alt

মতামত » চিঠিপত্র

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

: রোববার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় হামলার প্রাথমিক কারণ হিসেবে মাদুরো সরকারকে একটি ‘নারকো-স্টেট’ বা মাদক-রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছে । মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে যে, নিকোলাস মাদুরো ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামক একটি মাদকচক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার করে মার্কিন জনপদকে বিষাক্ত করা ।

মাদক বিরোধী অভিযানের কথা প্রকাশ্যে বলা হলেও, বিশ্লেষক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একমত যে এই হামলার মূল চালিকাশক্তি ছিল ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ । ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল । ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি জানিয়েছে যে, তারা ভেনেজুয়েলার এই সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে চায় এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করবে ।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ফলে নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে । গত এক দশকে দেশ ছেড়েছে প্রায় ৭.৭ মিলিয়ন মানুষ, যাদের একটি বড় অংশ কলম্বিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে । বর্তমানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন । ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকটও চরমে । এদিকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সাময়িকভাবে ‘পরিচালনা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে । অনেকে একে তেল সম্পদের লোভে অনির্দিষ্টকালের দখলদারিত্ব হিসেবে দেখছেন । ট্রাম্প সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়ার দাবি করলেও, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করা এবং তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ।

ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প সরকারের এই হামলার কারণগুলো কেবল কোনো একটি বিন্দুতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বহুমুখী স্বার্থের এক সমন্বয় । মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল একটি অজুহাতমাত্র, তেলের নিয়ন্ত্রণ এবং চীন-রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করা ছিল প্রধান ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য । এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বকে এই বার্তাই দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আধিপত্য বজায় রাখতে এবং নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে যেকোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম ভাঙতে দ্বিধা করবে না। অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের আন্তরিকতার ওপর । তবে এটি নিশ্চিত যে, কারাকাসের এই হামলা একবিংশ শতাব্দীর শক্তি-রাজনীতির সংজ্ঞাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে ।

সাইদুর রহমান

শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট

শীতের তীব্রতায় মানবিকতার আলো জ্বালাই

আইনশৃঙ্খলার অবনতি: কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

চাকরির বিজ্ঞাপন আছে, চাকরি নেই

উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমিকের বেদনা

ফুটপাথের উন্মুক্ত টয়লেট: নগর জীবনের অস্বস্তি

ধূমপান সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ কি আলোর মুখ দেখবে?

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সংকট

ক্যাম্পাস বাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য: শিক্ষার্থীদের নিত্য বিড়ম্বনা

তামাক: রাজস্বের মোহে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি

স্কুলে নির্যাতন: আদর্শের আড়ালে বাস্তবতা

টেলিটকে ওয়াইফাই কলিং: সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সম্ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

ইজি বাইক থেকে খাবারের থালা: সিসার ছায়া আমাদের চারপাশে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

সুলতানপুরে করতোয়া নদীর তাণ্ডব: নদীভাঙনে মানুষের জীবন বিপন্ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনা বিস্তৃত, অনিয়মের ছায়াও গভীর

গেন্ডারিয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে অনিয়ম: জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

tab

মতামত » চিঠিপত্র

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

রোববার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় হামলার প্রাথমিক কারণ হিসেবে মাদুরো সরকারকে একটি ‘নারকো-স্টেট’ বা মাদক-রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছে । মার্কিন বিচার বিভাগ অভিযোগ করেছে যে, নিকোলাস মাদুরো ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামক একটি মাদকচক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার করে মার্কিন জনপদকে বিষাক্ত করা ।

মাদক বিরোধী অভিযানের কথা প্রকাশ্যে বলা হলেও, বিশ্লেষক এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা একমত যে এই হামলার মূল চালিকাশক্তি ছিল ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদ । ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুদ রয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল । ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি জানিয়েছে যে, তারা ভেনেজুয়েলার এই সম্পদ পুনরুদ্ধার করতে চায় এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে বিনিয়োগ করে উৎপাদন শুরু করবে ।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ফলে নতুন করে শরণার্থী সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে । গত এক দশকে দেশ ছেড়েছে প্রায় ৭.৭ মিলিয়ন মানুষ, যাদের একটি বড় অংশ কলম্বিয়ায় আশ্রয় নিয়েছে । বর্তমানে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই পদক্ষেপকে ‘আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন । ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকটও চরমে । এদিকে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা সাময়িকভাবে ‘পরিচালনা’ করার ঘোষণা দিয়েছেন, যা মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যেই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে । অনেকে একে তেল সম্পদের লোভে অনির্দিষ্টকালের দখলদারিত্ব হিসেবে দেখছেন । ট্রাম্প সাধারণ মানুষের সমর্থন পাওয়ার দাবি করলেও, সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করা এবং তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া তাঁর গ্রহণযোগ্যতাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে ।

ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্প সরকারের এই হামলার কারণগুলো কেবল কোনো একটি বিন্দুতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বহুমুখী স্বার্থের এক সমন্বয় । মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল একটি অজুহাতমাত্র, তেলের নিয়ন্ত্রণ এবং চীন-রাশিয়ার প্রভাব খর্ব করা ছিল প্রধান ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য । এই অভিযানের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বকে এই বার্তাই দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার আধিপত্য বজায় রাখতে এবং নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এজেন্ডা বাস্তবায়নে যেকোনো আন্তর্জাতিক নিয়ম ভাঙতে দ্বিধা করবে না। অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে আগামী দিনে দেশটিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের আন্তরিকতার ওপর । তবে এটি নিশ্চিত যে, কারাকাসের এই হামলা একবিংশ শতাব্দীর শক্তি-রাজনীতির সংজ্ঞাকে চিরতরে বদলে দিয়েছে ।

সাইদুর রহমান

শিক্ষার্থী, আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদ, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ।

back to top