মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবনায় প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ কার্যকর হওয়া বর্তমান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়।
আইনে জনপরিসর (পাবলিক প্লেস)-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে সব জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের প্ল্যাটফর্মে তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট স্থাপনার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহারে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে মুখ্য প্রশ্ন হলো এই ধরনের অধ্যাদেশ জারি করার পরও বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কেন এতটা দায়সারা? বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের সক্ষমতার সিকিভাগও ব্যবহৃত হচ্ছে না। জনপরিসরে তাকালেই দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন। যেখানে প্রশাসনকে বলা হয় রাষ্ট্রের হৃদপিন্ড, সেখানে প্রশাসনের এমন অবস্থায় রাষ্ট্রের সামগ্রিক চিত্র ব্যাখ্যা করা কেবল বাক্যের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।
এখন প্রশ্ন আসে,এই ধরনের আইন বা অধ্যাদেশ জারি করেও কেন কাক্সিক্ষত সুফল আসছে না? অন্যতম কারণ হলো, যথাযথ পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারা। পাশাপাশি সব স্তরের অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে সরকার বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের বহু আইন, নীতিমালা ও অধ্যাদেশ যথাযথ পরিবেশ ছাড়া কেবল ‘কেতাবের গরু’ হয়েই পড়ে আছে গোয়ালে তার কোনো দর্শন নেই।
যথাযথ প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া কেবল অধ্যাদেশ জারি করে যে প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তা কোনো স্থায়ী সুফল আনবে না; বরং নতুন এক বিশৃঙ্খলার জন্ম দেবে।
অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারকে কার্যকর ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত স্মোকিং জোন তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
ই-সিগারেট, ভেপ ও হিটেড টোব্যাকো নিষিদ্ধ ঘোষণার পর এসব পণ্যের উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশু ও কিশোরদের ধূমপান থেকে দূরে রাখতে বড়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। গণমাধ্যমে ধূমপান ও মাদক ব্যবহারের স্বাভাবিকীকরণ রোধেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয়তা জরুরি।
মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণদের জন্য বিকল্প সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সুযোগ তৈরি করতে হবে যাতে তারা ইতিবাচক ও সৃজনশীল পথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে।
তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করতে সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে। কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া এই অধ্যাদেশও হয়তো ২০০২ সালের পলিথিন নিষিদ্ধকরণের মতো আইনী পদক্ষেপ হিসেবে রূপ লাভ করবে।
হযরত হানিয়া
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবনায় প্রণীত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’ কার্যকর হওয়া বর্তমান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে একটি ধারণা দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়, গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি কার্যকর হয়।
আইনে জনপরিসর (পাবলিক প্লেস)-এর সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে সব জনসমাগমস্থল ও গণপরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব ধরনের প্ল্যাটফর্মে তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট স্থাপনার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। ই-সিগারেট ও উদীয়মান তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহারে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদন্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
তবে মুখ্য প্রশ্ন হলো এই ধরনের অধ্যাদেশ জারি করার পরও বাস্তবায়নে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কেন এতটা দায়সারা? বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের সক্ষমতার সিকিভাগও ব্যবহৃত হচ্ছে না। জনপরিসরে তাকালেই দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও প্রকাশ্যে ধূমপান করছেন। যেখানে প্রশাসনকে বলা হয় রাষ্ট্রের হৃদপিন্ড, সেখানে প্রশাসনের এমন অবস্থায় রাষ্ট্রের সামগ্রিক চিত্র ব্যাখ্যা করা কেবল বাক্যের অপচয় ছাড়া কিছুই নয়।
এখন প্রশ্ন আসে,এই ধরনের আইন বা অধ্যাদেশ জারি করেও কেন কাক্সিক্ষত সুফল আসছে না? অন্যতম কারণ হলো, যথাযথ পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারা। পাশাপাশি সব স্তরের অংশীজনকে সম্পৃক্ত করতে সরকার বরাবরই ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের বহু আইন, নীতিমালা ও অধ্যাদেশ যথাযথ পরিবেশ ছাড়া কেবল ‘কেতাবের গরু’ হয়েই পড়ে আছে গোয়ালে তার কোনো দর্শন নেই।
যথাযথ প্রস্তুতি ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া কেবল অধ্যাদেশ জারি করে যে প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে, তা কোনো স্থায়ী সুফল আনবে না; বরং নতুন এক বিশৃঙ্খলার জন্ম দেবে।
অধ্যাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকারকে কার্যকর ও বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রথমত, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত স্মোকিং জোন তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে।
ই-সিগারেট, ভেপ ও হিটেড টোব্যাকো নিষিদ্ধ ঘোষণার পর এসব পণ্যের উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি শিশু ও কিশোরদের ধূমপান থেকে দূরে রাখতে বড়দের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। গণমাধ্যমে ধূমপান ও মাদক ব্যবহারের স্বাভাবিকীকরণ রোধেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয়তা জরুরি।
মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তরুণদের জন্য বিকল্প সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সুযোগ তৈরি করতে হবে যাতে তারা ইতিবাচক ও সৃজনশীল পথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারে।
তরুণ প্রজন্মকে ধূমপান ও মাদকাসক্তি থেকে রক্ষা করতে সমাজ, রাষ্ট্র, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে কাজ করতে হবে। কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়া এই অধ্যাদেশও হয়তো ২০০২ সালের পলিথিন নিষিদ্ধকরণের মতো আইনী পদক্ষেপ হিসেবে রূপ লাভ করবে।
হযরত হানিয়া
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়