মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
জীবিকার সন্ধানে ও পরিবারের স্বচ্ছলতা কথা ভেবে মাতৃভূমি যারা ছেড়ে বিদেশে পরিশ্রম করে এবং অর্থ দেশে প্রেরণা করে তাদেরকে প্রবাসী বলে। প্রবাসীদের আমরা ভালোবেসে নাম দিয়েছি ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’। আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসা বুকে নিয়ে বুকের ঠিক পাশে তারা অদৃশ্য ক্যালকুলেটর নিয়ে পরিমাপ করে কতটুকু উপার্জন করলে তার পরিবার ভালো থাকবে। সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর আপনজনের থেকে দূরে এই প্রবাসীরা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করে। মা, মাটি দেশের জন্য প্রান আকুল হলেও দিনের পর দিন তারা অতিবাহিত করে কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এবং দেশের রেমিট্যান্স খাতে যোগান দিয়ে।
কিন্তু দিনশেষে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পায় মানসিক ও শারিরীক নিঃসঙ্গতা এবং হাড় ভাঙা পরিশ্রম শেষে চার দেয়ালে বন্ধি জীবন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, প্রায় ৬০% প্রবাসী মাতৃভূমি ও আপনজনদের ছেড়ে থাকার কারনে “হোম সিকনেস”-এ ভোগে যা তাদের কাজের উদ্যাম কমিয়ে দেয়।
জরিপে দেখা গিয়েছে, অনেক প্রবাসী দিনে প্রায় ১২/১৪ ঘন্টা পরিশ্রম করে বিশ্রামের অভাবে নিঃসঙ্গতার চাপ সামলাতে না পেরে অকালে হৃদরোগে ভোগে। আবার বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যানে ভিডিও কলে যোগাযোগ সহজ হলেও প্রায় ৯২% প্রবাসীরা মনে করেন পর্দার অপারের ভালোবাসা কখনোই উপস্থিতির অভাব পূরন করতে পারে না।
পরিবার থেকে দূরে থাকার কারনে তাদের অস্তিত্ব পরিবারের কাছে বিলীন হয়ে যায় ফলে অনেক প্রবাসী পরিবারের কাছে শুধুমাত্র টাকা পাঠানোর যন্ত্রে পরিনত হয়। প্রিয়জনদের এমন মানসিকতা নিদারুণ আঘাত দেয় এসব প্রবাসীদের। পরিবারকে ঠিকমতো সময় না দেওয়ার কারনে পরিবারে তাদের মর্যাদা কমে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়।
প্রবাসীরা কেবল অর্থ উপার্জনকারী মানুষ নন-তারা একেকজন নীরব যোদ্ধা, যাদের ঘামে ভিজে থাকে দেশের অর্থনীতির ভিত। দূরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা প্রতিদিন হিসাব কষেন নিজের স্বপ্ন আর পরিবারের প্রয়োজনের মাঝে। নিজের আনন্দ, সময়, এমনকি আবেগকেও তারা বিসর্জন দেন প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়। অথচ এই আত্মত্যাগের গল্পগুলো প্রায়ই অগোচরেই থেকে যায়।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবন বাহ্যিকভাবে সফল মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকে নিঃসঙ্গতা, অব্যক্ত কষ্ট আর ক্লান্তি। ভিডিও কলের পর্দার এপাশ-ওপাশে জমে থাকা ভালোবাসা কখনোই শূন্য বিছানা, নীরব ঘর কিংবা উৎসবের দিনে অনুপস্থিত মুখের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। অর্থনীতির পরিসংখ্যানে তারা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানবিক দৃষ্টিতে তাদের যন্ত্রে পরিণত হওয়াটা এক নির্মম বাস্তবতা।
তাই রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব শুধু তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের হিসাব রাখা নয়, বরং তাদের মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিদেশে থাকা অবস্থায় যেমন তাদের জন্য মানসিক সহায়তা, সামাজিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রয়োজন, তেমনি দেশে ফেরার পর প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। নইলে বছরের পর বছর প্রবাসজীবনের ত্যাগ অর্থহীন হয়ে পড়ে।
তানজিম হোসেন
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
জীবিকার সন্ধানে ও পরিবারের স্বচ্ছলতা কথা ভেবে মাতৃভূমি যারা ছেড়ে বিদেশে পরিশ্রম করে এবং অর্থ দেশে প্রেরণা করে তাদেরকে প্রবাসী বলে। প্রবাসীদের আমরা ভালোবেসে নাম দিয়েছি ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা’। আর্থিক স্বচ্ছলতার স্বপ্ন ও দেশের প্রতি ভালোবাসা বুকে নিয়ে বুকের ঠিক পাশে তারা অদৃশ্য ক্যালকুলেটর নিয়ে পরিমাপ করে কতটুকু উপার্জন করলে তার পরিবার ভালো থাকবে। সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর আপনজনের থেকে দূরে এই প্রবাসীরা নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করে। মা, মাটি দেশের জন্য প্রান আকুল হলেও দিনের পর দিন তারা অতিবাহিত করে কঠিন পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে এবং দেশের রেমিট্যান্স খাতে যোগান দিয়ে।
কিন্তু দিনশেষে এই রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পায় মানসিক ও শারিরীক নিঃসঙ্গতা এবং হাড় ভাঙা পরিশ্রম শেষে চার দেয়ালে বন্ধি জীবন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা গবেষকদের মতে, প্রায় ৬০% প্রবাসী মাতৃভূমি ও আপনজনদের ছেড়ে থাকার কারনে “হোম সিকনেস”-এ ভোগে যা তাদের কাজের উদ্যাম কমিয়ে দেয়।
জরিপে দেখা গিয়েছে, অনেক প্রবাসী দিনে প্রায় ১২/১৪ ঘন্টা পরিশ্রম করে বিশ্রামের অভাবে নিঃসঙ্গতার চাপ সামলাতে না পেরে অকালে হৃদরোগে ভোগে। আবার বর্তমানে ইন্টারনেটের কল্যানে ভিডিও কলে যোগাযোগ সহজ হলেও প্রায় ৯২% প্রবাসীরা মনে করেন পর্দার অপারের ভালোবাসা কখনোই উপস্থিতির অভাব পূরন করতে পারে না।
পরিবার থেকে দূরে থাকার কারনে তাদের অস্তিত্ব পরিবারের কাছে বিলীন হয়ে যায় ফলে অনেক প্রবাসী পরিবারের কাছে শুধুমাত্র টাকা পাঠানোর যন্ত্রে পরিনত হয়। প্রিয়জনদের এমন মানসিকতা নিদারুণ আঘাত দেয় এসব প্রবাসীদের। পরিবারকে ঠিকমতো সময় না দেওয়ার কারনে পরিবারে তাদের মর্যাদা কমে আসে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সন্তান পিতার স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়।
প্রবাসীরা কেবল অর্থ উপার্জনকারী মানুষ নন-তারা একেকজন নীরব যোদ্ধা, যাদের ঘামে ভিজে থাকে দেশের অর্থনীতির ভিত। দূরের মাটিতে দাঁড়িয়ে তারা প্রতিদিন হিসাব কষেন নিজের স্বপ্ন আর পরিবারের প্রয়োজনের মাঝে। নিজের আনন্দ, সময়, এমনকি আবেগকেও তারা বিসর্জন দেন প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায়। অথচ এই আত্মত্যাগের গল্পগুলো প্রায়ই অগোচরেই থেকে যায়।
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবন বাহ্যিকভাবে সফল মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে থাকে নিঃসঙ্গতা, অব্যক্ত কষ্ট আর ক্লান্তি। ভিডিও কলের পর্দার এপাশ-ওপাশে জমে থাকা ভালোবাসা কখনোই শূন্য বিছানা, নীরব ঘর কিংবা উৎসবের দিনে অনুপস্থিত মুখের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। অর্থনীতির পরিসংখ্যানে তারা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানবিক দৃষ্টিতে তাদের যন্ত্রে পরিণত হওয়াটা এক নির্মম বাস্তবতা।
তাই রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব শুধু তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের হিসাব রাখা নয়, বরং তাদের মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিদেশে থাকা অবস্থায় যেমন তাদের জন্য মানসিক সহায়তা, সামাজিক সংযোগ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ প্রয়োজন, তেমনি দেশে ফেরার পর প্রয়োজন পরিকল্পিত পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ। নইলে বছরের পর বছর প্রবাসজীবনের ত্যাগ অর্থহীন হয়ে পড়ে।
তানজিম হোসেন