মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
বর্তমানে বাংলাদেশে গভীর সংকট গুলোর মধ্যে অন্যতম লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। দেশের প্রায় ২০% জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত, যা প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ। মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের ভোগ চাহিদা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু এখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ক্রয় ক্ষমতা তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি, ডিম থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়- সবকিছুই মধ্যবিত্ত লোকজনের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দিনমজুর, রিকশা চালক, হকার, কৃষক ও স্বল্প বেতনের বেসরকারি-চাকরিজীবী লোকজন।
মূল্যস্ফীতির পেছনে কয়েকটি কারণকে দায়ী করা যায়- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, বাজার সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাব। এছাড়াও ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণেও মূল্যস্ফীতি দেখা দিচ্ছে।
দুঃখজনক হলো, সরকার নির্ধারিত দামের সাথে খুচরা বাজারের দামের কোন মিল নেই। খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেরা দাম নির্ধারণ করে পণ্য বিক্রি করছেন। কোন পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু পরে সেই পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দাম আর কমে না। বিধায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষজন বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়ছেন। মাঝেমধ্যে ভোক্তা অধিকার থেকে অভিযানে নামলেও এর স্থায়ী কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি সমস্যাটি যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি হতাশ হয়ে পড়বেন এবং একদিন এটি উচ্চকন্ঠ ক্ষোভে রূপ নিবে। তাই রাষ্ট্রের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছি, সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
লোটাস জাহাঙ্গীর
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
বর্তমানে বাংলাদেশে গভীর সংকট গুলোর মধ্যে অন্যতম লাগামহীন মূল্যস্ফীতি। দেশের প্রায় ২০% জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত, যা প্রায় ৩ থেকে ৪ কোটি মানুষ। মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের ভোগ চাহিদা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু এখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ক্রয় ক্ষমতা তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি, ডিম থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, যাতায়াত, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়- সবকিছুই মধ্যবিত্ত লোকজনের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন দিনমজুর, রিকশা চালক, হকার, কৃষক ও স্বল্প বেতনের বেসরকারি-চাকরিজীবী লোকজন।
মূল্যস্ফীতির পেছনে কয়েকটি কারণকে দায়ী করা যায়- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, ডলার সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, বাজার সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাব। এছাড়াও ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণেও মূল্যস্ফীতি দেখা দিচ্ছে।
দুঃখজনক হলো, সরকার নির্ধারিত দামের সাথে খুচরা বাজারের দামের কোন মিল নেই। খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেরা দাম নির্ধারণ করে পণ্য বিক্রি করছেন। কোন পণ্যের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিলে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু পরে সেই পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও দাম আর কমে না। বিধায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষজন বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়ছেন। মাঝেমধ্যে ভোক্তা অধিকার থেকে অভিযানে নামলেও এর স্থায়ী কোন সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি সমস্যাটি যদি নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তাহলে মধ্যবিত্ত শ্রেণি হতাশ হয়ে পড়বেন এবং একদিন এটি উচ্চকন্ঠ ক্ষোভে রূপ নিবে। তাই রাষ্ট্রের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছি, সমস্যাটি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিন।
লোটাস জাহাঙ্গীর
শিক্ষার্থী, ইতিহাস বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়