alt

মতামত » চিঠিপত্র

চিঠি : পরিবেশ রক্ষায় গাছ

: শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

পরিবেশ সুস্থ রাখতে গাছের অবদান অনস্বীকার্য। শৈশব থেকে একটি নবজাতক যেমন ক্রমে বড় হয়ে উপার্জনক্ষম হয় তেমনই একটি বীজ ক্রমে চারা গাছ থেকে বৃক্ষে পরিণত হয়ে প্রকৃতির কাছে ঋণ রূপে প্রাণিজগতের অস্তিত্ব রক্ষার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়। এখন পৃথিবীর সব দেশের মানুষই গাছের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। প্রাণিকুলের ওপর গাছ সবচেয়ে বড় অবদানটি রাখে। তারা আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং প্রকৃতি থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নেয়। আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডকে ত্যাগ করি, যা সালোক সংশ্লেষণের ঠিক বিপরীত।

গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব মোকাবিলার পদ্ধতি হিসেবেও গাছের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বায়ুমন্ডলে বিষাক্ত গ্যাস সঞ্চারের ফলে গ্রহের বায়ুমন্ডল আগের চেয়ে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে এটি আরও বেশি দূষিত করছে। একটি পরিণত গাছ প্রতি বছর ২২ কেজির বেশি বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রকৃতি থেকে শোষণ করে। গাছ মাটি ক্ষয় রোধ করে, গাছ মাটিকে আর্দ্র রাখে। গাছ শব্দদূষণ হ্রাস করে। শহরাঞ্চল সাধারণত একটি কোলাহলপূর্ণ এলাকা। প্রতিনিয়ত এখানে ব্যাপকহারে শব্দ দূষণ হয়। কিন্তু শহরের কোন পার্কে যদি আপনি গিয়ে থাকেন তাহলে খেয়াল করবেন, শহরের অন্যান্য অনেক জায়গা থেকে কতটা কম শব্দ শুনতে পাচ্ছেন।

গাছ আমাদের সূর্যের হাত থেকেও রক্ষা করে এবং সতেজ করে। গ্রীষ্মকাল মাথার ওপরে সূর্যের তির্যক রশ্মি যখন কিরণ দেয় তখনও গাছ আমাদের পরম বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয়। গাছ আমাদের ছায়া দেয় এবং তাদের পাতাগুলো দিয়ে জলীয়বাষ্প ছেড়ে দেয়। এ ছাড়া গাছ থেকে আমরা কাঠ আহরণ করি। আমাদের যে আসবাবপত্রের প্রয়োজন তার অধিকাংশ তৈরি হয় গাছ থেকে আহরণকৃত কাঠ থেকে। তাছাড়া গাছ আমাদের খাদ্য সরবরাহ করে। গাছ এ বিশ্বের শোভাবর্ধন করে, সবুজে সাজিয়ে রেখেছে এ পৃথিবীকে।

এত উপকার এত অবদানের পরেও আমরা অবাধে বন উজাড় করছি। কারণে অকারণে গাছ কাটছি। বিশ্বজুড়ে বনভূমি উজাড়ের হার এখন উদ্বেগজনক। ন্যাচারের গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর সমগ্র পৃথিবীতে গড়ে ১৫ বিলিয়ন গাছ কাটা পড়ছে। শিল্পের প্রসারের পর থেকে পৃথিবীতে প্রায় ৩২ শতাংশ বনভূমি কমেছে, যা ক্রমাগত হারে বেড়েই চলেছে। আমাজনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে আমাজন বনের ব্রাজিল অংশ আগুনে জ্বলছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ আগুনের পরিমাণ ৮৪ শতাংশ বেশি ছিল। ফুসফুস খ্যাত আমাজনকে জ্বলতে দেখে বিশ্বনেতাসহ সাধারণ মানুষ সবাই চিন্তায় পড়ে যান।

এভাবেই ক্রমাগত প্রকৃতি থেকে গাছ কমতে থাকলে সমগ্র পৃথিবী ব্যাপক হুমকির মধ্যে পড়বে। পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষা করা দুষ্কর হয়ে উঠবে। বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় তো বটেই, ব্যক্তি পর্যায়েও গাছ লাগাতে এগিয়ে আসতে হবে। তাই সর্বত্র গাছ লাগানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। তাই ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’-এই স্লোগানের যথাযথ অনুধাবন করে আমরা গাছ লাগাব এবং পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করব।

ইসতিয়াক আহমেদ হিমেল

কুষ্টিয়া

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

সুলতানপুরে করতোয়া নদীর তাণ্ডব: নদীভাঙনে মানুষের জীবন বিপন্ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনা বিস্তৃত, অনিয়মের ছায়াও গভীর

গেন্ডারিয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে অনিয়ম: জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

মেধা হারাচ্ছে দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : অযৌক্তিক ফি, সেশনজট ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থী

সামাজিক মাধ্যমের ভুবনে জনতুষ্টিবাদের নতুন রূপ

ভেজাল খেজুরগুড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক ক্যাডারের প্রয়োজনীয়তা

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

খোলা ম্যানহোল: ঢাকার রাজপথে এক নীরব মরণফাঁদ

গণপরিবহন: প্রতিদিনের যন্ত্রণার শেষ কবে?

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনর্জাগরণ

সাইবার বুলিং ও ভার্চুয়াল অপরাধ: তরুণদের অদৃশ্য বিপদ

ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়িতে নগরজীবনের চরম ভোগান্তি

রাবি মেডিকেল সেন্টারের সংস্কার চাই

চিংড়ি শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব

tab

মতামত » চিঠিপত্র

চিঠি : পরিবেশ রক্ষায় গাছ

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২

পরিবেশ সুস্থ রাখতে গাছের অবদান অনস্বীকার্য। শৈশব থেকে একটি নবজাতক যেমন ক্রমে বড় হয়ে উপার্জনক্ষম হয় তেমনই একটি বীজ ক্রমে চারা গাছ থেকে বৃক্ষে পরিণত হয়ে প্রকৃতির কাছে ঋণ রূপে প্রাণিজগতের অস্তিত্ব রক্ষার্থে নিজের জীবন উৎসর্গ করে দেয়। এখন পৃথিবীর সব দেশের মানুষই গাছের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে। প্রাণিকুলের ওপর গাছ সবচেয়ে বড় অবদানটি রাখে। তারা আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং প্রকৃতি থেকে বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে নেয়। আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডকে ত্যাগ করি, যা সালোক সংশ্লেষণের ঠিক বিপরীত।

গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রভাব মোকাবিলার পদ্ধতি হিসেবেও গাছের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বায়ুমন্ডলে বিষাক্ত গ্যাস সঞ্চারের ফলে গ্রহের বায়ুমন্ডল আগের চেয়ে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে এটি আরও বেশি দূষিত করছে। একটি পরিণত গাছ প্রতি বছর ২২ কেজির বেশি বিষাক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রকৃতি থেকে শোষণ করে। গাছ মাটি ক্ষয় রোধ করে, গাছ মাটিকে আর্দ্র রাখে। গাছ শব্দদূষণ হ্রাস করে। শহরাঞ্চল সাধারণত একটি কোলাহলপূর্ণ এলাকা। প্রতিনিয়ত এখানে ব্যাপকহারে শব্দ দূষণ হয়। কিন্তু শহরের কোন পার্কে যদি আপনি গিয়ে থাকেন তাহলে খেয়াল করবেন, শহরের অন্যান্য অনেক জায়গা থেকে কতটা কম শব্দ শুনতে পাচ্ছেন।

গাছ আমাদের সূর্যের হাত থেকেও রক্ষা করে এবং সতেজ করে। গ্রীষ্মকাল মাথার ওপরে সূর্যের তির্যক রশ্মি যখন কিরণ দেয় তখনও গাছ আমাদের পরম বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয়। গাছ আমাদের ছায়া দেয় এবং তাদের পাতাগুলো দিয়ে জলীয়বাষ্প ছেড়ে দেয়। এ ছাড়া গাছ থেকে আমরা কাঠ আহরণ করি। আমাদের যে আসবাবপত্রের প্রয়োজন তার অধিকাংশ তৈরি হয় গাছ থেকে আহরণকৃত কাঠ থেকে। তাছাড়া গাছ আমাদের খাদ্য সরবরাহ করে। গাছ এ বিশ্বের শোভাবর্ধন করে, সবুজে সাজিয়ে রেখেছে এ পৃথিবীকে।

এত উপকার এত অবদানের পরেও আমরা অবাধে বন উজাড় করছি। কারণে অকারণে গাছ কাটছি। বিশ্বজুড়ে বনভূমি উজাড়ের হার এখন উদ্বেগজনক। ন্যাচারের গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি বছর সমগ্র পৃথিবীতে গড়ে ১৫ বিলিয়ন গাছ কাটা পড়ছে। শিল্পের প্রসারের পর থেকে পৃথিবীতে প্রায় ৩২ শতাংশ বনভূমি কমেছে, যা ক্রমাগত হারে বেড়েই চলেছে। আমাজনকে বলা হয় পৃথিবীর ফুসফুস। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে আমাজন বনের ব্রাজিল অংশ আগুনে জ্বলছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ আগুনের পরিমাণ ৮৪ শতাংশ বেশি ছিল। ফুসফুস খ্যাত আমাজনকে জ্বলতে দেখে বিশ্বনেতাসহ সাধারণ মানুষ সবাই চিন্তায় পড়ে যান।

এভাবেই ক্রমাগত প্রকৃতি থেকে গাছ কমতে থাকলে সমগ্র পৃথিবী ব্যাপক হুমকির মধ্যে পড়বে। পৃথিবীর পরিবেশ রক্ষা করা দুষ্কর হয়ে উঠবে। বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে। দ্রুত জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায় তো বটেই, ব্যক্তি পর্যায়েও গাছ লাগাতে এগিয়ে আসতে হবে। তাই সর্বত্র গাছ লাগানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। তাই ‘গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান’-এই স্লোগানের যথাযথ অনুধাবন করে আমরা গাছ লাগাব এবং পরিবেশ রক্ষায় সহায়তা করব।

ইসতিয়াক আহমেদ হিমেল

কুষ্টিয়া

back to top