alt

উপ-সম্পাদকীয়

কিশোর গ্যাং : সমস্যার মূলে যেতে হবে

অরূপরতন চৌধুরী

: শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। বর্তমানে নানাবিধ সামাজিক সমস্যাগুলো আমাদের মধ্যকার সৌহার্দ্য, সম্প্রিতি, ঐক্য এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রধান উপাদানগুলোকে ক্রমেই গ্রাস করছে। সমাজ গাঢ় অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। কার্যত: সমাজের অচলায়তান ও অধঃপতনের ক্রমধারা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত করছে। যদি আমরা এখনই এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারি, বলাই বাহুল্য যে এর খেসারত অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে বেশি দিতে হবে। বলছি, নব্য মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সমস্যা ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে। এই সমস্যা এতটাই গুরুতর যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন! সরকারপ্রধান সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ‘ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে কিশোর গ্যাং মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা প্রশংসার দাবিদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপরতা চালাচ্ছে কিন্তু তারপরেও রোধ করা যাচ্ছে না।

ঢাকার একটি এলাকায় পূর্বে কিশোর গ্যাং লক্ষ্য করা যায়। এখন সেই কিশোর গ্যাং ঢাকায় প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়েছে। সারাদেশে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সংক্রামক রোগের মতো ছড়িয়ে পড়েছে কিশোর গ্যাং যারা মানুষ হত্যাসহ প্রায় সব অপরাধের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে কিশোর অপরাধ ও গ্যাং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মূলত, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই উদীয়মান কিশোররা বেপরোয়া হয়ে পড়ছে।

অতীতে একটা সময়ে সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিবার ও স্থানীয় বয়োজোষ্ঠ ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। তারা কিশোরদের উশৃঙ্খল আচরণে প্রশ্রয় দিতেন না। এখন মুরব্বিদের হারানোর জায়গাটি নিয়েছেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সুবিধাবাদীরা। তারা কিশোরদের ব্যবহার করেন। ‘বড় ভাই’ নামে সমাজে পরিচিত তারা। যারা কিশোর গ্যাংয়ের নামে অপরাধ কার্যক্রম চালায়, চাঁদা তোলা এবং আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কিশোরদের ব্যবহার করে। আবার এই অর্থের একটা অংশ কিশোরদের জন্য ব্যয় করা হয়। এই কিশোর অপরাধীরা পরবর্তীতে হয়ে যায় সন্ত্রাসী। তবে এই সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, আছে বড় ভাইদের ছত্রচ্ছায়া। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তত কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ‘কিশোর গ্যাং’ প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ এসেছে।

যে কোন সমস্যা নিরসনে সেটার মূলে যাওয়াটা জরুরি। এই যে গ্রেপ্তার, মামলা ও অভিযান চালিয়েও কিশোর গ্যাং সংখ্যা কমছে না, বরং নতুন নতুন গ্রুপ তৈরি হচ্ছে। এমনকি গ্রেপ্তারে সহায়তাকারীর ওপর অভিযুক্তরা কর্তৃক হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ উদ্ঘাটন করাটা এখন জরুরি। আমরা সমস্যাকে গুরুত্ব দেই ভালো কথা, কিন্তু সমস্যার গভীরে গিয়ে তা মূলোৎপাটনের উপায় বাতলে দেয়ার সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি। উপরন্তু, কিছু সংবাদ মাধ্যমে কিশোর গ্যাং অভিযুক্তদের ছবি ছাপিয়ে এবং টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাগুলোর ভিডিও দেখানো হচ্ছে। এটা সমাধান কিংবা পরিস্থিতি মোকাবিলার যথাযথ উপায় নয়। এ ধরনের বিষয়গুলো প্রতিরোধে নিতে হবে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। যেমন অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত কর হয়েছে, সেটা বরং গণমাধ্যমে প্রচার করা জরুরি। তাহলে অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, তাদের পরিণতি কী হতে পারে।

যে কোন সামাজিক সমস্যায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে। এখন তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের যুগ। এই সময়ে শিশু-কিশোরার অনলাইনে অনেক কিছু দেখে, যার ভেতর নেতিবাচকতা বেশি এবং তারা সহজেই সংগঠিত হয়। শহরগুলোতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নাই, সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। শরীরচর্”া, খেলাধুলার সঙ্গে সংস্কৃতিচর্”া থাকলে কিশোর-তরুণরা অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে থাকে। আমাদের সেই ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরি। শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। পথশিশু ও অভিভাবকহীনদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এনে সুশিক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সুফল মিলবে। কারণ, ভালো নাগরিক হতে তাদের শিক্ষা ও ভালো পরিবেশ দরকার। এক্ষেত্রে শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিতে পারে।

যারা মাদকদ্রব্য সেবন করে তারা প্রথমে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়, তারপর মাদকদ্রব্য সেবন শুরু করে থাকে। পরবর্তীকালে তারা গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, সিসা, হেরোইন, কোকেনসহ বিভিন্ন মরণ নেশায় আসক্ত হয়। বর্তমানে কিশোর-তরুণরা বন্ধুদের প্ররোচনায় ধুমপান শুরু করে এবং ক্রমান্বয়ে এর একটি বিরাট অংশ মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়ায়। বৈশি^কভাবেও বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, তরুণ বয়সেই বেশির ভাগ তরুণ ছেলে-মেয়ে কৌতূহলবশত বা পারিপাশির্^ক প্ররোচনায় ভয়াবহ মাদক ও ধুমপানের নেশায় জড়িয়ে পড়ে। হয়তো বা তার উপলক্ষ থাকে কোন একটি বিশেষ দিন বা বিশেষ অনুষ্ঠান। হয়তো সে ভাবেÑ আজ শুধু আনন্দ, ফূর্তি করব। কাল থেকে আর তামাক/মাদক খাব না, তওবা করব। আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা অসংখ্য নেতিবাচক নজির তৈরি করেছে। মূলত, মাদক এমনই ক্ষতিকর একটি নেশা যেটা একবার নিলে বারবার নিতে ইচ্ছে করে। কৌতূহলবশত কিংবা প্ররোচনায় যে তরুণটি মাদকের জালে জড়িয়ে পড়ছে তাদের ফেরানো কঠিন।

সন্তান কার সঙ্গে মিশছে তার খোঁজ রাখা অভিভাবকদের অত্যাবশ্যকীয় কাজ সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখা এবং ধর্মীয়, নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা যা পরিবার থেকে একটি শিশুর ভিত্তি গড়ে দিতে সক্ষম। রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেয়া এবং তারুণ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধীকার দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ করা জরুরি। নীতি বাস্তবায়নে তাদের সার্বিক সম্পৃক্ততা ও সুফল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আগামীর বাংলাদেশ এগিয়ে নিতে যোগ্য নেতৃত্বের শঙ্কা যেন না থাকে, সেদিকটাতে আশু সুনজর দেয়া অপরিহার্য। কিশোরদের মধ্যে ‘গ্যাং অপসংস্কৃতি’ দূর করতে হবে। এজন্য শিশু-কিশোরদের মেধা ও সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক মনন বিকাশে পরিবার, সমাজ সরকারি সব পদক্ষেপের সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।

[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)]

বিশ্ব মেডিটেশন দিবস

চাই খেলার মাঠ ও পার্ক

এখন দ্রব্যমূল্য কমবে কীভাবে

ছবি

অনন্য স্থাপত্যশৈলীর এমসি কলেজের ঐতিহ্য সংরক্ষণ

তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে

ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু : আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন জনসচেতনতা

ছবি

রবীন্দ্রনাথ ও গ্রীষ্মের তন্দ্রাচ্ছন্ন স্বপ্ন-দুপুর

ছবি

লোকসভা নির্বাচন : কী হচ্ছে, কী হবে

জমির বায়না দলিল কার্যকর কিংবা বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া

জনসেবায় পেশাদারিত্ব

খাদ্য কেবল নিরাপদ হলেই হবে না, পুষ্টিকরও হতে হবে

উচ্চশিক্ষাতেও আদিবাসীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে

ছবি

যুদ্ধটা এখনো শেষ হয়নি রনো ভাই

টাকার অবমূল্যায়ন কি জরুরি ছিল

পরিবার : বিশ্বের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান

তাপপ্রবাহে ঝুঁকি এড়াতে করণীয়

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি : দীর্ঘমেয়াদে সুফল মিলতে পারে

ছবি

কী আছে ট্রাম্পের ভাগ্যে?

ছবি

বাংলার ‘ভাশুর কথাশিল্পী’ শওকত ওসমান

রাজধানীকে বসবাসযোগ্য করুন

সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়

মুখপাত্রদের তৈরি নয়, ‘তলাপাত্র’দের তৈরি জোট প্রসঙ্গে

চেকের মামলায় সাফাই সাক্ষী বনাম আসামি

ছবি

ডারউইনের খোঁজে নিউইয়র্কের জাদুঘরে

আদিবাসী হত্যার বিচার কোন পথে

কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করুন

রম্যগদ্য : গলায় বেঁধা বড়শি

খেলার চেয়ে ‘ধুলা’ বেশি

জেগে উঠুক সুকুমার বৃত্তি

প্রসঙ্গ : লোকসভা নির্বাচন

ছবি

বারবার পুড়ছে বাংলাদেশের ফুসফুস

শিশুমৃত্যু রোধে দক্ষ মিডওয়াইফদের ভূমিকা

বিসিএস জ্বরে পুড়ছে তারুণ্য

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া পৃথিবী

নমিনির অনুপস্থিতিতে মৃত ব্যক্তির গচ্ছিত টাকা পাবে কে

হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে প্রয়োজন সচেতনতা

tab

উপ-সম্পাদকীয়

কিশোর গ্যাং : সমস্যার মূলে যেতে হবে

অরূপরতন চৌধুরী

শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪

সমাজে মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। বর্তমানে নানাবিধ সামাজিক সমস্যাগুলো আমাদের মধ্যকার সৌহার্দ্য, সম্প্রিতি, ঐক্য এবং পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রধান উপাদানগুলোকে ক্রমেই গ্রাস করছে। সমাজ গাঢ় অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। কার্যত: সমাজের অচলায়তান ও অধঃপতনের ক্রমধারা আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়াবহ পরিণতির দিকে ধাবিত করছে। যদি আমরা এখনই এটা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারি, বলাই বাহুল্য যে এর খেসারত অতীতের যে কোন সময়ের চাইতে বেশি দিতে হবে। বলছি, নব্য মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা সমস্যা ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে। এই সমস্যা এতটাই গুরুতর যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন! সরকারপ্রধান সম্প্রতি মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে ‘ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে কিশোর গ্যাং মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা প্রশংসার দাবিদার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপরতা চালাচ্ছে কিন্তু তারপরেও রোধ করা যাচ্ছে না।

ঢাকার একটি এলাকায় পূর্বে কিশোর গ্যাং লক্ষ্য করা যায়। এখন সেই কিশোর গ্যাং ঢাকায় প্রত্যেক এলাকায় ছড়িয়েছে। সারাদেশে এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সংক্রামক রোগের মতো ছড়িয়ে পড়েছে কিশোর গ্যাং যারা মানুষ হত্যাসহ প্রায় সব অপরাধের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়েছে। তবে বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে কিশোর অপরাধ ও গ্যাং ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মূলত, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই উদীয়মান কিশোররা বেপরোয়া হয়ে পড়ছে।

অতীতে একটা সময়ে সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিবার ও স্থানীয় বয়োজোষ্ঠ ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল। তারা কিশোরদের উশৃঙ্খল আচরণে প্রশ্রয় দিতেন না। এখন মুরব্বিদের হারানোর জায়গাটি নিয়েছেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত সুবিধাবাদীরা। তারা কিশোরদের ব্যবহার করেন। ‘বড় ভাই’ নামে সমাজে পরিচিত তারা। যারা কিশোর গ্যাংয়ের নামে অপরাধ কার্যক্রম চালায়, চাঁদা তোলা এবং আধিপত্য বজায় রাখার জন্য কিশোরদের ব্যবহার করে। আবার এই অর্থের একটা অংশ কিশোরদের জন্য ব্যয় করা হয়। এই কিশোর অপরাধীরা পরবর্তীতে হয়ে যায় সন্ত্রাসী। তবে এই সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, আছে বড় ভাইদের ছত্রচ্ছায়া। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অন্তত কয়েকজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ‘কিশোর গ্যাং’ প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগ এসেছে।

যে কোন সমস্যা নিরসনে সেটার মূলে যাওয়াটা জরুরি। এই যে গ্রেপ্তার, মামলা ও অভিযান চালিয়েও কিশোর গ্যাং সংখ্যা কমছে না, বরং নতুন নতুন গ্রুপ তৈরি হচ্ছে। এমনকি গ্রেপ্তারে সহায়তাকারীর ওপর অভিযুক্তরা কর্তৃক হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর কারণ উদ্ঘাটন করাটা এখন জরুরি। আমরা সমস্যাকে গুরুত্ব দেই ভালো কথা, কিন্তু সমস্যার গভীরে গিয়ে তা মূলোৎপাটনের উপায় বাতলে দেয়ার সংস্কৃতি এখনও গড়ে ওঠেনি। উপরন্তু, কিছু সংবাদ মাধ্যমে কিশোর গ্যাং অভিযুক্তদের ছবি ছাপিয়ে এবং টেলিভিশন চ্যানেলে ঘটনাগুলোর ভিডিও দেখানো হচ্ছে। এটা সমাধান কিংবা পরিস্থিতি মোকাবিলার যথাযথ উপায় নয়। এ ধরনের বিষয়গুলো প্রতিরোধে নিতে হবে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। যেমন অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত কর হয়েছে, সেটা বরং গণমাধ্যমে প্রচার করা জরুরি। তাহলে অপরাধীরা বুঝতে পারবে যে, তাদের পরিণতি কী হতে পারে।

যে কোন সামাজিক সমস্যায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব আছে। এখন তথ্য-প্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের যুগ। এই সময়ে শিশু-কিশোরার অনলাইনে অনেক কিছু দেখে, যার ভেতর নেতিবাচকতা বেশি এবং তারা সহজেই সংগঠিত হয়। শহরগুলোতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ নাই, সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। শরীরচর্”া, খেলাধুলার সঙ্গে সংস্কৃতিচর্”া থাকলে কিশোর-তরুণরা অপরাধ ও মাদক থেকে দূরে থাকে। আমাদের সেই ব্যবস্থা নেয়াটা জরুরি। শিক্ষাব্যবস্থায় এ ধরনের বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। পথশিশু ও অভিভাবকহীনদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় এনে সুশিক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সুফল মিলবে। কারণ, ভালো নাগরিক হতে তাদের শিক্ষা ও ভালো পরিবেশ দরকার। এক্ষেত্রে শিক্ষা, যুব ও ক্রীড়া এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নিতে পারে।

যারা মাদকদ্রব্য সেবন করে তারা প্রথমে ধুমপানে অভ্যস্ত হয়, তারপর মাদকদ্রব্য সেবন শুরু করে থাকে। পরবর্তীকালে তারা গাঁজা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল, সিসা, হেরোইন, কোকেনসহ বিভিন্ন মরণ নেশায় আসক্ত হয়। বর্তমানে কিশোর-তরুণরা বন্ধুদের প্ররোচনায় ধুমপান শুরু করে এবং ক্রমান্বয়ে এর একটি বিরাট অংশ মাদক সেবন ও বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়ায়। বৈশি^কভাবেও বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, তরুণ বয়সেই বেশির ভাগ তরুণ ছেলে-মেয়ে কৌতূহলবশত বা পারিপাশির্^ক প্ররোচনায় ভয়াবহ মাদক ও ধুমপানের নেশায় জড়িয়ে পড়ে। হয়তো বা তার উপলক্ষ থাকে কোন একটি বিশেষ দিন বা বিশেষ অনুষ্ঠান। হয়তো সে ভাবেÑ আজ শুধু আনন্দ, ফূর্তি করব। কাল থেকে আর তামাক/মাদক খাব না, তওবা করব। আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা অসংখ্য নেতিবাচক নজির তৈরি করেছে। মূলত, মাদক এমনই ক্ষতিকর একটি নেশা যেটা একবার নিলে বারবার নিতে ইচ্ছে করে। কৌতূহলবশত কিংবা প্ররোচনায় যে তরুণটি মাদকের জালে জড়িয়ে পড়ছে তাদের ফেরানো কঠিন।

সন্তান কার সঙ্গে মিশছে তার খোঁজ রাখা অভিভাবকদের অত্যাবশ্যকীয় কাজ সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখা এবং ধর্মীয়, নৈতিক শিক্ষা প্রদান করা যা পরিবার থেকে একটি শিশুর ভিত্তি গড়ে দিতে সক্ষম। রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেয়া এবং তারুণ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধীকার দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নীতি নির্ধারণ করা জরুরি। নীতি বাস্তবায়নে তাদের সার্বিক সম্পৃক্ততা ও সুফল নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আগামীর বাংলাদেশ এগিয়ে নিতে যোগ্য নেতৃত্বের শঙ্কা যেন না থাকে, সেদিকটাতে আশু সুনজর দেয়া অপরিহার্য। কিশোরদের মধ্যে ‘গ্যাং অপসংস্কৃতি’ দূর করতে হবে। এজন্য শিশু-কিশোরদের মেধা ও সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক মনন বিকাশে পরিবার, সমাজ সরকারি সব পদক্ষেপের সঙ্গে আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।

[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)]

back to top