মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
অনেক বাবা-মা আজও স্বপ্ন দেখেন-ছেলে বা মেয়ে বড় হয়ে পড়াশোনা শেষ করবে, ভালো কিছু শিখে একদিন নিজের গ্রামে ফিরে এসে পরিবার ও সমাজের জন্য কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ আর ফিরে আসতে চান না। শহরেই তারা চাকরি নেন, সংসার গড়েন, ধীরে ধীরে গ্রামের সঙ্গে সম্পর্কটাও কেবল উৎসব বা ছুটির দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কিছু বাস্তব কারণ, যা বুঝতে হলে তরুণদের অবস্থান থেকেও ভাবতে হবে।
সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাজের সুযোগের অভাব। একজন তরুণ অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি কাজ চান, যেখানে তার শিক্ষা ও দক্ষতার মূল্য থাকবে। কিন্তু অনেক গ্রামেই এখনো তেমন চাকরি বা পেশার সুযোগ নেই। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই গ্রামে ফিরে যেতে পারেন না। তারা মনে করেন, শহরে থাকলে অন্তত নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আরেকটি বড় বিষয় হলো জীবনযাপনের সুবিধা। শহরে উন্নত হাসপাতাল, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুত ইন্টারনেট ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা-এসব সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি। ভবিষ্যতে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভাবলে অনেক তরুণই শহরকে বেশি নিরাপদ মনে করেন। তাই গ্রামের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বাস্তবতার কারণে শহরেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শহরে একই কাজ করে তুলনামূলক বেশি আয় করা যায়, আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হয়। পরিবারকে সহায়তা করা, নিজের জীবন গুছিয়ে নেয়া-এসব চিন্তা থেকেই অনেক তরুণ শহর ছাড়তে চান না।
আরও একটি বাস্তবতা হলো, অনেক সময় গ্রামে নতুন কিছু করতে চাইলে তরুণরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান না। নতুন ব্যবসা বা নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের সন্দেহ বা নিরুৎসাহের মুখে পড়তে হয়। এতে তাদের উৎসাহ কমে যায় এবং তারা শহরকেই নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন।
তবে সত্যি কথা হলো, অধিকাংশ তরুণের মনেই নিজের গ্রামের প্রতি এক ধরনের টান থাকে। সুযোগ ও পরিবেশ পেলে তারা অনেকেই গ্রামে ফিরে এসে কিছু করতে চান-নিজের মানুষের জন্য, নিজের এলাকার উন্নতির জন্য। তাই গ্রামে যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায়, প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরি হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয়, তাহলে অনেক শিক্ষিত তরুণই আবার গ্রামে ফিরে আসতে আগ্রহী হবেন।
গ্রাম শুধু একটি বসবাসের জায়গা নয়; এটি দেশের শিকড়। সেই শিকড়কে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষিত তরুণদের আবার গ্রামমুখী করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সুযোগ পেলে তারা ফিরবেই-কারণ নিজের মাটির টান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।
কাজী মাধুর্য রহমান
শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
অনেক বাবা-মা আজও স্বপ্ন দেখেন-ছেলে বা মেয়ে বড় হয়ে পড়াশোনা শেষ করবে, ভালো কিছু শিখে একদিন নিজের গ্রামে ফিরে এসে পরিবার ও সমাজের জন্য কাজ করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণ আর ফিরে আসতে চান না। শহরেই তারা চাকরি নেন, সংসার গড়েন, ধীরে ধীরে গ্রামের সঙ্গে সম্পর্কটাও কেবল উৎসব বা ছুটির দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে কিছু বাস্তব কারণ, যা বুঝতে হলে তরুণদের অবস্থান থেকেও ভাবতে হবে।
সবচেয়ে বড় কারণ হলো কাজের সুযোগের অভাব। একজন তরুণ অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করার পর স্বাভাবিকভাবেই এমন একটি কাজ চান, যেখানে তার শিক্ষা ও দক্ষতার মূল্য থাকবে। কিন্তু অনেক গ্রামেই এখনো তেমন চাকরি বা পেশার সুযোগ নেই। ফলে ইচ্ছা থাকলেও অনেকেই গ্রামে ফিরে যেতে পারেন না। তারা মনে করেন, শহরে থাকলে অন্তত নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
আরেকটি বড় বিষয় হলো জীবনযাপনের সুবিধা। শহরে উন্নত হাসপাতাল, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুত ইন্টারনেট ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা-এসব সুবিধা তুলনামূলকভাবে বেশি। ভবিষ্যতে সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের চিকিৎসা কিংবা নিজের ক্যারিয়ারের কথা ভাবলে অনেক তরুণই শহরকে বেশি নিরাপদ মনে করেন। তাই গ্রামের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও বাস্তবতার কারণে শহরেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। শহরে একই কাজ করে তুলনামূলক বেশি আয় করা যায়, আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা সহজ হয়। পরিবারকে সহায়তা করা, নিজের জীবন গুছিয়ে নেয়া-এসব চিন্তা থেকেই অনেক তরুণ শহর ছাড়তে চান না।
আরও একটি বাস্তবতা হলো, অনেক সময় গ্রামে নতুন কিছু করতে চাইলে তরুণরা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পান না। নতুন ব্যবসা বা নতুন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে গেলে নানা ধরনের সন্দেহ বা নিরুৎসাহের মুখে পড়তে হয়। এতে তাদের উৎসাহ কমে যায় এবং তারা শহরকেই নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন।
তবে সত্যি কথা হলো, অধিকাংশ তরুণের মনেই নিজের গ্রামের প্রতি এক ধরনের টান থাকে। সুযোগ ও পরিবেশ পেলে তারা অনেকেই গ্রামে ফিরে এসে কিছু করতে চান-নিজের মানুষের জন্য, নিজের এলাকার উন্নতির জন্য। তাই গ্রামে যদি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো যায়, প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ তৈরি হয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয়, তাহলে অনেক শিক্ষিত তরুণই আবার গ্রামে ফিরে আসতে আগ্রহী হবেন।
গ্রাম শুধু একটি বসবাসের জায়গা নয়; এটি দেশের শিকড়। সেই শিকড়কে শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষিত তরুণদের আবার গ্রামমুখী করার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। সুযোগ পেলে তারা ফিরবেই-কারণ নিজের মাটির টান কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না।
কাজী মাধুর্য রহমান
শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়