alt

মতামত » চিঠিপত্র

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

: শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

একুশ শতকের যুগে এসে বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে পর্যটন শিল্পের অগ্রগতির বিকল্প নেই। কিন্তু দেখা যায় যে, বাংলাদেশে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, প্রবল দ্বীপ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা থাকার সত্ত্বেও পর্যটন শিল্পের দিক থেকে রয়েছে অনেক পিছিয়ে। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, তাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পর্যটন খ্যাত অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। উদাহরণ হিসেবে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার কথা বলতে পারি।

দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সংস্কৃতি, পর্যটন কেন্দ্র এবং ঐতিহ্য দিয়ে পুরো বিশ্বকে আকৃষ্ট করে রেখেছে। বিশ্বের কাছে কোরিয়ার এই আকর্ষণ করার পদ্ধতিটির নাম হলো, ‘সফট পাওয়ার’। ‘সফট পাওয়ার’ পদ্ধতিতে হলো এমন এক ধরনের পদ্ধতি, যে পদ্ধতির মাধ্যমে একটি দেশের মানুষ তাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মাধ্যমে অন্য দেশের মানুষদের আকর্ষণ করে। ‘সফট পাওয়ার’ শব্দটি সর্বপ্রথম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ নাই ব্যবহার করেন।

কোরিয়ার রয়েছে বিটিএস (ইঞঝ) বা ব্লাকপিঙ্ক (ইষধপশঢ়রহশ) নামক জনপ্রিয় কিছু ব্যান্ড। এ ব্যান্ডগুলো কেবল গানই গাইছে না, তারা কোরিয়াকে একটি গ্লোবাল ব্রান্ড হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এছাড়াও কোরিয়ান কিছু জনপ্রিয় ড্রামা ও ওয়েব সিরিজ আছে, যে ড্রামা ও ওয়েব সিরিজগুলোতে কোরিয়ার দৃশ্যগুলোকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে পুরো বিশ্বের দর্শকদের সেখানে যাওয়া জন্য অনুপ্রাণিত হচ্ছে। যেমন- কোরিয়ান ড্রামায় দেখানো সিউলের রাস্তা বা সুদৃশ্য ক্যাফে দেখার জন্য গত কয়েক বছরে লাখ লাখ মানুষ সেখানে ভিড় জমিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রমান করেছে যে, একটি আকর্ষণীয় মিউজিক ভিডিও এবং ওয়েব সিরিজের মাধ্যমেও একটি দেশকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আকর্ষণ করা সম্ভব। একটি ভিডিও ইন্টারভিউতে দেখা যায়, কোরিয়াতে ঘুরতে যাওয়া ১২ জন পর্যটকদের কোরিয়াতে ঘুরতে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা সকলেই বলেন যে, কে-পপ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুধু মাত্র প্রিয় ব্যান্ডের টানে সেখানে ঘুরতে এসেছেন। তারা সেখানে গিয়ে শুধু ঘুরছেনই না; কোরিয়ান ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘কিমচি’ বা ‘রামেন’ খাচ্ছেন এবং কোরিয়ান জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

?আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বারবার দক্ষিণ কোরিয়া কথা উঠে আসছে এ কারণেই যে, দক্ষিণ কোরিয়া যদি তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্যকে সফট পাওয়ারের মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজয় করতে পারে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও রয়েছে অমিয় সম্ভাবনা। বাংলাদেশে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনের প্রবাল দ্বীপ, সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় অরণ্য এবং ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। এ ছাড়া আমাদের উল্লেখযোগ্য আরেকটি ‘সফট পাওয়ার’ রয়েছে, যেটি হলো ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার খাবার। কোরিয়ানরা তাদের খাবারের স্বাদ না বদলে বরং তার উপস্থাপনা মাধ্যমে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। আমরা যদি পুরান ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানিকে নিছক খাবার হিসেবে না দেখে ‘মোঘল রাজকীয় আহার’ বা ‘জড়ুধষ গঁমযধষ ঐবৎরঃধমব’ হিসেবে মিডিয়ার মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং করতে পারি, তবে এটি হাজার হাজার ভোজনরসিক পর্যটককে বাংলাদেশে টেনে আনতে বাধ্য করবে। অর্থাৎ পর্যটনের আরেকটি দিক খুলবে।

বাংলাদেশ বর্তমান অর্থনৈতিক এক ক্রান্তিকালীন অবস্থা পার করছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অভাব এবং ডলার সংকটের সময়ে পর্যটন হতে পারে আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। আমরা যদি কেবল পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ‘কালিনারি ডিপ্লোম্যাসি’ বা খাদ্য-ভিত্তিক কূটনীতিতে বিনিয়োগ করি, তবে তা হবে আমাদের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী রক্ষাকবচ।

বাংলাদেশের এই বিশাল সম্ভাবনা থাকার সত্ত্বেও আমরা পিছিয়ে আছি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে। আমাদের পর্যটন খাতটি বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক যুগের পর্যটন মানে কেবল একটি দর্শনীয় স্থান রক্ষা করা নয়, বরং সেই স্থানটিকে ‘অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বিক্রি করা। আমাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে একটি ‘বিশেষায়িত ব্র্যান্ডিং টাস্কফোর্স’ গঠন করা জরুরি। যেখানে সাধারণ কর্মকর্তাদের বদলে থাকবেন সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ এবং ডিজিটাল বিপণন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি বড় রেস্তোরাঁ ও পর্যটন কেন্দ্রে মাল্টি-লিঙ্গুয়াল স্মার্ট কিউআর (ছজ) মেনু চালু করতে হবে, যাতে একজন বিদেশি পর্যটক নিজের ফোনে স্ক্যান করেই আমাদের খাবারের ইতিহাস ও রান্নার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবে।

একই সঙ্গে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ পর্যটনকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ‘বাবর্চি’ বা হোটেল কর্মীর পেশাকে নিচু করে না দেখে একে ‘সাংস্কৃতিক দূত’ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য আমাদের অহংকার, আর এই অহংকারকে আধুনিক মিডিয়ার মোড়কে উপস্থাপন করতে পারলেই বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার পরবর্তী বড় পর্যটন কেন্দ্র স্থান।

করিমুজ্জামান মৃধা

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশি ফলের ভূমিকা

রাজনীতি হোক মানুষের জন্য, মানুষ নিয়ে নয়

দূরদর্শী সিদ্ধান্তে রক্ষা পেতে পারে শিক্ষাব্যবস্থা

সামাজিক আন্দোলন: প্রতিবাদ নাকি ট্রেন্ড?

নগর সভ্যতায় নিঃসঙ্গতার মহামারি

আবাসন সংকট

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

tab

মতামত » চিঠিপত্র

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘সফট পাওয়ার’ মডেলে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬

একুশ শতকের যুগে এসে বিশ্ব অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে পর্যটন শিল্পের অগ্রগতির বিকল্প নেই। কিন্তু দেখা যায় যে, বাংলাদেশে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, প্রবল দ্বীপ ও ঐতিহাসিক স্থাপনা থাকার সত্ত্বেও পর্যটন শিল্পের দিক থেকে রয়েছে অনেক পিছিয়ে। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, তাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পর্যটন খ্যাত অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে। উদাহরণ হিসেবে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার কথা বলতে পারি।

দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সংস্কৃতি, পর্যটন কেন্দ্র এবং ঐতিহ্য দিয়ে পুরো বিশ্বকে আকৃষ্ট করে রেখেছে। বিশ্বের কাছে কোরিয়ার এই আকর্ষণ করার পদ্ধতিটির নাম হলো, ‘সফট পাওয়ার’। ‘সফট পাওয়ার’ পদ্ধতিতে হলো এমন এক ধরনের পদ্ধতি, যে পদ্ধতির মাধ্যমে একটি দেশের মানুষ তাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মাধ্যমে অন্য দেশের মানুষদের আকর্ষণ করে। ‘সফট পাওয়ার’ শব্দটি সর্বপ্রথম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ নাই ব্যবহার করেন।

কোরিয়ার রয়েছে বিটিএস (ইঞঝ) বা ব্লাকপিঙ্ক (ইষধপশঢ়রহশ) নামক জনপ্রিয় কিছু ব্যান্ড। এ ব্যান্ডগুলো কেবল গানই গাইছে না, তারা কোরিয়াকে একটি গ্লোবাল ব্রান্ড হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এছাড়াও কোরিয়ান কিছু জনপ্রিয় ড্রামা ও ওয়েব সিরিজ আছে, যে ড্রামা ও ওয়েব সিরিজগুলোতে কোরিয়ার দৃশ্যগুলোকে এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে পুরো বিশ্বের দর্শকদের সেখানে যাওয়া জন্য অনুপ্রাণিত হচ্ছে। যেমন- কোরিয়ান ড্রামায় দেখানো সিউলের রাস্তা বা সুদৃশ্য ক্যাফে দেখার জন্য গত কয়েক বছরে লাখ লাখ মানুষ সেখানে ভিড় জমিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া প্রমান করেছে যে, একটি আকর্ষণীয় মিউজিক ভিডিও এবং ওয়েব সিরিজের মাধ্যমেও একটি দেশকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে আকর্ষণ করা সম্ভব। একটি ভিডিও ইন্টারভিউতে দেখা যায়, কোরিয়াতে ঘুরতে যাওয়া ১২ জন পর্যটকদের কোরিয়াতে ঘুরতে আসার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা সকলেই বলেন যে, কে-পপ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুধু মাত্র প্রিয় ব্যান্ডের টানে সেখানে ঘুরতে এসেছেন। তারা সেখানে গিয়ে শুধু ঘুরছেনই না; কোরিয়ান ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘কিমচি’ বা ‘রামেন’ খাচ্ছেন এবং কোরিয়ান জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

?আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বারবার দক্ষিণ কোরিয়া কথা উঠে আসছে এ কারণেই যে, দক্ষিণ কোরিয়া যদি তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্যকে সফট পাওয়ারের মাধ্যমে কাজে লাগিয়ে বিশ্বজয় করতে পারে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশেরও রয়েছে অমিয় সম্ভাবনা। বাংলাদেশে রয়েছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সেন্টমার্টিনের প্রবাল দ্বীপ, সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় অরণ্য এবং ঐতিহাসিক ষাট গম্বুজ মসজিদ। এ ছাড়া আমাদের উল্লেখযোগ্য আরেকটি ‘সফট পাওয়ার’ রয়েছে, যেটি হলো ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকার খাবার। কোরিয়ানরা তাদের খাবারের স্বাদ না বদলে বরং তার উপস্থাপনা মাধ্যমে বিশ্বকে মুগ্ধ করেছে। আমরা যদি পুরান ঢাকার কাচ্চি বিরিয়ানিকে নিছক খাবার হিসেবে না দেখে ‘মোঘল রাজকীয় আহার’ বা ‘জড়ুধষ গঁমযধষ ঐবৎরঃধমব’ হিসেবে মিডিয়ার মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং করতে পারি, তবে এটি হাজার হাজার ভোজনরসিক পর্যটককে বাংলাদেশে টেনে আনতে বাধ্য করবে। অর্থাৎ পর্যটনের আরেকটি দিক খুলবে।

বাংলাদেশ বর্তমান অর্থনৈতিক এক ক্রান্তিকালীন অবস্থা পার করছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অভাব এবং ডলার সংকটের সময়ে পর্যটন হতে পারে আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। আমরা যদি কেবল পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল না থেকে ‘কালিনারি ডিপ্লোম্যাসি’ বা খাদ্য-ভিত্তিক কূটনীতিতে বিনিয়োগ করি, তবে তা হবে আমাদের অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী রক্ষাকবচ।

বাংলাদেশের এই বিশাল সম্ভাবনা থাকার সত্ত্বেও আমরা পিছিয়ে আছি প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে। আমাদের পর্যটন খাতটি বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। আধুনিক যুগের পর্যটন মানে কেবল একটি দর্শনীয় স্থান রক্ষা করা নয়, বরং সেই স্থানটিকে ‘অভিজ্ঞতা’ হিসেবে বিক্রি করা। আমাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে একটি ‘বিশেষায়িত ব্র্যান্ডিং টাস্কফোর্স’ গঠন করা জরুরি। যেখানে সাধারণ কর্মকর্তাদের বদলে থাকবেন সাংস্কৃতিক বিশেষজ্ঞ এবং ডিজিটাল বিপণন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিটি বড় রেস্তোরাঁ ও পর্যটন কেন্দ্রে মাল্টি-লিঙ্গুয়াল স্মার্ট কিউআর (ছজ) মেনু চালু করতে হবে, যাতে একজন বিদেশি পর্যটক নিজের ফোনে স্ক্যান করেই আমাদের খাবারের ইতিহাস ও রান্নার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবে।

একই সঙ্গে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ পর্যটনকর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ‘বাবর্চি’ বা হোটেল কর্মীর পেশাকে নিচু করে না দেখে একে ‘সাংস্কৃতিক দূত’ হিসেবে মর্যাদা দিতে হবে। আমাদের ঐতিহ্য আমাদের অহংকার, আর এই অহংকারকে আধুনিক মিডিয়ার মোড়কে উপস্থাপন করতে পারলেই বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার পরবর্তী বড় পর্যটন কেন্দ্র স্থান।

করিমুজ্জামান মৃধা

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা

back to top