মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বলা হয়, সভ্যতা নির্মিত হয় শ্রমিকের ঘামের ফোঁটায়। একটি দেশের অর্থনীতির ভিত শ্রমিকের পিঠে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষটিই একজন শ্রমিক। মানুষ হিসেবে ন্যূনতম অধিকার ভোগের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত। কর্মক্ষেত্রে নেই স্থায়িত্ব, নেই নিরাপত্তা; আছে শুধু অতিরিক্ত শ্রমের চাপ ও অধীনস্তদের প্রতি খারাপ আচরণের অভিযোগ।
প্রায়ই শোনা যায়, শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পান না, ওভারটাইমের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয় না এবং অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। দেশে সরকারি-বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ সরকার নির্ধারিত মজুরির চেয়েও কম বেতন পান। ফলে তাদের জীবনমানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। এমনকি সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরিও একটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি আইন অনুযায়ী একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই টাকায় কি একটি পরিবার চালানো সম্ভব? সন্তানদের পর্যাপ্ত খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও বস্ত্র নিশ্চিত করে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা কি আদৌ সম্ভব? বাস্তবতা হলো এই সীমিত আয়ের কারণে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ওভারটাইম করেন, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বেছে নেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শহরের উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণের সময় শ্রমিকের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার সংবাদ প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতা এবং মালিকপক্ষের প্রভাবশালী ভূমিকা, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে ‘শ্রম আইন ২০০৬’ এবং সংশোধিত ‘২০১৮’ বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ শ্রমিকই জানেন না তাদের অধিকার কী। এই অজ্ঞতাকেই কাজে লাগায় মালিকপক্ষের অসাধু অংশ। শ্রম অধিদপ্তরের তদারকি সীমিত, আর অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ এতটাই প্রভাবশালী যে শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্ব পায় না। যদিও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, তবুও শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়ন এখনো দুর্বল রয়ে গেছে।
কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্যও একটি বড় সমস্যা। শ্রমিকেরা যখন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আওয়াজ তোলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে বেতন আটকে রাখা, কর্মপরিবেশকে অসহনীয় করে তোলা কিংবা চাকরিচ্যুত করার মতো অভিযোগ শোনা যায়। এসব কারণে একজন শ্রমজীবী মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে না।
শ্রমজীবী মানুষ যদি দিনের পর দিন এভাবেই তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকেন, তবে একটি জাতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এই অবিচার আমাদের আশপাশেই প্রতিনিয়ত ঘটছে। এখনই সময় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সরকারকে তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
মুস্তাকিম রশিদ রাফিদ
শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
বলা হয়, সভ্যতা নির্মিত হয় শ্রমিকের ঘামের ফোঁটায়। একটি দেশের অর্থনীতির ভিত শ্রমিকের পিঠে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষটিই একজন শ্রমিক। মানুষ হিসেবে ন্যূনতম অধিকার ভোগের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত। কর্মক্ষেত্রে নেই স্থায়িত্ব, নেই নিরাপত্তা; আছে শুধু অতিরিক্ত শ্রমের চাপ ও অধীনস্তদের প্রতি খারাপ আচরণের অভিযোগ।
প্রায়ই শোনা যায়, শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পান না, ওভারটাইমের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয় না এবং অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। দেশে সরকারি-বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ সরকার নির্ধারিত মজুরির চেয়েও কম বেতন পান। ফলে তাদের জীবনমানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। এমনকি সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরিও একটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি আইন অনুযায়ী একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই টাকায় কি একটি পরিবার চালানো সম্ভব? সন্তানদের পর্যাপ্ত খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও বস্ত্র নিশ্চিত করে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা কি আদৌ সম্ভব? বাস্তবতা হলো এই সীমিত আয়ের কারণে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ওভারটাইম করেন, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বেছে নেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শহরের উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণের সময় শ্রমিকের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার সংবাদ প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতা এবং মালিকপক্ষের প্রভাবশালী ভূমিকা, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে ‘শ্রম আইন ২০০৬’ এবং সংশোধিত ‘২০১৮’ বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ শ্রমিকই জানেন না তাদের অধিকার কী। এই অজ্ঞতাকেই কাজে লাগায় মালিকপক্ষের অসাধু অংশ। শ্রম অধিদপ্তরের তদারকি সীমিত, আর অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ এতটাই প্রভাবশালী যে শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্ব পায় না। যদিও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, তবুও শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়ন এখনো দুর্বল রয়ে গেছে।
কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্যও একটি বড় সমস্যা। শ্রমিকেরা যখন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আওয়াজ তোলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে বেতন আটকে রাখা, কর্মপরিবেশকে অসহনীয় করে তোলা কিংবা চাকরিচ্যুত করার মতো অভিযোগ শোনা যায়। এসব কারণে একজন শ্রমজীবী মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে না।
শ্রমজীবী মানুষ যদি দিনের পর দিন এভাবেই তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকেন, তবে একটি জাতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এই অবিচার আমাদের আশপাশেই প্রতিনিয়ত ঘটছে। এখনই সময় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সরকারকে তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
মুস্তাকিম রশিদ রাফিদ
শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়