alt

মতামত » চিঠিপত্র

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

: সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

তামাক শুধুমাত্র ব্যক্তির স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর নয়, এটি পরিবেশ ও অর্থনীতিকেও ধ্বংস করছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে তামাকের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য গ্রহণ করলে আয়ু কমে আসে এবং ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কৃষকরা তামাক চাষের সময় বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। শিশুরাও তামাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিক্ষা ও শৈশব হারাচ্ছে।

পরিবেশের দিক থেকেও তামাক অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রতি বছর কোটি কোটি গাছ কাটা হয় তামাকপাতা শুকানোর জন্য, বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার হয় এবং সিগারেটের ফিল্টার থেকে প্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি হয়। হালদা নদীর মতো জলাশয় তামাক চাষের রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে, যা মাছ ও জীববৈচিত্রকে হুমকির মুখে ফেলে।

তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার আয়ের জন্য রাজস্ব পাচ্ছে, তবে স্বাস্থ্য ও উৎপাদনক্ষেত্রের ক্ষতির পরিমাণ সেই রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, তামাকজনিত ক্ষতি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিবছর ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত অসুস্থতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।

তরুণ ও নিম্নআয়ের মানুষ তামাকে আকৃষ্ট হয়, বিশেষ করে ফ্লেভারযুক্ত ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য দ্বারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তামাককে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ হিসেবে প্রচার করছে। কিশোর বয়সে আসক্ত হয়ে পড়লে পরবর্তীতে ধূমপান থেকে দূরে সরানো কঠিন হয়।

অতএব, এখনই তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। তামাক চাষ বন্ধ করে কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে হবে, যেমন ফল, সবজি, ভেষজ উদ্ভিদ ও রপ্তানিমুখী ফসল। রাজস্ব বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তামাক কর বৃদ্ধির পাশাপাশি প্লেইন প্যাকেজিং এবং তরুণদের সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সিগারেট ফিল্টারকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জনবহুল স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে। তবে আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা এখনো চ্যালেঞ্জ।

তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখাই রাষ্ট্র ও সমাজের মূল দায়িত্ব। আমরা চাই তামাকবিহীন, সক্ষম একটি প্রজন্ম এবং একটি টেকসই বাংলাদেশ। তামাক শিল্পকে ‘না’ বলাই এই লক্ষ্য অর্জনের মূল পদক্ষেপ।

লাবনী আক্তার শিমলা

শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬

তামাক শুধুমাত্র ব্যক্তির স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর নয়, এটি পরিবেশ ও অর্থনীতিকেও ধ্বংস করছে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে তামাকের ব্যবহার মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য গ্রহণ করলে আয়ু কমে আসে এবং ক্যানসার, স্ট্রোক, হৃদরোগ ও ফুসফুসের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। কৃষকরা তামাক চাষের সময় বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসে, যা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। শিশুরাও তামাক শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিক্ষা ও শৈশব হারাচ্ছে।

পরিবেশের দিক থেকেও তামাক অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্রতি বছর কোটি কোটি গাছ কাটা হয় তামাকপাতা শুকানোর জন্য, বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার হয় এবং সিগারেটের ফিল্টার থেকে প্লাস্টিক দূষণ সৃষ্টি হয়। হালদা নদীর মতো জলাশয় তামাক চাষের রাসায়নিক বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে, যা মাছ ও জীববৈচিত্রকে হুমকির মুখে ফেলে।

তামাকজাত পণ্য থেকে সরকার আয়ের জন্য রাজস্ব পাচ্ছে, তবে স্বাস্থ্য ও উৎপাদনক্ষেত্রের ক্ষতির পরিমাণ সেই রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, তামাকজনিত ক্ষতি বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিবছর ১.৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত অসুস্থতা ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়।

তরুণ ও নিম্নআয়ের মানুষ তামাকে আকৃষ্ট হয়, বিশেষ করে ফ্লেভারযুক্ত ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য দ্বারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তামাককে ‘স্টাইল স্টেটমেন্ট’ হিসেবে প্রচার করছে। কিশোর বয়সে আসক্ত হয়ে পড়লে পরবর্তীতে ধূমপান থেকে দূরে সরানো কঠিন হয়।

অতএব, এখনই তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। তামাক চাষ বন্ধ করে কৃষকদের বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে হবে, যেমন ফল, সবজি, ভেষজ উদ্ভিদ ও রপ্তানিমুখী ফসল। রাজস্ব বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য তামাক কর বৃদ্ধির পাশাপাশি প্লেইন প্যাকেজিং এবং তরুণদের সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ সিগারেট ফিল্টারকে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং জনবহুল স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ করেছে। তবে আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা এখনো চ্যালেঞ্জ।

তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখাই রাষ্ট্র ও সমাজের মূল দায়িত্ব। আমরা চাই তামাকবিহীন, সক্ষম একটি প্রজন্ম এবং একটি টেকসই বাংলাদেশ। তামাক শিল্পকে ‘না’ বলাই এই লক্ষ্য অর্জনের মূল পদক্ষেপ।

লাবনী আক্তার শিমলা

শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

back to top