alt

মতামত » চিঠিপত্র

দুর্নীতিবাজকে প্রত্যাখ্যান করুন

: সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর কিংবা লুটেরাকে সমাজ যখন বাধা না দেয় তখন সে বেপরোয়া হয়। ক্ষমতা এবং অর্থের লোভ মানুষকে অন্ধ বানালে দুনিয়ার এহেন দুর্নীতি নাই যাতে সে নিজেকে জড়াতে না পারে। তখন সে দখল করে সুখ পায়, অন্যায় করে জনপ্রিয়তা ছড়ায়। মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে, মানুষকে শাসিয়ে কিংবা মানুষের সম্পদ লুন্টন করে মিথ্যার যে বেসাতিতে নিজেকে রাজা বানায় সেখানে ন্যায়ের চিহ্নের লেশমাত্র থাকে না। মানুষের জন্য দরদ কিংবা মানুষের অধিকার বাঁচে না। সে রাষ্ট্রের সম্পদ তছরুপ করে এবং দুর্বলকে পিষে মারে। ক্ষমতার কালে নানাভাবে মানুষকে ত্যক্ত-বিরক্ত করতেও দ্বিধা করে না।

অন্যায়কারী যখন মনে করতে শুরু করে সব তার, সবাই তাকে মানতে বাধ্য কিংবা তার ইচ্ছাতেই সবকিছু ঘটে তখন সে দুনিয়ায় সর্বোচ্চ স্বৈরাচার হিসেবে প্রকাশিত হয়। খুন-জখম, হয়রানি-দখল এসব তার কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় মনে হয়। দুর্নীতিবাজের সা¤্রাজ্য মানুষের বসবাস নাভিশ্বাস হয়ে ওঠে। সমাজস্থরা প্রশ্রয় দিতে দিতে, অন্যায় মানতে মানতে কিংবা চুপ থাকতে থাকতে জনতার ভোটে জয়ী সেবক দানবের রূপ পরিগ্রহ করে।

প্রত্যেক নীতিবান মানুষের উচিত সর্বশক্তি সহযোগে অন্যায়ের প্রতিরোধ করা। অন্যায় বন্ধে শক্তি প্রয়োগ করা। যদি অপরাধ সংঘটনকারী শক্তিমান হয় তবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। বলে ও লিখে ভিন্নমত প্রকাশ করতে হবে। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে হবে।

সমাজে কারা কত দুর্নীতি করে, কাদের অন্যায়ের সাথে দোস্তি কিংবা কোন মহল নিজেদের স্বার্থে রাষ্ট্রের স্বার্থ বিক্রি করে তা স্পষ্ট। তাদের সাথে সাধারণরা শক্তিতে না পারলেও অসাধারণ কৌশলে পারবে। যারা নীতিহীন তারা নৈতিক সাহসে দুর্বল হয়। তাদের মধ্যে ভয় থাকে। হামভরা হাবভাবে তারা নিজেকে আড়াল করতে চায়। তারা সমাজের মোড়ল হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করে। কন্ঠস্বরের তেজ দেখিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতে চায় কিন্তু তারা কুলিয়ে ওঠে না। যখন তারা অবসরে যাবে তখন দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোর বলে ডাকাডাকি করলেও অন্যায়-দুঃশাসনের চর্চা অনেকটা স্তিমিত হবে। যে মানুষকে অধিকার বঞ্চিত করেছে, রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুন্ন করেছে কিংবা নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেনি- তারা পরিত্যাজ্য হোক। অসম্মান তাদের বরাত। চোর চোর বলে যতদিনে তাদেরকে বয়কট করা না যাবে ততদিন এই সমাজ-রাষ্ট্রব্যবস্থা শুধরাবে না। সিস্টেমের মধ্যেও যারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিস্টেম চালু রেখেছে তারা বাংলাদেশের সংস্কার-প্রগতিতে বাধা। সমাজ-সংসারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্তর থেকে দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরকে চিহ্নিত করে তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে- জনগণ তাদেরকে ঘৃণা করে।

অন্যায়-অপদখলের বিরুদ্ধে যতদিনে সামাজিক আন্দোলন বেগবান না হবে ততদিনে কিছুই পাল্টাবে না। আপনি পাল্টানোর আগে আমি না পাল্টালে দুধ দিয়ে রাজার পুকুর ভরার গল্পের মতই রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন পরনির্ভর অবাস্তব থেকে যাবে।

রাজু আহমেদ

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

সুলতানপুরে করতোয়া নদীর তাণ্ডব: নদীভাঙনে মানুষের জীবন বিপন্ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনা বিস্তৃত, অনিয়মের ছায়াও গভীর

গেন্ডারিয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে অনিয়ম: জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

মেধা হারাচ্ছে দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : অযৌক্তিক ফি, সেশনজট ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থী

সামাজিক মাধ্যমের ভুবনে জনতুষ্টিবাদের নতুন রূপ

ভেজাল খেজুরগুড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক ক্যাডারের প্রয়োজনীয়তা

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

খোলা ম্যানহোল: ঢাকার রাজপথে এক নীরব মরণফাঁদ

গণপরিবহন: প্রতিদিনের যন্ত্রণার শেষ কবে?

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনর্জাগরণ

সাইবার বুলিং ও ভার্চুয়াল অপরাধ: তরুণদের অদৃশ্য বিপদ

ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে নগরজীবনের চরম ভোগান্তি

রাবি মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার চাই

চিংড়ি শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব

tab

মতামত » চিঠিপত্র

দুর্নীতিবাজকে প্রত্যাখ্যান করুন

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর কিংবা লুটেরাকে সমাজ যখন বাধা না দেয় তখন সে বেপরোয়া হয়। ক্ষমতা এবং অর্থের লোভ মানুষকে অন্ধ বানালে দুনিয়ার এহেন দুর্নীতি নাই যাতে সে নিজেকে জড়াতে না পারে। তখন সে দখল করে সুখ পায়, অন্যায় করে জনপ্রিয়তা ছড়ায়। মানুষের মাঝে ভীতি ছড়িয়ে, মানুষকে শাসিয়ে কিংবা মানুষের সম্পদ লুন্টন করে মিথ্যার যে বেসাতিতে নিজেকে রাজা বানায় সেখানে ন্যায়ের চিহ্নের লেশমাত্র থাকে না। মানুষের জন্য দরদ কিংবা মানুষের অধিকার বাঁচে না। সে রাষ্ট্রের সম্পদ তছরুপ করে এবং দুর্বলকে পিষে মারে। ক্ষমতার কালে নানাভাবে মানুষকে ত্যক্ত-বিরক্ত করতেও দ্বিধা করে না।

অন্যায়কারী যখন মনে করতে শুরু করে সব তার, সবাই তাকে মানতে বাধ্য কিংবা তার ইচ্ছাতেই সবকিছু ঘটে তখন সে দুনিয়ায় সর্বোচ্চ স্বৈরাচার হিসেবে প্রকাশিত হয়। খুন-জখম, হয়রানি-দখল এসব তার কাছে তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় মনে হয়। দুর্নীতিবাজের সা¤্রাজ্য মানুষের বসবাস নাভিশ্বাস হয়ে ওঠে। সমাজস্থরা প্রশ্রয় দিতে দিতে, অন্যায় মানতে মানতে কিংবা চুপ থাকতে থাকতে জনতার ভোটে জয়ী সেবক দানবের রূপ পরিগ্রহ করে।

প্রত্যেক নীতিবান মানুষের উচিত সর্বশক্তি সহযোগে অন্যায়ের প্রতিরোধ করা। অন্যায় বন্ধে শক্তি প্রয়োগ করা। যদি অপরাধ সংঘটনকারী শক্তিমান হয় তবে প্রতিবাদ জানাতে হবে। বলে ও লিখে ভিন্নমত প্রকাশ করতে হবে। যদি সেটাও সম্ভব না হয় তবে অন্যায়ের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতে হবে।

সমাজে কারা কত দুর্নীতি করে, কাদের অন্যায়ের সাথে দোস্তি কিংবা কোন মহল নিজেদের স্বার্থে রাষ্ট্রের স্বার্থ বিক্রি করে তা স্পষ্ট। তাদের সাথে সাধারণরা শক্তিতে না পারলেও অসাধারণ কৌশলে পারবে। যারা নীতিহীন তারা নৈতিক সাহসে দুর্বল হয়। তাদের মধ্যে ভয় থাকে। হামভরা হাবভাবে তারা নিজেকে আড়াল করতে চায়। তারা সমাজের মোড়ল হিসেবে নিজেদেরকে জাহির করে। কন্ঠস্বরের তেজ দেখিয়ে মানুষকে ভয় দেখাতে চায় কিন্তু তারা কুলিয়ে ওঠে না। যখন তারা অবসরে যাবে তখন দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোর বলে ডাকাডাকি করলেও অন্যায়-দুঃশাসনের চর্চা অনেকটা স্তিমিত হবে। যে মানুষকে অধিকার বঞ্চিত করেছে, রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুন্ন করেছে কিংবা নাগরিক সেবা নিশ্চিত করেনি- তারা পরিত্যাজ্য হোক। অসম্মান তাদের বরাত। চোর চোর বলে যতদিনে তাদেরকে বয়কট করা না যাবে ততদিন এই সমাজ-রাষ্ট্রব্যবস্থা শুধরাবে না। সিস্টেমের মধ্যেও যারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সিস্টেম চালু রেখেছে তারা বাংলাদেশের সংস্কার-প্রগতিতে বাধা। সমাজ-সংসারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্তর থেকে দুর্নীতিবাজ-ঘুষখোরকে চিহ্নিত করে তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে- জনগণ তাদেরকে ঘৃণা করে।

অন্যায়-অপদখলের বিরুদ্ধে যতদিনে সামাজিক আন্দোলন বেগবান না হবে ততদিনে কিছুই পাল্টাবে না। আপনি পাল্টানোর আগে আমি না পাল্টালে দুধ দিয়ে রাজার পুকুর ভরার গল্পের মতই রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন পরনির্ভর অবাস্তব থেকে যাবে।

রাজু আহমেদ

back to top