alt

মতামত » চিঠিপত্র

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

: বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা এই বাংলাদেশে ঋতুভেদে হরেক রকমের ফলের সমারোহ দেখা যায়। আমাদের এই পলিমাটি এতটাই উর্বর যে, এখানে কোনো বীজ পড়লে তা থেকে অনায়াসেই ফলবান বৃক্ষ জন্মায়। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, কুল, বাতাবি লেবু, আমলকী, কদবেল, জামরুল, আতা, শরিফা, কামরাঙা, গাব, সফেদা ও বেলের মতো অসংখ্য দেশি ফল আমাদের রসনা তৃপ্ত করার পাশাপাশি শরীরের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে। বর্তমান সময়ে বিদেশি ফলের চাকচিক্য ও বিজ্ঞাপনী প্রচারের আড়ালে আমাদের দেশি ফলগুলো অনেকটা অবহেলিত হলেও, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে- আমাদের জলবায়ুতে বেড়ে ওঠা মানুষের জন্য দেশি ফলই সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত।

পুষ্টিগুণের বিচারে দেশি ফল: দেশি ফলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাকৃতিকভাবে অর্জিত পুষ্টিগুণ। আমরা প্রায়ই মনে করি বিদেশি দামি আপেল বা আঙুরে বুঝি সবচেয়ে বেশি ভিটামিন। কিন্তু পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটি মাঝারি আকারের দেশি পেয়ারাতে একটি আপেলের চেয়েও আরও বহু বেশি ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ঠিক একইভাবে, রক্তস্বল্পতা দূর করতে আমদানিকৃত আঙুরের চেয়ে আমাদের দেশি কালো জাম বা ডুমুর অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। আমলকী হলো ভিটামিন ‘সি’-এর ভান্ডার, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাতাবি লেবু বা বেলের মতো ফলগুলো কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং পেটের নানা অসুখ ও হজম প্রক্রিয়ায় মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া কাঁঠালকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউস, যা আমাদের শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি প্রোটিন ও ফাইবারের চাহিদাও মেটায়।

বিদেশি ফলের তুলনায় সতেজতা ও নিরাপত্তা: বিদেশি ফলগুলো সাধারণত হাজার হাজার মাইল দূর থেকে জাহাজে বা বিমানে করে আমদানি করা হয়। এগুলোকে পচন থেকে রক্ষা করতে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ দেখাতে প্রায়ই বিভিন্ন রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ বা মোমের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে, দেশি ফল সাধারণত সরাসরি বাগান থেকে তোলা হয় এবং দ্রুত বাজারে পৌঁছায়। ফলে এগুলোতে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না বললেই চলে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা দেশি ফলের স্বাদ ও ঘ্রাণ যেমন অতুলনীয়, তেমনই এটি শরীরের জন্য শতভাগ নিরাপদ।

সহজলভ্যতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: দেশি ফলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য। বিদেশি ফলগুলো যখন চড়া দামে অভিজাত বাজারে কিনতে হয়, তখন দেশি ফল আমাদের গ্রামগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় এমনকি ফুটপাতেও অত্যন্ত সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। সাধারণ আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সবারই এই ফল কেনার সামর্থ্য থাকে। এছাড়া আমরা যখন বিদেশি ফলের বদলে দেশি ফল কিনি, তখন সেই টাকা সরাসরি আমাদের দেশের প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে এবং কৃষকদের দেশি ফলের বাগান করতে উৎসাহিত করে। ফলে দেশের টাকা দেশেই থাকে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।

সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হওয়ার জন্য বিদেশি ফলের মোহে মত্ত না হয়ে আমাদের চিরচেনা দেশি ফলের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। আমাদের হাতের নাগালে পাওয়া এই সস্তা অথচ মহাঔষধি গুণসম্পন্ন ফলগুলো আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি দেশি ফল রাখার অভ্যাস আমাদের প্রত্যেকের গড়ে তোলা উচিত। দেশি ফল খেয়ে আমরা যেমন নিজেরা সুস্থ থাকব, তেমনই আমাদের কৃষি ও অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করতে পারব।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন, ঢাকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

tab

মতামত » চিঠিপত্র

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

সুজলা-সুফলা ও শস্য-শ্যামলা এই বাংলাদেশে ঋতুভেদে হরেক রকমের ফলের সমারোহ দেখা যায়। আমাদের এই পলিমাটি এতটাই উর্বর যে, এখানে কোনো বীজ পড়লে তা থেকে অনায়াসেই ফলবান বৃক্ষ জন্মায়। আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, কুল, বাতাবি লেবু, আমলকী, কদবেল, জামরুল, আতা, শরিফা, কামরাঙা, গাব, সফেদা ও বেলের মতো অসংখ্য দেশি ফল আমাদের রসনা তৃপ্ত করার পাশাপাশি শরীরের পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে। বর্তমান সময়ে বিদেশি ফলের চাকচিক্য ও বিজ্ঞাপনী প্রচারের আড়ালে আমাদের দেশি ফলগুলো অনেকটা অবহেলিত হলেও, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে- আমাদের জলবায়ুতে বেড়ে ওঠা মানুষের জন্য দেশি ফলই সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত।

পুষ্টিগুণের বিচারে দেশি ফল: দেশি ফলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাকৃতিকভাবে অর্জিত পুষ্টিগুণ। আমরা প্রায়ই মনে করি বিদেশি দামি আপেল বা আঙুরে বুঝি সবচেয়ে বেশি ভিটামিন। কিন্তু পুষ্টিগুণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটি মাঝারি আকারের দেশি পেয়ারাতে একটি আপেলের চেয়েও আরও বহু বেশি ভিটামিন ‘সি’ থাকে। ঠিক একইভাবে, রক্তস্বল্পতা দূর করতে আমদানিকৃত আঙুরের চেয়ে আমাদের দেশি কালো জাম বা ডুমুর অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। আমলকী হলো ভিটামিন ‘সি’-এর ভান্ডার, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বাতাবি লেবু বা বেলের মতো ফলগুলো কেবল তৃষ্ণা মেটায় না, বরং পেটের নানা অসুখ ও হজম প্রক্রিয়ায় মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া কাঁঠালকে বলা হয় পুষ্টির পাওয়ার হাউস, যা আমাদের শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি প্রোটিন ও ফাইবারের চাহিদাও মেটায়।

বিদেশি ফলের তুলনায় সতেজতা ও নিরাপত্তা: বিদেশি ফলগুলো সাধারণত হাজার হাজার মাইল দূর থেকে জাহাজে বা বিমানে করে আমদানি করা হয়। এগুলোকে পচন থেকে রক্ষা করতে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ দেখাতে প্রায়ই বিভিন্ন রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ বা মোমের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়, যা আমাদের লিভার ও কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে, দেশি ফল সাধারণত সরাসরি বাগান থেকে তোলা হয় এবং দ্রুত বাজারে পৌঁছায়। ফলে এগুলোতে রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না বললেই চলে। প্রাকৃতিকভাবে পাকা দেশি ফলের স্বাদ ও ঘ্রাণ যেমন অতুলনীয়, তেমনই এটি শরীরের জন্য শতভাগ নিরাপদ।

সহজলভ্যতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব: দেশি ফলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো এর সহজলভ্যতা ও সাশ্রয়ী মূল্য। বিদেশি ফলগুলো যখন চড়া দামে অভিজাত বাজারে কিনতে হয়, তখন দেশি ফল আমাদের গ্রামগঞ্জের পাড়া-মহল্লায় এমনকি ফুটপাতেও অত্যন্ত সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়। সাধারণ আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে সবারই এই ফল কেনার সামর্থ্য থাকে। এছাড়া আমরা যখন বিদেশি ফলের বদলে দেশি ফল কিনি, তখন সেই টাকা সরাসরি আমাদের দেশের প্রান্তিক কৃষকের কাছে পৌঁছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে এবং কৃষকদের দেশি ফলের বাগান করতে উৎসাহিত করে। ফলে দেশের টাকা দেশেই থাকে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়।

সুস্থ ও দীর্ঘজীবী হওয়ার জন্য বিদেশি ফলের মোহে মত্ত না হয়ে আমাদের চিরচেনা দেশি ফলের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। আমাদের হাতের নাগালে পাওয়া এই সস্তা অথচ মহাঔষধি গুণসম্পন্ন ফলগুলো আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অপরিহার্য। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি দেশি ফল রাখার অভ্যাস আমাদের প্রত্যেকের গড়ে তোলা উচিত। দেশি ফল খেয়ে আমরা যেমন নিজেরা সুস্থ থাকব, তেমনই আমাদের কৃষি ও অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করতে পারব।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেরিন, ঢাকা

back to top