alt

মতামত » চিঠিপত্র

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শহরে বাস করা এখন কেবল স্বপ্ন নয়, বরং প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এই সংগ্রামের সবচেয়ে বড় ও নীরব শত্রু হয়ে উঠেছে বাড়ি ভাড়া। আয় বাড়ে ধীরে, কিন্তু ভাড়া বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে-এই বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দিন দিন আরও চাপে পড়ছে।

একসময় বাড়ি ভাড়া ছিল পরিবারের মোট আয়ের সহনীয় একটি অংশ। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আয়ের অর্ধেক বা তারও বেশি চলে যাচ্ছে শুধু মাথার ওপর ছাদের জন্য। চাকরিজীবী, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ-কারও জন্যই বিষয়টি আর আলাদা নয়। মাসের শুরুতেই ভাড়া দেওয়ার চিন্তা মানুষের মনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। ভাড়া বাড়ার পেছনে মালিকদের যুক্তিও একেবারে অযৌক্তিক নয়। বাড়ি নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে, জমির মূল্য আকাশচুম্বী, কর ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আগের মতো নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এই বাড়তি চাপ কি একতরফাভাবে ভাড়াটিয়াদের ওপরই পড়বে? আয় না বাড়লেও প্রতিবছর ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা কি ন্যায্য?

আরেকটি বাস্তবতা হলো, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট নীতিমালা বা কার্যকর নজরদারি নেই। চুক্তিপত্র থাকলেও অনেক সময় তা মানা হয় না। হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানোর নোটিস, কিংবা ‘না চাইলে অন্য ভাড়াটিয়া পাওয়া যাবে’ এই কথাগুলো ভাড়াটিয়াদের অসহায় করে তোলে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাবে, কীভাবে নতুন বাসা পাবে-এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে বাধ্য করে।

এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। শহরের শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমবাজার এমনকি সামাজিক বন্ধনেও এর ছাপ পড়ছে। দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ, প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়ছে সময় ও খরচ। শহর ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে শুধু উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য উপযোগী এক এলাকা।

সমাধান কি নেই? আছে, যদি সদিচ্ছা থাকে। সরকারিভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা কার্যকর করা, নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভাড়া না বাড়ানোর নিয়ম, মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে স্বচ্ছ চুক্তি-এসবই হতে পারে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। পাশাপাশি মালিকদেরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি; ভাড়াটিয়ারা শুধু আয় করার উৎস নয়, তারাও এই সমাজেরই অংশ।

বাড়ি ভাড়া বাড়ার এই সংকট আসলে আমাদের শহুরে জীবনের আয়না। এখানে কেবল অর্থনীতির হিসাব নয়, আছে মানুষের স্বস্তি, নিরাপত্তা আর সম্মানের প্রশ্ন। এই জায়গায় ভারসাম্য না এলে শহর থাকবে, কিন্তু শান্তি থাকবে না।

মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

শহরে বাস করা এখন কেবল স্বপ্ন নয়, বরং প্রতিদিনের এক কঠিন সংগ্রামের নাম। এই সংগ্রামের সবচেয়ে বড় ও নীরব শত্রু হয়ে উঠেছে বাড়ি ভাড়া। আয় বাড়ে ধীরে, কিন্তু ভাড়া বাড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে-এই বাস্তবতায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন দিন দিন আরও চাপে পড়ছে।

একসময় বাড়ি ভাড়া ছিল পরিবারের মোট আয়ের সহনীয় একটি অংশ। এখন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আয়ের অর্ধেক বা তারও বেশি চলে যাচ্ছে শুধু মাথার ওপর ছাদের জন্য। চাকরিজীবী, শিক্ষক, ছোট ব্যবসায়ী কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মানুষ-কারও জন্যই বিষয়টি আর আলাদা নয়। মাসের শুরুতেই ভাড়া দেওয়ার চিন্তা মানুষের মনে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলছে। ভাড়া বাড়ার পেছনে মালিকদের যুক্তিও একেবারে অযৌক্তিক নয়। বাড়ি নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়েছে, জমির মূল্য আকাশচুম্বী, কর ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও আগের মতো নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো-এই বাড়তি চাপ কি একতরফাভাবে ভাড়াটিয়াদের ওপরই পড়বে? আয় না বাড়লেও প্রতিবছর ভাড়া বাড়ানোর প্রবণতা কি ন্যায্য?

আরেকটি বাস্তবতা হলো, ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো স্পষ্ট নীতিমালা বা কার্যকর নজরদারি নেই। চুক্তিপত্র থাকলেও অনেক সময় তা মানা হয় না। হঠাৎ করে ভাড়া বাড়ানোর নোটিস, কিংবা ‘না চাইলে অন্য ভাড়াটিয়া পাওয়া যাবে’ এই কথাগুলো ভাড়াটিয়াদের অসহায় করে তোলে। পরিবার নিয়ে কোথায় যাবে, কীভাবে নতুন বাসা পাবে-এই অনিশ্চয়তাই মানুষকে বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে বাধ্য করে।

এর প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। শহরের শিক্ষাব্যবস্থা, শ্রমবাজার এমনকি সামাজিক বন্ধনেও এর ছাপ পড়ছে। দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ, প্রতিদিনের যাতায়াতে বাড়ছে সময় ও খরচ। শহর ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে শুধু উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য উপযোগী এক এলাকা।

সমাধান কি নেই? আছে, যদি সদিচ্ছা থাকে। সরকারিভাবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা কার্যকর করা, নির্দিষ্ট সময়ের আগে ভাড়া না বাড়ানোর নিয়ম, মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে স্বচ্ছ চুক্তি-এসবই হতে পারে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ। পাশাপাশি মালিকদেরও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি; ভাড়াটিয়ারা শুধু আয় করার উৎস নয়, তারাও এই সমাজেরই অংশ।

বাড়ি ভাড়া বাড়ার এই সংকট আসলে আমাদের শহুরে জীবনের আয়না। এখানে কেবল অর্থনীতির হিসাব নয়, আছে মানুষের স্বস্তি, নিরাপত্তা আর সম্মানের প্রশ্ন। এই জায়গায় ভারসাম্য না এলে শহর থাকবে, কিন্তু শান্তি থাকবে না।

মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

back to top