alt

মতামত » চিঠিপত্র

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

রেলপথ একসময় ছিল নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগের প্রতীক। অথচ আজ সেই রেললাইনই অনেকের কাছে মৃত্যুফাঁদের নাম। প্রতি বছর ট্রেনে কাটা পড়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়-সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কেন এই মৃত্যু দায় কার? আর কবে থামবে?

বাংলাদেশের রেলপথে দুর্ঘটনার বড় কারণগুলোর একটি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। শহর ও জনবসতি রেললাইনের গাঘেঁষে গড়ে উঠেছে, কিন্তু নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। অনেক জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ নেই, আন্ডারপাস নেই, কিংবা থাকলেও তা অকার্যকর। ফলে মানুষ বাধ্য হয় রেললাইন দিয়েই চলাচল করতে। জীবিকার তাগিদ, সময়ের চাপ-সব মিলিয়ে ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও মানুষ লাইনের ওপর পা রাখে।

দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। অনেক রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান, নেই স্বয়ংক্রিয় গেট বা সিগন্যাল। কোথাও কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও তা ভাঙা, অস্পষ্ট কিংবা উপেক্ষিত। ট্রেনের গতি বেড়েছে, কিন্তু সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা বাড়েনি। আধুনিক ট্রেন চালু হলেও পুরনো ঝুঁকি থেকেই গেছে।

তৃতীয়ত, সচেতনতার অভাবও বড় কারণ। হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইন পার হওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা-এসব আচরণ আমাদের সমাজে অস্বাভাবিক নয়। দুর্ঘটনার পর আমরা শোক প্রকাশ করি, কিন্তু অভ্যাস বদলাই না। গণসচেতনতা কার্যক্রম থাকে সীমিত ও ক্ষণস্থায়ী।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়বদ্ধতার সংকট। দুর্ঘটনার পর তদন্ত হয়, প্রতিবেদন হয়, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন খুব কম দেখা যায়। কে দায় নেবে-রেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, নাকি আমরা সবাই? দায় যখন সবার, তখন জবাবদিহি থাকে না। ফলে একই জায়গায়, একই কারণে বারবার মৃত্যু ঘটে।

রেলপথ কি তবে সত্যিই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে? রেললাইন নিজে কখনো হত্যাকারী নয়; হত্যাকারী হয় অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও উদাসীনতা। পরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস, আধুনিক সিগন্যাল ও গেটম্যান নিয়োগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কঠোর জবাবদিহি-এসব ছাড়া পরিস্থিতি বদলাবে না। পাশাপাশি স্কুল থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত ধারাবাহিক সচেতনতা জরুরি।

মাহিন উদ্দিন

অর্থনীতি বিভাগ

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

র‌্যাবিস ভ্যাকসিনের সংকট ও জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

বাস্তবতার এক গল্প

কীর্তনখোলার আর্তনাদ

ভ্যাট-কর ও সাধারণ মানুষ

অযৌক্তিক ‘হ্যাঁ’ বনাম আত্মমর্যাদার ‘না’

নদীভাঙন ও গ্রামীণ উদ্বাস্তু জীবনের গল্প

চারদিকে যুদ্ধের দামামা ভবিষ্যৎ শিশুদের জন্য কি পৃথিবী নিরাপদ

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ

শহরে বৃক্ষনিধন : এক শ্বাসরুদ্ধকর ভবিষ্যৎ

জলবায়ু পরিবর্তন: বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ভয়াবহ প্রভাব

ই-ফাইলিং কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা

মূল্যস্ফীতি ও মধ্যবিত্তের নিত্যদিনের লড়াই

টেন্ডার দুর্নীতি ও করণীয়

জমির দলিলে ঘুষের অমানবিক চক্র

পরিত্যক্ত সরকারি গোডাউন

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রা রোধে কঠোর উদ্যোগ জরুরি

জামিন নিয়ে পলাতক থাকা মানেই ‘খুনি’ নয়

প্রাথমিক শিক্ষায় অবহেলার ধারা: তাড়াইলের বিদ্যালয়গুলোর চিত্র

সাগরভিত্তিক কৃষি: উপকূলীয় মানুষের অংশগ্রহণেই টেকসই সম্ভাবনা

সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপকূলীয় জনগণের ভূমিকা অপরিহার্য

ভোটারদের নিরাপত্তা চাই

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণ জরুরি

ভাইরাল হওয়ার নেশা: তরুণ সমাজের নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ

৫, ১০ টাকার নোটের হতশ্রী অবস্থা কেন?

রাবিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি

লাগামহীন চিকিৎসা ব্যয়

জলবায়ু পরিবর্তন: আগামী প্রজন্মের হুমকি

পর্যটন শহরগুলো কেন বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে

বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি: শহরের মানুষের নীরব আর্তনাদ

গণযোগাযোগ কোর্সে অপর্যাপ্ত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ

নদীকেন্দ্রিক পর্যটন: সম্ভাবনার অপমৃত্যু ও আমাদের দায়

অনুমতি উঠে গেল, বিবেক কি ছুটিতে?

খেজুর রসে স্বাস্থ্যঝুঁকি

তাড়াইলের হাওরে বক শিকার: পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর হুমকি

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট

কারাকাসে মার্কিন হামলার মূল লক্ষ্য কী?

tab

মতামত » চিঠিপত্র

রেলপথ কি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে?

মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রেলপথ একসময় ছিল নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগের প্রতীক। অথচ আজ সেই রেললাইনই অনেকের কাছে মৃত্যুফাঁদের নাম। প্রতি বছর ট্রেনে কাটা পড়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়-সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কেন এই মৃত্যু দায় কার? আর কবে থামবে?

বাংলাদেশের রেলপথে দুর্ঘটনার বড় কারণগুলোর একটি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। শহর ও জনবসতি রেললাইনের গাঘেঁষে গড়ে উঠেছে, কিন্তু নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। অনেক জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ নেই, আন্ডারপাস নেই, কিংবা থাকলেও তা অকার্যকর। ফলে মানুষ বাধ্য হয় রেললাইন দিয়েই চলাচল করতে। জীবিকার তাগিদ, সময়ের চাপ-সব মিলিয়ে ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও মানুষ লাইনের ওপর পা রাখে।

দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। অনেক রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান, নেই স্বয়ংক্রিয় গেট বা সিগন্যাল। কোথাও কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও তা ভাঙা, অস্পষ্ট কিংবা উপেক্ষিত। ট্রেনের গতি বেড়েছে, কিন্তু সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা বাড়েনি। আধুনিক ট্রেন চালু হলেও পুরনো ঝুঁকি থেকেই গেছে।

তৃতীয়ত, সচেতনতার অভাবও বড় কারণ। হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইন পার হওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা-এসব আচরণ আমাদের সমাজে অস্বাভাবিক নয়। দুর্ঘটনার পর আমরা শোক প্রকাশ করি, কিন্তু অভ্যাস বদলাই না। গণসচেতনতা কার্যক্রম থাকে সীমিত ও ক্ষণস্থায়ী।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়বদ্ধতার সংকট। দুর্ঘটনার পর তদন্ত হয়, প্রতিবেদন হয়, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন খুব কম দেখা যায়। কে দায় নেবে-রেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, নাকি আমরা সবাই? দায় যখন সবার, তখন জবাবদিহি থাকে না। ফলে একই জায়গায়, একই কারণে বারবার মৃত্যু ঘটে।

রেলপথ কি তবে সত্যিই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে? রেললাইন নিজে কখনো হত্যাকারী নয়; হত্যাকারী হয় অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও উদাসীনতা। পরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস, আধুনিক সিগন্যাল ও গেটম্যান নিয়োগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কঠোর জবাবদিহি-এসব ছাড়া পরিস্থিতি বদলাবে না। পাশাপাশি স্কুল থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত ধারাবাহিক সচেতনতা জরুরি।

মাহিন উদ্দিন

অর্থনীতি বিভাগ

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ

back to top