেক্ষা। ১০ জানুয়ারির স্মৃতিময় দিনটি প্রত্যক্ষদর্শীরা নানাভাবে উপস্থাপন করেছেন যা সত্যিই অসাধারণ। আজকের পরিবেশে সেই স্মৃতির সৌন্দর্য অনুধাবন করা কঠিন। তবে জাতির পিতার ফিরে আসা যেন সব কিছুর পরির্পূণতার স্বাদ পাওয়া।

জাতির পিতার স্বদেশে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে যেমন মহিমান্বিত করেছেন তেমনি নিজেও আরও সুউচ্চতায় আসীন হন। কারণ তিনি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার পাশাপাশি স্বাধীন দেশকে পরিচালনা করার মহান কর্তাও তিনিই। জাতির পিতার প্রত্যাবর্তন ছিল অপরিহার্য। মুক্ত বাঙালিকে শক্তি জোগানো ও সাহস-ভরসা দিতে জাতির পিতার প্রত্যাবর্তন ছিল অনিবার্য। তার প্রত্যাবর্তন জাতিকে প্রেরণা দিয়েছিল, স্বাধীনতার স্বপ্নসাধ উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়। কারণ একমাত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বেই বাঙালি ছিল ঐক্যবদ্ধ। তিনিই বাঙালি সূর্যসন্তান। তিনিই আবেগ ও উচ্ছ্বাসের প্রাণকেন্দ্র। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। তিনিই একমাত্র ঐক্যের প্রতীক। তিনি ফিরে না আসলে নেতৃত্ব সংকট হতো কারণ বঙ্গবন্ধুর সমতুল্য কেউ ছিল না যে দেশ পরিচালনা করবে। বিশ্ব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিত না। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা বিশ্ব বুঝে যায় পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা জানার মধ্য দিয়ে এবং বঙ্গবন্ধুকে আটক করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে। বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনত শেখ মুজিবের দেশ হিসেবেই কারণ শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেন বঙ্গবন্ধু এবং পশ্চিম পাকিস্তানিদের ২৩ বছরের অত্যাচার নির্যাতনও বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমেই বিশ্ব জেনেছিল। ভারতে যারা শরণার্থী হিসেবে ছিল তারাও বলেছিল বঙ্গবন্ধু ফিরে আসলে তারাও দেশে ফিরে আসবে। জাতির পিতা নিজে ফিরে শরণার্থীদেরও দেশে ফিরিয়ে আনেন এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

১৬ ডিসেম্বর দেশ মুক্ত হলেও ২২ দিন পর ১৯৭২ এর ৮ জানুয়ারি মুক্তি পেয়ে ২৪ দিন পর দেশে ফিরেন। লন্ডনে গিয়ে বঙ্গবন্ধু সরাসরি বলেছেন তিনি এক মুহূর্তও থাকতে রাজি নন। দেশে ফিরতে চান। এমনকি কলকাতার সফরও স্থগিত করে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। বলেছিলেন, কলকাতায় পরে সফর করবেন যা তিনি করেও ছিলেন। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের চিন্তায় স্বাধীন দেশ পরিচালনার রূপরেখা যে ছিল তা বোঝা যায় তার তড়িৎ কর্মকা- থেকেই। দিল্লিতে অল্পসময় থাকাকালে তিনি শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীকে জানান যে তিনি আশা করেন ভারতীয় বাহিনী যেন দ্রুতই ভারতে ফিরে আসে। শ্রীমতী ইন্দির গান্ধীও সে বিষয়ে বঙ্গবন্ধুকে আশ্বস্ত করেন। ১৯৭২ এর ১২ মার্চ ভারতীয় মিত্র বাহিনী ভারতে ফিরে যায়। এ এক অনন্য কূটনৈতিক দূরদর্শিতা ও সহযোগিতার উদাহরণ। বাঙালি জাতি ভারতের সাহায্য সহযোগিতা সমর্থনের প্রতি সবসময়ই কৃতজ্ঞ। সেই সম্পর্ক স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও প্রবহমান।

জাতির পিতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বহুমাত্রিকভাবেই তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি ফিরে না আসলে ইতিহাস অন্য রকম হতো। স্বাধীন বাংলাদেশের পথ পরিক্রমা ভিন্ন হতো। স্বাধীনতার স্বাদ অপূর্ণ থাকত। তিনি ফিরে আসার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা সুসংহত ও সুদৃঢ় হয়। সবাই শঙ্কা দূর হয় কারণ তখনও শত্রুদের নানা গ্রুপ সক্রিয় ছিল। জাতির পিতার ফিরে আসার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছেও এই বার্তা যায় যে বাংলাÔRecognize Bangladesh Now’ শীর্ষক সম্পাদকীয়তে লেখা হয়- ‘Once Sheikh Mujibur Rahman steps out of Dacca Airport, the new republic becomes a solid fact’।

১০ জানুয়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘গত ৭ মার্চ আমি রেসকোর্সে বলেছিলাম, দুর্গ গড়ে তোলো। আজ আবার বলছি, আপনারা এ কথা বজায় রাখুন। আমি বলেছিলাম, বাংলাদেশকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ আজ মুক্ত, স্বাধীন। একজন বাঙালি বেঁচে থাকতেও এই স্বাধীনতা নষ্ট হতে দেব না। বাংলাদেশ ইতিহাসে স্বাধীন দেশরূপেই বেঁচে থাকবে। বাংলাকে দাবায়ে রাখতে পারে এমন কোন শক্তি নাই।’

১০ জানুয়ারির সেই ভাষণে তিনি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনা করার সমস্ত দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। জাতির পিতার হাতে কোন লিখিত ভাষণ ছিল না, নিজের মন থেকে, অভিজ্ঞতা, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের প্রতি আস্থা থেকেই তিনি সেদিন ভাষণ দেন। ৩৫ মিনিটের সে ভাষণে যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশকে নিয়ে তার পরিকল্পনার কথাও বলেছিলেন। পাশাপাশি, বন্ধুপ্রতিম দেশ যারা আমাদের সহযোগিতা করেছে তাদের সবাইর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ এরপর ১০ জানুয়ারির ভাষণ যদি আমরা শুনি এবং নতুন প্রজন্ম যদি শোনে তবে রাজনীতি, দেশপ্রেম, রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন নির্দশন ও দিকনিদের্শনা পাওয়া যাবে।

দেশে ফিরেই জাতির পিতা দেশের শাসন ব্যবস্থা ঠিক করেন। তিনি সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। কারণ জাতির পিতা ১৯৭০-এর নির্বাচনের আগে ৬ দফা, ১১ দফাভিত্তিক শাসনতন্ত্র রচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। স্বদেশে ফিরে ১৯৭২ এর ১১ জানুয়ারি বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে ১১ মাসেই নতুন রাষ্ট্রের জন্য সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হন। রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজে রাষ্ট্রপতির পদ ছেড়ে ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১১ সদস্যের নতুন মন্ত্রিপরিষদ গঠন করেন। দেশে ফিরেই জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের যাবতীয় কাজ শুরু করেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইলে এক বিশাল জনসভায় বঙ্গবন্ধু বিস্তৃত পুনর্বাসন-পুনর্গঠন বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসনের জন্য বঙ্গবন্ধু যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। জাতির পিতা মাত্র সাড়ে ৩ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন, এত অল্প সময়েই তিনি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দেন। ১২৭টি দেশ ও আন্তজার্তিক সংস্থা তার সময়ে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিশ্ব বাংলাদেশের অভ্যূদয়কে স্বীকৃতি দিয়ে নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছিল। অর্থনীতিকে তিনি শক্তিশালী করার কর্মকা- শুরু করেছিলেন। দেশের পরিকল্পিত উন্নয়নে তার নির্দেশনায় প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়।

একটি নতুন দেশকে এগিয়ে নিতে, শক্তভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে সর্বপ্রকারের কর্মকা- জাতির পিতা শুরু করে অনেক কাজ সম্পন্ন করে দেশের আর্থসামাজিক মুক্তির পথরেখা সূচনা করেন। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো আমরা ২৫/৩০ বছর আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতাম। জাতির পিতার রচিত পদাঙ্ক ও দিকনিদের্শনা অনুযায়ীই আজকের বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জাতির পিতাই আমাদের পথপ্রদর্শক।

১০ জানুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে এক আলোকোজ্জ্বল দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিন নানাভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। মহানায়কের প্রত্যাবর্তন স্বাধীনতার ইতিহাসে সম্পূর্ণতার প্রতীক। আজকের দিনে জাতির পিতার স্বদেশে বীরের বেশে প্রত্যাবর্তনের ৫১ বছর পূর্তিতে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

[লেখক: প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সহকারী প্রেস সচিব]

back to top