alt

মতামত » চিঠিপত্র

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

: সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

আমরা প্রতিদিন বাজারে যাই, দোকান থেকে জিনিস কিনি, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল দিই, মোবাইল রিচার্জ করিÑএই সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ভ্যাট ও কর। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, যে টাকাটা দিচ্ছি, তার একটি অংশ সরাসরি যাচ্ছে রাষ্ট্রের তহবিলে। ভ্যাট ও কর আমাদের জীবনের নীরব সঙ্গী, যা চোখে না দেখলেও প্রতিদিনই আমাদের খরচের তালিকায় যোগ হয়।

শহরের ছোট দোকানি সালাম চাচা বলেন, “আগে এক কেজি চাল কিনলে যত টাকা লাগত, এখন তার চেয়ে বেশি লাগে। শুধু চালের দামই নয়, ভ্যাট-করও বাড়তি চাপ।” আবার গৃহিণী রাশেদা আপা হিসাব করেন, মাস শেষে বাজার, বিদ্যুৎ, গ্যাস আর ইন্টারনেট বিল মিলিয়ে সংসারের খরচ যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই বাড়তি খরচের একটি বড় অংশই আসে ভ্যাট ও কর থেকে।

ভ্যাট মূলত পণ্য ও সেবার ওপর আরোপ করা একটি কর। আমরা যখন সাবান, কাপড়, খাবার বা মোবাইল সেবা ব্যবহার করি, তখন তার দামের ভেতরেই ভ্যাট যুক্ত থাকে। করের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা দিয়ে রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু ও অন্যান্য জনসেবা গড়ে তোলা হয়। অর্থাৎ আমরা যে টাকা দিই, সেটাই আবার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ফিরে আসে আমাদেরই জীবনে।

কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন সাধারণ মানুষের আয় বাড়ে না, অথচ পণ্যের দাম ও ভ্যাট-কর বাড়তে থাকে। তখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, করের বোঝা যেন সমানভাবে ভাগ হয় না।

এখানেই আসে ন্যায্যতার প্রশ্ন। বড় আয়ের মানুষ ও বড় প্রতিষ্ঠানের কর দেয়া যেমন জরুরি, তেমনি কর ব্যবস্থাকে হতে হবে স্বচ্ছ ও মানবিক। যদি সবাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কর দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমে।

তবে আশার কথাও আছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকার দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় পণ্যে ভ্যাট কম রাখে বা ছাড় দেয়, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সহনীয় থাকে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ায় হয়রানি কিছুটা কমেছে।

ভ্যাট ও কর কোনো শত্রু নয়, এগুলো উন্নয়নের হাতিয়ার। কিন্তু এই হাতিয়ার যেন সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্টের কারণ না হয়, সে দিকেও নজর দিতে হবে। সালাম চাচা বা রাশেদা আপার মতো মানুষরা যদি বুঝতে পারেন, তাদের দেয়া টাকায় তাদেরই সন্তানের স্কুল ভালো হচ্ছে, হাসপাতাল উন্নত হচ্ছে, রাস্তাঘাট নিরাপদ হচ্ছেÑতাহলে কর দেয়াটা আর শুধু বাধ্যবাধকতা নয়, হয়ে উঠবে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও গর্বের বিষয়।

একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও মানবিক কর ব্যবস্থা গড়ে উঠলেই ভ্যাট-কর আর ভয়ের শব্দ থাকবে না, বরং তা হয়ে উঠবে উন্নয়নের আশার।

কাজী মাধুর্য রহমান

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

অনুমতি উঠে গেল, বিবেক কি ছুটিতে?

খেজুর রসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

শীতের তীব্রতায় মানবিকতার আলো জ্বালাই

আইনশৃঙ্খলার অবনতি: কঠোর পদক্ষেপ জরুরি

চাকরির বিজ্ঞাপন আছে, চাকরি নেই

tab

মতামত » চিঠিপত্র

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমরা প্রতিদিন বাজারে যাই, দোকান থেকে জিনিস কিনি, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল দিই, মোবাইল রিচার্জ করিÑএই সবকিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ভ্যাট ও কর। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, যে টাকাটা দিচ্ছি, তার একটি অংশ সরাসরি যাচ্ছে রাষ্ট্রের তহবিলে। ভ্যাট ও কর আমাদের জীবনের নীরব সঙ্গী, যা চোখে না দেখলেও প্রতিদিনই আমাদের খরচের তালিকায় যোগ হয়।

শহরের ছোট দোকানি সালাম চাচা বলেন, “আগে এক কেজি চাল কিনলে যত টাকা লাগত, এখন তার চেয়ে বেশি লাগে। শুধু চালের দামই নয়, ভ্যাট-করও বাড়তি চাপ।” আবার গৃহিণী রাশেদা আপা হিসাব করেন, মাস শেষে বাজার, বিদ্যুৎ, গ্যাস আর ইন্টারনেট বিল মিলিয়ে সংসারের খরচ যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই বাড়তি খরচের একটি বড় অংশই আসে ভ্যাট ও কর থেকে।

ভ্যাট মূলত পণ্য ও সেবার ওপর আরোপ করা একটি কর। আমরা যখন সাবান, কাপড়, খাবার বা মোবাইল সেবা ব্যবহার করি, তখন তার দামের ভেতরেই ভ্যাট যুক্ত থাকে। করের মাধ্যমে সরকার রাজস্ব সংগ্রহ করে, যা দিয়ে রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, সেতু ও অন্যান্য জনসেবা গড়ে তোলা হয়। অর্থাৎ আমরা যে টাকা দিই, সেটাই আবার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ফিরে আসে আমাদেরই জীবনে।

কিন্তু সমস্যা হয় তখন, যখন সাধারণ মানুষের আয় বাড়ে না, অথচ পণ্যের দাম ও ভ্যাট-কর বাড়তে থাকে। তখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে। সীমিত আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। অনেকেই মনে করেন, করের বোঝা যেন সমানভাবে ভাগ হয় না।

এখানেই আসে ন্যায্যতার প্রশ্ন। বড় আয়ের মানুষ ও বড় প্রতিষ্ঠানের কর দেয়া যেমন জরুরি, তেমনি কর ব্যবস্থাকে হতে হবে স্বচ্ছ ও মানবিক। যদি সবাই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কর দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কিছুটা হলেও কমে।

তবে আশার কথাও আছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকার দরিদ্র ও প্রয়োজনীয় পণ্যে ভ্যাট কম রাখে বা ছাড় দেয়, যাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সহনীয় থাকে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হওয়ায় হয়রানি কিছুটা কমেছে।

ভ্যাট ও কর কোনো শত্রু নয়, এগুলো উন্নয়নের হাতিয়ার। কিন্তু এই হাতিয়ার যেন সাধারণ মানুষের জীবনে কষ্টের কারণ না হয়, সে দিকেও নজর দিতে হবে। সালাম চাচা বা রাশেদা আপার মতো মানুষরা যদি বুঝতে পারেন, তাদের দেয়া টাকায় তাদেরই সন্তানের স্কুল ভালো হচ্ছে, হাসপাতাল উন্নত হচ্ছে, রাস্তাঘাট নিরাপদ হচ্ছেÑতাহলে কর দেয়াটা আর শুধু বাধ্যবাধকতা নয়, হয়ে উঠবে দেশের প্রতি দায়িত্ব ও গর্বের বিষয়।

একটি ন্যায্য, স্বচ্ছ ও মানবিক কর ব্যবস্থা গড়ে উঠলেই ভ্যাট-কর আর ভয়ের শব্দ থাকবে না, বরং তা হয়ে উঠবে উন্নয়নের আশার।

কাজী মাধুর্য রহমান

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

back to top