alt

মতামত » চিঠিপত্র

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

: বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বাংলাদেশের শহর এবং মহানগরগুলো বর্তমানে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও নগরায়ণের এক চরম মূল্যে ভুগছে। আর তা হলো নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এবং সবুজায়ন হ্রাস, যা পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য উভয়ের জন্য এক নীরব হুমকির সৃষ্টি করেছে। দ্রুত প্রসারিত হওয়া কংক্রিটের জঙ্গল জায়গা করে নিতে গিয়ে শহরগুলোর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত গাছপালা আজ বিলুপ্তির পথে। রাস্তা সম্প্রসারণ, নতুন আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির অজুহাতে প্রতিনিয়ত শত শত পুরনো গাছ কাটা হচ্ছে।

একটি আদর্শ শহরে মোট আয়তনের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি বা সবুজ এলাকা থাকা উচিত। বাস্তবে ঢাকার মতো মহানগরগুলোতে এই সবুজ আচ্ছাদন কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই লাগামহীন বৃক্ষ নিধনের ফলস্বরূপ শহরে তাপমাত্রার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ঘটছে। যা “আরবান হিট আইল্যান্ড এফেক্ট” নামে পরিচিত। এর ফলে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কারণ গাছপালা ছায়া এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পরিবেশকে শীতল রাখার যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি চালু রাখে, তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে, গাছপালা কমে যাওয়ায় বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও ক্ষুদ্র ধূলিকণা শোষণের প্রাকৃতিক ফিল্টার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। যা শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে বায়ু দূষণের মাত্রাকে আরও তীব্র করছে। এছাড়া, গাছের শিকড় মাটিকে ধরে রেখে বৃষ্টির জলকে গভীরে প্রবেশে সাহায্য করত। কিন্তু গাছ কমে যাওয়ায় এবং কংক্রিটের আচ্ছাদন বাড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যেখানে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়ার আগে অবশ্যই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণমূলক প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।

উত্তরণের উপায় হিসেবে শহরের প্রতিটি নতুন ভবন নির্মাণে উল্লম্ব ও ছাদ বাগান বাধ্যতামূলক করা দরকার। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ছোট নগর বন তৈরি করা জরুরি। যদি এখনই এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া বন্ধ করে একটি বৈজ্ঞানিক, পরিবেশবান্ধব সবুজ পরিকাঠামো মডেল গ্রহণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নগরগুলো বসবাসের অযোগ্য এবং শ্বাসরুদ্ধকর স্থানে পরিণত হবে। কারণ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন

ঢাকা

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

অনুমতি উঠে গেল, বিবেক কি ছুটিতে?

খেজুর রসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

শীতের তীব্রতায় মানবিকতার আলো জ্বালাই

আইনশৃঙ্খলার অবনতি: কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

চাকরির বিজ্ঞাপন আছে, চাকরি নেই

উন্নয়নের গল্পের আড়ালে শ্রমিকের বেদনা

ফুটপাথের উন্মুক্ত টয়লেট: নগর জীবনের অস্বস্তি

ধূমপান সংক্রান্ত নতুন অধ্যাদেশ কি আলোর মুখ দেখবে?

কৃষিপণ্য সংরক্ষণে সংকট

ক্যাম্পাস বাসে বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য: শিক্ষার্থীদের নিত্য বিড়ম্বনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের শহর এবং মহানগরগুলো বর্তমানে অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও নগরায়ণের এক চরম মূল্যে ভুগছে। আর তা হলো নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এবং সবুজায়ন হ্রাস, যা পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য উভয়ের জন্য এক নীরব হুমকির সৃষ্টি করেছে। দ্রুত প্রসারিত হওয়া কংক্রিটের জঙ্গল জায়গা করে নিতে গিয়ে শহরগুলোর ফুসফুস হিসেবে পরিচিত গাছপালা আজ বিলুপ্তির পথে। রাস্তা সম্প্রসারণ, নতুন আবাসন প্রকল্প, বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরির অজুহাতে প্রতিনিয়ত শত শত পুরনো গাছ কাটা হচ্ছে।

একটি আদর্শ শহরে মোট আয়তনের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি বা সবুজ এলাকা থাকা উচিত। বাস্তবে ঢাকার মতো মহানগরগুলোতে এই সবুজ আচ্ছাদন কমে ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই লাগামহীন বৃক্ষ নিধনের ফলস্বরূপ শহরে তাপমাত্রার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ঘটছে। যা “আরবান হিট আইল্যান্ড এফেক্ট” নামে পরিচিত। এর ফলে তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। কারণ গাছপালা ছায়া এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পরিবেশকে শীতল রাখার যে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি চালু রাখে, তা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে, গাছপালা কমে যাওয়ায় বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও ক্ষুদ্র ধূলিকণা শোষণের প্রাকৃতিক ফিল্টার ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। যা শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে বায়ু দূষণের মাত্রাকে আরও তীব্র করছে। এছাড়া, গাছের শিকড় মাটিকে ধরে রেখে বৃষ্টির জলকে গভীরে প্রবেশে সাহায্য করত। কিন্তু গাছ কমে যাওয়ায় এবং কংক্রিটের আচ্ছাদন বাড়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন কঠোর আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যেখানে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়ার আগে অবশ্যই পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণমূলক প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে হবে।

উত্তরণের উপায় হিসেবে শহরের প্রতিটি নতুন ভবন নির্মাণে উল্লম্ব ও ছাদ বাগান বাধ্যতামূলক করা দরকার। অব্যবহৃত সরকারি জমিতে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগিয়ে ছোট নগর বন তৈরি করা জরুরি। যদি এখনই এই ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া বন্ধ করে একটি বৈজ্ঞানিক, পরিবেশবান্ধব সবুজ পরিকাঠামো মডেল গ্রহণ করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নগরগুলো বসবাসের অযোগ্য এবং শ্বাসরুদ্ধকর স্থানে পরিণত হবে। কারণ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন

ঢাকা

back to top