মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
রেলপথ একসময় ছিল নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগের প্রতীক। অথচ আজ সেই রেললাইনই অনেকের কাছে মৃত্যুফাঁদের নাম। প্রতি বছর ট্রেনে কাটা পড়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়-সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কেন এই মৃত্যু দায় কার? আর কবে থামবে?
বাংলাদেশের রেলপথে দুর্ঘটনার বড় কারণগুলোর একটি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। শহর ও জনবসতি রেললাইনের গাঘেঁষে গড়ে উঠেছে, কিন্তু নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। অনেক জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ নেই, আন্ডারপাস নেই, কিংবা থাকলেও তা অকার্যকর। ফলে মানুষ বাধ্য হয় রেললাইন দিয়েই চলাচল করতে। জীবিকার তাগিদ, সময়ের চাপ-সব মিলিয়ে ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও মানুষ লাইনের ওপর পা রাখে।
দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। অনেক রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান, নেই স্বয়ংক্রিয় গেট বা সিগন্যাল। কোথাও কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও তা ভাঙা, অস্পষ্ট কিংবা উপেক্ষিত। ট্রেনের গতি বেড়েছে, কিন্তু সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা বাড়েনি। আধুনিক ট্রেন চালু হলেও পুরনো ঝুঁকি থেকেই গেছে।
তৃতীয়ত, সচেতনতার অভাবও বড় কারণ। হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইন পার হওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা-এসব আচরণ আমাদের সমাজে অস্বাভাবিক নয়। দুর্ঘটনার পর আমরা শোক প্রকাশ করি, কিন্তু অভ্যাস বদলাই না। গণসচেতনতা কার্যক্রম থাকে সীমিত ও ক্ষণস্থায়ী।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়বদ্ধতার সংকট। দুর্ঘটনার পর তদন্ত হয়, প্রতিবেদন হয়, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন খুব কম দেখা যায়। কে দায় নেবে-রেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, নাকি আমরা সবাই? দায় যখন সবার, তখন জবাবদিহি থাকে না। ফলে একই জায়গায়, একই কারণে বারবার মৃত্যু ঘটে।
রেলপথ কি তবে সত্যিই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে? রেললাইন নিজে কখনো হত্যাকারী নয়; হত্যাকারী হয় অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও উদাসীনতা। পরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস, আধুনিক সিগন্যাল ও গেটম্যান নিয়োগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কঠোর জবাবদিহি-এসব ছাড়া পরিস্থিতি বদলাবে না। পাশাপাশি স্কুল থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত ধারাবাহিক সচেতনতা জরুরি।
মাহিন উদ্দিন
অর্থনীতি বিভাগ
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
ইপেপার
জাতীয়
সারাদেশ
আন্তর্জাতিক
নগর-মহানগর
খেলা
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
শিক্ষা
অর্থ-বাণিজ্য
সংস্কৃতি
ক্যাম্পাস
মিডিয়া
অপরাধ ও দুর্নীতি
রাজনীতি
শোক ও স্মরন
প্রবাস
নারীর প্রতি সহিংসতা
বিনোদন
সম্পাদকীয়
উপ-সম্পাদকীয়
মুক্ত আলোচনা
চিঠিপত্র
পাঠকের চিঠি
মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
রেলপথ একসময় ছিল নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগের প্রতীক। অথচ আজ সেই রেললাইনই অনেকের কাছে মৃত্যুফাঁদের নাম। প্রতি বছর ট্রেনে কাটা পড়ে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারায়-সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু প্রশ্নের উত্তর মেলে না। কেন এই মৃত্যু দায় কার? আর কবে থামবে?
বাংলাদেশের রেলপথে দুর্ঘটনার বড় কারণগুলোর একটি হলো অপরিকল্পিত নগরায়ণ। শহর ও জনবসতি রেললাইনের গাঘেঁষে গড়ে উঠেছে, কিন্তু নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা হয়নি। অনেক জায়গায় ফুটওভার ব্রিজ নেই, আন্ডারপাস নেই, কিংবা থাকলেও তা অকার্যকর। ফলে মানুষ বাধ্য হয় রেললাইন দিয়েই চলাচল করতে। জীবিকার তাগিদ, সময়ের চাপ-সব মিলিয়ে ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও মানুষ লাইনের ওপর পা রাখে।
দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। অনেক রেলক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান, নেই স্বয়ংক্রিয় গেট বা সিগন্যাল। কোথাও কোথাও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড থাকলেও তা ভাঙা, অস্পষ্ট কিংবা উপেক্ষিত। ট্রেনের গতি বেড়েছে, কিন্তু সেই গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা বাড়েনি। আধুনিক ট্রেন চালু হলেও পুরনো ঝুঁকি থেকেই গেছে।
তৃতীয়ত, সচেতনতার অভাবও বড় কারণ। হেডফোন কানে দিয়ে রেললাইন পার হওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে ট্রেনের অপেক্ষা, চলন্ত ট্রেনে ওঠানামা-এসব আচরণ আমাদের সমাজে অস্বাভাবিক নয়। দুর্ঘটনার পর আমরা শোক প্রকাশ করি, কিন্তু অভ্যাস বদলাই না। গণসচেতনতা কার্যক্রম থাকে সীমিত ও ক্ষণস্থায়ী।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দায়বদ্ধতার সংকট। দুর্ঘটনার পর তদন্ত হয়, প্রতিবেদন হয়, কিন্তু বাস্তব পরিবর্তন খুব কম দেখা যায়। কে দায় নেবে-রেল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, নাকি আমরা সবাই? দায় যখন সবার, তখন জবাবদিহি থাকে না। ফলে একই জায়গায়, একই কারণে বারবার মৃত্যু ঘটে।
রেলপথ কি তবে সত্যিই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে? রেললাইন নিজে কখনো হত্যাকারী নয়; হত্যাকারী হয় অব্যবস্থাপনা, অবহেলা ও উদাসীনতা। পরিকল্পিত নগরায়ণ, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাস, আধুনিক সিগন্যাল ও গেটম্যান নিয়োগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং কঠোর জবাবদিহি-এসব ছাড়া পরিস্থিতি বদলাবে না। পাশাপাশি স্কুল থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত ধারাবাহিক সচেতনতা জরুরি।
মাহিন উদ্দিন
অর্থনীতি বিভাগ
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ