ইবিতে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ আমলে নিন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক শিক্ষার্থী ওরিয়েন্টেশনের দিন র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়েছে। র‌্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে বাড়ি চলে গেছে। উক্ত শিক্ষার্থীর অভিভাবক এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারকে প্রাথমিকভাবে ইমেইলের মাধ্যমে জানিয়েছেন। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অনেক শিক্ষার্থীকেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে র‌্যাগিং নামক অপসংস্কৃতির শিকার হতে হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে ইবির দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গেস্ট রুমে র‌্যাগিংয়ের নামে প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে নির্যাতন করা হয়েছিল। সেখানকার ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী এর সঙ্গে জড়িত ছিল। সেই ঘটনায় দেশে অনেক সমালোচনা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে- আবারো বিশ্ববিদ্যালয়টিতে র‌্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিংয়ের অনেক ঘটনাই ঘটে। এর মধ্যে খুব কম ঘটনাই প্রকাশ পায়। যেসব নবীন শিক্ষার্থী এ অপসংস্কৃতির শিকার হন তাদের অনেকেই নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে র‌্যাগিংয়ের অপচর্চা হয় কী করে সেটা একটা প্রশ্ন। কখনো যদি র‌্যাগিংয়ের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় তখন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। কখনো কখনো ব্যবস্থাও নেয়া হয়, তবে র‌্যাগিং অপসংস্কৃতি বন্ধ হয় না।

র‌্যাগিং ?একজন শিক্ষার্থীর জীবনকে নানানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এর শিকার শিক্ষার্থীকে পরবর্তী জীবনে মানসিক সমস্যা মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তাই এটা বন্ধ করা জরুরি।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিংবিরোধী কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) র‌্যাগিং বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছে। এ নির্দেশ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাস্তবে কী ব্যবস্থা নিয়েছে সেটা জানা দরকার।

আমরা চাই, র‌্যাগিং অপসংস্কৃতির অবসান হোক। ইবিতে এক শিক্ষার্থীকে র‌্যাগিংয়ের যে অভিযোগ উঠেছে তা আমলে নিতে হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। র‌্যাগিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি র‌্যাগিংয়ের নামে শিক্ষার্থী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় তাহলে এ অপসংস্কৃতির অবসান হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে- এমনটাই আমরা দেখতে চাই।

সম্প্রতি