alt

মতামত » চিঠিপত্র

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

আমাদের সমাজে নির্যাতনকে প্রায়ই একমাত্রিকভাবে দেখা হয়-ভুক্তভোগী মানেই নারী, অপরাধী মানেই পুরুষ। এই ধারণা বাস্তবতার সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়। বাস্তবতা হলো, নির্যাতনের লিঙ্গ নেই, সহিংসতার জেন্ডার নেই। তবু আইন, সমাজ ও বিচারব্যবস্থার কাঠামোতে পুরুষ ভুক্তভোগীরা প্রায় অদৃশ্য। তারা অভিযোগ করলে অনেক সময় হাসির পাত্র হয়, সন্দেহের চোখে দেখা হয়, কখনো আবার পরিস্থিতির জটিলতায় অপরাধীর আসনেই বসানো হয়। সমাজ যেন বিশ্বাসই করতে চায় না-পুরুষও ভুক্তভোগী হতে পারে।

পুরুষ নির্যাতন শুধু শারীরিক নয়-মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক শোষণও এর অংশ। সম্পর্কের ভেতরে মানসিক দমন, পরিবারে দায়িত্বের নামে চাপ, সামাজিকভাবে অপমান, আর্থিক শোষণ-এসবই নির্যাতনেরই রূপ। কিন্তু এসবের স্বীকৃতি নেই আইনি ভাষায়, নেই সামাজিক কথোপকথনে। ফলে পুরুষ ভুক্তভোগীরা নীরব থাকতে বাধ্য হয়-লজ্জায়, ভয়ে, অবিশ্বাসের আশঙ্কায়, আর সবচেয়ে বড় কথা সমাজের “পুরুষ মানেই শক্ত” ধারণার চাপে।

এই নীরবতা আসলে কোনো শক্তির পরিচয় নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক বন্দিত্ব। যেখানে কষ্ট প্রকাশ করাও দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে নির্যাতন শুধু ব্যক্তিগত ট্রমা হয়ে থাকে না, বরং একটি সামাজিক অদৃশ্য সংকটে পরিণত হয়।

ন্যায়বিচার যদি সত্যিই ন্যায়বিচার হয়, তবে তা জেন্ডারভিত্তিক হতে পারে না। বিচারব্যবস্থাকে হতে হবে মানুষকেন্দ্রিক, সহানুভূতিকেন্দ্রিক এবং জেন্ডার-নিরপেক্ষ। ভুক্তভোগীর পরিচয় নারী না পুরুষ-এই প্রশ্নের আগে আসতে হবে একটি প্রশ্নই: সে কি নির্যাতিত? আইনের চোখে মানুষ আগে, জেন্ডার পরে-এই নৈতিক বোধ জন্ম না নিলে ন্যায়বিচার শুধু শব্দেই থাকবে, বাস্তবে নয়। কারণ ন্যায়বিচার যদি অন্ধ হয়, তবে তাকে জেন্ডারও দেখতে নেই।

পুরুষ নির্যাতনের আইনি অদৃশ্যতা একটি গুরুতর সামাজিক এবং ন্যায়বিচারের সমস্যা। আমার মতামত হলো, সমাজে লিঙ্গভিত্তিক ধারণাগুলো বদলানো অত্যন্ত জরুরি। পুরুষদের নির্যাতনের প্রতি অবহেলা শুধু ভুক্তভোগীদের নয়, সমাজের ন্যায়বোধকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইন ও নীতি তৈরি করতে হবে যা লিঙ্গনির্বিশেষে নির্যাতনের প্রতিকার নিশ্চিত করে।

সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। মিডিয়া ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলো পুরুষ নির্যাতনের বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরতে পারে। এছাড়া পুরুষ ভুক্তভোগীদের মানসিক ও কাউন্সেলিং সাপোর্ট দেয়া প্রয়োজন, যাতে তারা লজ্জা বা ভয় ছাড়াই সাহায্য চাইতে পারে।

পুরুষ নির্যাতনের স্বীকৃতি এবং জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার সমাজে সমতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পুরুষদের জন্য নয়, সমগ্র সমাজের ন্যায় ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

পুরুষ নির্যাতনের আইনি অদৃশ্যতা কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি ন্যায়বিচারের প্রতিফলনহীনতাও বয়ে আনে। সমাজ যখন পুরুষদের ভুক্তভোগিতা উপেক্ষা করে, তখন একটি অদৃশ্য দাগ পড়ে মানবিক ন্যায়বোধের মধ্যে। সাহিত্যিকভাবে বললে, এটি সেই অচেনা ছায়া, যা আলোয় আসে না, কিন্তু অন্তরুষর কাঁপিয়ে রাখে।

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার একমাত্র পথ, যা এই ছায়াকে আলোর মুখ দেখাতে পারে। আইন, নীতি, সচেতনতা ও সামাজিক সমর্থন একত্রিত হলে পুরুষদেরও কণ্ঠ গাইলের মতো উচ্চারণ পাওয়া সম্ভব। এটি শুধু নির্যাতিত পুরুষদের মুক্তি দেবে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিক শক্তিকে পুনর্গঠন করবে। যখন লিঙ্গনির্বিশেষে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে, তখন সমতার সূর্য উদিত হবে-যা প্রত্যেক মানুষের অন্তরে শান্তি ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনবে। মানবিকতার এই আলোকময় পথে সমাজ ধীরে ধীরে সত্যিকার সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখতে পারবে।

সানিয়া তাসনিম লামিয়া

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

নতুন সরকারের অগ্রাধিকার হোক কর্মসংস্থান

নারী-পুরুষ বৈষম্য:সমাজে লুকানো চ্যালেঞ্জ

শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস

রাজনীতিতে সুবিধাবাদীদের দূরীকরণ এবং সঠিক সঙ্গী নির্বাচনের দাবি

ড্রাইভিং লাইসেন্স সংগ্রহে জনভোগান্তি

ভাষার মাসে বাংলা চর্চার অঙ্গীকার

মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য-সচেতনতা হোক দায়িত্ব

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিঃসঙ্গ জীবন

একটা মোড়ের কত নাম

শহরের পানিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

tab

মতামত » চিঠিপত্র

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার দরকার

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আমাদের সমাজে নির্যাতনকে প্রায়ই একমাত্রিকভাবে দেখা হয়-ভুক্তভোগী মানেই নারী, অপরাধী মানেই পুরুষ। এই ধারণা বাস্তবতার সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়। বাস্তবতা হলো, নির্যাতনের লিঙ্গ নেই, সহিংসতার জেন্ডার নেই। তবু আইন, সমাজ ও বিচারব্যবস্থার কাঠামোতে পুরুষ ভুক্তভোগীরা প্রায় অদৃশ্য। তারা অভিযোগ করলে অনেক সময় হাসির পাত্র হয়, সন্দেহের চোখে দেখা হয়, কখনো আবার পরিস্থিতির জটিলতায় অপরাধীর আসনেই বসানো হয়। সমাজ যেন বিশ্বাসই করতে চায় না-পুরুষও ভুক্তভোগী হতে পারে।

পুরুষ নির্যাতন শুধু শারীরিক নয়-মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক শোষণও এর অংশ। সম্পর্কের ভেতরে মানসিক দমন, পরিবারে দায়িত্বের নামে চাপ, সামাজিকভাবে অপমান, আর্থিক শোষণ-এসবই নির্যাতনেরই রূপ। কিন্তু এসবের স্বীকৃতি নেই আইনি ভাষায়, নেই সামাজিক কথোপকথনে। ফলে পুরুষ ভুক্তভোগীরা নীরব থাকতে বাধ্য হয়-লজ্জায়, ভয়ে, অবিশ্বাসের আশঙ্কায়, আর সবচেয়ে বড় কথা সমাজের “পুরুষ মানেই শক্ত” ধারণার চাপে।

এই নীরবতা আসলে কোনো শক্তির পরিচয় নয়, এটি এক ধরনের সামাজিক বন্দিত্ব। যেখানে কষ্ট প্রকাশ করাও দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়, সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে নির্যাতন শুধু ব্যক্তিগত ট্রমা হয়ে থাকে না, বরং একটি সামাজিক অদৃশ্য সংকটে পরিণত হয়।

ন্যায়বিচার যদি সত্যিই ন্যায়বিচার হয়, তবে তা জেন্ডারভিত্তিক হতে পারে না। বিচারব্যবস্থাকে হতে হবে মানুষকেন্দ্রিক, সহানুভূতিকেন্দ্রিক এবং জেন্ডার-নিরপেক্ষ। ভুক্তভোগীর পরিচয় নারী না পুরুষ-এই প্রশ্নের আগে আসতে হবে একটি প্রশ্নই: সে কি নির্যাতিত? আইনের চোখে মানুষ আগে, জেন্ডার পরে-এই নৈতিক বোধ জন্ম না নিলে ন্যায়বিচার শুধু শব্দেই থাকবে, বাস্তবে নয়। কারণ ন্যায়বিচার যদি অন্ধ হয়, তবে তাকে জেন্ডারও দেখতে নেই।

পুরুষ নির্যাতনের আইনি অদৃশ্যতা একটি গুরুতর সামাজিক এবং ন্যায়বিচারের সমস্যা। আমার মতামত হলো, সমাজে লিঙ্গভিত্তিক ধারণাগুলো বদলানো অত্যন্ত জরুরি। পুরুষদের নির্যাতনের প্রতি অবহেলা শুধু ভুক্তভোগীদের নয়, সমাজের ন্যায়বোধকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইন ও নীতি তৈরি করতে হবে যা লিঙ্গনির্বিশেষে নির্যাতনের প্রতিকার নিশ্চিত করে।

সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। মিডিয়া ও সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলো পুরুষ নির্যাতনের বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরতে পারে। এছাড়া পুরুষ ভুক্তভোগীদের মানসিক ও কাউন্সেলিং সাপোর্ট দেয়া প্রয়োজন, যাতে তারা লজ্জা বা ভয় ছাড়াই সাহায্য চাইতে পারে।

পুরুষ নির্যাতনের স্বীকৃতি এবং জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার সমাজে সমতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু পুরুষদের জন্য নয়, সমগ্র সমাজের ন্যায় ও উন্নতির জন্য অপরিহার্য।

পুরুষ নির্যাতনের আইনি অদৃশ্যতা কেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি ন্যায়বিচারের প্রতিফলনহীনতাও বয়ে আনে। সমাজ যখন পুরুষদের ভুক্তভোগিতা উপেক্ষা করে, তখন একটি অদৃশ্য দাগ পড়ে মানবিক ন্যায়বোধের মধ্যে। সাহিত্যিকভাবে বললে, এটি সেই অচেনা ছায়া, যা আলোয় আসে না, কিন্তু অন্তরুষর কাঁপিয়ে রাখে।

জেন্ডার-নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার একমাত্র পথ, যা এই ছায়াকে আলোর মুখ দেখাতে পারে। আইন, নীতি, সচেতনতা ও সামাজিক সমর্থন একত্রিত হলে পুরুষদেরও কণ্ঠ গাইলের মতো উচ্চারণ পাওয়া সম্ভব। এটি শুধু নির্যাতিত পুরুষদের মুক্তি দেবে না, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিক শক্তিকে পুনর্গঠন করবে। যখন লিঙ্গনির্বিশেষে ন্যায় প্রতিষ্ঠা পাবে, তখন সমতার সূর্য উদিত হবে-যা প্রত্যেক মানুষের অন্তরে শান্তি ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনবে। মানবিকতার এই আলোকময় পথে সমাজ ধীরে ধীরে সত্যিকার সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখতে পারবে।

সানিয়া তাসনিম লামিয়া

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

back to top