alt

মতামত » চিঠিপত্র

উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমিকের বেদনা

: শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বলা হয়, সভ্যতা নির্মিত হয় শ্রমিকের ঘামের ফোঁটায়। একটি দেশের অর্থনীতির ভিত শ্রমিকের পিঠে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষটিই একজন শ্রমিক। মানুষ হিসেবে ন্যূনতম অধিকার ভোগের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত। কর্মক্ষেত্রে নেই স্থায়িত্ব, নেই নিরাপত্তা; আছে শুধু অতিরিক্ত শ্রমের চাপ ও অধীনস্তদের প্রতি খারাপ আচরণের অভিযোগ।

প্রায়ই শোনা যায়, শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পান না, ওভারটাইমের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয় না এবং অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। দেশে সরকারি-বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ সরকার নির্ধারিত মজুরির চেয়েও কম বেতন পান। ফলে তাদের জীবনমানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। এমনকি সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরিও একটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি আইন অনুযায়ী একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই টাকায় কি একটি পরিবার চালানো সম্ভব? সন্তানদের পর্যাপ্ত খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও বস্ত্র নিশ্চিত করে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা কি আদৌ সম্ভব? বাস্তবতা হলো এই সীমিত আয়ের কারণে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ওভারটাইম করেন, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বেছে নেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শহরের উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণের সময় শ্রমিকের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার সংবাদ প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতা এবং মালিকপক্ষের প্রভাবশালী ভূমিকা, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে ‘শ্রম আইন ২০০৬’ এবং সংশোধিত ‘২০১৮’ বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ শ্রমিকই জানেন না তাদের অধিকার কী। এই অজ্ঞতাকেই কাজে লাগায় মালিকপক্ষের অসাধু অংশ। শ্রম অধিদপ্তরের তদারকি সীমিত, আর অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ এতটাই প্রভাবশালী যে শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্ব পায় না। যদিও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, তবুও শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়ন এখনো দুর্বল রয়ে গেছে।

কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্যও একটি বড় সমস্যা। শ্রমিকেরা যখন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আওয়াজ তোলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে বেতন আটকে রাখা, কর্মপরিবেশকে অসহনীয় করে তোলা কিংবা চাকরিচ্যুত করার মতো অভিযোগ শোনা যায়। এসব কারণে একজন শ্রমজীবী মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে না।

শ্রমজীবী মানুষ যদি দিনের পর দিন এভাবেই তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকেন, তবে একটি জাতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এই অবিচার আমাদের আশপাশেই প্রতিনিয়ত ঘটছে। এখনই সময় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সরকারকে তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

মুস্তাকিম রশিদ রাফিদ

শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

চাকরির বিজ্ঞাপন আছে, চাকরি নেই

ফুটপাথের উন্মুক্ত টয়লেট: নগর জীবনের অস্বস্তি

ধূমপান সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ কি আলোর মুখ দেখবে?

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সংকট

ক্যাম্পাস বাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য: শিক্ষার্থীদের নিত্য বিড়ম্বনা

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

স্কুলে নির্যাতন: আদর্শের আড়ালে বাস্তবতা

টেলিটকে ওয়াইফাই কলিং: সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সম্ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

ইজি বাইক থেকে খাবারের থালা: সিসার ছায়া আমাদের চারপাশে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

সুলতানপুরে করতোয়া নদীর তাণ্ডব: নদীভাঙনে মানুষের জীবন বিপন্ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনা বিস্তৃত, অনিয়মের ছায়াও গভীর

গেন্ডারিয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে অনিয়ম: জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

মেধা হারাচ্ছে দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : অযৌক্তিক ফি, সেশনজট ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থী

সামাজিক মাধ্যমের ভুবনে জনতুষ্টিবাদের নতুন রূপ

tab

মতামত » চিঠিপত্র

উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমিকের বেদনা

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬

বলা হয়, সভ্যতা নির্মিত হয় শ্রমিকের ঘামের ফোঁটায়। একটি দেশের অর্থনীতির ভিত শ্রমিকের পিঠে ভর করেই দাঁড়িয়ে থাকে। অথচ দুঃখজনক বাস্তবতা হলো সমাজের সবচেয়ে অবহেলিত মানুষটিই একজন শ্রমিক। মানুষ হিসেবে ন্যূনতম অধিকার ভোগের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত। কর্মক্ষেত্রে নেই স্থায়িত্ব, নেই নিরাপত্তা; আছে শুধু অতিরিক্ত শ্রমের চাপ ও অধীনস্তদের প্রতি খারাপ আচরণের অভিযোগ।

প্রায়ই শোনা যায়, শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পান না, ওভারটাইমের ন্যায্য মূল্য দেওয়া হয় না এবং অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন। দেশে সরকারি-বেসরকারি শিল্প-কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ সরকার নির্ধারিত মজুরির চেয়েও কম বেতন পান। ফলে তাদের জীবনমানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। এমনকি সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরিও একটি শ্রমজীবী পরিবারের জন্য যথেষ্ট নয়।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সরকারি আইন অনুযায়ী একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু এই টাকায় কি একটি পরিবার চালানো সম্ভব? সন্তানদের পর্যাপ্ত খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও বস্ত্র নিশ্চিত করে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা কি আদৌ সম্ভব? বাস্তবতা হলো এই সীমিত আয়ের কারণে শ্রমিকরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ওভারটাইম করেন, অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বেছে নেন, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

নির্মাণাধীন ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শহরের উঁচু উঁচু ভবন নির্মাণের সময় শ্রমিকের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার সংবাদ প্রায়ই সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। এসব ঘটনার পেছনে রয়েছে শ্রম আইন বাস্তবায়নের দুর্বলতা এবং মালিকপক্ষের প্রভাবশালী ভূমিকা, যা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে ‘শ্রম আইন ২০০৬’ এবং সংশোধিত ‘২০১৮’ বিদ্যমান থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ শ্রমিকই জানেন না তাদের অধিকার কী। এই অজ্ঞতাকেই কাজে লাগায় মালিকপক্ষের অসাধু অংশ। শ্রম অধিদপ্তরের তদারকি সীমিত, আর অনেক ক্ষেত্রে মালিকপক্ষ এতটাই প্রভাবশালী যে শ্রমিকদের অভিযোগ গুরুত্ব পায় না। যদিও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে, তবুও শ্রমিকের অধিকার বাস্তবায়ন এখনো দুর্বল রয়ে গেছে।

কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষ বৈষম্যও একটি বড় সমস্যা। শ্রমিকেরা যখন তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আওয়াজ তোলেন, তখন অনেক ক্ষেত্রে বেতন আটকে রাখা, কর্মপরিবেশকে অসহনীয় করে তোলা কিংবা চাকরিচ্যুত করার মতো অভিযোগ শোনা যায়। এসব কারণে একজন শ্রমজীবী মানুষের জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে না।

শ্রমজীবী মানুষ যদি দিনের পর দিন এভাবেই তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে থাকেন, তবে একটি জাতির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এই অবিচার আমাদের আশপাশেই প্রতিনিয়ত ঘটছে। এখনই সময় এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সরকারকে তার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে জবাবদিহির আওতায় আনা।

মুস্তাকিম রশিদ রাফিদ

শিক্ষার্থী, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

back to top