alt

মতামত » চিঠিপত্র

চাকরিতে বয়স বৃদ্ধি : বাড়তে পারে দীর্ঘকালীন বেকারত্ব চক্র

: শনিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৪

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর নারীদের জন্য ৩৭ বছর নির্ধারিত হয়েছে। চাকরিতে বয়োবৃদ্ধির এই যৌক্তিক দাবি বেশ পুরনো। অনেক আগে থেকেই এই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। বর্তমানে চাকরির বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর এবং অবসরের ক্ষেত্রে ৫৯ বছর। মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের জন্য ব্যতিক্রম বয়সসীমা চালু রয়েছে। এই প্রস্তাবটি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’, গত ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদে আবেদন করেছে। এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির কাজ যেহেতু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ে, তাই মন্ত্রিপরিষদ গত ১৮ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিকট হস্তান্তর করে।

সাময়িকভাবে সুপারিশটি সুফলতা আনলেও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের নানান জটিলতা করোনা মহামারী, কোটা আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বৈরাচারের পতন, রাষ্ট্র সংস্কার, নতুন সরকার গঠন; এসব কারণে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিটি দৃঢ় রূপ ধারণ করে। স্থায়ীভাবে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়বে। বেকারত্ব একটি জাতির জন্য অভিশাপ বয়ে আনে। চাকরির বয়োবৃদ্ধির ফলে উচ্চতম গ্রেডে চাকরির আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। অনেকে হয়তো পূর্ব অভিজ্ঞতা দ্বারা অনুমোদন পেতে পারে তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে কর্মস্পৃহা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে তরুণ প্রজন্মের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। তাদের কর্ম দক্ষতা বয়স্কদের তুলনায় বেশি। যেকোনো গ্রেডের চাকরির ক্ষেত্রে বেশি আবেদন সংখ্যা হলে দীর্ঘমেয়াদে তা সামাল দেয়া রাষ্ট্রের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর অন্তত এক বছর লাগে সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে। অনেক সময় এর বেশি সময় লাগতে পারে। শুধু তাই নয় চাকরিতে প্রবেশের সময় বাড়ালে বাড়াতে হবে অবসেরর বয়সসীমা। এতো সময় পার করার পর পূর্বের স্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়।

গ্র্যাজুয়েশনের পর এতোটা লম্বা সময় সরকারি চাকরির পিছনে ছুটলে নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে মেধা ও কর্মক্ষমতা অনুযায়ী মেধাবী ব্যক্তির অভাব দেখা দিবে। যার ফলে রাষ্ট্রের চলমান কাজে অস্থিতিশীলতার দেখা মিলবে। এতো দেরীতে চাকরি জগতে প্রবেশ করার ফলে সরকারি চাকরির বাহিরে অন্য যেসব কর্মক্ষেত্র রয়েছে সেখানে যোগ্য ব্যক্তির অভাব দেখা দিবে। গ্রোতে গাঁ ভাসানোর মতো সবার সাথে তাল মিলিয়ে শুধু একমুখী হলে নিজের মেধার মুল্যায়ন হয় না। তবে এতোসবের পরেও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবটি জনসাধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষিত অনেকে দীর্ঘকালীন বেকারত্বের চক্রে আটকে পড়তে পারেন- এমন আশংকাও আছে অনেকের মধ্যে।

জান্নাতুল মাওয়া ছিমিন

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

স্কুলে নির্যাতন: আদর্শের আড়ালে বাস্তবতা

টেলিটকে ওয়াইফাই কলিং: সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সম্ভাবনা

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

ইজি বাইক থেকে খাবারের থালা: সিসার ছায়া আমাদের চারপাশে

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান মডেল: বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় শিক্ষা ও নীতি

গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষির অবদান

শহরের পাখিরা যখন মরার প্রহর গুনে

ধর্মের নামে বর্বরতা

টেকসই শহরের একান্ত প্রয়োজন

সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি

সুন্দরবনের বাঘ ও জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : আর্শীবাদ নাকি অভিশাপ

সমুদ্রগবেষণায় পশ্চাৎপদতা মৎস্য খাতের ভবিষ্যৎকেই ঝুঁকিতে ফেলছে

কিশোর গ্যাং–সংস্কৃতি: সমাজের জন্য বাড়তে থাকা অশনি সংকেত

ডিগ্রি হাতে, চাকরি স্বপ্নে: শিক্ষিত বেকারদের মানসিক ক্ষয়

সরকারি কর্মচারীদের কর্মেই মুক্তি নাকি আন্দোলনে?

কর্মজীবী নারীর অদৃশ্য মানসিক বোঝা

নগর সংস্কৃতিতে ঐতিহ্যের বিলুপ্তি

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আগাম সতর্কবার্তাই কি যথেষ্ট?

সুলতানপুরে করতোয়া নদীর তাণ্ডব: নদীভাঙনে মানুষের জীবন বিপন্ন

ফ্রিল্যান্সিংয়ে সম্ভাবনা বিস্তৃত, অনিয়মের ছায়াও গভীর

গেন্ডারিয়ায় সড়ক ও ড্রেন সংস্কারে অনিয়ম: জনদূর্ভোগ বৃদ্ধি

প্রবীণদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি

পলিভিনাইলের ব্যবহার প্রতিরোধ জরুরি

বৈধ সনদধারীদের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি

টেকসই দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জরুরি বাস্তব পদক্ষেপ প্রয়োজন

জলবায়ু পরিবর্তন ও নারী ও কিশোরীদের ঝুঁকি

মেধা হারাচ্ছে দেশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় : অযৌক্তিক ফি, সেশনজট ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত শিক্ষার্থী

সামাজিক মাধ্যমের ভুবনে জনতুষ্টিবাদের নতুন রূপ

ভেজাল খেজুরগুড় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনিক ক্যাডারের প্রয়োজনীয়তা

প্লাস্টিক বর্জ্যে মাছের মৃত্যু: সমাধান কোথায়

খোলা ম্যানহোল: ঢাকার রাজপথে এক নীরব মরণফাঁদ

গণপরিবহন: প্রতিদিনের যন্ত্রণার শেষ কবে?

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের পুনর্জাগরণ

tab

মতামত » চিঠিপত্র

চাকরিতে বয়স বৃদ্ধি : বাড়তে পারে দীর্ঘকালীন বেকারত্ব চক্র

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শনিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৪

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৫ বছর বাড়িয়ে ৩৫ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর নারীদের জন্য ৩৭ বছর নির্ধারিত হয়েছে। চাকরিতে বয়োবৃদ্ধির এই যৌক্তিক দাবি বেশ পুরনো। অনেক আগে থেকেই এই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। বর্তমানে চাকরির বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর এবং অবসরের ক্ষেত্রে ৫৯ বছর। মুক্তিযোদ্ধা কোটাধারীদের জন্য ব্যতিক্রম বয়সসীমা চালু রয়েছে। এই প্রস্তাবটি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’, গত ৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদে আবেদন করেছে। এ ধরনের প্রজ্ঞাপন জারির কাজ যেহেতু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতায় পড়ে, তাই মন্ত্রিপরিষদ গত ১৮ সেপ্টেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিকট হস্তান্তর করে।

সাময়িকভাবে সুপারিশটি সুফলতা আনলেও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের নানান জটিলতা করোনা মহামারী, কোটা আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, স্বৈরাচারের পতন, রাষ্ট্র সংস্কার, নতুন সরকার গঠন; এসব কারণে চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিটি দৃঢ় রূপ ধারণ করে। স্থায়ীভাবে সিদ্ধান্ত নিলে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়বে। বেকারত্ব একটি জাতির জন্য অভিশাপ বয়ে আনে। চাকরির বয়োবৃদ্ধির ফলে উচ্চতম গ্রেডে চাকরির আবেদনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। অনেকে হয়তো পূর্ব অভিজ্ঞতা দ্বারা অনুমোদন পেতে পারে তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে কর্মস্পৃহা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে তরুণ প্রজন্মের মেধা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত। তাদের কর্ম দক্ষতা বয়স্কদের তুলনায় বেশি। যেকোনো গ্রেডের চাকরির ক্ষেত্রে বেশি আবেদন সংখ্যা হলে দীর্ঘমেয়াদে তা সামাল দেয়া রাষ্ট্রের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর অন্তত এক বছর লাগে সেই প্রক্রিয়া শেষ হতে। অনেক সময় এর বেশি সময় লাগতে পারে। শুধু তাই নয় চাকরিতে প্রবেশের সময় বাড়ালে বাড়াতে হবে অবসেরর বয়সসীমা। এতো সময় পার করার পর পূর্বের স্পৃহা নষ্ট হয়ে যায়।

গ্র্যাজুয়েশনের পর এতোটা লম্বা সময় সরকারি চাকরির পিছনে ছুটলে নিজে উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এতে মেধা ও কর্মক্ষমতা অনুযায়ী মেধাবী ব্যক্তির অভাব দেখা দিবে। যার ফলে রাষ্ট্রের চলমান কাজে অস্থিতিশীলতার দেখা মিলবে। এতো দেরীতে চাকরি জগতে প্রবেশ করার ফলে সরকারি চাকরির বাহিরে অন্য যেসব কর্মক্ষেত্র রয়েছে সেখানে যোগ্য ব্যক্তির অভাব দেখা দিবে। গ্রোতে গাঁ ভাসানোর মতো সবার সাথে তাল মিলিয়ে শুধু একমুখী হলে নিজের মেধার মুল্যায়ন হয় না। তবে এতোসবের পরেও দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবটি জনসাধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষিত অনেকে দীর্ঘকালীন বেকারত্বের চক্রে আটকে পড়তে পারেন- এমন আশংকাও আছে অনেকের মধ্যে।

জান্নাতুল মাওয়া ছিমিন

শিক্ষার্থী, লোকপ্রশাসন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

back to top