মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় হামলার প্রাথমিক কারণ হিসেবে মাদুরো সরকারকে একটি ‘নারকো-স্টেট’ বা মাদক-রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছে । মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে যে, নিকোলাস মাদুরো ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামক একটি মাদকচক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার করে মার্কিন জনপদকে বিষাক্ত করা ।
মাদক বিরোধী অভিযানের কথা প্রকাশ্যে বলা হলেও, বিশ্লেষক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একমত যে এই হামলার মূল চালিকাশক্তি ছিল ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ । ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল । ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি জানিয়েছে যে, তারা ভেনেজুয়েলার এই সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে চায় এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করবে ।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ফলে নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে । গত এক দশকে দেশ ছেড়েছে প্রায় ৭.৭ মিলিয়ন মানুষ, যাদের একটি বড় অংশ কলম্বিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে । বর্তমানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন । ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকটও চরমে । এদিকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সাময়িকভাবে ‘পরিচালনা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে । অনেকে একে তেল সম্পদের লোভে অনির্দিষ্টকালের দখলদারিত্ব হিসেবে দেখছেন । ট্রাম্প সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়ার দাবি করলেও, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করা এবং তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ।
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প সরকারের এই হামলার কারণগুলো কেবল কোনো একটি বিন্দুতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বহুমুখী স্বার্থের এক সমন্বয় । মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল একটি অজুহাতমাত্র, তেলের নিয়ন্ত্রণ এবং চীন-রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করা ছিল প্রধান ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য । এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বকে এই বার্তাই দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আধিপত্য বজায় রাখতে এবং নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে যেকোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম ভাঙতে দ্বিধা করবে না। অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের আন্তরিকতার ওপর । তবে এটি নিশ্চিত যে, কারাকাসের এই হামলা একবিংশ শতাব্দীর শক্তি-রাজনীতির সংজ্ঞাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে ।
সাইদুর রহমান
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
রোববার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় হামলার প্রাথমিক কারণ হিসেবে মাদুরো সরকারকে একটি ‘নারকো-স্টেট’ বা মাদক-রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছে । মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে যে, নিকোলাস মাদুরো ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামক একটি মাদকচক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার করে মার্কিন জনপদকে বিষাক্ত করা ।
মাদক বিরোধী অভিযানের কথা প্রকাশ্যে বলা হলেও, বিশ্লেষক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একমত যে এই হামলার মূল চালিকাশক্তি ছিল ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ । ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল । ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি জানিয়েছে যে, তারা ভেনেজুয়েলার এই সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে চায় এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করবে ।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ফলে নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে । গত এক দশকে দেশ ছেড়েছে প্রায় ৭.৭ মিলিয়ন মানুষ, যাদের একটি বড় অংশ কলম্বিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে । বর্তমানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন । ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকটও চরমে । এদিকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সাময়িকভাবে ‘পরিচালনা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে । অনেকে একে তেল সম্পদের লোভে অনির্দিষ্টকালের দখলদারিত্ব হিসেবে দেখছেন । ট্রাম্প সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়ার দাবি করলেও, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করা এবং তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ।
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প সরকারের এই হামলার কারণগুলো কেবল কোনো একটি বিন্দুতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বহুমুখী স্বার্থের এক সমন্বয় । মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল একটি অজুহাতমাত্র, তেলের নিয়ন্ত্রণ এবং চীন-রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করা ছিল প্রধান ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য । এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বকে এই বার্তাই দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আধিপত্য বজায় রাখতে এবং নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে যেকোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম ভাঙতে দ্বিধা করবে না। অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের আন্তরিকতার ওপর । তবে এটি নিশ্চিত যে, কারাকাসের এই হামলা একবিংশ শতাব্দীর শক্তি-রাজনীতির সংজ্ঞাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে ।
সাইদুর রহমান
শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।