মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শহরে বাস করা এখন কেবল স্বপ্ন নয়, বরং প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এই সংগ্রামের সবচেয়ে বড় ও নীরব শত্রু হয়ে উঠেছে বাড়ি ভাড়া। আয় বাড়ে ধীরে, কিন্তু ভাড়া বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে-এই বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দিন দিন আরও চাপে পড়ছে।
একসময় বাড়ি ভাড়া ছিল পরিবারের মোট আয়ের সহনীয় একটি অংশ। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আয়ের অর্ধেক বা তারও বেশি চলে যাচ্ছে শুধু মাথার ওপর ছাদের জন্য। চাকরিজীবী, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ-কারও জন্যই বিষয়টি আর আলাদা নয়। মাসের শুরুতেই ভাড়া দেওয়ার চিন্তা মানুষের মনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। ভাড়া বাড়ার পেছনে মালিকদের যুক্তিও একেবারে অযৌক্তিক নয়। বাড়ি নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে, জমির মূল্য আকাশচুম্বী, কর ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আগের মতো নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এই বাড়তি চাপ কি একতরফাভাবে ভাড়াটিয়াদের ওপরই পড়বে? আয় না বাড়লেও প্রতিবছর ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা কি ন্যায্য?
আরেকটি বাস্তবতা হলো, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট নীতিমালা বা কার্যকর নজরদারি নেই। চুক্তিপত্র থাকলেও অনেক সময় তা মানা হয় না। হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানোর নোটিস, কিংবা ‘না চাইলে অন্য ভাড়াটিয়া পাওয়া যাবে’ এই কথাগুলো ভাড়াটিয়াদের অসহায় করে তোলে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাবে, কীভাবে নতুন বাসা পাবে-এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে বাধ্য করে।
এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। শহরের শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমবাজার এমনকি সামাজিক বন্ধনেও এর ছাপ পড়ছে। দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ, প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়ছে সময় ও খরচ। শহর ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে শুধু উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য উপযোগী এক এলাকা।
সমাধান কি নেই? আছে, যদি সদিচ্ছা থাকে। সরকারিভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা কার্যকর করা, নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভাড়া না বাড়ানোর নিয়ম, মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে স্বচ্ছ চুক্তি-এসবই হতে পারে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। পাশাপাশি মালিকদেরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি; ভাড়াটিয়ারা শুধু আয় করার উৎস নয়, তারাও এই সমাজেরই অংশ।
বাড়ি ভাড়া বাড়ার এই সংকট আসলে আমাদের শহুরে জীবনের আয়না। এখানে কেবল অর্থনীতির হিসাব নয়, আছে মানুষের স্বস্তি, নিরাপত্তা আর সম্মানের প্রশ্ন। এই জায়গায় ভারসাম্য না এলে শহর থাকবে, কিন্তু শান্তি থাকবে না।
মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
শহরে বাস করা এখন কেবল স্বপ্ন নয়, বরং প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এই সংগ্রামের সবচেয়ে বড় ও নীরব শত্রু হয়ে উঠেছে বাড়ি ভাড়া। আয় বাড়ে ধীরে, কিন্তু ভাড়া বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে-এই বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দিন দিন আরও চাপে পড়ছে।
একসময় বাড়ি ভাড়া ছিল পরিবারের মোট আয়ের সহনীয় একটি অংশ। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আয়ের অর্ধেক বা তারও বেশি চলে যাচ্ছে শুধু মাথার ওপর ছাদের জন্য। চাকরিজীবী, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ-কারও জন্যই বিষয়টি আর আলাদা নয়। মাসের শুরুতেই ভাড়া দেওয়ার চিন্তা মানুষের মনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। ভাড়া বাড়ার পেছনে মালিকদের যুক্তিও একেবারে অযৌক্তিক নয়। বাড়ি নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে, জমির মূল্য আকাশচুম্বী, কর ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আগের মতো নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এই বাড়তি চাপ কি একতরফাভাবে ভাড়াটিয়াদের ওপরই পড়বে? আয় না বাড়লেও প্রতিবছর ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা কি ন্যায্য?
আরেকটি বাস্তবতা হলো, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট নীতিমালা বা কার্যকর নজরদারি নেই। চুক্তিপত্র থাকলেও অনেক সময় তা মানা হয় না। হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানোর নোটিস, কিংবা ‘না চাইলে অন্য ভাড়াটিয়া পাওয়া যাবে’ এই কথাগুলো ভাড়াটিয়াদের অসহায় করে তোলে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাবে, কীভাবে নতুন বাসা পাবে-এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে বাধ্য করে।
এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। শহরের শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমবাজার এমনকি সামাজিক বন্ধনেও এর ছাপ পড়ছে। দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ, প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়ছে সময় ও খরচ। শহর ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে শুধু উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য উপযোগী এক এলাকা।
সমাধান কি নেই? আছে, যদি সদিচ্ছা থাকে। সরকারিভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা কার্যকর করা, নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভাড়া না বাড়ানোর নিয়ম, মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে স্বচ্ছ চুক্তি-এসবই হতে পারে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। পাশাপাশি মালিকদেরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি; ভাড়াটিয়ারা শুধু আয় করার উৎস নয়, তারাও এই সমাজেরই অংশ।
বাড়ি ভাড়া বাড়ার এই সংকট আসলে আমাদের শহুরে জীবনের আয়না। এখানে কেবল অর্থনীতির হিসাব নয়, আছে মানুষের স্বস্তি, নিরাপত্তা আর সম্মানের প্রশ্ন। এই জায়গায় ভারসাম্য না এলে শহর থাকবে, কিন্তু শান্তি থাকবে না।
মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ