মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
দেশে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। খুন, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঘটনা বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘনিষ্ঠতায় রাজনৈতিক সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রার্থী ও সমর্থকরাও উদ্বিগ্ন, প্রশাসনও সতর্ক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকান্ডে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বেশি জড়িত হলে মাঠ পর্যায়ে শূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং অপরাধীরা সেই সুযোগে অপরাধের মাত্রা বাড়াতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যাঁদের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তাদের অস্ত্র জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ ও ‘চূড়ান্ত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের’ জন্য নতুন লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৫-১৬ জন রাজনীতিবিদ এবং ২০ জনের বেশি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্স বা গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২৩০-এর বেশি ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এদের মধ্যে ৮০-এর বেশি নিহত হয়েছেন। এতে রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ও পরে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির যথাযথ উদ্ধার না হওয়া। এছাড়া সীমান্তপথে প্রতিনিয়ত অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত থেকে ২৬টি শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণে চারজন আহত হওয়া উল্লেখযোগ্য।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে এখন থেকেই তৎপর হতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা অপরিহার্য। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কৌশলগত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মুহিবুল হাসান রাফি
চট্টগ্রাম
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
দেশে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। খুন, সন্ত্রাস, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের ঘটনা বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়াচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘনিষ্ঠতায় রাজনৈতিক সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনাও বেড়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রার্থী ও সমর্থকরাও উদ্বিগ্ন, প্রশাসনও সতর্ক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন সংক্রান্ত কর্মকান্ডে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা বেশি জড়িত হলে মাঠ পর্যায়ে শূন্যতা তৈরি হতে পারে এবং অপরাধীরা সেই সুযোগে অপরাধের মাত্রা বাড়াতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যাঁদের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, তাদের অস্ত্র জমা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব’ ও ‘চূড়ান্ত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের’ জন্য নতুন লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১৫-১৬ জন রাজনীতিবিদ এবং ২০ জনের বেশি উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা অস্ত্রের লাইসেন্স বা গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে বিস্তারিত নির্দেশনা জারি করা হবে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ২৩০-এর বেশি ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এদের মধ্যে ৮০-এর বেশি নিহত হয়েছেন। এতে রাজনৈতিক নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হলো গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ও পরে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির যথাযথ উদ্ধার না হওয়া। এছাড়া সীমান্তপথে প্রতিনিয়ত অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক প্রবেশ করছে। সাম্প্রতিক উদাহরণ হিসেবে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্ত থেকে ২৬টি শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মাদরাসায় বিস্ফোরণে চারজন আহত হওয়া উল্লেখযোগ্য।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে এখন থেকেই তৎপর হতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা এবং সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা অপরিহার্য। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কৌশলগত ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মুহিবুল হাসান রাফি
চট্টগ্রাম