alt

মতামত » চিঠিপত্র

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

: সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার হাওরাঞ্চলে অবাধে বক পাখি শিকার একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বক পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট জলজ প্রাণী খেয়ে কৃষি ও জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু জলাভূমি দখল, দূষণ এবং অবাধ শিকার এই পাখির সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে।

বেশীরভাগ শিকারী ধলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাতের বেলা, প্রায় দুই থেকে তিনটার সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে হাওরে শিকার চালায়। বিশেষ করে গজারিয়া, রতনপুর, আজমপুর, পাইনঝাওড়া, হুলিয়ার বিল, মাখরান বিল, মরাচড়া, চিলমারী ও নাওটানা এলাকায় শিকার বেশি দেখা যায়। কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ভোরবেলায় ধানের জমিতে ফাঁদ পেতে বক শিকার করা হয়। ফাঁদ তৈরি করা হয় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ত্রিভুজাকারে, যা কলাপাতা ও ছাউ বা বেত পাতায় ঢেকে দেওয়া হয়। শিকারীরা সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে, পোষা বক পাখির ডাক ব্যবহার করে অন্য বক পাখিকে ফাঁদে ধরে খাঁচায় বন্দি করে। পরে এই পাখিগুলো বিক্রি করা হয়। শখের জন্য শুরু হলেও বর্তমানে অনেকেই এটি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

বেশিরভাগ মানুষ বকের মাংস খেলে স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায় এমন ভ্রান্ত ধারণা ধারণ করে, তাই অগ্রিম টাকা দিয়ে পাখি কিনে নেওয়া হয়। এভাবে প্রকৃতির বিভিন্ন প্রজাতির বক ধীরে ধীরে কমছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বক পাখি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী কোনো বন্য বা পরিযায়ী পাখি হত্যা, শিকার, বিক্রি বা রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শাস্তি অনুযায়ী একটি পাখি হত্যা করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, বা উভয়ই হতে পারে। অপরাধ পুনরায় হলে শাস্তি দ্বিগুণ হয়। মাংস, পাখির অংশ বা ট্রফি সংগ্রহ বা বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদ- বা ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে।

আইন কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। অবিলম্বে হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করা এবং শিকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে, যাতে মানুষ শিকারি নয়, সংরক্ষকের ভূমিকায় দাঁড়ায়। প্রকৃতি রক্ষা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা।

শরীফুল ইসলাম

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার হাওরাঞ্চলে অবাধে বক পাখি শিকার একটি মারাত্মক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বক পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট জলজ প্রাণী খেয়ে কৃষি ও জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু জলাভূমি দখল, দূষণ এবং অবাধ শিকার এই পাখির সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে দিচ্ছে।

বেশীরভাগ শিকারী ধলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। তারা রাতের বেলা, প্রায় দুই থেকে তিনটার সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে হাওরে শিকার চালায়। বিশেষ করে গজারিয়া, রতনপুর, আজমপুর, পাইনঝাওড়া, হুলিয়ার বিল, মাখরান বিল, মরাচড়া, চিলমারী ও নাওটানা এলাকায় শিকার বেশি দেখা যায়। কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত ভোরবেলায় ধানের জমিতে ফাঁদ পেতে বক শিকার করা হয়। ফাঁদ তৈরি করা হয় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ত্রিভুজাকারে, যা কলাপাতা ও ছাউ বা বেত পাতায় ঢেকে দেওয়া হয়। শিকারীরা সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে, পোষা বক পাখির ডাক ব্যবহার করে অন্য বক পাখিকে ফাঁদে ধরে খাঁচায় বন্দি করে। পরে এই পাখিগুলো বিক্রি করা হয়। শখের জন্য শুরু হলেও বর্তমানে অনেকেই এটি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে।

বেশিরভাগ মানুষ বকের মাংস খেলে স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যায় এমন ভ্রান্ত ধারণা ধারণ করে, তাই অগ্রিম টাকা দিয়ে পাখি কিনে নেওয়া হয়। এভাবে প্রকৃতির বিভিন্ন প্রজাতির বক ধীরে ধীরে কমছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বক পাখি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী কোনো বন্য বা পরিযায়ী পাখি হত্যা, শিকার, বিক্রি বা রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শাস্তি অনুযায়ী একটি পাখি হত্যা করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদ- বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা, বা উভয়ই হতে পারে। অপরাধ পুনরায় হলে শাস্তি দ্বিগুণ হয়। মাংস, পাখির অংশ বা ট্রফি সংগ্রহ বা বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদ- বা ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে।

আইন কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। অবিলম্বে হাওর ও জলাভূমি এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত জোরদার করা এবং শিকারিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সাথে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে, যাতে মানুষ শিকারি নয়, সংরক্ষকের ভূমিকায় দাঁড়ায়। প্রকৃতি রক্ষা মানেই আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা।

শরীফুল ইসলাম

back to top