alt

সম্পাদকীয়

ঢাকার বাসযোগ্যতার আরেকটি করুণ চিত্র

: শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

রাজধানী ঢাকার বাসযোগ্যতার আরেকটি করুণ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক প্রতিবেদনে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ‘বিশ্ব বাসযোগ্যতার সূচক-২০২১’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ১৪০টি দেশের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৩৭তম। তালিকার নিচের দিক থেকে অবস্থান চুতর্থ। প্রতিবেদনে বসবাসের যোগ্য শহর বিবেচনায় স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো-এ পাঁচটি বিষয়কে মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। খবরটি রাজধানীবাসীর জন্য সুখকর নয়।

বাসযোগ্যতার দিক থেকে রাজধানী ঢাকার অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছাকাছি। দেশে যুদ্ধাবস্থা চলছে না, আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা থাকলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদের বড় সমস্যা সাম্প্রতিককালে মোকাবিলা করতে হয়নি। তারপরও ঢাকা মহানগরীর অবস্থান ১৩৭তম!

রাজধানী ঢাকা কতটা বাসযোগ্য সেটা জানার জন্য কোন গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। রাজধানীবাসী বহু বছর ধরেই সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। যানজট, দূষণ, জলাবদ্ধতাসহ নানান সংকটে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামোর প্রশ্নেও তাদেরকে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। সমস্যগুলো সমাধানের কোন লক্ষণ নেই। বরং এসব সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নিত্য-নতুন সমস্যা।

স্বাস্থ্যসেবায় রুগ্ণদশা চলছে বহুকাল ধরেই। রাজধানীবাসীকে যেমন, রাজধানীর বাইরে থেকে আসা মানুষকেও তেমন স্বাস্থ্যসেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তি আর হয়রানির শিকার হতে হয়। মহামারী করোনার সময় স্বাস্থ্য খাতের করুণ দশা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজানোর কার্যকর কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। শিক্ষা খাতে চলছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। ওয়াকিবহাল মহল মাত্রাই এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কথা জানেন।

রাজধানীর বায়ুদূষণের লাগাম টানা যাচ্ছে না কিছুতেই। গত বছর লকডাউনের সময় দূষণ ৪০ ভাগ কমেছিল। দূষণ এখন ফিরে গেছে আগের অবস্থায়। একটি নগরীতে সবুজ এলাকা থাকার কথা ২৫ ভাগ, ঢাকায় আছে মাত্র ১০ ভাগ।

যেসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানী বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে সেগুলো যদি বন্ধ করা না হয় তাহলে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভবিষ্যতের গবেষণাতেও ঢাকার অবস্থান তলানিতেই থাকবে। বসবাসযোগ্যতার সূচকে উন্নতি ঘটাতে হলে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে হবে, অবকাঠামোর উন্নয় ঘটাতে হবে, বন্ধ করতে হবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ। এখানে জমির তুলনায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্য ঢের বেশি। ঢাকার ওপর থেকে মানুষের বিপুল চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে ঘটাতে হবে ইতিবাচক পরিবর্তন। শুধু অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলেও লক্ষ্যযোগ্য উন্নতি করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আগামী প্রজন্মের জন্য ঢাকাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে হয়রানি বন্ধ করুন

সীমান্তে করোনার সংক্রমণ কার উদাসীনতায়?

শিশুশ্রম : শ্রম আর ঘামে শৈশব যেন চুরি না হয়

মডেল মসজিদ প্রসঙ্গে

পুঁজিবাজারে কারসাজি বন্ধে বিএসইসিকে কঠোর হতে হবে

উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ

পাহাড়-বন কেটে আবার কেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প

নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে মাদক নির্মূল করা যাবে না

গ্যাং কালচার থেকে শিশু-কিশোরদের ফেরাতে হবে

নিরাপদ খাদ্য প্রসঙ্গে

বস্তিতে আগুন : পুনরাবৃত্তি রোধে চাই বিদ্যুৎ-গ্যাসের বৈধ সংযোগ

নদী দূষণ বন্ধে চাই জোরালো উদ্যোগ

উদাসীন হলে চড়া মূল্য দিতে হবে

সমবায় সমিতির নামে প্রতারণার বিহিত করুন

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে কোন কারণে

পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিকের গুদামগুলো সরিয়ে নিন

টিকা দেয়ার পরিকল্পনায় গলদ থাকলে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জন করা সম্ভব হবে না

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর মিছিলে ওয়াসা

সীমান্তবর্তী এলাকায় বাড়ছে করোনার সংক্রমণ : স্বাস্থ্যবিধিতে ছাড় নয়

জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীর মুক্তি মিলবে কবে

বাজেট : প্রাণ আর পেটের দায় মেটানোর অভিলাষ কি পূরণ হবে

মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়ন জরুরি

গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

পদ্মা সেতুসংলগ্ন এলাকায় বালু তোলা বন্ধ করুন

গ্যাসকূপ খননে বাপেক্স কেন নয়

বরাদ্দ ব্যয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

সিলেটে দফায় দফায় ভূমিকম্প : সতর্ক থাকতে হবে

অনলাইন ব্যবসায় প্রতারণা বন্ধে আইনি ব্যবস্থা নিন

কার স্বার্থে বারবার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে

মানুষ ও বন্যপ্রাণী উভয়কেই রক্ষা করতে হবে

উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক

করোনার পরীক্ষায় প্রতারণা প্রসঙ্গে

এখনও ডায়রিয়ায় ভুগছে মানুষ প্রতিরোধে চাই সচেতনতা

সীমান্তে শিথিল স্বাস্থ্যবিধি কঠোর হোন

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন করুন

tab

সম্পাদকীয়

ঢাকার বাসযোগ্যতার আরেকটি করুণ চিত্র

শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

রাজধানী ঢাকার বাসযোগ্যতার আরেকটি করুণ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক প্রতিবেদনে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ‘বিশ্ব বাসযোগ্যতার সূচক-২০২১’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে ১৪০টি দেশের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৩৭তম। তালিকার নিচের দিক থেকে অবস্থান চুতর্থ। প্রতিবেদনে বসবাসের যোগ্য শহর বিবেচনায় স্থিতিশীলতা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও পরিবেশ, শিক্ষা এবং অবকাঠামো-এ পাঁচটি বিষয়কে মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। খবরটি রাজধানীবাসীর জন্য সুখকর নয়।

বাসযোগ্যতার দিক থেকে রাজধানী ঢাকার অবস্থান যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছাকাছি। দেশে যুদ্ধাবস্থা চলছে না, আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা থাকলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো সন্ত্রাসবাদ বা জঙ্গিবাদের বড় সমস্যা সাম্প্রতিককালে মোকাবিলা করতে হয়নি। তারপরও ঢাকা মহানগরীর অবস্থান ১৩৭তম!

রাজধানী ঢাকা কতটা বাসযোগ্য সেটা জানার জন্য কোন গবেষণার প্রয়োজন পড়ে না। রাজধানীবাসী বহু বছর ধরেই সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। যানজট, দূষণ, জলাবদ্ধতাসহ নানান সংকটে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামোর প্রশ্নেও তাদেরকে প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। সমস্যগুলো সমাধানের কোন লক্ষণ নেই। বরং এসব সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নিত্য-নতুন সমস্যা।

স্বাস্থ্যসেবায় রুগ্ণদশা চলছে বহুকাল ধরেই। রাজধানীবাসীকে যেমন, রাজধানীর বাইরে থেকে আসা মানুষকেও তেমন স্বাস্থ্যসেবা পেতে পদে পদে ভোগান্তি আর হয়রানির শিকার হতে হয়। মহামারী করোনার সময় স্বাস্থ্য খাতের করুণ দশা আরও স্পষ্ট হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য খাত ঢেলে সাজানোর কার্যকর কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। শিক্ষা খাতে চলছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। ওয়াকিবহাল মহল মাত্রাই এসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কথা জানেন।

রাজধানীর বায়ুদূষণের লাগাম টানা যাচ্ছে না কিছুতেই। গত বছর লকডাউনের সময় দূষণ ৪০ ভাগ কমেছিল। দূষণ এখন ফিরে গেছে আগের অবস্থায়। একটি নগরীতে সবুজ এলাকা থাকার কথা ২৫ ভাগ, ঢাকায় আছে মাত্র ১০ ভাগ।

যেসব অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানী বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে সেগুলো যদি বন্ধ করা না হয় তাহলে পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটবে না। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া না হলে ভবিষ্যতের গবেষণাতেও ঢাকার অবস্থান তলানিতেই থাকবে। বসবাসযোগ্যতার সূচকে উন্নতি ঘটাতে হলে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে হবে, অবকাঠামোর উন্নয় ঘটাতে হবে, বন্ধ করতে হবে অপরিকল্পিত নগরায়ণ। এখানে জমির তুলনায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্য ঢের বেশি। ঢাকার ওপর থেকে মানুষের বিপুল চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীকরণের বিকল্প নেই।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতিতে ঘটাতে হবে ইতিবাচক পরিবর্তন। শুধু অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলেও লক্ষ্যযোগ্য উন্নতি করা সম্ভব হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

আগামী প্রজন্মের জন্য ঢাকাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে সরকারকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

back to top