alt

মতামত » চিঠিপত্র

টেকসই উন্নয়ন ও আদিবাসীদের অধিকার

: সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের আনুমানিক ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা ৫০টি জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী এসব জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

আদিবাসীরা এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভূমি অধিকারের ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আদিবাসীদের শিক্ষার হার মাত্র ৫৪%, যেখানে জাতীয় গড় প্রায় ৭৫%। সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় পাঁচটি আদিবাসী ভাষায় বই চালু করলেও এই উদ্যোগ এখনও কার্যকর হয়নি।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনুকূল নয়। পার্বত্য অঞ্চলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অভাব এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক।

ভূমি অধিকার আদিবাসীদের জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলেও দখলদারিত্ব ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি তাদের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন অনুযায়ী আদিবাসীদের ভূমি, ভাষা এবং সংস্কৃতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাংলাদেশে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনও হয়নি।

টেকসই উন্নয়নের জন্য আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। মাতৃভাষায় শিক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা এবং ভূমি অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থা কেবল আদিবাসীদের জন্য নয়, সমগ্রিক ভাবে জাতির সমৃদ্ধির পথকে ত্বরান্বিত করবে। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।

মালিহা মেহনাজ

শিক্ষার্থী

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

সুলতানপুরে করতোয়া নদীর তাণ্ডব: নদীভাঙনে মানুষের জীবন বিপন্ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনা বিস্তৃত, অনিয়মের ছায়াও গভীর

গেন্ডারিয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে অনিয়ম: জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

মেধা হারাচ্ছে দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : অযৌক্তিক ফি, সেশনজট ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থী

সামাজিক মাধ্যমের ভুবনে জনতুষ্টিবাদের নতুন রূপ

ভেজাল খেজুরগুড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক ক্যাডারের প্রয়োজনীয়তা

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

খোলা ম্যানহোল: ঢাকার রাজপথে এক নীরব মরণফাঁদ

গণপরিবহন: প্রতিদিনের যন্ত্রণার শেষ কবে?

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনর্জাগরণ

সাইবার বুলিং ও ভার্চুয়াল অপরাধ: তরুণদের অদৃশ্য বিপদ

ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে নগরজীবনের চরম ভোগান্তি

রাবি মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার চাই

চিংড়ি শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব

tab

মতামত » চিঠিপত্র

টেকসই উন্নয়ন ও আদিবাসীদের অধিকার

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের আনুমানিক ৩০ লক্ষাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা ৫০টি জাতিগোষ্ঠীতে বিভক্ত। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী এসব জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার সুরক্ষিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

আদিবাসীরা এখনও শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভূমি অধিকারের ক্ষেত্রে মারাত্মক বৈষম্যের শিকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আদিবাসীদের শিক্ষার হার মাত্র ৫৪%, যেখানে জাতীয় গড় প্রায় ৭৫%। সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় পাঁচটি আদিবাসী ভাষায় বই চালু করলেও এই উদ্যোগ এখনও কার্যকর হয়নি।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনুকূল নয়। পার্বত্য অঞ্চলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের অভাব এবং প্রতিকূল ভৌগোলিক অবস্থান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনক।

ভূমি অধিকার আদিবাসীদের জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলেও দখলদারিত্ব ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি তাদের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কনভেনশন অনুযায়ী আদিবাসীদের ভূমি, ভাষা এবং সংস্কৃতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাংলাদেশে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনও হয়নি।

টেকসই উন্নয়নের জন্য আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। মাতৃভাষায় শিক্ষা সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা এবং ভূমি অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ব্যবস্থা কেবল আদিবাসীদের জন্য নয়, সমগ্রিক ভাবে জাতির সমৃদ্ধির পথকে ত্বরান্বিত করবে। তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা একটি সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।

মালিহা মেহনাজ

শিক্ষার্থী

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা

back to top