মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, যদি কোনো জাতিকে (রাষ্ট্রকে) ধ্বংস করতে চাও তবে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আগে ধ্বংস করে দাও। আমরাও সেদিকে এগোচ্ছি কিনা তা ভাবার সময় এক্ষুণি!
আমাদের এমপিও ভূক্ত বেসরকারি স্কুল/কলেজগুলো বাংলাদেশে শিক্ষার আলো ছড়ানোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ইধহনবরং এর তথ্যমতে, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে বেসরকারি স্কুল ও কলেজে অধ্যায়নকারী ছাত্রছাত্রীর হার যথাক্রমে ৯৪ শতাংশ ও ৮৫ শতাংশ। কিন্তু শিক্ষকের তীব্র সংকট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণর করছে। সহকারী শিক্ষক শারীরিক শিক্ষা/শরীর চর্চার কথায় ধরা যাক, এনটিআরসি কর্তৃক প্রকাশিত (৭ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬) তথ্য মোতাবেক শারীরিক শিক্ষায় মোট শূণ্য পদের সংখ্যা ছিল ৪, ২৩৭, কিন্তু উপযুক্ত প্রার্থী না থাকায় এত বিপুল সংখ্যক শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করে মাত্র ১০১ জন অর্থাৎ সকলে যোগদান করলে পদ পূরণ হবে মাত্র ২ শতাংশ (প্রায়), আর অপূর্ণই থেকে যাবে প্রায় ৯৮ শতাংশ পদ। এত বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ ভবিষ্যতে পূরণ হবে কীভাবে, কারো জানা আছে কি! ভেবে দেখুন, অদূর ভবিষ্যতে স্কুল/কলেজগুলো কত বড় শিক্ষক সংকটে পড়তে যাচ্ছে! কোন পরিকল্পনা আছে কি এনটিআরসির? এ দায় কার?! সরকারের, নাকি জনগণের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, নাকি এনটিআরসিএ এর?
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায়, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে মোট ২৬৪৫ জন ভাইবাতে অংশগ্রহণকারী ছিল, যার বিপরীতে পাস করিয়েছে ১৭৩৭ জন; পাশের হার ৬৫.৭ শতাংশ, আর অনুত্তীর্ণের হার ৩৪.৩ শতাংশ, এটা কি করে সম্ভব! মৌখিক পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করেছিল, তারা প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে তবেই এসেছে। এদের (৬৫ শতাংশ অনুত্তীর্ণের) কি স্কুল/কলেজের কার্যক্রম চালানোর মতো সক্ষমতা ছিলনা? কোথা থেকে ভবিষ্যতে আসবে শূন্য পদ পূরণে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক?! দেখা গেছে, এই শিক্ষার্থীরা ভাল ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরব্যাপী বিপিএড (শারীরিক শিক্ষায় স্নাতক) সম্পন্ন করেছে, অধিকাংশের প্রথম শ্রেণী রয়েছে, অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে। অথচ, ১-২ মিনিটের ভাইবা-তে ৬৫ শতাংশ এর বেশি অকৃতকার্য তথা অযোগ্য প্রমাণিত, এটা কিভাবে সম্ভব?!
আর যদি শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকের গুরুত্বের কথায় আসা যায়, শারীরিক শিক্ষা দৈহিক (শারীরিক), মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ অন্যান্য বাস্তবমুখী শিক্ষার মাধ্যমে সুস্থ ও সবল জীবন গঠনে, চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনে এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ও আদর্শ নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনে সাহায্য করে। কাজেই শারীরিক শিক্ষকবিহীন স্কুল/কলেজকে মেরুদন্ডহীন মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে আখ্যা দেয়া যেতে পারে।
আবার, যারা শারীরিক শিক্ষায় স্নাতক সম্পন্ন করতে যায় তাদের সিংহভাগই অন্যান্য চাকরির জন্য চেষ্টা না করে বিপিএডর চূড়ান্ত ফলাফলসহ প্রায় ১.৫ বছর অতিবাহিত করে (বিপিএড কোর্স) এর পেছনে। গত ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে অনুত্তীর্ণ আন্দোলনরত এক প্রার্থীর মায়ের আহাজারী ও অসুস্থতা দেখে তা সহজে অনুমেয়; এমন ঘটনা শুধু একটাই নয়, অসংখ্য!
কাজেই রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের ভাবার চূড়ান্ত সময় এখনই, কারও অদূরদর্শী ভুল সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থা তথা জাতিকে ধ্বংস হতে দেয়া, নাকি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ তথা এনটিআরসিএ এর নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভাইবা-তে ঢালাও অযোগ্য ঘোষণা না করে তাদের শূন্যপদসমূহে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষকের তীব্র সংকট নিরসন করে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিত ধবংসের হাত থেকে রক্ষা করা।
সাহেব উদ্দীন
ধামইরহাট, নওগাঁ
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
রোববার, ০১ মার্চ ২০২৬
শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, যদি কোনো জাতিকে (রাষ্ট্রকে) ধ্বংস করতে চাও তবে তার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আগে ধ্বংস করে দাও। আমরাও সেদিকে এগোচ্ছি কিনা তা ভাবার সময় এক্ষুণি!
আমাদের এমপিও ভূক্ত বেসরকারি স্কুল/কলেজগুলো বাংলাদেশে শিক্ষার আলো ছড়ানোয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ইধহনবরং এর তথ্যমতে, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে বেসরকারি স্কুল ও কলেজে অধ্যায়নকারী ছাত্রছাত্রীর হার যথাক্রমে ৯৪ শতাংশ ও ৮৫ শতাংশ। কিন্তু শিক্ষকের তীব্র সংকট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণর করছে। সহকারী শিক্ষক শারীরিক শিক্ষা/শরীর চর্চার কথায় ধরা যাক, এনটিআরসি কর্তৃক প্রকাশিত (৭ম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি (বিশেষ)-২০২৬) তথ্য মোতাবেক শারীরিক শিক্ষায় মোট শূণ্য পদের সংখ্যা ছিল ৪, ২৩৭, কিন্তু উপযুক্ত প্রার্থী না থাকায় এত বিপুল সংখ্যক শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করে মাত্র ১০১ জন অর্থাৎ সকলে যোগদান করলে পদ পূরণ হবে মাত্র ২ শতাংশ (প্রায়), আর অপূর্ণই থেকে যাবে প্রায় ৯৮ শতাংশ পদ। এত বিপুল সংখ্যক শূন্য পদ ভবিষ্যতে পূরণ হবে কীভাবে, কারো জানা আছে কি! ভেবে দেখুন, অদূর ভবিষ্যতে স্কুল/কলেজগুলো কত বড় শিক্ষক সংকটে পড়তে যাচ্ছে! কোন পরিকল্পনা আছে কি এনটিআরসির? এ দায় কার?! সরকারের, নাকি জনগণের, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের, নাকি এনটিআরসিএ এর?
১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায়, শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে মোট ২৬৪৫ জন ভাইবাতে অংশগ্রহণকারী ছিল, যার বিপরীতে পাস করিয়েছে ১৭৩৭ জন; পাশের হার ৬৫.৭ শতাংশ, আর অনুত্তীর্ণের হার ৩৪.৩ শতাংশ, এটা কি করে সম্ভব! মৌখিক পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করেছিল, তারা প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় পাশ করে তবেই এসেছে। এদের (৬৫ শতাংশ অনুত্তীর্ণের) কি স্কুল/কলেজের কার্যক্রম চালানোর মতো সক্ষমতা ছিলনা? কোথা থেকে ভবিষ্যতে আসবে শূন্য পদ পূরণে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক?! দেখা গেছে, এই শিক্ষার্থীরা ভাল ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বছরব্যাপী বিপিএড (শারীরিক শিক্ষায় স্নাতক) সম্পন্ন করেছে, অধিকাংশের প্রথম শ্রেণী রয়েছে, অনেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক/স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছে। অথচ, ১-২ মিনিটের ভাইবা-তে ৬৫ শতাংশ এর বেশি অকৃতকার্য তথা অযোগ্য প্রমাণিত, এটা কিভাবে সম্ভব?!
আর যদি শারীরিক শিক্ষা শিক্ষকের গুরুত্বের কথায় আসা যায়, শারীরিক শিক্ষা দৈহিক (শারীরিক), মানসিক এবং সামাজিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ অন্যান্য বাস্তবমুখী শিক্ষার মাধ্যমে সুস্থ ও সবল জীবন গঠনে, চারিত্রিক গুণাবলী অর্জনে এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে ও আদর্শ নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনে সাহায্য করে। কাজেই শারীরিক শিক্ষকবিহীন স্কুল/কলেজকে মেরুদন্ডহীন মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে আখ্যা দেয়া যেতে পারে।
আবার, যারা শারীরিক শিক্ষায় স্নাতক সম্পন্ন করতে যায় তাদের সিংহভাগই অন্যান্য চাকরির জন্য চেষ্টা না করে বিপিএডর চূড়ান্ত ফলাফলসহ প্রায় ১.৫ বছর অতিবাহিত করে (বিপিএড কোর্স) এর পেছনে। গত ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে অনুত্তীর্ণ আন্দোলনরত এক প্রার্থীর মায়ের আহাজারী ও অসুস্থতা দেখে তা সহজে অনুমেয়; এমন ঘটনা শুধু একটাই নয়, অসংখ্য!
কাজেই রাষ্ট্র ও সুশীল সমাজের ভাবার চূড়ান্ত সময় এখনই, কারও অদূরদর্শী ভুল সিদ্ধান্তে শিক্ষাব্যবস্থা তথা জাতিকে ধ্বংস হতে দেয়া, নাকি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ তথা এনটিআরসিএ এর নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ভাইবা-তে ঢালাও অযোগ্য ঘোষণা না করে তাদের শূন্যপদসমূহে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষকের তীব্র সংকট নিরসন করে বাঙালি জাতিকে নিশ্চিত ধবংসের হাত থেকে রক্ষা করা।
সাহেব উদ্দীন
ধামইরহাট, নওগাঁ